জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
দেশব্যাপী উৎসে কর কর্তন তদারকি ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার এনবিআরের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলের বিশেষ টিম উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারায় কর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও কর্মপরিধি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (১৯ জুলাই) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত যেকোনো নথি পরীক্ষা ও তলব, কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে প্রবেশের ক্ষমতাও থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখা এবং প্রয়োজনীয় নথি, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের অনুলিপি সংগ্রহ করে তাতে সনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করতে পারবেন কর কর্মকর্তারা।
এনবিআর জানায়, রাজস্ব আহরণের এসব কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্মানিত করদাতাদের সঠিক আইনি ধারা ও আয়কর জমার নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোড উল্লেখ করে ই-চালানের মাধ্যমে উৎসে কর্তিত কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ১৪৭ ধারা প্রয়োগ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা, জটিলতা, হয়রানি বা অভিযোগ থাকলে করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ১৪৭ ধারা-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিবের কাছে [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।
১ দিন আগে
কাস্টমস সার্ভার হ্যাক করে মদ-সিগারেট খালাসের চেষ্টা, চক্রের ১ সদস্য গ্রেপ্তার
কাস্টমসের নথিপত্র জালিয়াতি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন কাস্টমস সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশি মদ ও সিগারেট আমদানি করে বন্দরে খালাসের চেষ্টার অভিযোগে শেখ সেজান (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সিএমপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফয়সাল আহমেদ।
গত ১৫ জুলাই নেপাল পালানোর সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, চট্টগ্রামের বন্দর থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তে শেখ সেজানের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে একটি মামলায় চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে ফেব্রিকস আমদানির মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে একটি কনটেইনারে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আমদানির অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, অপর একটি ঘটনায় একটি কনটেইনারে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনার তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘবদ্ধ চক্রটি কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পোর্টালে অবৈধভাবে প্রবেশ করে অন্যের ইউজার আইডি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনা করত। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএমপি জানায়, মামলাগুলো দায়েরের পর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ৭ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেখ সেজানের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ প্রবেশে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে লগইন করা হয়। পরে একই ইউজার আইডি ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালান-সংক্রান্ত মামলায় এলসি-জিআই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে, সেজানকে গ্রেপ্তারের জন্য নড়াইলের লোহাগড়া থানার অধীন তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তখন তিনি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় তার বাড়ি থেকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে অবৈধ প্রবেশ এবং এলসি-জিআই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি আরও জানায়, সেজান এর আগেও সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন এবং টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগে সিএমপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটিটিসির অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণা-সংক্রান্ত সাতটি মামলা রয়েছে।
মামলা দুটির তদন্তে এ পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর পরিচালক ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান এবং চক্রের অপর সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ ওরফে আরিফ এবং বড় রাজুকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল আরও এক মাস
ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো এই সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জারি করা আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানায় এনবিআর।
আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সকল করদাতা, যাদের অর্থবছর ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে, তাদের ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পুনরায় এক মাস বাড়িয়ে ১৫ মে নির্ধারণ করা হলো।
এর আগে এসব কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ১৫ এপ্রিল। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ যোগ্য করদাতারা রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।
করদাতাদের রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং নির্ধারিত সময়ে অধিক সংখ্যক রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
৯৮ দিন আগে
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর ব্যবস্থা চালু করল এনবিআর
