জরিমানা
মাগুরায় দেশি পোশাকে ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি, জরিমানা
ঢাকা থেকে কেনা পোশাকে ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ লাগিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগে মাগুরার ‘মেসার্স দেশি ভিনদেশি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের সৈয়দ আতর আলী সড়কের বকসী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন শার্ট, টি-শার্ট ও মেয়েদের পোশাক পাকিস্তানি ও অন্যান্য বিদেশি পণ্য বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তানি পোশাকের কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ভাউচার যাচাই করে দেখা যায়, পোশাকগুলো ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড ও ইসলামপুরের বিভিন্ন দোকান থেকে কেনা। অথচ সেগুলো পাকিস্তানি ড্রেস হিসেবে প্রতিটি ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল, যা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে আমদানিকারকের ট্যাগবিহীন বিভিন্ন বিদেশি প্রসাধনীও পাওয়া যায়। এসব পণ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো উচ্চমূল্যের প্রাইস ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল।
এ ধরনের অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আইনবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. রবিউল ইসলাম এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
৯ দিন আগে
রংপুরে নকল কোমল পানীয়র কারখানার সন্ধান, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
রংপুরে পৃথক দুটি স্থানে দুটি কোমল পানীয়র কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো ও টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর কুটিরপাড়া ও কামালকাছনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তমাল আজাদ ও নুসরাত আরা এ জরিমানা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কুটিরপাড়া এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মেসার্স দানিস ট্রেডার্স ও মেসার্স রুমন ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোজো, সেভেন আপ, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের জন্য গুদামজাত করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার। পরে জব্দ করা বিপুল মালামাল বিনষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মালামাল সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের এফএসও মো. লোকমান হোসাইন বলেন, এনএসআইয়ের তথ্য অনুযায়ী দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে দুটি কারখানার মালিককে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়। এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এফএসও।
১১ দিন আগে
সিলেটে খাল ভরাট করায় কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা
সিলেট সদর উপজেলার কল্লাগ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে খাল ভরাট করে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড দেয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবদুল হান্নান।
স্থানীয়রা জানান, হান্নান অবৈধভাবে কৃষিজমির উপরের মাটি কেটে পাশের হৈরখাল ভরাট করছিলেন। এতে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। খাল ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।
এ সময় জমির কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে ওই স্থানে কোনো বৈধ মালিকানা নেই এবং মাটি কাটার বা ভরাটেরও কোনো অনুমতিপত্র নেই। এছাড়া তিনি পাশের মালিকানাধীন জমির সীমানা পিলারও অপসারণ করেছেন বলে জানা যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি সিলেট সিটি করপোরেশন এবং অপরটি সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও খোশনূর রুবাইয়াত জানান, খালটি ভরাটের কারণে প্রায় ২০০ একর কৃষি জমিতে বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। অভিযান শেষে সিটি করপোরেশনকে দ্রুত খালটি পুনঃখননের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষিজমি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১১ দিন আগে
খেজুরে তেল মিশিয়ে বিক্রি, মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
মানিকগঞ্জে বাজারে খেজুরে সরিষার তেল মিশিয়ে বিক্রির অপরাধে কার্তিক চন্দ্র নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করেন মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
এ সময় কার্তিকের দোকানে খেজুরে সরিষার তেল মিশিয়ে বিক্রির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই ব্যবসায়ীকে ২০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া রোজায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দোকানেও তদারকি করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, রোজায় নিত্যপণ্যসহ ফলফলাদি, তরকারি ও মাছ-মাংসের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান চলবে।
২৭ দিন আগে
