পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরানোর আগ পর্যন্ত কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান থাকবে: শামা ওবায়েদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হচ্ছে এবং আরও নেওয়া হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’
আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’
ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো নিয়ে ‘দাপ্তরিক বিবৃতি’ ছাড়া সংবাদ না করার অনুরোধ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ‘ডেফিনেট স্টেটমেন্ট’ না আসা পর্যন্ত এসব খবরের আমল না দিতে তিনি অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমার একটাই বক্তব্য—বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ডেফিনেট কোনো স্টেটমেন্ট না আসা পর্যন্ত এসব নিউজের আমল না দিতে আমি অনুরোধ করব এবং নিউজ না করারও অনুরোধ করব।’
৩ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাত ও এসডিজি অর্জনে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ হুমায়ুন কবিরের
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ দপ্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৩ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে ১৫ বছর অস্বস্তিকর সম্পর্কের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।
জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’
তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’
ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’
এছাড়া সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
৬ দিন আগে
পুতুলের নিয়োগ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য লজ্জার: হুমায়ুন কবির
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। এত উচ্চপর্যায়ের একটি পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তার ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো বিস্ময়ের বিষয় ছিল না। বিশ্বাসযোগ্য কোনো যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে—এই কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য ‘লজ্জার’ বিষয় বলেও বর্ণনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, এমন মানুষ দরকার, যারা সংস্থার নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ভবিষ্যতে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তিনি মালদ্বীপের একজন প্রার্থীর কথা উল্লেখ করেন, যার ভালো রেকর্ড ও শক্তিশালী যোগ্যতা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে।
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবার বা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসবে বলেও জানান।
এছাড়া দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের এ বিষয়ে একটি অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেনসিক দক্ষতা ও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা কাজ করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে চুরি করা সম্পদ ও অর্থ উদ্ধার করা যায়। যাতে জনগণ তাদের অর্থ ফিরে পায় এবং সেই অর্থ তাদের জন্য ব্যয় করা হয়, তা বিদেশে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে।’
৬ দিন আগে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ কর্মসূচি বিস্তারিত জানানো হবে। আমরা সম্ভবত ২১ তারিখ রওনা হব এবং ২৬ তারিখ পর্যন্ত নিউইয়র্কে থাকব। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন—নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকারে নির্বাচিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সে বিষয়ে তার ভিশন জাতিসংঘে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।’
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’
তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’
ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইনে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরাম এভাবেই কাজ করে। একজন নেতা শেষ মুহূর্তেও বলতে পারেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। বড় বড় সম্মেলনে এমনটাই হয়। সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের দৈনন্দিন কর্মসূচিতে অনেক পরিবর্তন আসে। এসব যখন আসবে, যার সঙ্গেই বৈঠক হোক, আপনাদের জানানো হবে। আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ওই পদে দুর্নীতির অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই ‘দুঃখজনক’ ছিল। তার দাবি, তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই।’ একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের এ বিষয়ে একটি অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফরেনসিক ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে আমরা কাজ করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে চুরি করা সম্পদ ও অর্থ উদ্ধার করা যায়। যাতে জনগণ তাদের অর্থ ফিরে পায় এবং সেই অর্থ তাদের জন্য ব্যয় করা হয়, তা বিদেশে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে।’
৬ দিন আগে
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই: হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি উল্লেখ করে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাহলে এই প্রশ্ন করছেন কেন?’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর কোনো বহুপক্ষীয় সফর হতে পারে না। সময় অনুকূল হলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর আয়োজনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
গত বছরের এপ্রিলে আগামী দুই বছরের জন্য বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
ভারত জানিয়েছে, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণও রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অংশ নেবেন।
ব্রিকসের ২০২৬ সালের চেয়ারম্যান ভারত। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। ভারতের এবারের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য, ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’।
সম্মেলনে অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।
ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর দেশটির ২৫টির বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল ক্ষেত্রে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব বাস্তবভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী ফলাফলের দিকে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ভারত ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনবার জোটটির সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দেশটি চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এ বছর ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তিও হচ্ছে।
৯ দিন আগে
গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল ছিল: হুমায়ুন কবির
গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এখন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ কেন একইভাবে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারছে না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মালয়েশিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে এবং দেশটিতে নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তো কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই ছিল না। কারণ সেটি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে আমাদের একটি নিপীড়নমূলক সরকার ছিল, যার নেতৃত্বে ছিল সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সরকারের জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দুর্বল।
