কুবি
এক বছরেও শেষ হয়নি কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার বিচার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করেন।
স্বীকারোক্তিতে মোবারক আরও জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক করার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘(আদালতের) পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে। ’
১২ দিন আগে
কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতের হামলার প্রতিবাদে কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল
খুলনা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (ইউএনবি)- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে হাদি চত্বরে জড়ো হয়। সেখানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণে (প্রধান ফটক) এসে সমাবেশ করে।
আরও পড়ুন: মাদক সেবনের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সেসময় শিক্ষার্থীরা ‘কুয়েটে যখন রক্ত ঝরে আবরার তোমায় মনে পড়ে’ আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ, সন্ত্রাসীদের চামড়া, তুলে নেব আমরা, সন্ত্রাসীদের হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, সন্ত্রাসীদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, বাংলাদেশে হবে না’, ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্রনিন্দা ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
৫৭৭ দিন আগে
অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর কুবি শিক্ষার্থী উদ্ধার, আটক ১
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শাকিল আহমেদ সবুজ নামের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় চার ঘণ্টা পর কুমিল্লা শহরের তোয়া হাউজিং এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত আড়াইটার দিকে তিনি উদ্ধার হন।
এ ঘটনায় অপহরণকারীদের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লার সাতরা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. নাহিদ (২০)।
ভুক্তভোগী শাকিলের ভাষ্যমতে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিউশন শেষ করে কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য তিনি সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন। অপহরণকারীরাও ওই অটোরিকশায় ছিল। এরপর দৌলতপুর এলাকায় যাওয়ার পর তাকে ভুল রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অটোরিকশা থেকে লাফ দেন। এরপর ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য আরেকটি অটোরিকশায় চড়লে অপহরণকারীরা তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে অস্ত্র (ছুরি) দেখিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তোয়া হাউজিং এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে আটকে রাখে। শাকিল জিম্মি করে ফোন দিয়ে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করে মো. নাহিদ বলেন, তারা পাঁচজন মিলে শাকিলকে অপহরণ করেন। বাকি চারজন হলেন— বিষ্ণপুর এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে জিহাদ (১৯), ঝাউতলা এলাকার আক্তার মোল্লার ছেলে সাইফুল (২০), ফৌজদারি এলাকার শাহিন (২০) ও আকাশ (২০)।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মুহাম্মদ সাকিব হুসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে অপহরণের বিষয়টি জেনে শাকিলের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠাই। পরবর্তীতে পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে তোয়া হাউজিং এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ও শহরের কিছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এবং পুলিশের সঙ্গে গিয়ে শাকিলকে সুস্থভাবে উদ্ধার করা হয়।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অপহরণকারীদের একজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
৫৯৬ দিন আগে
কুবিতে নতুন উপাচার্য, উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ
অষ্টম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীকে কুবির উপাচার্য পদে, অধ্যাপক ড. মাসুদা কামালকে উপউপাচার্য পদে এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মানকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামের সই করা আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কুবি উপাচার্যের পদত্যাগ
প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অষ্টম উপাচার্য হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। এছাড়া উপউপাচার্য হিসেবে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।
প্রজ্ঞাপনগুলোতে আরও বলা হয়, নিয়োগ করা পদে এ নিয়োগ যোগদানের তারিখ হতে কার্যকর হবে। প্রত্যেকে চার বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও পড়ুন: ৫৩ দিনের বন্ধ শেষে কুবিতে ক্লাস শুরু হচ্ছে আজ
৭২৭ দিন আগে
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কুবি উপাচার্যের পদত্যাগ
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার (১১ আগস্ট) সকালে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে রবিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পুলিশের চাকরি থাকবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আমাকে ভিসি স্যারের পদত্যাগপত্র মেইল করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’
অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পুলিশের চাকরি থাকবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৭৬৯ দিন আগে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৯৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের পাঠ্যক্রম গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বিশ্বিবদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে শুধুমাত্র জিএসটি গুচ্ছভুক্ত পরীক্ষা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম চলবে।
শিক্ষার্থীদের বুধবার বিকাল ৪টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো পর্যালোচনা করার জন্য নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করাসহ সিন্ডিকেটে ৪টি সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষতা বাড়াতে চায় ইউজিসি
৮৭১ দিন আগে
ভূমিকম্পে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হলের দেয়ালে ফাটল
ভূমিকম্পের ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) তিনটি আবাসিক হলের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় এ ঘটনা ঘটে।
রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল কুমিল্লার দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে বলে জানা গেছে।
তীব্র কম্পনে হলগুলো কাঁপতে শুরু করলে শিক্ষার্থীরা বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের বিভিন্ন কক্ষ ও সংযোগস্থলে চিড় দেখা দিয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার এসএম শহিদুল হাসান ইউএনবিকে বলেন, যেসব ফাটল দেখা দিয়েছে সেসব একভবনের সঙ্গে আরেক ভবনের সংযোগস্থলে। কিন্তু কোনো বিম বা রড ঢালাই যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো ফাটল তৈরি হয়নি। তাই এখানে ভয়ের কিছুই নেই। ভবনেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
আরও পড়ুন: ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প
দেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প
ঢাকায় ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
১০২২ দিন আগে
‘রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে’ লিখে কুবির প্রধান ফটকে ছাত্রদলের তালা!
