মন্দির
নারায়ণগঞ্জে পূজার সময় কালী মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, যুবক আটক
নারায়ণগঞ্জে মন্দিরে পূজার সময় হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইয়ামিন নাবিল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন মন্দিরের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের নয়ামাটি এলাকার শ্রী শ্রী দরিদ্র ভান্ডার কালী মন্দিরের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ইয়ামিন নাবিল বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠাম পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে ‘আল্লাহ পূজা নিষেধ করেছেন’ বলে পূজার সামগ্রীতে লাথি মেরে ফেলে দেন। এ সময় মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারতে থাকেন তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করছি, কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ইয়ামিন নাবিলের বড় ভাই অমিত হাসান দাবি করেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তারেক আল মেহেদী বলেন, দুপুরে এক যুবক মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তারা যদি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারে, তাহলে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যথায়, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
দুই বছর আগে পরিত্যক্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, মন্দিরের বারান্দায় চলছে পাঠদান
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক দুলালী রাজকাছারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন দুই বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় মন্দিরের বারান্দায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা তালুক দুলালী গ্রামে শিক্ষার প্রসারে স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সরকার বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন নির্মাণ করে এবং ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ২৫৩ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে উপজেলায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান পরিচালিত হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তদন্তে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অন্য ভবনের তিনটি কক্ষের একটি প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি দুটি কক্ষে দুই শিফটের সব শ্রেণির পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পাশের তালুক দুলালী রাজকাছারী দুর্গা মন্দিরের বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
১৪ দিন আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের পুরোহিতকে রাতভর নির্যাতন, পরিবার থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ
রাজধানীর ওয়ারী থানার নারিন্দা রোডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরিকে (২৫) রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় সুভাষকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
আহত সুভাষ দেউরির গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায়। তিনি ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় মো. সেলিম হোসেনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।
আহতের বন্ধু দুর্জয় সাহা জানান, ‘আমি আর সুভাষ এক বাসাতেই থাকি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় আসার পরে আমি সুভাষকে দেখিনি। ভেবেছি, ওর কোনো কাজে হয়তো বাইরে গিয়েছে। বিষয়টা সেভাবে অতটা গুরুত্ব দিইনি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুভাষ আমাকে ওর নম্বর থেকে কল দিয়ে কিছু টাকা দিতে বলে, কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকায় দিতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে কাল রাতে ব্রাজিলের খেলা দেখে সারা রাত ঘুরাঘুরির পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় আসার