পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরব বাংলাদেশের মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সৌদি সরকার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে অবশ্যই সেই সফর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে বিনিয়োগবিষয়ক একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সেখানে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সৌদি সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয় এ বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কনস্যুলার ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
সৌদি আরবে প্রায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মিশন কাজ করছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সৌদি আরবে আমাদের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবারই জোর দিয়েছে যে তারা শুধু একটি খাতে নয়, বরং বহুমুখী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
২২ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে কি না, ভারত সরকারকেই তা স্পষ্ট করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশে বসে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে চায় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন সেই সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই প্রত্যাশা।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই—এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, সেটির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়।
তিনি বলেন, ভারত সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে ভারতে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে এবং এমন কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থন করে না। এখন আলোচিত অনলাইন অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিরা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্রে জড়ান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এবং দুই দেশ ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না এবং আমার গভীল বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও যোগাযোগে বাংলাদেশ এ বিষয়টি একাধিকবার ভারতের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে তুলে ধরেছে। তাদের সঙ্গে যখনই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, মতবিনিময় হচ্ছে, বিষয়টি আমরা আমাদের তরফ থেকে পরিষ্কার করছি। সুতরাং যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রিত, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। ভারতও সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার অবস্থান
ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। মন্ত্রণালয়ে এসে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।
ব্রিকস সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে ব্রিকস সম্মেলনেও যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কখন, কোথায় সফর করবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি যথাসময়ে নেবেন।
ব্রিকসের আমন্ত্রণটি নরেন্দ্র মোদি ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে দিয়েছেন, নাকি ভারত সফরের আমন্ত্রণও ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি এখন আলোচনার বিষয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য খাতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেকোনো দেশের প্রতিনিধিদল এলে সরকার তা স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার কাজ করবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংলাপেরই অংশ। অতীতেও এ ধরনের আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমে (সিভিল নিউক্লিয়ার) সহযোগিতা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হলে সরকার তা এগিয়ে নেবে, অন্যথায় পুনর্বিবেচনা করবে।
মুসলিম দেশগুলোর জোটে নীতিগত সমর্থনের ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ওআইসি ও বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নীতিগতভাবে এ জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কী মাত্রায় সম্পৃক্ততা থাকবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিশদ সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।
১ দিন আগে
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
৬ দিন আগে
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সরকার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছে এবং অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক এক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে, তারা কীভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। এটি একটি চলমান আলোচনা। অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কাজ করছে।’
তিনি বলেন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা এবং বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী, স্টেকহোল্ডার ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ওই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় আজকের রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অর্থ উপদেষ্টা, বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, এখানে মূলত আলোচনা হয়েছে, আমাদের কী কী সমস্যাগুলো আছে; আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে বিলম্ব (ডেফারমেন্ট), আমাদের পুঁজিবাজার, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, এখানে সহজে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্নভাবে যে ধরনের সমস্যা এখানে মোকাবিলা করতে হয়, সেগুলোর সমাধানে আমরা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন সমস্যা, আলোচনা ও পরামর্শগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে সমাধানের দিকে এগোনো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার ও বিভিন্ন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করে একটি গতিশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা গ্রহণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সৃজনশীল অর্থনীতি, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, বিভিন্ন অর্থনৈতিক