ডালডার ভেতর ইঁদুর, চুয়াডাঙ্গায় এক মালিকের দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর মৌসুমী ফুড বেকারিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত ডালডার ভেতর মৃত ইঁদুর পেয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার ও পণ্য পুনরায় প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার অভিযোগে এক মালিকের দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সমিতির (ক্যাব) প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি দল।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড়ে মেসার্স মৌসুমী ফুড প্রোডাক্টে অভিযানে গিয়ে বেকারিতে ব্যবহৃত ডালডার ভেতর মৃত ইঁদুর পাওয়া যায়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ফ্লেভার ব্যবহার এবং আগাম বেকারি পণ্য প্রস্তুত করে পরবর্তীতে চলতি তারিখ উল্লেখ করার প্রমাণ মেলে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সাইদুর রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, এদিন আরেকটি অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি নতুন মোড়কে পুনরায় প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার দায়ে সাইদুল ইসলামের অপর প্রতিষ্ঠান অনন্যা ফুড প্রোডাক্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে হোটেল, সেমাই ও মসলা মিলেও তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের মানসম্মত পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
২৭ দিন আগে
ফরিদপুরে ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা
ফরিদপুরে ভোট কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে জরিমানা করেছেন বিচারিক আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তানজির ইসলাম। তিনি দেওরা এলাকার বাসিন্দা। বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ‘ধানের শীষের’ পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘ওই পোলিং এজেন্ট বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন জামায়াতের পোলিং এজেন্ট। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে আমরা দ্রুত এসে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দেয়ায় ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্বাচনী আইন-২০২৫ এর ১৩ (চ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় তাকে নির্বাচনি আইন ১৯৭২ এর ৯১(বি)(২) ধারা মোতাবেক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ দেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩ এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন।
৩৭ দিন আগে
আচরণবিধি লঙ্ঘন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীকে জরিমানা
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান ও জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করেন। দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই নির্বাচনি প্রচারণাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়সার জানান, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি ভঙ্গ করে তোরণ নির্মাণ করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী রঙিন ব্যানার এবং বিএনপি প্রার্থী রঙিন ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী তার প্রতীক নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে বড় প্রদর্শন করেছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ৩০ হাজার এবং বিএনপির প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন এবং তোরণ অপসারণ করা হয়েছে।
৪১ দিন আগে
কেরানীগঞ্জে খোলা জ্বালানি তেল বিক্রি করায় তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের অবৈধভাবে খোলা অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির অপরাধে ১৪ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সেইসঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠান মালিককে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া বাজার এলাকায় অবৈধভাবে খোলা ও (লুজ) জ্বালানি তেল বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযানে চলে। ঢাকার হেমায়েতপুর সেনা ফাঁড়ির সদস্য এবং কেরানীগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়ার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
সেনা ফাঁড়ি সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন তিনটি পৃথক দোকান থেকে সর্বমোট ১ হাজার ২৬৩ লিটার খোলা অকটেন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে অভিযুক্ত দোকান মালিকদের আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তথ্য অনুযায়ী, রাকিব অটো নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার লিটার অকটেন জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিক কবির হোসেনকে (৪৫) ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া হামিম স্টোর নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৩ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়, সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন কবিরকে (৪৭) জরিমানা করা হয় ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও ১৬০ লিটার খোলা অকটেন রাখার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানার শিকার হন হৃদয় স্টোর নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আলতাফ হোসেন (৪৮)।
সূত্র আরও জানায়, দুই দিনের মধ্যে খোলা পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ আদেশ অমান্য করা হলে পরবর্তীতে জেল ও জরিমানাসহ উভয়ে দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
জনস্বার্থে অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তা।
৫২ দিন আগে
হাওর ও জলাভূমি দখল-দূষণে ২ বছরের জেল, অধ্যাদেশ জারি
দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে জারি করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬।’
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জলাভূমি দখল, ভরাট এবং পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারীদের জন্য জেল ও মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তরের নতুন ক্ষমতা ও মহাপরিকল্পনা