পথে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে পৌঁছে দেখি, আমার বন্ধু গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে; তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম। ওর কাছে মোবাইল, মানিব্যাগ কিছুই পাওয়া যায়নি। পরে আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে ও এখানেই চিকিৎসাধীন আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুভাষ গুরুতর আহত হওয়ার পরও কিছু কথা আমাকে বলতে পেরেছিল। সে বলেছিল, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে উলঙ্গ করে তার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করে তার পরিবারের সবার কাছ থেকে টাকা চাইতে বলেছিল। সে যদি টাকা না দেয়, তবে তার সেই নগ্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছিল তারা।’
আহতের বোন জয়া বলেন, ‘রাত ১টার দিকে আমি আমার ভাইকে কল দিই। কিন্তু সেই কলটি আমার ভাই না ধরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ধরে আমাকে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। পরে ফোন কেটে দেয়। কিন্তু আমার কাছে এত টাকা ছিল না। বিষয়টি আমি পরিবারের সবাইকে জানাই। পরে জানতে পারি, পরিবারের সবার কাছেই নাকি টাকা চাওয়া হয়েছে। এরপর আমার ভাইয়ের নম্বর থেকে রাত আড়াইটার দিকে কল আসে এবং আমার ভাই কাঁদো কাঁদো সুরে টাকা দিতে বলে। এও বলে, টাকা না দিলে নাকি ওকে মেরে ফেলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওদের মধ্যে একজনের নম্বর দিয়ে দেয়। আমি রাতে টাকা ম্যানেজ করে ওই নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিই। তারপর আমার ভাইয়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমার ভাই এখন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, পুরান ঢাকা থেকে সুভাষ দেউরি নামের এক পুরোহিতকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
২১ দিন আগে
সাতক্ষীরায় মন্দিরে চুরি, ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা ও দানবাক্সের নগদ অর্থ নিয়ে গেছে চোরের দল।
মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্দিরে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত ওই মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা মায়ের বাড়ি মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে প্রতিমার বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের অর্থ চুরি করে নিয়ে গেছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি হার, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা, দানবাক্সের নগদ সাত হাজার টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, ‘দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বার বার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।’
সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
১৩২ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে মন্দিরের ৬ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ
রাতের অন্ধকারে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার চালা শাহজাদপুর মহল্লার দোল ভিটা মিলন সংঘ মন্দিরের ৬টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ওই মন্দিরে থাকা গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীসহ ৬টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে শনিবার (৫ এপ্রিল) মন্দিরের পাশের বাড়ির লোকজন দেখতে পেয়ে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
শাহজাদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাণী সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব দত্ত জানান, এ মন্দিরে যুগ যুগ ধরে পূজা-অর্চনা হয়ে আসছে। এখানে কখনও হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এখানে মহল্লার সবার আন্তরিক সহযোগিতায় পূজা উদযাপন হয়ে থাকে।
