ছাত্রদল
বাকৃবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। ওই কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের নেতারা। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী এক বছরের জন্য নতুন ওই কমিটি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইমরান সিদ্দিকী প্রান্তকে সভাপতি, মো. মুইন নাদিম আল মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক, মাহফুজ হক অভিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তামিম মাহমুদ আকাশকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে রাখা রয়েছে মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার খন্দকার ও মো. খালেদ হাসান।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। এতে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়াইবসহ বিভিন্ন হলের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বাকৃবিতে নতুন কমিটি দিয়েছে। যদিও তাদের কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান নেই। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান রেখে ক্যাম্পাসে এ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ এম শোয়াইব বলেন, যেহেতু তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ডের কোনো বৈধতা নেই। কমিটির প্রায় সবাই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। কেউ ঢাকায় থাকে, কেউ আছে বিদেশে, কেউ কক্সবাজার কিংবা কেউ তার নিজ নিজ এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসের আশপাশের যে এলাকাগুলো আছে, সেখানেও কেউ থাকে না। এটি একটি ভার্চুয়াল কমিটি। এই কমিটি আদৌ ক্যাম্পাসে কোনোদিন আসতে পারবে কি না, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি ভার্চুয়ালিই থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) ক্যাম্পাসে আসার দুঃসাহস দেখাবে না। এই পলাতক কমিটির ব্যানারে যদি বাকৃবি ক্যাম্পাসে পুনরায় কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তবে বাকৃবি ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব বদলে গেছে। বর্তমান বাংলাদেশে ছাত্রলীগ রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। নতুন করে তাদের কমিটি বর্তমান প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে না। বাকৃবিতেও শিক্ষার্থীরা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করবে।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বাকৃবি শাখার নেতারা বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ, যারা ২৪-এর এতো বড় একটা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের বিচারকার্যও চলমান রয়েছে। এদেশের জনগণ যাদের অস্বীকার করে, তাদের নিজেদের দায় স্বীকার না করে এমন প্রকাশ্যে কমিটি দেওয়াকে আমরা নিন্দা জানাই।
গতকাল (মঙ্গলবার) নিষিদ্ধ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন রাতেই তাদের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
৩ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের দুই দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশব্যাপী দুই দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর (রবি ও সোমবার) সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মশার প্রজননস্থল বিনষ্ট, সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
‘মদ্যপ অবস্থায় ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর-লুটপাট’, চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা ব্রাইটসহ আটক ২
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পরে গতকাল রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আটককৃতরা হলেন: দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানের পণ্য খালাসের একটি কাজ নিয়ে আরেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের সুযোগে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে টাকা না দিলে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।
রফিকুলের অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পর শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তার অফিসে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীদের অনেকে মদ্যপ ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
১৪ দিন আগে
নাটোরে সাংবাদিকদের মারধর: ৩ ছাত্রদলকর্মীকে বহিষ্কার
নাটোরের লালপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মারধর করায় তিন ছাত্রদলকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত ছাত্রদলকর্মীরা হলেন: জাহিদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও মামুন আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় সরকারি দলের কর্মীরা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে। ঘটনাটি কাভারেজের সময় এনটিভি অনলাইনের নাটোর প্রতিনিধি সজিবুর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করেন ছাত্রদলকর্মীরা।
একই ঘটনা ঘটে বাগাতিপাড়া উপজেলাতেও। তবে সেখানে এখনও দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ইতোমধ্যেই দুই উপজেলার তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৩৫ দিন আগে
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকা এই কমিটি যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে।
এরই মধ্যে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন নেতৃত্বের আগমনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান ইতোমধ্যে ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে মতামত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের মতামতসহ বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করে নতুন কমিটি চূড়ান্ত করবেন তিনি।
গেল বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিদায়ী কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান অংশ নেন।
বৈঠকে বিদায়ী নেতাদের বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগের প্রশংসা করে নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রজন্মের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব হস্তান্তরের বার্তা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা ইউএনবিকে বলেন, বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদান এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদায়ী নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে তোমরা অসামান্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছ। রাজপথের এই লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এখন ছাত্রদলে তোমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং তোমাদের মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।’
গোপন ব্যালটে নতুন নেতৃত্বের মতামত
বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের কাছে নতুন নেতৃত্বের পছন্দের তালিকা চেয়েছেন। গোপন ব্যালটে আমরা তা উনাকে জানিয়েছি। তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এগুলোসহ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যেকোনো মুহূর্তে তিনি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ নেতৃত্ব। ফলে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদায়ী বার্তা রাকিব-নাছিরের
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তাদের পোস্টে বর্তমান নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হওয়ার বিষয়টি কার্যত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পোস্টে রাকিব লিখেছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদলে আমাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে—এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।’
তিনি বলেন, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দায়িত্ব পালনের সময়ে নিজের ভুলত্রুটির কথাও তিনি স্বীকার করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, নাছির উদ্দীন নাছির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আজ শেষ দিন। একটি দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং একই সঙ্গে গৌরবের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।’