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনের জন্য অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত করদাতারা এখন সহজেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এনবিআর।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রাজস্ব নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তিগত করদাতা ইতোমধ্যে তাদের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং চলতি করবর্ষে প্রায় ৪১ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, ব্যক্তিগত করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব করদাতা এই সময়সীমার আগে লিখিত আবেদন করবেন, তারা সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন অতিরিক্ত সময় পেতে পারেন।
সময় বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে এনবিআর তাদের ই-রিটার্ন সিস্টেমের ভেতরে একটি বিশেষ অনলাইন সুবিধা চালু করেছে। করদাতারা এখন সিস্টেমে লগ-ইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনুর মাধ্যমে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার অনলাইনে আবেদনটি পর্যালোচনা করে তা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করবেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদন অনুমোদিত হলে করদাতারা কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই বর্ধিত সময়ের মধ্যে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে এই অনলাইন সুবিধা পেতে করদাতাদের অবশ্যই ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হতে হবে এবং ৩১ মার্চের আগেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
যেসব করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়, তারা অনলাইনে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স সার্কেলে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির অনুরোধ জানাতে পারবেন।
সকল ব্যক্তিগত করদাতাকে ৩১ মার্চের মধ্যে অথবা কর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।
১২৬ দিন আগে
আয়কর আইনের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন আকারে প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গেল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বাংলা ভাষায় প্রণীত আয়কর আইন, ২০২৩-এর স্বীকৃত ইংরেজি সংস্করণ (Authentic English Text) সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করে এনবিআর।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ বাতিল করে ২০২৩ সালে বাংলা আয়কর আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করার পর থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আয়কর আইনের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছিলেন।
‘আয়কর আইনের স্বীকৃত ইংরেজি সংস্করণ না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আইনের সঠিক ব্যাখ্যা ও অনুশীলনের বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে থাকতেন এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতেন।’
এবার আয়কর আইনের ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আয়কর আইন সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাবেন। এতে করে করদাতাদের আস্থা আরও বাড়বে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থবোধকতা দূর করে স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেটে প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এই দুটি আইনের ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
২৭৫ দিন আগে
বিদেশে পাচারকৃত অর্থে গড়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে এনবিআর
বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সিআইসি মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টার সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এ ছাড়াও নয়টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো টাকার বিনিময়ে অর্জন করেছে কিছু বাংলাদেশি।
দেশগুলো হচ্ছে— অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মালটা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।
এ সময় আহসান হাবিব বলেন, দেশে বসেই বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে সিআইসির গোয়েন্দারা দেশগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য তুলে নিয়ে আসেন।
আরও অনুসন্ধান চলমান আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ পাচার করে গড়ে তোলা ৩৪৬টি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এটি আমাদের অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র।’
তিনি বলেন, এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের অনুকূলে নিয়ে আসার জন্য এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সাজা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সিআইসি।
ছয়টিরও অধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।সিআইসি মহাপরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি এটি ‘টিপ অব দ্য আইসবার্গ’। আমাদের কাছে এখনো প্রচুর তথ্য রয়েছে যা উন্মোচনে আরও সময় প্রয়োজন।
পড়ুন: সুশাসন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এমডির পদত্যাগ
এই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা শেখ হাসিনার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটবেজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোক বসিয়ে বহু তথ্য গায়েব করে দিয়েছে জানিয়ে আহসান হাবিব বলেন, আশার বিষয় হচ্ছে মুছে দেয়া তথ্য উদ্ধারে দক্ষতা অর্জন করেছে সিআইসি।
বিস্তারিত জানার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে দুদক, সিআইসি ও পুলিশের সিআইডিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, 'এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পত্তি তৈরি করতে না পারে।'
সিআইসিকে অনুসন্ধান কাজ চলমান রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যতদূর সম্ভব গভীরে যেতে হবে এবং সম্ভাব্য আরও দেশে অনুসন্ধান বিস্তৃত করতে হবে। যাতে দেশের সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
