তথ্য উপদেষ্টা
অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় হয়েছে আইনজীবী প্যানেল, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন: তথ্য উপদেষ্টা
অপতথ্য ও সাইবার বুলিং রোধে আইনগত বিষয়টি দেখভালের জন্য আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো অপতথ্য ও ভুল তথ্য মোকাবিলা করা। বিশেষ করে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো অপতথ্য নিয়ে সরকার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে যে হয়রানি চালানো হয়, সেটিও সরকারের গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, একজন মানুষ শুধু নারী হওয়ার কারণেই ভয়াবহ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারেন, বিশেষ করে তিনি যদি প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে কোনো মত প্রকাশ করেন।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যের দ্বারা যারা ডিজইনফরমেশনের শিকার হয়, মারাত্মক মিথ্যা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়, ফেক ছবি বা ফেক ভিডিওর শিকার হয় সেইরকম মানুষদের জন্য সুখবর হচ্ছে—আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পূর্ণ হয়েছে। এই প্যানেলের কতগুলো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল, বিজ্ঞাপন দিতে হয়েছে, ইন্টারভিউ হয়েছে, নানা রকম ভেরিফিকেশন ছিল; সব শেষে এটি তৈরির কাজ শেষ, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনটা বাকি আছে যা দুই-একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।
যারা অপতথ্য ছড়ানো ও সাইবার বুলিংয়ে জড়িত, তাদের সতর্ক করে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার এ ধরনের অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাই যারা এসব কাজে জড়িত, আপনারা সতর্ক হয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষকে ডিজিটাল সাক্ষরতা বা মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে সচেতন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আমরা সেই কাজ করছি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের আগে সম্পাদনা ও যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া থাকে, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। তাই সবাইকে যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশ ও শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
অপতথ্য ও সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলো রাষ্ট্র বা সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলেও এ সময় সতর্ক করেন তিনি।
আইনজীবী প্যানেলের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যেমন এই প্যানেল ব্যবস্থা নেবে, তেমনি প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও পদক্ষেপ নিতে পারবে। শুধু সরকারকে লক্ষ্য করে ছড়ানো অপতথ্য নয়, যেকোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপতথ্য, সাইবার বুলিং বা ডিজিটাল হয়রানির ক্ষেত্রেও তারা কাজ করবে। তাই নাগরিকদেরও এ ধরনের ঘটনার তথ্য জানাতে হবে। আমরা আশা করছি, এই প্যানেল কাজ শুরু করলে অপতথ্য ও সাইবার বুলিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অর্থের অপচয়ের ফল: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকায় সাম্প্রতিক পানি জমে থাকার ঘটনাকে বন্যা নয়, বরং জলাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অকার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থের অপচয়ের ফল। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধান তথ্য অফিসের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকায় যা হয়েছে তা বন্যা নয়, জলাবদ্ধতা। রাজধানীতে অল্প সময়ের জন্যও পানি জমে থাকলে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, ‘অনেক প্রকল্পই অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ব্যয় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশ কার্যকরভাবে কাজে লেগেছে। বর্তমান সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’
এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেবে। তবে তিনি জানান, যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, সেখানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য এলাকাগুলোতে সমস্যা তুলনামূলক সীমিত ছিল।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ঘটনার ব্যাপক প্রচারের কারণে সংকটটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় বলে মনে হতে পারে। তবে সরকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা, ভুল তথ্য এবং অতিরিক্ত ভোগান্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনিও এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে এনআইডিতে ভুল তথ্য এলে তা সংশোধনের জন্য কেন নাগরিককে ফি দিতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি ভুলটি সত্যিই সরকারের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুল সংশোধনের জন্য নাগরিকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া যৌক্তিক নয়। বরং সরকারকেই দায় স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, জরিমানা বা ফি সাধারণত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়। কিন্তু যেখানে ভুল সরকারি প্রতিষ্ঠানের, সেখানে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
এ সময় একজন সাংবাদিক নিজের পরিচিত এক ব্যক্তির এনআইডিতে জন্মস্থান ভুল থাকার উদাহরণ তুলে ধরলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের তথ্যই প্রকৃত সাংবাদিকতার অংশ। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং এনআইডি-সংক্রান্ত সেবায় গতি আনতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
৭ দিন আগে
ঢাকার বর্জ্য থেকে দিনে পাওয়া যাবে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকা শহরের প্রতিদিনের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প থেকে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। গত রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কেন্দ্র থেকে টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। আজ (মঙ্গলবার) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন, যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই এলাকায় বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৭ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য উপদেষ্টা