তিনি লেখেন, ‘বিদায়ের এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতি—সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ, বেদনা এবং সবচেয়ে বেশি করে আমার সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা।’
২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বলে উল্লেখ করেন নাছির। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
‘আজ বিদায় নিচ্ছি একটি দায়িত্ব থেকে। কিন্তু সম্পর্ক থেকে নয়, সংগ্রাম থেকে নয়, আদর্শ থেকে নয়। দেখা হবে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে, অন্য কোনো সময়ে,’ লেখেন নাছির।
পরবর্তী নেতৃত্বের হাতে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে এবং সংগঠনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করার লড়াইয়ে অবিচল থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কঠিন সময়ে দায়িত্বে রাকিব-নাছির
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রদলের দায়িত্ব পান রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির। পুরো মেয়াদেই তাদের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পান রাকিব ও নাছির। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী কমিটির স্বাভাবিক মেয়াদ পূর্ণ হয়। তারপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
বিদায়ী কমিটির সময়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা জানান। একই সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজপথের কর্মসূচিতেও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা জোরালো হওয়ার পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দলীয় আলোচনা ও সংগঠনের মাঠপর্যায়ের হিসাব-নিকাশে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি শীর্ষ পদের জন্য বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম (২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ)। এছাড়া খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম ও এজাজুল কবির রুয়েলের (২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ) নামও শোনা যাচ্ছে।
সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ)।
দলীয় সূত্র জানায়, আমান উল্লাহ আমান শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ হলেও রাজপথে ধারাবাহিক উপস্থিতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা এবং তরুণ নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণে নতুন কমিটিতে সভাপতি পদের অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও মাসুম বিল্লাহর (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ) নাম আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ আদনানের নামও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় থাকা আদনান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও রাজপথে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতারা জানান।
এছাড়া ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, শামীম আখতার শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) নামও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে আমার কাছে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদি সেরকম (নতুন কমিটি) কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আসবে।’
‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে দলের হাইকমান্ড তাদের সঙ্গে কথা বলছে। তাদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এটা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আর যদি চূড়ান্ত পর্যায়ের কিছু হয়, নতুন কিছু হয়, তো সেটা নিঃসন্দেহে আমরা প্রেস রিলিজ আকারে আপনাদের বলে দেব। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি সাধারণত রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে প্রকাশ করা হয়। ফলে নতুন ছাত্রদল কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
৩৫ দিন আগে
সাভারে ‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যা: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। গত শনিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা নিখোঁজ ওই কিশোরীকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।
নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় সাভারে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার ৯ সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানের সময় সেখানে সাভার থানা-পুলিশও ছিল।
পুলিশ জানায় যায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। সে সময় তারা মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন বলেন, কিশোরীটির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর গেল শনিবার সকালে মনোয়ারুলের স্বজনেরা তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৪০ দিন আগে
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের সঙ্গে আ.লীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় উভয় পক্ষের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল গ্রুপের আহত ৮ জনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সদর হাসপাতাল ও আরেকজনকে অপর এক মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী জানান, বিএনপি ও ছাত্রদল নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার বিষয়টি জানতে চাইলে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে নাজমুল আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অর্ঘ্য জানান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল, যুবলীগ নেতা খালিদ ও আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টুর নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দাবি করেন।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪১ দিন আগে
পুলিশি অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
রংপুরের পীরগাছা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পীরগাছা থানার সামনে নিহতের মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত ওই নেতার নাম মনোয়ারুল বকসি (৩০)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। পরিবারটির স্থায়ী বসবাস ছিল ঢাকার সাভারে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তার বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট ঢাকার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্যমতে, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায়, মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ছাত্রদলকর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম, রাসেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ, বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।
হামলার ঘটনায় কলেজ রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ব্যবসায়ীরা। এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের উদ্দেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। পরে পাল্টাপাল্টি এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির এ হামলা করেছে। তাদের ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী কলেজের ভেতর ছিলেন। আর ডাকবাংলোর মোড়ে ছিলেন ২০০ জনের মতো কর্মী। তারা আগে থেকেই লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। কলেজের ভেতরে তর্কাতর্কি হওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ছাত্র শিবিরের কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।
এদিকে, ছাত্রশিবির মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দোষারোপ করে বলেন, কলেজে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখা সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ খবর পেয়ে আমি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। কারণ তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারও মারাত্মক জখম হয়নি।
তিনি বলেন, তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৫ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
অফিস আদেশে সদয় অবগতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে না দেওয়া হলেও খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল।
ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ।
এ সময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।
৪৫ দিন আগে