দেশের অর্থনৈতিক খাতের এই লুটপাটকে ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ বিনির্মাণ করতে হলে অবশ্যই এই লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।'তিনি বলেন, দেশের সম্পদকে কীভাবে লুটপাট করেছে কিছু মানুষ তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সেজন্য সবগুলো সংস্থাকে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
৩৩৭ দিন আগে
এনবিআরের চাকরি অত্যাবশ্যকীয় সেবা, কর্মস্থলে না ফিরলে কঠোর পদক্ষেপ: বিবৃতি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা আখ্যায়িত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। অন্যতায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৯ জুন) অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে এমন কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নমুখী কার্যক্রম পরিচালনার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা। রাষ্ট্রের প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের রাজস্ব সংগ্রহ অনেক কম। এর মূল কারণ হলো আমাদের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি।
এমন পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার সব অংশীজনের পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিবৃতি জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকার গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, রাজস্ব সংস্কারের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নজিরবিহীনভাবে গত ২ মাস ধরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অন্যায় ও অনৈতিকভাবে ব্যাহত করে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে আন্দোলনের নামে চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছে, যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।
সরকার জানিয়েছে, সংস্কারের বিরোধিতা ছাড়াও অর্থ বছরের শেষ ২ মাসে তারা রাজস্ব আদায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই তথাকথিত আন্দোলন পরিকল্পিত ও দুরভিসন্ধিমূলক, যা জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিক অধিকারের চরম পরিপন্থি।
আরও পড়ুন: এনবিআর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করলেন অর্থ উপদেষ্টা
‘সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি বিবেচনায় নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয় এবং আলোচনায় আসার আহ্বান জানালেও তারা তা অগ্রাহ্য করে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান না করে তারা আন্দোলনের নামে অনমনীয় অবস্থান নিয়ে ক্রমাগত দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করে চলেছে।
‘এ পরিস্থিতিতে, অতি জরুরি আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের কার্যক্রম চলমান রাখার জাতীয় স্বার্থে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন সব কাস্টমস হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট এবং শুল্ক স্টেশনের সর শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আমরা আশা করি, অনতিবিলম্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরে যাবেন এবং আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসবেন। অন্যথায় দেশের জনগণ ও অর্থনীতির সুরক্ষায় সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে।
৩৮৬ দিন আগে
সক্ষমতা বাড়াতে এনবিআরের ডিজিটাল রূপান্তর প্রয়োজন: সেমিনারে বক্তারা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীতে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের (ইসিআরএল) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, ‘এনবিআরের ডিজিটাল রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’
অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল যাত্রা: যৌক্তিকতা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এনবিআরের ডিজিটাল রূপান্তর’ শীর্ষক সেমিনারটিতে দেশীয় প্রেক্ষাপটে এনবিআরকে আধুনিক ও দক্ষ কর কর্তৃপক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন ইসিআরএল চেয়ারম্যান ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন ইসিআরএলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) আরিফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স স্কুলের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম। আলোচনায় অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ডেটা ওয়্যারহাউজ বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান, এনএসইউর অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. সৈয়দ মর্তুজা আসিফ এহসান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ড. জিয়াউল হক আদনান।
মূল প্রবন্ধে ড. জামালউদ্দিন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতের উদাহরণ অনুসরণ করে বাংলাদেশকেও ধাপে ধাপে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে হাঁটতে হবে। বিশেষ করে দেশের বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক খাত ও কর ফাঁকির প্রবণতা বিবেচনায় রেখে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।’
প্রধান অতিথি ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কম, জাতীয় ঋণ বেড়েই চলেছে। আমরা পশ্চিমা দেশের মতো জনসেবা চাই, কিন্তু কর দিতে চাই না—এই মানসিকতা থেকে বের হতে হবে।’
তিনি বিলাসব্যয় পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ব্যয় কর চালুর প্রস্তাব দেন এবং এনবিআরের দুর্নীতির অভিজ্ঞতা থেকে একটি ঘুষের ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রের মূলনীতি-এনসিসি নিয়ে নতুন প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনের
অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত মিজানুর রহমান কর ফাঁকি রোধে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত কাঠামো উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে ছিল বাধ্যতামূলক ই-ফাইলিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক ডেটা যাচাই, এনবিআরকে ভূমি রেজিস্ট্রি, কাস্টমস ও আরজেএসসির সঙ্গে সংযুক্তকরণ এবং নিরাপদ ই-ইনভয়েসিংয়ের জন্য ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার। ভারতের জিএসটিএন ব্যবস্থা তার উল্লেখিত উদাহরণগুলোর অন্যতম।
তিনি বলেন, রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি করদাতা বাড়াবে এবং দুর্নীতি ব্যাপকভাবে কমাবে।
অর্থনীতিবিদ সৈয়দ মর্তুজা বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।’
তবে তিনি এনবিআরের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পৃথকীকরণের মতো কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন।জিয়াউল হক কর পদ্ধতি সহজীকরণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘একটি নিম্ন, সমতল হারে কর চালু করলে কর প্রদানে উৎসাহ বাড়বে। তিনি এনআইডি বা কর শনাক্তকরণ নম্বরকে (টিআইএন) সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরে রূপান্তর ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।’
সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এনবিআরের ডিজিটাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তি-নির্ভর উন্নয়ন নয়, বরং এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজন। এজন্য নেতৃত্বের সাহস, আইন সংস্কার এবং জাতীয় মনোভাবের পরিবর্তন জরুরি।
৩৯০ দিন আগে
চেয়ারম্যানকে অসহযোগিতা করার কর্মসূচি শুরু এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত অধ্যাদেশ নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে লাগাতার অসহযোগিতাসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
বুধবার (২১ মে) এক সংবাদ বিবৃতিতে পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ (বুধবার) থেকেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে অসহযোগিতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন: দুভাগই থাকবে এনবিআর, দূর হয়েছে ভুল ধারণা: অর্থ উপদেষ্টা
এছাড়া বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার ঢাকা ও ঢাকার বাইরের এনবিআর-সংশ্লিষ্ট সব কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।
আগামী ২৪ ও ২৫ মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাস্টম হাউস ও এলসি স্টেশন ব্যতীত কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব কার্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হবে। কাস্টম হাউস ও এলসি স্টেশনেও এ সময়ের মধ্যে কর্মবিরতি চলবে, তবে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা এর আওতায় থাকবে না।
পরে ২৬ মে থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা ব্যতীত কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব কার্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হবে।
আরও পড়ুন: অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআর কর্মীদের সংগঠনের বৈঠক 'ব্যর্থ'
সংগঠনটি পূর্বঘোষিত তিন দাবির সঙ্গে নতুন একটি দাবি সংযুক্ত করেছে— অবিলম্বে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানের অপসারণ।
তাদের আগের দাবিগুলো হলো— জারি করা অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তাবিত খসড়া এবং পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনাপূর্বক প্রত্যাশী সংস্থাগুলো, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
৪২৫ দিন আগে
জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাইল এনবিআর
ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) স্থাপনের জন্য ঢাকাসহ কয়েকটি জেলার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি মূসক তথ্য প্রযুক্তি ও প্রকল্প পরিকল্পনার দ্বিতীয় সচিব শাহাদাত জামিলের সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতিকে পাঠানো হয়েছে।
সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ইএফডি স্থাপনে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে গত ৭ জানুয়ারি বাজুসের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ইএফডি স্থাপন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বাজুস নেতারা জুয়েলারি খাতে নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এরমধ্যে জুয়েলারি খাতে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত হয়নি বলে জানান তারা।
বাজুস নেতারা বলেন, অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত করে, সব প্রতিষ্ঠানে ইএফডি স্থাপন করে, এই খাতে অন্যান্য সমস্যার যুক্তিসংগত, ন্যায়ভিত্তিক সমাধান করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং এই খাত উজ্জীবিত হবে।
সেই সূত্র ধরে এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে সব সমস্যার আইনসংগত সমাধানের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন: রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত এনবিআরের
আগামী ২৩ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় অংশীজনদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক ভার্চুয়্যাল সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভার পর জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, ইএফডি স্থাপনের জন্য মাঠ পর্যায়ে যাবে। এজন্য ঢাকা (পূর্ব/পশ্চিম/উত্তর/দক্ষিণ/চট্টগ্রাম) কমিশনারেটের আওতাধীন বিভিন্ন মার্কেট, এলাকায় অবস্থিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রয়োজন।
ঢাকার বাইরের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি জেলার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানেরও তালিকা চেয়েছে এনবিআর। সব তালিকা একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হলে আংশিকভাবে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
৫৪৬ দিন আগে