জোনে যখন বিনিয়োগ হবে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কী কী ধরনের সুবিধা প্রয়োজন, কী কী ধরনের প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে যাতে তারা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারেন, সেইসব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে আমরা যখন ক্রিয়েটিভ ইকোনমির (সৃজনশীল অর্থনীতি) কথা বলছি, সেখানে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আমাদের কুটির শিল্প, আমাদের কৃষ্টি, কালচার—এখানেও কিন্তু অর্থনৈতিক বিনিয়োগের একটা বিশাল সুযোগ আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতেও বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ক্রীড়া কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশের আপামর জনতা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, আমাদের নারী সমাজ—প্রত্যেকেই এই অগ্রগতি, এই উন্নয়নের অংশ হবে, সেটি বাস্তবায়ন করাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ।
ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘অবশ্যই, অবশ্যই! ব্লু ইকোনমি নিয়ে কথা হয়েছে, ব্লু ইকোনমি তো ওয়ান অব দ্য প্রায়োরিটিজ (অন্যতম অগ্রাধিকার)। ব্লু ইকোনমিতে আমরা ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) চাই; বিভিন্ন ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলো আমাদের ব্লু ইকোনমিতে ইনভেস্ট করতে চাচ্ছে এবং সেটার অনেক সুযোগও আছে বাংলাদেশে। তো সেগুলো নিয়েও আমাদের কথা হচ্ছে।’
তিনি জানান, বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের জন্য এ ধরনের রাউন্ড টেবিল বৈঠক আরও আয়োজন করা হবে।
আগামী ছয় মাস বা এক বছরে কত বিনিয়োগ আসতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিনিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া; এর জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করা যায় না।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া তো ইতোমধ্যে চলছে। অনেক দেশ এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে যে তারা বিভিন্ন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী বিডার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশই কিন্তু বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে। তারা বিনিয়োগের ব্যাপারে কথাবার্তা চালাচ্ছে।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট দিয়েছেন, উনি কিন্তু বলেছেন যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা অর্থনীতি আমরা অর্জন করতে চাই; সেটি আমাদের লক্ষ্য। সেই অর্থনীতি বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের যে ধরনের বিনিয়োগ দরকার, সেই ধরনের বিনিয়োগ আমরা আনার চেষ্টা করছি। সেই কাজ চলছে।
৯ দিন আগে
ভিসা জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আমাদের ভিসার যে অবনমন ঘটেছে এবং সেটার জন্য আপনারা অনেকগুলো দিন সময়ও পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের ভিসা-পাসপোর্টের মান এত নিচে রয়েছে যে অনেক দেশের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সাংবাদিকরা তা জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা মাত্র সাড়ে চার মাস হলো সরকার গঠন করেছি। এর আগ থেকেই ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ছিল।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা বন্ধ রয়েছে এবং এ বিষয় সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভিসা বন্ধ থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক বাংলাদেশি বৈধ পথের পরিবর্তে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার করেন। এসব সমস্যাও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছি।’
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছি।’
১২ দিন আগে
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এটি দ্বিতীয় দফায় চিঠি দেওয়া হলো কি না—জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হয়েছে। যেহেতু তিনি পলাতক আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা সেটাই দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘এটা আমরা বারবার বলেছি আগেও যে, কূটনীতিতে যে নর্মস (রীতি) আছে, যে প্রটোকল আছে, সেই প্রটোকল অনুযায়ী, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান কামালকে (খানকে) দেশে ফিরিয়ে এনে উনার বিচারও সম্পন্ন করা হবে; ঠিক যেভাবে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের বিচার হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে বিচার চলাকালে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আলাদা করে আর কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে আসাদুজ্জামান খানকে চেয়ে চিঠি কবে পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন, আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগগুলো নেবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কূটনীতি অনুযায়ী আমরা সেই কাজগুলো করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া যে, যারা পলাতক আসামি, যাদের বিচার হয়ে গেছে, সাজা হয়ে গেছে—তাদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার হবে এবং জনগণও সেটা আশা করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো চাই যে একটা সুষ্ঠু বিচার হোক এবং সেই প্রক্রিয়াটা সরকারের পক্ষ থেকে চলমান থাকবে। চিঠি দেওয়া হলো; এখন জবাব আসা, এরপর কী করব, না করব—সেগুলো তো ভারত সরকারের ওপর নির্ভর করে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি গেছে, আমরা অপেক্ষা করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, অবশ্যই আমরা আশা করব যে, ভারত ইতিবাচক জবাব দেবে এবং দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে, সেটাকে জোরদার করার লক্ষ্যে তাদের পক্ষ থেকে যা দায়িত্ব, সেটা তারা পালন করবে।
ভারতে পলাতক থাকা অন্যদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন চিঠি যায়। যারা আসামি, যারা পলাতক আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা চিঠি দিচ্ছি।
গত ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে ফের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তার প্রত্যর্পণ চাওয়া অব্যাহত রাখব। বিষয়টি আলোচনা হয়েছে এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি এগিয়ে নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগে
শেখ হাসিনা ফিরলে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আত্মসমর্পণ করে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, সেটিই হবে এবং তাকে জেলে যেতে হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, উনি যদি আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। উনাকে জেলে যেতে হবে এবং সেই আইন আইনের গতিতে চলবে।
শেখ হাসিনা ‘আসামি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ না করে যে উনি বিদেশে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন, এগুলো আমি মনে করি, রাজনৈতিকভাবে উনার আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পালিয়ে আছেন, লুকিয়ে আছেন, তাদের চাঙ্গা করার জন্য, উজ্জীবিত করার জন্য বলছেন। এছাড়া কোনো কারণ আমি দেখছি না। কারণ, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যে প্রক্রিয়া আমাদের আছে, সেভাবেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। কোনো আসামি যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের আওতায় যা প্রয়োজন, সেটাই হবে।
শেখ হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনে আত্মসমর্পণ করতে পারেন কি না— সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথায় এবং কীভাবে একজন আসামি আত্মসমর্পণ করবেন, সেটি তার নিজস্ব বিষয়।
তিনি বলেন, ‘সেটি উনার ব্যাপার। সেটি আমাদের ব্যাপার নয়। এখন একজন আসামি কোথায় আত্মসমর্পণ করবেন, কীভাবে করবেন, সেটি একেবারেই উনার ব্যাপার এবং আমাদের, সরকারের কোনো সাবজেক্ট (বিষয়) এখানে নেই। তবে বিদেশে বাংলাদেশের কোনো মিশনে আত্মসমর্পণ করুক বা বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করুক, প্রক্রিয়া এক।’
বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সরকারের অবস্থান বা চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, একজন আসামি কী বক্তব্য দেন, সেটা বাংলাদেশ সরকারের আমলে নেওয়ার কথা না এবং নেবে না। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজনের সাজা হয়েছে, তিনি অলরেডি (ইতোমধ্যে) সাজাপ্রাপ্ত। আমাদের যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়া আগে থেকেই চলমান আছে। এটা নতুন করে আর নতুন প্রক্রিয়ায় চলার কোনো অবস্থা নেই।
২২ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়—প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোর্ট একজনকে সাজা দিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে বহু অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তো উনার এখানে... শেখ হাসিনা কী বলছে না বলছে উনার বক্তব্যটা এখানে (দেশে) রেলেভেন্ট (প্রাসঙ্গিক) না, একেবারেই রেলেভেন্ট না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে যোগাযোগটা শুরু হয়েছে, এখন সেই ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সেটা চলমান আছে। একজন বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বা একজন আসামিকে যখন ফেরত আনা হয়, সেই যে প্রটোকল আছে, যে নর্মস (নিয়মকানুন) আছে, সেই নর্মস অনুযায়ী উনাকে এনে এখানে বিচার করা হবে। সেটাই তো মনে হয় বাংলাদেশের জনগণ চায়।
তিনি বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, খুন, গুম হয়েছে—সেগুলোর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেটা আমরা আগেই বলেছি। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্যটা এখানে রেলেভেন্ট না।
প্রায় ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই, এখানে সফলতার ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, না; এটা দেখুন... এটা সময় লাগে। প্রক্রিয়াটা চলমান আছে। তার মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, তার মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার আসার পরে প্রক্রিয়াটি আবার সচল হয়েছে। তো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, সেটা চলমান আছে। সেখানে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা নিয়ে কাজ করছে। উনারাও কাজ করছেন, প্রক্রিয়াটা চলমান আছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী? ভারতের সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে কিনা, আইনি কোনো জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যেই প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সেই প্রক্রিয়া আমরা চালাচ্ছি, সেটাতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।
গঙ্গা পানি চুক্তি প্রসঙ্গ
গঙ্গার পানি ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে। সব আলোচনা দৃশ্যমান নয়। আলোচনা চলতে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিপাক্ষিক যে আলোচনা চলছে, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব এবং পানির গুরুত্ব ভারত বুঝতে পারছে। সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ইতিবাচক দিকে আগাচ্ছে। গঙ্গাচুক্তির বেশি সময় নেই। আমাদের যে টিম (যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি) প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন, সেই কমিটি কাজ করছে ভারতের সঙ্গে।’
ইতিবাচক দিকে এগোনোর ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আমি আশা করছি, ভারত গঙ্গাচুক্তির গুরুত্ব বুঝবে এবং সেভাবে উনারা এগিয়ে আসবেন।’
‘কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হচ্ছে’
এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘একটি চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে, নতুন দায়িত্বে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তখনই সবাই জানতে পারবেন কোথায়, কেন এবং কী কারণে রদবদল করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
রদবদলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রদবদল প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সরকার থেকে গেজেট প্রকাশের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
২৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের
বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে শামা ওবায়েদ ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
৪৭ দিন আগে
শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
৮২ দিন আগে