সরকার শুরু থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে এবং ভারতের কাছেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নির্দেশনা। তাই সরকার কেবল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরা নিয়ে সরকার বিষয়টাকে কীভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা শুরু থেকেই তাকে প্রত্যর্পণ করার আনুষ্ঠানিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি দেশে ফিরলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব। তবে 'স্বাগত জানানো'র অর্থ এই নয় যে আমরা তাকে রাজনৈতিকভাবে বরণ করছি; বরং আমরা তার জন্য আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তাই তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন, তবে তা অত্যন্ত ভালো। দেশে ফিরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বর্তমানে আইসিটিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে পৃথিবীর সবচেয়ে নামকরা আইনজীবীদের এনেও নিজের পক্ষে লড়াই করতে পারেন। বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে সেখানে পর্যবেক্ষক রাখার এবং ভিডিও ক্যামেরায় ধারণের আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইসিটি আইনকে এতটাই আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে যে পুরো বিচার প্রক্রিয়া একেবারে স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে। এ দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার হোক এবং আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে রায় রয়েছে, তা যেন বহাল থাকে। জনগণ সেই রায় কার্যকর হতে দেখতে চায়।
উপদেষ্টা বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) যদি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, কিংবা আদালত যদি তাকে অন্য কোনো শাস্তি দেন বা খালাস দেন—আমরা তা মেনে নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি এমনই হওয়া উচিত। মূলত এই কারণেই আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই এবং তার আসাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ আমরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যিনি আমাদের এই রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করে ফেলেছেন বলে আমরা মনে করি, আমরা তাকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে একটি সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করতে চাই।
জাহেদ উর বলেন, ভূ-রাজনৈতিক (জিওপলিটিক্যাল) দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে আমি বড় কোনো ইস্যু বলে মনে করি না। আসলে, আমরা এতক্ষণ ধরে যাকে নিয়ে আলোচনা করছি, তিনি এখন দেশের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বিভিন্ন মহলে বা মাধ্যমে তার কথা বারবার আসায় তিনি এখন এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাচ্ছেন। শুধু আমি নই, এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতি যাদের সামান্যতম সহানুভূতি আছে, তারাও বিশ্বাস করেন না যে এ দেশে তার আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চারপাশে যে সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিরা রয়েছেন, তারাও মনে করেন না যে এ দেশে তার আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং, তার ফিরে আসার বিষয়টিকে আমি কোনো চাপ বা সংকট বলে মনে করি না। আমরা কেন চাপে পড়ব? আমরা তো নিজেই তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি চাইতাম তিনি ওখানেই থাকুন, আর তিনি হুট করে চলে আসছেন—তাহলে হয়তো চাপের একটি প্রশ্ন আসত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি তেমন নয়। শুধু পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছি। কাজেই, এ বিষয়ে সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই
তিনি বলেন, তিনি ঠিক কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেই প্রক্রিয়াটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি সেখানে কীভাবে অবস্থান করছেন, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিষয়। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে সেই রাষ্ট্র আমাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক বিষয় যা আটকে থাকবে না। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সুতরাং, তিনি যদি নিজে থেকে আসতে চান, তবে স্বাভাবিক নিয়মেই সরকার তাকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এই আদেশ সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
৭ দিন আগে
‘ভারতে বসে উস্কানি দেওয়া আ.লীগ নেতাদের ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে সরকার’
ভারতে অবস্থান করে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, এসব নেতার অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই শুধু উস্কানিমূলক বক্তব্য নয়, তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সরকার কথা বলবে কি না—সাংবাদিকরা জানতে চান।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আপনার এই কথাটার সঙ্গে আমি একমত। ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এটা নিয়ে আগেও কথা বলা হয়েছে, সামনেও এটা নিয়ে বলা হবে। কারণ এদের অনেকেই মামলার আসামি আছেন, অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারও কারও নামে সাজা হয়ে গেছে। তারা কথা বলা দূরে থাক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কথা বলা হচ্ছে।
সম্প্রতি তুরাগ নদী ঘিরে দুপক্ষের অপপ্রচার হচ্ছে। সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না—এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে যা খুবই অপ্রত্যাশিত। আমরা প্রায়ই বলি, এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন, ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না, তা সরকার তদন্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন যে তুরাগ নদীর অপ্রত্যাশিত বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আছে এবং দেশীয় ও দেশের বাইরের সংস্থারও প্রতিবেদন আছে, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে তারা আসলে পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যারা এখনও আওয়ামী লীগ করেন, এখনও যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি সত্যিই খুব দুঃখ পাই। কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান, তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই, রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন এবং আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’