কিন্তু শুক্রবার রাতের অন্ধকারে হঠাৎ কে বা কারা প্রতিমা ভাঙচুর করে চলে গেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুষ্কৃতিকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
আরও পড়ুন: গত বছর ‘প্রতিমা ভাঙা’ যুবক এবারও ভাঙল সরস্বতী প্রতিমা
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (অপারেশন) আবু সাঈদ বলেন, ‘মন্দিরে থাকা গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীসহ ৬টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়েছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামতসহ সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।’
৪৭২ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুরে মন্দিরে ১৪৪ ধারা জারি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকায় শ্রীশ্রী রশিক রায় জিউ মন্দিরে আবারও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) রাতে এ আদেশ দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, ১৪৪ ধারা জারি
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের জমির দখল নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই মন্দিরে দুর্গাপূজা নিয়ে ইসকনপন্থী একটি পক্ষ ও অপর একটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইসকনভক্তদের হামলায় ফুলবাবু নামের একজন সনাতন ধর্মানুসারী নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন মন্দির সিলগালা করে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
এ বছর মন্দিরের সনাতন ও ইসকনপন্থীরা কালিপূজার প্রস্তুতি নেয়। আগের মতো এবারও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে বুধবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মন্দির ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন।
বেলায়েত হোসেন বলেন, মন্দিরের জমি নিয়ে স্থানীয় সনাতন ও ইসকন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০০৯ সালে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। কালিপূজা উদযাপনে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি
ঠাকুরগাঁওয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের শঙ্কায় মন্দিরে ১৪৪ ধারা জারি
৬২৯ দিন আগে
এক উঠানে মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন
একই উঠানে মসজিদ ও মন্দির। একপাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে জিকির। এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দুটি ধর্মীয় উপাসনালয়। একপাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ। ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির। এই শারদীয় দুর্গোৎসবেও জমকালো আয়োজন বসেছে এই প্রাঙ্গণে।
স্থানীয়রা জানায়, ১৮৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। একই আঙিনায় প্রায় শত বছর ধরে কোনো ধরনের সাম্প্রতিক কলহ বা দাঙ্গা ছাড়াই দুই ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করে আসছে নির্দ্বিধায়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত মদপানে চুয়াডাঙ্গায় একজনের মৃত্যু
বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়ার জন্য তার পাশেই একটি ছোট ঘর তোলেন আর সেটির নামকরণও করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ। ওই সময় থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কাজ।
পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেন। নামাজ বা আযানের সময়সূচি অনুযায়ী পূজা-অর্চনার ঢাক বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে পূজার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এ কারণে এখন পর্যন্ত এই মসজিদ-মন্দিরের প্রাঙ্গণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মসজিদ-মন্দিরে সামনের মাঠে পূজার সময় যেমন মেলা বসে তেমনি মুসল্লির জানাজাও হয়ে থাকে। দুই ধর্মের মানুষই সমানভাবে এই মাঠটি ব্যবহার করে থাকে।
এই সম্প্রীতির নির্দশন মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে সাধারণ মানুষ। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এই মন্দির ও মসজিদ পরিদর্শন করেছেন।
পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার মসজিদের পাশেই রয়েছে মন্দির। মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষ যার যার ধর্ম পালন করে। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না।
কালীবাড়ী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী শংকর চক্রবর্তী বলেন, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের দেয়াল ঘেঁষে প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন, একই উঠানে মসজিদ ও মন্দির, এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এখানকার মানুষ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। যার প্রমাণ এক উঠানে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদ।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীসহ আটক ৭
৬৪৮ দিন আগে
ঢাকা ও নিকটবর্তী এলাকার ১০টি ঐতিহাসিক মন্দির
জনাকীর্ণ নগরী ঢাকার শত বছরের ইতিহাসের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে এর আনাচে-কানাচে এখনও টিকে থাকা মন্দিরগুলো। তীর্থস্থানগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন। একই সঙ্গে স্থাপনাগুলো তৎকালীন সময়ের স্থাপত্যশৈলীর নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অধিকাংশগুলোতে এখনও পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান। চলুন, ঢাকা ও নিকটবর্তী এলাকার এমনি ১০টি মন্দির সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার ১০টি প্রাচীন মন্দির
.
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
রাজধানীর পলাশীতে অবস্থিত বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম এই উপাসনালয়টি ঢাকার প্রথম হিন্দু মন্দির। এর গোড়াপত্তন হয় সেন রাজবংশের সম্রাট বল্লাল সেনের হাতে ১২শ শতকে।
কথিত আছে যে, বল্লাল সেনের জন্ম হয় বুড়িগঙ্গার এক জঙ্গলে। সেখানে বেড়ে ওঠার সময় একদা তিনি এক দুর্গা মূর্তি পান। তার বিশ্বাস ছিল যে, জঙ্গলের যাবতীয় বিপদ থেকে তাকে রক্ষার পেছনে রয়েছে এই দেবী। পরবর্তীতে রাজ ক্ষমতায় বসার পর বল্লাল সেন এই স্থানে একটি মন্দির স্থাপন করেন। বনের ভেতর আবৃত অবস্থায় ছিল বলে এই দেবীকে ডাকা হতো ‘ঢাকেশ্বরী’ তথা ‘ঢাকা ঈশ্বরী’। অতঃপর মন্দিরটিও এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করে।
কয়েকটি মন্দির ও সৌধের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল ভবনগুলোর রঙ লাল ও উজ্জ্বল হলুদাভ। এখানকার চারটি শিব মন্দিরের প্রত্যেকটি একই নকশায় গড়া।
প্রতি বছর রাজধানীর দুর্গা পূজার সব থেকে বড় আয়োজনটি হয় এখানে। এছাড়া জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রাও শুরু হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই।
গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি অটো, রিকশা বা পাবলিক বাসে করে সরাসরি আসা যায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে।
আরো পড়ুন: রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
জয় কালী মন্দির
পুরান ঢাকার ঠাটারি বাজার এবং ওয়ারীর ঠিক মাঝামাঝি ২৪ নম্বর জয় কালী মন্দির সড়কটির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মন্দির।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই উপাসনালয়টি তৈরি হয় ১০০১ বঙ্গাব্দে তৎকালীন নবাব তুলসী নারায়ণ ঘোষ এবং নব নারায়ণ ঘোষের তত্ত্বাবধানে।
মন্দিরের মোজাইক করা মেঝে আর টালি করা দেয়ালে খচিত রয়েছে হিন্দু দেব-দেবীর ছবি। মন্দিরের প্রবেশ দ্বারে দেখা যায় স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি ঐশ্বরিক প্রতীক ‘ওম’। পুরো স্থাপনাটি মূলত একটি বর্গাকার কাঠামো, যার কলামগুলো আপাদমস্তক যথেষ্ট ভারী ও পুরু উপাদান দিয়ে গড়া। আর উপরের দেয়ালগুলো করা হয়েছে খিলান আকৃতির।
গুলিস্তান বাস-স্টপেজ থেকে এই তীর্থস্থানটি ১৫ মিনিটের পায়ে হাঁটা পথ।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীর মন্দির ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