তিনি বলেন, নিজের দেশের মানুষের অনেক অধিকারই যারা কেড়ে নিয়েছিল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কীভাবে সম্মান করা হবে? মিয়ানমারও বিষয়টি জানত। ফলে তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী ছিল না।
তার কথায়, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলার সুযোগ আমাদের ছিল খুবই দুর্বল। এখন আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার আছে। আমরা শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলব, কারণ আমাদের জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে।’
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সংকট সমাধানে একক কোনো পক্ষের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ জন্য বহু সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়। তাই আমরা এটি একসঙ্গে সমাধান করব। তবে এখানে বহু সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। একজন অংশীজনের পক্ষে একা সবকিছু সমাধান করা সম্ভব নয়।’
মিয়ানমার সরকারও এবার কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে—মিয়ানমারকে বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে এবং সেই সরকারকে সম্মান দিতে হবে।
‘এটাই আমাদের শক্ত অবস্থান। জনগণের ম্যান্ডেট ও অনুমোদন নিয়ে আমরা জোরালোভাবে এগিয়ে যাব এবং যত দ্রুত সম্ভব ধাপে ধাপে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। তবে সংকটের জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের সমাধান করতে চায় বাংলাদেশ।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন না যে আমি আগামীকালই এটির সমাধান করব। কিন্তু আমরা এটি সমাধান করব এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এতে অগ্রগতি হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাব।’
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব বাড়াবে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার কথা জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় এই ফোরামে আবারও এই সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরব।’
চীন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদার এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অংশীদারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ধাপে ধাপে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়
বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রয়োজনের সময়ে সর্বোচ্চ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের কোনো ইউরোপীয় বা উত্তর আমেরিকান দেশ এ ধরনের সংকটে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিতে রাজি হতো না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
‘এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে যথেষ্ট করেছে। এটি বিশ্বেরও সমস্যা এবং তাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে,’ বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু সংহতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থায়ন এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেমন উদ্বেগের, তেমনি এর প্রভাব পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারদের সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে সংকট সমাধানে সহায়তা করা প্রয়োজন।
৯ দিন আগে
ইউএনজিএ অধিবেশন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার বড় সুযোগ: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার তুলে ধরার বড় সুযোগ দেবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (সেন্টার ফর এনআরবি) আয়োজিত ‘আপকামিং ইউএনজিএ অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি (ইউএনজিএ) একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাঙ্ক্ষার সূচনা।’
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ইউএনজিএতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের পর্ব ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বন্যা, দুর্যোগ কিংবা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর মতো বিষয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় আর তুলে ধরা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন, ব্যবসা ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে এবং বিশ্ব মানচিত্রে দেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা সঠিকভাবে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছি। সরকার একা সবকিছু করতে পারে না; আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তার মতে, অধিবেশনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এই পদ পাওয়ার জন্য সাইপ্রাস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করলেও বাংলাদেশ নির্বাচনে সফল হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন এবং শিগগিরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টিও রয়েছে।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। পরে মাসের শেষ দিকে বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিতে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমবেত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সরকার এই বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের নেওয়া উদ্যোগও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবারের আসন্ন অধিবেশনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে এ বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ, আরাকান আর্মি, আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষ ও পরস্পরবিরোধী আন্তর্জাতিক স্বার্থের সম্পৃক্ততার কারণে সংকটটি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে সমস্যাটি আরও গভীর হয়েছে। একটি আঞ্চলিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’
টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সহায়তা চান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এটি বাংলাদেশের সমস্যা নয়। সমস্যাটি বাংলাদেশ তৈরি করেনি।’
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী, বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টি।
এছাড়া সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার যে ‘ভেঙে পড়া অর্থনীতি’ ও ‘ভেঙে পড়া ব্যাংকিং খাত’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আমাদের বাংলাদেশিরা বিনিয়োগ করতে দেশে ফিরে আসবেন এবং বিদেশিরাও এখানে বিনিয়োগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সেবার জন্য বিনিয়োগকারীদের যেন একাধিক সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়, সে জন্য ডিজিটাল সেবা ও ওয়ান-স্টপ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার কাজও করছে সরকার।
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে নিবন্ধন, কোম্পানির নাম নিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অনলাইন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান শামা।
