বিদ্যুৎ উৎপাদন
বড়পুকুরিয়ায় আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ
বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে একমাত্র সচল ছিল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি। অন্যদিকে ৫ বছর ধরে বন্ধ ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর আরেকটি ইউনিট। এ ছাড়াও ওভার হোলিং (রক্ষণাবেক্ষণ) কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটিও।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কেন্দ্রে ১ নম্বর ইউনিটে বয়লারের আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে শনিবার (২ মে) রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বয়লারের গরম পানি শীতল এবং টিউব পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে আরও ৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে।
এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল একই ইউনিটে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত ৬দিন বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। টিউব পরিবর্তন করে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছিল ইউনিটটি। তার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছিল ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে তৈরি বাষ্প ইঞ্জিনে পৌঁছাতে অসংখ্য টিউব রয়েছে প্রতিটি ইউনিটে।
পাশ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তেলিত কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত এবং কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচ সুবিধার সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিটে শুরু হয়েছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি কেন্দ্রটিতে।
২ দিন আগে
এপ্রিলে রামপালে রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন
বাগেরহাটের রামপালে স্থাপিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুনরায় রের্কড করেছে। এই মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯ শতাংশেরও বেশি।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে রামপাল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিআইএফপিসিএলের জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন তাপপ্রবাহের কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা চরম পর্যায়ে পৌছায়, তখন কেন্দ্রটি অভাবনীয় ৯৭ শতাংশ সক্ষমতায় (পিএলএফ) বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রিডকে স্থিতিশীল রেখেছে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফল স্পর্শ করল।
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং অত্যাধুনিক ‘আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ রামপাল কেন্দ্রটি উচ্চ দক্ষতা এবং পরিবেশের ওপর নূন্যতম প্রভাব নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত উন্নত ‘ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেসন’ (এফজিডি) প্রযুক্তি পরিচালিত পরিবেশগত মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলে। শিল্প ও আবাসিক খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ‘বেসলোড পাওয়ার’ নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমানাথ পূজারী জানান, সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্রটি পরিচালনা করা আমাদের শক্তিশালি ডিজাইন এবং টিমের নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। এই সাফল্য আমাদের কঠোর পরিচালন পদ্ধতি এবং দুই দেশের মধ্যেকার সফল সহযোগিতার অনন্য নিদর্শন।
তিনি বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রটি ভারতে এনটিপিসি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একদল দক্ষ বাংলাদেশি প্রকৌশলী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এনটিপিসি বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে সহায়তা প্রদান করলেও স্থানীয় মেধাবী প্রকৌশলীদের দ্বারা এই বিশালকার কেন্দ্রের দৈনন্দিন পরিচালনা বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পথে একটি বড় অর্জন।
৩ দিন আগে
অচলাবস্থার অবসান, বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু
ছয় দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট। এতে করে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) রাত ১০টা থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এতে উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি গতকাল (শুক্রবার) রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে ইউনিটটি গত ২৫ এপ্রিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এই প্রকৌশলী আরও বলেন, বন্ধ থাকা ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের ওভার হোলিংয়ের কাজ চলছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সেটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও বাড়ানো যাবে। এ ছাড়াও ৫ বছর ধরে অচল পড়ে থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি মেরামত করে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার নিশ্চিত এবং কৃষি প্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচের সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল।
শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়েছে। তবে ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রটি কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
৪ দিন আগে
যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে একমাত্র সচল থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি অচল হয়ে যায়।
তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জ্বালানি চুল্লিতে কয়লা পোড়ানোর আগে মেশিনে কয়লা গুড়ো করার সময় ২ নম্বর ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। কয়লার মধ্যে পাথর থাকায় মেশিনে এ ত্রুটি দেখা দেয় বলে জানান তিনি।
এরপর গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি সচলের কাজ আগামী মে মাসে শুরু হবে। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি ওভারহোলিং সাপেক্ষে সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু বক্কর সিদ্দিক।
১৩ দিন আগে
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ ইউনিট
দেশীয় যন্ত্রাংশে সচল হয়ে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট। এতে প্রতিদিন ২৪০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।
কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একে একে বন্ধ হয়ে পড়েছিল তিনটি ইউনিটই। এর মধ্যে ২টি চালু হলেও আরেকটি ইউনিট সোয়া চার বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে।
জানা গেছে, ২৮ ফেব্রিুয়ারি রাত ১০টায় কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে ১২৫ মেগায়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট।
সচলতায় ফেরা ১ নম্বর এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ২৫০ মেগওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ ইউনিট অচল, বন্ধ উৎপাদন
এর মধ্যে ২৭৫ মগোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট করে এবং ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৬৫ থেকে ৭০ মেগোওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সাল থেকে সোয়া ৪ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবুবকর সিদ্দিক জানান, স্থানীয় যন্ত্রাংশে মেরামত শেষে কেন্দ্রের দুইটি ইউনিট সচল করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ায় বিদ্যুৎ নির্ভর সেচযন্ত্র শিল্প কারখানা আবাসনে ভোগান্তি দূর হয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি অভারহোলিং শেষে সচল করতে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিলের চীনা প্রকৌশলীরা।
