সড়ক দুর্ঘটনা
জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬, প্রাণহানির এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়
দেশে গত জুলাই মাসে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু। একই সময়ে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী এবং ৫১ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি জুলাই মাসের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সাংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৯টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৮ জন (৩৩.১৭ শতাংশ), থ্রি-হুইলারের যাত্রী ৯৪ জন (২২.৫৯ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৬ জন (৬.২৫ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২১ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ১৯ জন, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ৭ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৯টি (৩৬.৮৯ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি (৩৩.৮৪ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬১টি (১৩.৩১ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ৬৬টি (১৪.৪১ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৭টি (১.৫২ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৮টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৫৪টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৯টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় মোট ৭১১টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৭২টি, থ্রি-হুইলার ১৩১টি, বাস ১২৪টি, ট্রাক ৯২টি এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে (২৮.৮২ শতাংশ)। এছাড়া রাতে ১৯.৪৩ শতাংশ, দুপুরে ১৭.২৪ শতাংশ, বিকালে ১৪.৮৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১২.২২ শতাংশ এবং ভোরে ৭.৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য, বিজিবি সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, বিক্রয় প্রতিনিধি, ইমাম ও খাদেম, পোশাক শ্রমিক, কৃষি শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে।
সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেট বরাদ্দ এবং সমন্বিত যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২১ মিনিট আগে
উগান্ডায় ট্রাক-যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১৪
উগান্ডায় যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যান ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দেশটির কালুঙ্গু জেলার কামুঙ্গা ট্রেডিং সেন্টার এলাকায় একটি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাতে কালুঙ্গু জেলার একটি মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যানের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই ট্যাক্সি ভ্যানটির যাত্রী ছিলেন। এছাড়া আরও ৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। তারা ট্রাকচালককে খুঁজছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো উগান্ডাতেও সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা। সেখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত গতি ও সড়কের বেহাল অবস্থাকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে, জুলাই মাসে পূর্ব উগান্ডায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বাস মনোরম এক জলপ্রপাত এলাকা থেকে ফেরার পথে সড়ক থেকে ছিটকে উল্টে যায়। ওই বাসটিতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর শেষে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিশু ও ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছিল।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে পিকআপের চাপায় ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে পিকআপের চাপায় মোটরসাইকেল-আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তারা একই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন ছিলেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার পুরাতন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জয়নাল আবেদিন (৩৫) এবং চরশরৎ এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে জহির উদ্দিন (৫২)। জয়নাল আবেদিন উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ওলামা দলের সভাপতি এবং ওই এলাকার দরগাহপাড়া কালা পীরশাহ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। জহির উদ্দিন একই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে জরুরি একটি কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ইমাম ও মুয়াজ্জিন। পথে চৌধুরীহাট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাফায়াত হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
মীরসরাই জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
বগুড়ায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি পিকআপ নওগাঁয় মাছ বিক্রি করে ফিরছিল। সকাল ১০ টায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার কাজিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে অন্য একটি ভটভটিকে অতিক্রম করার সময় নওগাঁগামী মালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পিকআপের চালক, সহকারী ও দুজন মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত চারজনের মরদহ উদ্ধার করেন। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত লুৎফর রহমানের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং অপর তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি শফিকুল ইসলাম।
৪ দিন আগে
খুলনায় ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৩ জন নিহত
খুলনার দিঘলিয়ায় ট্রাকচাপায় একটি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের ডোমরা এলাকায় এ দুর্ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সিহাব শেখের স্ত্রী ফারজানা খাতুন (২৬), তার মেয়ে মায়মুনা (২) ও ফারজানার বোন রুবিয়া খাতুন (১৬)। আহত ব্যক্তি ফারজানার স্বামী মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখ।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ্র প্রকাশ বলেন, একটি ভারী ট্রাক উপজেলার গাজীরহাট থেকে খুলনার রূপসার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে রূপসা হয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিহাব শেখ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নড়াইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাইড নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মোটরসাইকেলচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫ দিন আগে
রাজধানীতে সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৩৮৪ জনের
২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গত সাড়ে ছয় বছরে রাজধানীতে ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই ছিল পথচারী।
নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪ জন, অর্থাৎ ৭৪ দশমিক ৭১ শতাংশ, ২১৯ জন বা ১৫ দশমিক ৮২ শতাংশ নারী এবং ১৩১ জন শিশু (৯.৪৬ শতাংশ)।
শনিবার (১ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৫৯২ জন (৪২.৭৭ শতাংশ) পথচারী, ৫৩৬ জন (৩৮.৭২ শতাংশ) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ২৫৬ জন (১৮.৪৯ শতাংশ) বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক-যাত্রী।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে সবচেয়ে বেশি ৫১৯ জন (৩৭.৫ শতাংশ) নিহত হয়েছেন। এছাড়া সকালে ২৫৮ জন (১৮.৬৪ শতাংশ), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪.০৮ শতাংশ), বিকালে ১৭৪ জন (১২.৫৭ শতাংশ), ভোরে ১৪২ জন (১০.২৬ শতাংশ) এবং সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬.৯৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশ ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, রাজধানীতে রাতে এবং সকালে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীর মৃত্যুর হার বেড়েছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