নতুন এই আইনের আওতায় হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে সুনির্দিষ্ট কার্যাবলী বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের তালিকার ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। ‘মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করবে, যা জলাভূমির সুরক্ষা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এখন থেকে হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকার চাইলে বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
অপরাধ ও দণ্ড
নতুন এই অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় অপরাধের ধরনভেদে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে, যারা অবৈধভাবে হাওর ও কান্দার জমি দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন কিংবা জলাভূমির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করবেন, তাদের জন্য অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাজা কার্যকর হবে যদি কেউ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করেন।
মৎস্য ও জলজ প্রাণী রক্ষায়ও সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। নিষিদ্ধ জাল, বিষটোপ বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা এবং হাওর এলাকার পরিযায়ী পাখি শিকার বা জলাবন ধ্বংস করলে অপরাধীকে ২ বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এছাড়া, যদি মাছের প্রজনন বিঘ্নিত হয় এমনভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা হয়, তবে তার জন্য ১ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
পরিবেশ দূষণ রোধে এই আইনে বলা হয়েছে, যদি কেউ এমন কোনো কাজ করেন যার ফলে হাওরের পানি ও মাটি দূষিত হয়, তবে তাকে ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হবে।
এ ছাড়াও, অধিদপ্তরের জারি করা কোনো বিশেষ সুরক্ষা আদেশ বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে এবং সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত জায়গায় বিধিনিষেধ অমান্য করলেও দোষী ব্যক্তিকে ২ বছরের জেল ও ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে।
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়, তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিতে পারবেন, যা পালন করা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাশয়গুলোর জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য কমবে।
৬৬ দিন আগে
সুইজারল্যান্ড: বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে লাখ ডলার জরিমানার মুখে চালক
সড়কে অতিরিক্ত গতির কারণে সুইজারল্যান্ডে এক অতি ধনী চালককে ৯০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক বা ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুযায়ী, ওই চালক লোজান শহরের এক রাস্তায় গতিসীমা অতিক্রম করে ২৭ কিলোমিটার (১৭ মাইল) প্রতি ঘণ্টা বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এই জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন।
কেন এত বড় পরিমাণ জরিমানা?
জানা গেছে, ওই চালক সুইজারল্যান্ডের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তিনি গতিসীমা লঙ্ঘনের এই ধরনের অপরাধ বারবার করে আসছেন। ভৌদ অঞ্চলে ব্যক্তির আয়, সম্পদ ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে জরিমানা নির্ধারিত হয়।
পড়ুন: মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
এ অঞ্চলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দারিদ্র্যগ্রস্তরা কেউ এই অপরাধের জন্য জরিমানার বদলে এক রাতের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়, আর অতি ধনী চালকদের ক্ষেত্রে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক থেকে শুরু করে জরিমানা গুণতে হয়। সম্প্রতি এই অঞ্চলের একটি আদালত রায় অনুযায়ী, গতিসীমা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের প্রথমে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক (১২ হাজার ৩০০ ডলার) জরিমানা বহন করতে হবে এবং পরবর্তী তিন বছরে অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আরও ৮০ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা হতে পারে।
সুইজ সংবাদপত্র ‘টুয়েন্টি ফোর হিউয়ারস’ প্রথমে এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চালক একজন ফরাসি নাগরিক, সুইজারল্যান্ডের শীর্ষ ৩০০ ধনী ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম এবং তার শত মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে।
পুলিশের স্বয়ংক্রিয় রাডার চালককে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) গতিসীমায় ৭৭ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতি রেকর্ড করতে দেখেছে। এরপরই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা হিসাব করা হয়।
পড়ুন: সেই ‘সুপারম্যান’ এখন মার্কিন অভিবাসন এজেন্ট
ভৌদ অঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র ভিনসেন্ট ডেরৌয়া জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাননি। ঘটনা ঘটেছে গত বছরের আগস্টে এবং চলতি বছরের জুনে জরিমানার রায় দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই চালককে ৮ বছর আগেও একই ধরনের অপরাধের জন্য ১০ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা করা হয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডে গতিসীমা লঙ্ঘনের জরিমানা সবার জন্যই কঠোর, এমনকি পুলিশের জন্যও। ২০১৬ সালে জেনেভা শহরের এক পুলিশকর্মী চোর ধারার প্রায় দ্বিগুণ গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে জরিমানা গুণেছিলেন।
২২০ দিন আগে