দুটি ইউনিট চালু রাখতে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
৪২৮ দিন আগে
২০৩৫ সালের মধ্যে হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সিলেট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করা যায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন শক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’
এর আগে বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন উৎপাদনের টেকসই ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে উন্নত বিশ্বে চলমান গবেষণার ফলাফল এবং কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীনে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) একটি সেল গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর সেল একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করবে।
এছাড়া ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট এ বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে ২০৪১ সালের মধ্যে ক্লিন এনার্জি (নবায়নযোগ্য) থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভোলা-২ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার ব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি করে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: কারিগরি ও অন্যান্য কারণে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসতে পারে: নসরুল হামিদ
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সুষ্ঠু বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়ার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নিম্ন আদালতে মোট ১ হাজার ৪২৯ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর (ফেনী-১) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭৭ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৪৩ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি।
তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ৫৮টি জেলা ও ৪৬৪টি উপজেলা সম্পূর্ণরূপে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ মুক্ত হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী এই পাঁচটি বিভাগ এখন ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ মুক্ত। অর্থাৎ এসব জেলা, উপজেলা ও বিভাগে কোনো ভূমিহীন গৃহহীন মানুষ নেই।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এস এম আতাউল হকের (সাতক্ষীরা-৪) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ছিল। ৯ দশমিক ১২ গুণ বাড়িয়ে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। যা মোট জাতীয় বাজেটের ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: মন্ত্রী
৬৭২ দিন আগে
বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে লোডশেডিং-তাপপ্রবাহ
উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাজধানীর বাইরে লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। কারণ জনরোষ এড়াতে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার দিকে বেশি মনোনিবেশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ঢাকাসহ চার বিভাগে তাপপ্রবাহের সতর্কতা (হিট অ্যালার্ট) জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে বিদ্যমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির অফিসিয়াল পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মূলত মার্চের শেষ সপ্তাহে দেশে গ্রীষ্ম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়।
দীর্ঘ শীতের পর গত ২৫ মার্চ মধ্যরাতে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হলে দেশে প্রথম বড় ধরনের লোডশেডিং হয়।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি জরুরি: নসরুল হামিদ
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১ এপ্রিল রাত ২টায় প্রথমে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৮৫০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, ‘গ্রীষ্মের শুরু থেকে অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে, দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন প্রতিদিন ১২০০-১৬৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।’
পিজিসিবির তথ্যে আরও দেখা যায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ২ এপ্রিল বিকাল ৫টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়, যেখানে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১১ হাজার ৯৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
গত বছর ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি চাহিদার বিপরীতে গত ৩০ জুলাই সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট।
ফলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দেয়।
কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে সব সময় ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার উৎপাদন ইউনিট অলস রাখতে হয়।
আরও পড়ুন: তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের জনজীবন
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন, এই গ্রীষ্মে দেশের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং গ্যাস সরবরাহ না বাড়ালে গত বছরের মতো লোডশেডিং পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশে ৭১৭ মিলিমিটার লোডশেডিং হয়েছে।
সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়তে পারে আশঙ্কা করছেন বিপিডিবি কর্মকর্তারা।
এদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল উৎপাদন শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনিং) ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, 'আমরা মনে করি সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পেতে আরও ৩-৪ দিন সময় লাগতে পারে।’
তিনি আরও জানান, সামিটের এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ৪ হাজার এমএমসিএফডির বেশি চাহিদার বিপরীতে দেশে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬৪০ এমএমসিএফডি।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
৭৬২ দিন আগে
বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা লোকসান কমাতে আরও বন্ড ইস্যু নিয়ে দ্বিধায় সরকার
বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয় থেকে উৎপন্ন রাজস্বের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে সঠিক বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার দ্বিধায় রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের বিদ্যুতের দাম আরও বাড়ানো উচিত নাকি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও বন্ড ইস্যু করা উচিত তা নিয়ে শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা বিভক্ত।’
তিনি বলেন, সরকার যদি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায়, তাহলে হয় রমজানের আগে করতে হবে বা রমজানের পরে- এই প্রশ্নগুলো প্রায় প্রতিদিনই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
বিপিডিবির ক্রমবর্ধমান লোকসানের বোঝা কমাতে তারা আরও বন্ড ইস্যু করার প্রভাবও বিশ্লেষণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ১২ টাকা, যেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬ টাকা ৭০ পয়সা দরে।
বিপিডিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, এর অর্থ সরকারকে প্রতি ইউনিটে ৫ দশমিক ৩ টাকার অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, একক ক্রেতা হিসেবে বিপিডিবি এই অর্থবছরে মোট ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৭ হাজার ২৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
এর প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ ১১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করতে খরচ হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা, লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬৩ পয়সা।
সর্বশেষ গত বছরের জানুয়ারিতে পাইকারি শুল্ক ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়। সেটি কার্যকর হয় একই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে।
এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় হয়েছে ৫০ হাজার ৮৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যার ফলে লোকসান হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এই বিশাল লোকসানে সরকার চরম বিপাকে পড়েছে কারণ বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে ৮২ হাজার ৭৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। একই সময় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্র থেকে ১৩ হাজার ৩০৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্রে গড়ে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ ৭ টাকা ৬৩ পয়সা, স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) থেকে ১৪ টাকা ৬২ পয়সা, রেন্টাল কেন্দ্রে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা, পাবলিক প্লান্টে ৬ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের খরচ ৮ টাকা ৭৭ পয়সা।
সরকার বেসরকারি খাত ও ভারত থেকে ডলারে বিদ্যুৎ কেনে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের জমা হওয়া বকেয়া বিল এখন প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা) এবং বাকি ১ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি খাতে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও সংকটের ভয়াবহতার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আসলে সংকটটা স্থানীয় মুদ্রার নয়। যেভাবেই হোক আমরা ম্যানেজ করতে পারব। তবে মূল সংকট ডলার নিয়ে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ডলার পাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।
এমন পরিস্থিতিতে বিপিডিবির কিছু পাওনা পরিশোধের সুবিধার্থে সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বন্ড চালু করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, 'প্রাথমিকভাবে আমরা ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছেড়েছি এবং এটি বেড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য সরকারকে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়াতে হবে বা আরও বন্ড চালু করতে হবে। যদি আরও বন্ড দেওয়া হয় তবে এটি ব্যাংকিং খাত থেকে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহকে সংকুচিত করতে পারে।’
তবে তারা কী করবেন সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে আরও ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত রপ্তানির প্রস্তাব আদানি গ্রুপের: সূত্র
৮১৪ দিন আগে
বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে সরকার: নসরুল হামিদ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাস্তবধর্মী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ‘টেকনো-ইকোনমিক স্টাডি অব ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন টেকনোলজিস ফর বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে কীভাবে হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে।’
তিনি কর্মশালায় জানান, ‘শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ আসবে। ১২ হাজার ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এখন উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।’
আরও পড়ুন: ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে: নসরুল হামিদ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও আর্থিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ এনইএফ এই কর্মশালায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উৎস ও এর ব্যয় নিয়ে গবেষণা উপস্থাপন করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে অকৃষিজ জমির প্রাপ্যতা অন্যতম প্রধান সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনশোর এবং অফশোর বায়ু শক্তি নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছি। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং গ্রিড সিঙ্ক্রোনাইজেশনের উপর এখন বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।’
কর্মশালায় ব্লুমবার্গের পক্ষে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন ব্লুমবার্গের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান ড. আলী ইজাদি, দক্ষিণ এশিয়ার মার্কেট লিডার ইশু কিকুমা এবং সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট তরুণ ব্লাকৃষ্ণান।
আরও পড়ুন: দু-একদিনের মধ্যে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে: নসরুল হামিদ
তারা ইউটিলিটি স্কেলে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিকে সমর্থন করা, ছাদ এবং ভাসমান সৌর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিষ্কার প্রযুক্তির কাজের জন্য প্রশিক্ষণের উপর জোর দিয়েছিলেন।
তারা বলেন, কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া বা প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে হাইড্রোজেন মিশিয়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে, তবে খরচ বেশি হবে। অন্যদিকে সৌরশক্তির সঙ্গে ব্যাটারি বা বাতাসের সঙ্গে ব্যাটারি ব্যবহার অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব নিরোদ চন্দ্র মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, স্রেড চেয়ারম্যান মুনিরা সুলতানা, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, আরইবির চেয়ারম্যান অজয় কুমার চক্রবর্তী, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, বুয়েটের অধ্যাপক এজাজ আহমেদ, বদরুল ইমাম। এছাড়া জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরীসহ বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে: নসরুল হামিদ
৮২৮ দিন আগে
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন
সপ্তাহজুড়ে থেমে থেমে রাঙামাটির কাপ্তাই লেক এবং এর আশেপাশে এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লেকের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৩ মেগাওয়াটে।
যা চলতি বছরে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন।
আরও পড়ুন: কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, একসঙ্গে চালু হলো ৫ ইউনিট
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এটিএম আব্দুজ্জাহের বলেন, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানি থাকার কথা ৯৯ দশমিক ৬৯ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু লেকে এখন পানি রয়েছে ১০৫ দশমিক ৮৮ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই লেকে পানির ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
প্রসঙ্গত কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন
৯৭৫ দিন আগে