সংগঠনটির মতে, যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক এবং ধীর ও দ্রুতগতির যানবাহনের একসঙ্গে চলাচল, ফুটপাত হকারদের দখলে থাকা, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ না থাকা বা ব্যবহার অনুপযোগী থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে রাজধানীতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক বর্তমানে রাজধানীর দুর্ঘটনাপ্রবণ 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া বছরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজধানীতে ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ২৩৩ জন আহত হন। ২০২১ সালে ১৩৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৪১ জন, আহত ২৪৭ জন। ২০২২ সালে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় ২৫৬ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হন। ২০২৩ সালে ২৯৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৪৯ জন এবং আহত হন ৩৩৫ জন। ২০২৪ সালে ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ২৪৬ জন নিহত ও ৪৮২ জন আহত হন। ২০২৫ সালে ৪০৭টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত ও ৫১১ জন আহত হন। আর ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ২২৩টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ৩৫৬ জন আহত হয়েছেন।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালু, পাশাপাশি বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
৫ দিন আগে
টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩
টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মধুপুর উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেতু আক্তার (২২) ও তাজবীর (৮)। অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ক্রাউন ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মাদারগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি রক্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইলগামী একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন আহত হয়েছেন ।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
৫ দিন আগে
সিলেটে পার্কিং করা ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জাতুয়া গ্রামের মুসাব্বির মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— দোয়ারাবাজার উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী (৫০) এবং ছাতক উপজেলার জটি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন (৩৫)।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী লেনে একটি ট্রাক রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহিরুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করে জয়কলস হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই (নিরস্ত্র) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করি। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, মহাসড়কে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন পার্কিং করে রাখার প্রবণতা এবং অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচলের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
৬ দিন আগে
সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর
দেশে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৩২৮ জন (৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ) এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩৬ জন (৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২৩ জন (২৬ দশমিক ১১ শতাংশ)। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯২৭ জন (১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ)। মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন (৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ)। এছাড়া বাইসাইকেল ও রিকশার আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৫১৯ জন (৭ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে নিহত হয়েছেন ১৫৪ জন (২ দশমিক ৯ শতাংশ)।
সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৮২ জন (২০ দশমিক ১২ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন (২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন (২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন (২৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ)।
পথচারী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে জাতীয় মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ২৫১ জন (১৩ দশমিক ৫ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন (২১ দশমিক ২৬ শতাংশ), শহরের সড়কে ৫৩৭ জন (২৭ দশমিক ৯২ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন (৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ)।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মূলত স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।
এতে আরও বলা হয়, বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও অনিরাপদ মালবাহী যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছে। আর অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতাকে দায়ী করা হয়েছে।
বছরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
এছাড়া গত সাড়ে সাত বছরে অসাবধানে রেললাইন পারাপার এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থী নিহতের পেছনে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার ঘাটতি, শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সংস্থাটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত একবার সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের আয়োজন, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অহিংস আন্দোলন হয়েছিল। তবে আট বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীন উদ্যোগ, সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকর প্রয়োগ না হওয়া এবং পরিবহন খাতের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি ঘটছে না।
৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের ধাক্কায় বাস-মাহিন্দ্রা-ইজিবাইকের সংঘর্ষ, নিহত ২
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাঁচটি ওয়াগনের (বগির) ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫) এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। তারা মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হিমু খান জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেটে পৌঁছানোর পর গেটম্যান ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন। তার পেছনে আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা সামনে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, বাসটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনগুলোর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকও ওই বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ওয়াগনগুলো কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ ও সাত্তার বিশ্বাস জানান, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং (চেইন) ছিঁড়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলো সজোরে সেগুলোকে ধাক্কা দেয়।
তারা আরও জানান, সংঘর্ষে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদের কিনারে চলে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে অংশ নেন।
পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। গুরুতর আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৯ দিন আগে