রমনা কালী মন্দির
বাংলা একাডেমির বিপরীতে ও ঢাকার রমনা পার্কের বহির্ভাগে অবস্থিত গোটা মন্দির কমপ্লেক্সের আয়তন প্রায় ২ দশমিক ২৫ একর।
জনশ্রুতি অনুসারে, আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে গোপালগিরি নামের এক সন্ন্যাসী ঢাকায় সাধন-ভজনের একটি আখড়া গড়ে তোলেন। এই আখড়াতেই আরও ২০০ বছর পর আরেক বড় সাধু হরিচরণ গিরি নির্মাণ করেন মূল রমনা কালীমন্দির।
সেই থেকে মন্দিরের স্থাপত্য শৈলী বহু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে। মন্দিরের সামনে বড় দিঘিটি একসময় দর্শনার্থী ও উপাসকদের সাঁতার কাটার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রধান অনুষ্ঠান কালী পূজা হলেও এখানে দুর্গাপূজাও বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়।
গুলিস্তান থেকে বাসে করে মৎস্য ভবন পর্যন্ত এসে অথবা রিকশা যোগে গুলিস্তান থেকে সরাসরি যাওয়া যায় রমনা কালীবাড়িতে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় কেনাকাটার জনপ্রিয় স্থান
৬৪৯ দিন আগে
রাজধানীর ২৫৭ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা
রাজধানীর মন্দির ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্গোৎসবের জোর প্রস্তুতি চলছে। এবার রাজধানীতে ২৫৭টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ (বিপিইউপি)।
সংগঠনটি জানায়, ঢাকায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বনানী, কলাবাগান, শাঁখারিবাজার, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ফার্মগেটের খামার বাড়ি এবং পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার ও তাঁতিবাজারসহ ঢাকার ২৫৭টি মণ্ডপে পূজা হবে।
আরও পড়ুন: খুলনায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুত ৯৯১টি মণ্ডপ
কারিগররা প্রতিমার চূড়ান্ত রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের প্রধান প্রধান বাজার এবং শপিং মলগুলোতে চলছে পূজার কেনাকাটা।
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতান, শপিং মল ও দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
পূজার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারের ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে শঙ্খের খোল, প্রতিমার কাপড়, ঘণ্টা, হাঁড়ি, মঙ্গল প্রদীপ, আগরবাতি, দেবতার মালা, মুকুট, শাড়ি, ধুতি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য অলঙ্কার বিক্রি চলছে পুরোদমে।
এদিকে, দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীর পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে কেন্দ্রীয় পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা
শনিবার বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘এ দেশে সবার সম অধিকার রয়েছে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। এরজন্য যা যা দরকার, করা হবে।’
নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে আছি। আপনারা নির্ভয়ে পূজামণ্ডপে যাবেন। আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ চাই, যেখানে আপনারা সবাই পূজা উদযাপন করতে পারবেন।’
দুর্গাপূজায় রবিবার থেকে সারা দেশের ৩২ হাজার ৬৬৬টি পূজামণ্ডপে ২ লাখ ১২ হাজার ১৯২ আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সীমান্তে কড়া নজর থাকবে বিজিবির।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে ১০২ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি
৬৫৩ দিন আগে
রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
শত বছরের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতিফলক দেশের মন্দিরগুলো। এগুলোর কোনো কোনোটির স্থাপত্য সৌন্দর্য্য অভিভূত করে দর্শনার্থীদের। কোনো কোনোটির ধ্বংসাবশেষ মনে করিয়ে দেয় একে ঘিরে শত শত চড়াই-উৎরাইয়ের কিংবদন্তির কথা। এসব বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুভূতির সবগুলো একসঙ্গে এসে ধরা দেবে রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণে গেলে। কারণ দেশের ভেতর এই একমাত্র অঞ্চলে সর্বাধিক সংখ্যক মন্দিরের সন্নিবেশ ঘটেছে। অল্প দূরত্বে থাকা ছোট-বড় স্থাপনাগুলো ধারণ করে রয়েছে গোটা একটি শতাব্দীকে।
