সড়ক দুর্ঘটনা
ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩
ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় রবিবার (২২ মার্চ) ভোর পৌনে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে সেতুর সংস্কার কাজ চলছিল। একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে সেতুটির আগের স্পিড ব্রেকার পার হচ্ছিল। এমন সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্স-চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে একজন মোটরসাইকেল-আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী নিহত হন।
এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন।
ওসি আসাদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারো নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
ঈদের দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চুয়াডাঙ্গায় যুবক নিহত
ঈদের দিনে ঘুরতে বের হয়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সুরুজ (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামে আরও এক আরোহী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার বাসিন্দা স্বপনের ছেলে। আহত হৃদয় একই পৌর এলাকার শ্মশানপাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়ে দুই যুবক মোটরসাইকেলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরুজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত হৃদয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুরুজের মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত জানার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কাওসার (২৬) ও তার ছেলে রেদোয়ান (৫)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের শলুয়া গ্রামে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক খান জানান, রাজশাহী থেকে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) জেলার সদর ও কটিয়াদী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এ সময় রাস্তার পাশে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সময় ইমন মিয়া (২৬) নামে এক যুবক ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই গরুসহ নিহত হন।
নিহত ইমন আচমিতা ইউনিয়নের চাড়িপাড়া এলাকার খালেক মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
অন্যদিকে, দুপুর ২টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ে একটি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটে। এতে দুই কিশোর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্কুল ছাত্র ইরফানকে (১৬) মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া অবস্থার অবনতি হলে অপর কিশোর নৌশাদকে (২০) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তারও মৃত্যু হয়।
নিহত ইরফান শহরের হারুয়া এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে। কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।
এ ছাড়াও দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় কিশোরগঞ্জ–ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে একটি বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী অজ্ঞাতনামা এক নারী নিহত হন।
একই দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়। তবে নিহত নারী ও শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া এবং কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খুরশেদ আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৫ দিন আগে
রাজবাড়ীতে তেল পাম্পে ট্রাকের চাপায় পৃথক দুই ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত
রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা এক ট্রাকের চাপায় অপর ড্রাম ট্রাকের চালক এবং আরেক ট্রাকের সহকারী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় সপ্তবর্ণা ফিলিং স্টেশন নামক তেল পাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ব্রাকপাড়ার ইদ্রিস পাটোয়ারীর ছেলে ডাম ট্রাকচালক সোবাহান পাটোয়ারী (৪৫) ও অপর আরেক ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়া (২২) ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্নার গ্রামের সরল মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ড্রাম ট্রাকের চালক সোবাহান পাটোয়ারী তেল নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই তেল পাম্পে আসেন। এ সময় ট্রাক থেকে নেমে ডিজেল সরবরাহকারী ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে তিনি দাঁড়ান।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী অপর একটি ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়াও ট্রাক সিরিয়ালে রেখে ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে দাঁড়ান। একই সময় মেশিন থেকে তেল নিচ্ছিল একটি মাহেন্দ্র গাড়ি। মাহেন্দ্র গাড়িটির তেল নেওয়া শেষ হওয়ায় ওই সময় পাম্পে তেল নিতে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা অপর আরেকটি ট্রাকের চালক গাড়ি চালু করা মাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাহেন্দ্র গাড়িটিকে ধাক্কা দেন। এ সময় গাড়িটি ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে থাকা সোবাহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়াকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন সোবহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়া। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ আজ (সোমবার) সকালে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ওই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার মধ্যরাতে ফরিদপুর থেকে ট্রাকচালক সোবহানের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খানখানাপুর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর ট্রাকের সহকারী স্বপনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ধামরাই নিয়ে গেছে তার পরিবার। দাফনের কাজ শেষে নিহতের পরিবারকে আসতে বলা হয়েছে। তারা আসার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
৬ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে ৭ ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিহত
নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভারতীয় তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস পাহাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে শহিদ লাখান গ্রামের কাছে মহাসড়ক থেকে মন্দিরে যাওয়ার একটি সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনই ভারতীয় তীর্থযাত্রী। বাসে থাকা আরও সাতজন ভারতীয় তীর্থযাত্রী আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত অন্য দুজন হলেন নেপালি বাসচালক ও তার সহকারী।
নেপালের জনপ্রিয় হিন্দু ধর্মীয় তীর্থস্থান মনোকামনা মন্দির দর্শন শেষে ফেরার পথে ছিলেন তীর্থযাত্রীরা। ভক্তদের বিশ্বাস, ওই মন্দিরে গেলে দেবী তাদের মনোবাসনা পূরণ করেন।
পুলিশ জানায়, বাসটি ঢালু পথে নামার সময় একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং প্রায় ১৫০ মিটার নিচে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে একটি খাদে গিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নেপালে প্রায়ই বাস দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও অন্তত ২৬ জন আহত হন।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
৬ দিন আগে
পাশাপাশি কবরে শায়িত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতু এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজায় অংশ নেন মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক জানাজায় অংশ নেয়।
মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোরভাবে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।
৮ দিন আগে
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার একই পরিবারের চার জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে মিতু, লামিয়া ও রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া দাকোপে মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতরা হলেন— কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের সালাম মোড়লের মেয়ে নববধু মার্জিয়া মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০), তাদের দাদী মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। মিতু নাকশা আলিম মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই সেতু এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নাকশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরযাত্রী নববধু মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া, বৃদ্ধা দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বেলাই সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধু, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রাম নাকশাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
৮ দিন আগে
বান্দরবানে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ২
বান্দরবানের লামা উপজেলায় লাকড়িবোঝাই একটি ট্রাক পাহাড়ি খাদে পড়ে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী–লামা সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ইয়াংছা কালিরঝিরি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাকচালক মো. আলমগীর (৩৫) এবং পোয়াংবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫)। এ ঘটনায় ঠান্ডাঝিরি এলাকার পুতিয়া নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকা থেকে লাকড়ি বোঝাই করে একটি ট্রাক ইয়াংছার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছালে চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ট্রাকটি প্রায় ২০০ ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়।
এ সময় ট্রাকে থাকা চালক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক সুরতহাল শেষে শুক্রবার সকালে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮ দিন আগে
খুলনা-বাগেরহাটে মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২
খুলনা, ১২ মার্চ (ইউএনবি)— বাগেরহাটের খুলনা- বাগেরহাট মহাসড়কে নৌবাহিনীর বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের গোনাইব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ১০ জন একই পরিবারের সদস্য।
রামপাল রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ৮টি মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এবং বাকি মরদেহগুলো বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
আহত কয়েকজনকে খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৯ দিন আগে