তিনি ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন, যার আওতায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে থাকা তথ্য একটি একক ডেটাবেজে একত্রিত করে প্রত্যেক নাগরিকের একটি কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিটেন্স উপার্জনকারীদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তবে দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন এখনও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ইতালি ও স্পেনের মতো দেশে চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূমধ্যসাগরসহ বিপজ্জনক পথে যাওয়ার সময় বাংলাদেশি অভিবাসীরা দালালচক্রের শিকার হচ্ছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় একটি পৃথক মাইগ্রেশন উইং প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আরও কার্যকর কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যার লক্ষ্য নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
অবৈধ অভিবাসন ও দালালচক্রের ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সচেতন করতে অনাবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সহায়তা চান শামা ওবায়েদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন বেশি হয়—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
সরকার ভিসা অন অ্যারাইভাল-সংক্রান্ত বিধানসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ করছে এবং সংশোধিত নীতিটি সংসদে উপস্থাপনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা কিছু করছেন, তার সবকিছুর লক্ষ্য বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত ও নানা ধরনের বাধার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে বহুমুখীকরণ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির ওপর সরকারের গুরুত্বারোপের কথা তুলে ধরে বলেন, এ খাত নিয়ে কাজ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পৃথক মেরিটাইম উইং রয়েছে।
এ বছরের বাজেটে নতুন খাত হিসেবে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি যুক্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এই খাত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের শিল্পকলা, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে এগুলোকে তুলে ধরতে সহায়তা করবে।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এম এস শেকিল চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরতে সংগঠনটি তাদের বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, এই সিরিজের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা ও বৈধ চ্যানেলে তাদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া।
১৪ দিন আগে
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে তেহরান উদ্বিগ্ন নয়: ইরানি রাষ্ট্রদূত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ঢাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশটি উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করি না। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও নিয়েও আমাদের উদ্বেগ নেই।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে তেহরান অবগত আছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ভালোভাবেই জানি যে, আপনাদের সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।’ ফলে আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আমরা আগ্রহী।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বাইরের মানুষের স্বার্থেও আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে একে অপরের ওপর নির্ভরতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তার কথায়, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, শান্তি চুক্তি এর ভালো প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে তারা আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চায় না।’
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, তাই দেশগুলোর উচিত বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে ইরান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অন্যদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি না করে নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা করতে সক্ষম হওয়া উচিত।
এর আগে, গেল রবিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না; বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সেদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ে।’
তবে, মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে ঢাকা। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি।
গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে জ্বালানি খাতে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে জ্বালানি খাতে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকে দলের নেত্রীর সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং বিদেশে বসে পাচার করা অর্থ ভোগ করছে। অথচ দেশের জনগণ আজ জ্বালানি সংকটে ভুগছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে জ্বালানি খাতে জনগণ যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তার অনেকটাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাঝখানে দেড় বছর দায়িত্বে থাকা সরকারও জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপি সবার আগে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মাটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে দীর্ঘ ৪৮ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের জনগণের ওপর কোনো বিপদ নেমে এলে, গণতন্ত্র কিংবা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানুষের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় দলটির নেতা-কর্মীরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কৃষি, শিল্প, কলকারখানা, প্রবাসী আয়, খাল খনন, মৎস্যশিল্পসহ উৎপাদন ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিটি ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে উৎপাদনমুখী ও শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৮০-এর দশকে এরশাদ সরকারের আমলে যখন স্বৈরাচার শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছিল, তখন বেগম খালেদা জিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে সংগঠিত করেছিলেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যারা আজ নতুন বাংলাদেশের কথা বলেন, কিংবা নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখান, তাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন, উৎপাদন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিএনপির হাত ধরেই এসব অর্জন অতীতে এগিয়েছে, এখনো এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলনের পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যখন দেশের অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশকেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে প্রবাসী ভাই-বোনরাও কষ্টে রয়েছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকটও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, ধৈর্য ধারণ করি এবং সততার সঙ্গে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই এই সমস্যার সমাধান হবে।’
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এ সময় শান্তির প্রতিক পায়রা ও বেলুন উড়ানো হয়।
১৮ দিন আগে