চলুন, দেশের এই প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থানটিতে ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্সের অবস্থান
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকগুলো পুরাতন মন্দিরের সমন্বয়ে গঠিত এই কমপ্লেক্সটির অবস্থান রাজশাহীর পুঠিয়ায়। রাজশাহী থেকে নাটোর অভিমুখী মহাসড়কের কাছে বিশাল পরিসর জুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছড়িয়ে আছে মন্দিরগুলো। জায়গাটি পড়ছে রাজশাহীর ২৩ কিলোমিটার পূর্বে এবং নাটোর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে।
পুঠিয়া মন্দিরগুলোর ইতিহাস
১৭ শতকের এই অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজবংশের নাম পুঠিয়া, যাদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল এই মন্দিরগুলো। ১৮ এবং ১৯ শতক জুড়ে তাদের শাসনামলে নির্মিত হওয়ায় পুঠিয়া রাজবংশের নামেই অভিহিত হয় এই মন্দিরগুলো। ধর্মীয় কার্যাবলির পাশাপাশি এগুলো ব্যবহৃত হতো তৎকালীন জমিদারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে।
পুঠিয়া অধ্যুষিত এলাকা ছিল ব্রিটিশ বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম সাম্রাজ্য। ১৭৭৮ সালে ভুবনেন্দ্র নারায়ণের নির্দেশে নির্মাণ করা হয় দোল মন্দির। ১৭৯০ থেকে ১৮০০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হয় চৌচালা ছোট গোবিন্দ মন্দির। ১৮২৩-এ রাণী ভুবনময়ী দেবী শিব সাগরের উপকণ্ঠে গড়ে তোলেন ভুবনেশ্বর শিব মন্দির। পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দিরের গোড়াপত্তন হয় ১৯ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বর্তমানে পর্যটকদের নিকট সর্বাধিক জনপ্রিয় পুঠিয়া রাজবাড়ি নির্মাণকাল ১৮৯৫ সাল। তৎকালীন পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী দেবী তার শাশুড়ি শরৎ সুন্দরী দেবীকে উৎসর্গ করে নির্মাণ করেছিলেন মন্দিরটি। সে সময় স্থানীয়ভাবে এটিকে পাঁচআনি প্রাসাদ নামে ডাকা হত।
ঢাকা থেকে রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স যাওয়ার উপায়
সড়কপথে বাসে যেতে হলে ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী, মহাখালী, বা আব্দুল্লাহপুর থেকে রাজশাহীগামী বাসে উঠতে হবে। এসি কোচগুলোতে সম্ভাব্য ভাড়া মাথাপিছু ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। আর নন-এসিতে ভাড়া পড়তে পারে জনপ্রতি ৭১০ থেকে ৭৫০ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন সময়ে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করে। এগুলোতে শ্রেণিভেদে ভাড়া নিতে পারে সর্বনিম্ন ৩৪০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৭৩ টাকা পর্যন্ত।
দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর জন্য উত্তরা বিমান বন্দর থেকে আকাশপথেও যাওয়া যেতে পারে। তবে এই যাত্রাপথে ভাড়া বেশ ব্যয়বহুল; জনপ্রতি প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
আরো পড়ুন: সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক ভ্রমণ খরচ
বাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড নেমে যাওয়া যায়। তারপর সেখান থেকে মন্দির কমপ্লেক্সের দূরত্ব ৫ থেকে ১০ মিনিটের পায়ে হাঁটা পথ।
ট্রেন বা বিমানের ক্ষেত্রে স্টেশন বা বিমানবন্দর থেকে লোকাল বাসে করে পুঠিয়ায় যেতে হবে। এছাড়া নাটোরগামী আন্তঃনগর বাস বা রিজার্ভ গাড়িতে করেও পুঠিয়া যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণে কি কি দেখবেন
এখানকার পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচআনি রাজবাড়ী বা পুঠিয়া রাজবাড়ী, চারআনি রাজবাড়ী এবং ১৩টি মন্দির।
এগুলো হলো- বড় শিব মন্দির, রথ মন্দির, দোল মন্দির, পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, গোপাল মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দির, কৃষ্ণপুর শিব মন্দির, কেষ্ট ক্ষ্যাপার মঠ, বড় গোপাল মন্দির ও জগদ্ধাত্রী মন্দির।