বিএনপির ডাকা দুই দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
রবিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভসহ ছাত্রদলের আরও কয়েকজন মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় একটি ব্যানারও টানিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নুর-সমর্থকরা তালাবদ্ধ অফিসে প্রবেশের চেষ্টা
তাতে লেখা- 'এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সর্বাত্মক অবরোধ। রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।’
তবে তালা ঝুলানোর কিছুক্ষণের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডি এসে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর প্রধান ফটকটি কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। পরে সকাল ৭টার দিকে ফটকের তালা ভেঙে যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এরপর প্রধান ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভেতরে প্রবেশ করে।
তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘বিএনপির ডাকা দুই দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির সমর্থন জানিয়ে আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিয়ে অতি দ্রুত একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা প্রতিটি ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডিকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য অবমুক্ত করে দেই। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। কেউ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপির অফিসে তালা, সংবাদ সম্মেলনে আল্টিমেটাম
চবি ফটকে তালা দিয়ে রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ
১০৪৯ দিন আগে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে রবিবার (১৩ আগস্ট) বহিষ্কৃত ছাত্র ও সংবাদকর্মী ইকবাল মনোয়ারের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে বহিষ্কারের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সময় আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সিহাব উদ্দিন খান।
আরও পড়ুন: কুবির হলের ডাইনিংয়ে নেই ভর্তুকি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
আদালতের আদেশের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল স্বাভাবিকভাবে তার একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানা গেছে।
গত ৩১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ ফ ম আবদুল মঈনের বক্তব্য বিকৃত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার অভিযোগ উঠে দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি ইকবালের বিরুদ্ধে। এর ফলে গত ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ইকাবলের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য ও রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃত করার কোনো প্রমাণ নেই এবং উপাচার্যের ব্যক্তিগত ক্রোধের কারণে ইকবালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ৩২ ধারা অনুযায়ী একটি শৃঙ্খলা বোর্ড থাকার কথা থাকলেও এ ধরনের বোর্ডের অস্তিত্ব নেই। সুতরাং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক জারি করা স্থগিতাদেশ অবৈধ এবং এর এখতিয়ারের বাইরে।
নোটিশে বলা হয়, ইকবাল পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিবেদন নিয়ে ভিসির কোনো সমস্যা থাকলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার অধিকার তার আছে, কিন্তু তা না করে উপাচার্য তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: রুমমেটের ফেসবুক পোস্টে মানসিক চাপে কুবি ছাত্রীর আত্মহত্যাচেষ্টা
১১৩২ দিন আগে
রুমমেটের ফেসবুক পোস্টে মানসিক চাপে কুবি ছাত্রীর আত্মহত্যাচেষ্টা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রুমমেটের দেয়া পোস্টের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থী। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় এলাকায় ‘বাচ্চু মিয়ার মেস’ নামে একটি ছাত্রী নিবাসে ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আত্মহত্যার চেষ্টাকারী শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রাবিনা ঐশী৷
বাড়িওয়ালা ও মেসে অবস্থান করা অন্যান্য ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাবিনা ঐশী ও একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়দা ফৌজিয়া নদী ওই মেসে একই কক্ষে থাকেন। কিন্তু ১৩তম ব্যাচের ঐশীর বান্ধবী লাবিবা ইসলাম নিয়মিত গ্রুপ স্টাডির নামে রাবিনা ঐশীর কাছে এসে থাকে এবং নিয়মিত আড্ডা দেন। এতে প্রায় দুই মাস ধরে সমস্যায় ভুগছিলেন নদী।
আরও পড়ুন: কুবির ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
শনিবার নদী মেস মালিক সোহাগ আলীকে এই সমস্যার কথা জানালে তিনি ঐশীকে গেস্ট সংখ্যা ‘লিমিটে’ আনতে বলেন। এটিকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয় এবং ঐশী এই ঘটনা তার বিভাগের মো. এরশাদ হোসাইনকে জানালে তিনি একই ব্যাচের প্রণব চক্রবর্তীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের আরও কিছু আবাসিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাড়িওয়ালাকে খুঁজতে খুঁজতে মেয়েদের মেসের ভেতরে প্রবেশ করেন।
জুবায়দা ফৌজিয়া নদী অভিযোগ করে বলেন, মেসে ঢুকে এরশাদ, প্রণবসহ আরও কয়েকজন তাকে শাসান। তিনি বলেন, ‘উনারা মেসে ঢুকে আমাকে বলে তোরে মাইরা ফালাইয়া রাইখা যামু; কেউ টেরও পাইব না, তোর বাপ-মা শিক্ষা দেয় নাই? ক্যাম্পাসে কেমনে ফ্রিলি চলিস দেইখা নিমু নে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় নদী সাহায্যের জন্য তার বন্ধু রিয়াজসহ অন্যান্যদের ডেকে আনেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালা দুই গ্রুপকে নিয়ে নিচে নেমে যান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ সে সময় উপস্থিত থাকায় বাড়িওয়ালা ও শিক্ষার্থীদের সাথে বসে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে রুম পরিবর্তনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে রুমে ফিরে জুবায়দা ফৌজিয়া নদী ‘জীবন ও সম্ভ্রম নিয়ে শঙ্কায়’ আছেন উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার ওই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়লে মানসিক চাপে পড়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ঐশী।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহজালাল বলেন, আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এখন তাকে আইসিইউতে রাখা দরকার। তাই আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে বলেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল বলেন, আমার কাছে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়ে গিয়েছে। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করব। আরেকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি। তাই তাড়াহুড়ো করছি না। দু’পক্ষের কথা শুনেই সমাধান দেয়া হবে।
আরও পড়ুন: কুবির প্রথম প্রো-ভিসি ড. হুমায়ুন
৫৯৪ দিন পর ক্লাসে ফিরলো কুবির শিক্ষার্থীরা
১৭৬২ দিন আগে