১৪ দিন আগে
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা নিয়ে নাহিদের বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’: উপদেষ্টা জাহেদ
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা হামলা নিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রশাসনের সহযোগিতায় সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকালের ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এটার প্রতিবাদ জানাই। সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে যারা এটার সঙ্গে জড়িত সেই তদন্ত করা, তাদের ধরা।’
তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে আমি এটুকু বলব যে রাজনৈতিক বক্তব্য বলে এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে, সেই রাজনৈতিক বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। সেটা তার অধিকারও আছে, তিনি সেটা বলতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তবে আমরা একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুখ থেকে, যিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের গণঅভ্যুত্থানে তার থেকে আরেকটু দায়িত্বশীল মন্তব্য আশা করি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এ বিষয়ে জানকে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার তদন্ত করবে। ঘটনার তো এখন ২৪ ঘণ্টাও যায়নি। সবসময় যে খুব দ্রুত কাজটা করে ফেলা যাবে তা না। সরকার অবশ্যই গ্রেপ্তার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তারের একটা প্রক্রিয়া আছে, তদন্ত আছে, নানান রকমভাবে সেই চেষ্টা হবে। সরকার করছে না কি না সেটা দেখার ব্যাপার আছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, একটা রাষ্ট্র বা সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও কখনও কোনো অঘটন ঘটতে পারে। সেই সরকারটা সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে কি না, ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না সেটা জরুরি ব্যাপার। এ সরকার নিচ্ছে, আমি আপনাকে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি।
১৪ দিন আগে
অন্য কোনো নামে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপিও তো নাই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। এক সময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করত না। এখন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই অংশগ্রহণ করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যত দিন নিষিদ্ধ আছে, তত দিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ—যাই বলি না কেন, কোনো নামেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত। আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার।
২১ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না—এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছে না।’
তিনি বলেন, যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাব যে তারা যেন এই কাজটা না করে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এসব প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এমন আহ্বান তো এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, কিন্তু সেটি তো মানছে না—এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঠিক আছে, আমরা আবার আহ্বান করব এবং কোনো একটা সময় হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো, তিনি (শেখ হাসিনা) যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে সেটা জেনে যায়। কারণ এখন কানেক্টিভিটির যুগ। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না, তা ভাবনার বিষয়। কারণ এই যে আপনি একটা বিদেশি মিডিয়ার রেফারেন্স দিচ্ছেন, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি আদালত এই নিষেধাজ্ঞা না সরায়, তাহলে এসব বিষয় প্রচার করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
২১ দিন আগে
কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি খুব বিস্তারিত বলছি না, তবে এটা সরকার কগনিজেন্সে (আমলে নেওয়া) নিয়েছে, সরকার এটা দেখেছে। এটার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং এটা কেন হচ্ছে সেটা সরকার খতিয়ে দেখছে। কারণ এটা নিয়ে গ্লোবালি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।
তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি। পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবেও এটার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা আশা করি, এটা আর এভাবে চলমান থাকবে না।
এগুলো কারা করছে— জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বুঝতেই পারছেন, এটা কারা করছে, কেন করছে। কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছে, কিন্তু তারাই তো আসলে হয়তো সবসময় মূল ব্যক্তি না। তাই, এটা একটু খতিয়ে দেখার প্রশ্ন আছে। এটা যেহেতু এত ওয়াইডস্প্রেড (বিস্তৃত) হয়েছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ এটা বের করতে পারব।
২১ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমেছে। দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনকে সরকার কতটুকু যুক্তিযুক্ত মনে করছে? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো আমি মনে করি তারা একটা সিম্বলিক কারণে আছে। কারণ হচ্ছে, একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক না, আমরা টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, এই জিনিসটা একটু স্পষ্ট করে রাখা দরকার, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে ‘সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯’-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা (আওয়ামী লীগ) বলছেন, তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। কিছু করতে হলে অন্তত একটা নৈতিক সাহস লাগে।
তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বলি না, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি (স্মৃতিশক্তি) শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে পারবে বলে আমার মনে হয় না। তাই, তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরের দিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।
২৮ দিন আগে