অধিকাংশ মন্দিরেরই বিশেষত্ব হচ্ছে সূক্ষ্ম পোড়ামাটির ফলক। জোড় বাংলা স্থাপত্য রীতির সাদৃশ্য থাকলেও এগুলোতে বিদেশি নকশারও মিশেল ঘটেছে। যেমন প্রধান পর্যটন আকর্ষণ পুঠিয়ার রাজবাড়িটিতে অনুসরণ করা হয়েছে ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্য রীতি। কক্ষের দেওয়াল ও দরজায়, কাঠের কাজে, ভবনের সম্মুখের স্তম্ভ, অলংকরনে লতাপাতা ও ফুলের চিত্রকর্ম। এখানে গতানুগতিক হিন্দু স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রেনেসাঁ যুগের ইউরোপীয় নকশা। একটি বিশালাকার লেকের চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মন্দিরগুলোর মাঝে রয়েছে একটি নান্দনিক সবুজ চত্বর।
আরো পড়ুন: বর্ষাকালে সুউচ্চ ঝর্ণা-পাহাড়ে হাইকিং ও ট্রেকিং: ঝুঁকির কারণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা
পঞ্চ রত্ন গোবিন্দ মন্দিরকে বড় গোবিন্দ মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। এর দেওয়ালে চমৎকার পোড়ামাটির অলঙ্করণে প্রকাশ পেয়েছে কৃষ্ণ এবং রাধার ঐশ্বরিক প্রণয়। দরজার দুপাশ ও ভবনের চারপাশের কর্ণারেও পোড়ামাটির ফলকের জয়জয়কার। এগুলোতে ফুটে আছে যুদ্ধের কাহিনী এবং বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর চিত্র।
চৌচালা ছোট গোবিন্দ মন্দির নির্মাণে অনুসরণ করা হয়েছে চার চালা শৈলী। দক্ষিণের সম্মুখ ভাগটিতে দেখা যায় ব্যাপক পোড়ামাটির কাজ। এই অঙ্কনের বিষয়বস্তু হচ্ছে বিষ্ণুর দশ অবতার, ফুলের নকশা, জ্যামিতিক আঁকিবুকি এবং তৎকালীন নাগরিক জীবনাচরণ।
ভুবনেশ্বর বা পঞ্চরত্ন শিব মন্দিরটি বাংলাদেশের বৃহত্তম শিব মন্দির। এর সজ্জায় ব্যবহৃত পাঁচটি চূড়া মূলত পূর্ব ভারতে প্রচলিত মনোমুগ্ধকর পঞ্চ রত্ন শৈলীকে প্রতিনিধিত্ব করে। পাঁচটির মধ্যে চারটি চূড়ার প্রত্যেকটিতে রয়েছে ছোট ছোট ১৭টি উপ-চূড়া। কেন্দ্রীয় বৃহত্তর চূড়াটিতে উপ-চূড়ার সংখ্যা ১০৮।
ছোট শিব মন্দিরের অবস্থান পুঠিয়া রাজবাড়ীর ঠিক পিছনে। চার চালা স্থাপত্য শৈলীতে গড়া ছোট এই মন্দিরের সামনের অংশটি ঢেকে আছে পোড়ামাটির ভারী অলঙ্করণে।
ভুবনেশ্বর শিব মন্দিরের পাশেই রয়েছে রথ মন্দির, যেটি অন্য নাম জগন্নাথ মন্দির। দ্বিতল এই স্থাপনাটির কাঠামো অষ্টভুজাকৃতির। দরজার চৌকাঠে ব্যবহার করা হয়েছে বেলে পাথর, যেটি চমৎকার অলঙ্করণে সজ্জিত।
আরো পড়ুন: কলকাতায় কেনাকাটার জনপ্রিয় স্থান
পুঠিয়া রাজবাড়ির সামনের মাঠ পেরিয়ে গেলেই পড়ে দোল মন্দির। এর নিচতলার প্রত্যেক দেওয়ালে সাতটি করে ২৮টি দরজা রয়েছে। দোতলায় পাঁচটি করে ২০টি, তিন তলায় তিনটি করে ১২টি এবং চতুর্থ তলায় একটি করে চারটি দরজা। সব মিলিয়ে প্রবেশের জন্য মোট দরজার সংখ্যা ৬৪। এ কারণে স্থানীয়রা মন্দিরটি নাম দিয়েছে হাজারদুয়ারী। পুরো কমপ্লেক্সে শুধু এই মন্দিরে কোনো প্রতিমা বা পূজার ঘর নেই। সে কারণে এখানে পুরোহিত বা পূজারিদেরও খুব একটা আনাগোনা দেখা যায় না।
পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দিরের কাছেই ছোট আহ্নিক মন্দিরে ব্যবহার করা হয়েছে দো চালা শৈলী। পুরোটা পাতলা ইট ও চুনসুরকিতে বানানো হলেও মন্দিরের কর্ণার ও কার্নিশগুলো রাঙানো হয়েছে পোড়ামাটির চিত্রফলকে। ভেতরের চার দেওয়ালে চারটি পদ্ম এবং পূর্ব দেওয়ালের বাইরের দিকে পোড়ামাটির কারুকাজে জীবজন্তু ও লতা-পাতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলা।
অন্যদিকে, বড় আহ্নিক মন্দিরে নকশাটি বাংলার মন্দির স্থাপত্যের একটি অভূতপূর্ব মিশ্র রূপ। এখানে দুই পাশে দুটি চার চালা কাঠামো, আর কেন্দ্রীয় ভাগে দেওয়া হয়েছে দোচালা শৈলী।
পাশাপাশি অবস্থিত বড় আহ্নিক মন্দির, গোপাল মন্দির, ও ছোট গোবিন্দ মন্দির মূলত চারআনি জমিদারবাড়ীর অংশ।
পোড়ামাটির নান্দনিক চিত্রকর্ম আরও দেখা যায় কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দিরে, যাকে স্থানীয়রা সালামের মঠ নামে ডাকে। এছাড়া খিতিশ চন্দ্রের মঠ বা কৃষ্ণপুর শিব মন্দিরটিতেও রয়েছে পোড়ামাটির অপূর্ব চিত্রফলক।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায়
৬৬৬ দিন আগে