খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুবিতে ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বরে, কুয়েটে জানুয়ারিতে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একই শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ সালের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
খুবি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় খুবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘সি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে কলা ও মানবিক স্কুল, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুল, আইন স্কুল, শিক্ষা স্কুল ও চারুকলা স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ। ‘ডি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ।
পরদিন ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা। ‘এ’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল এবং ‘বি’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিসিপ্লিনসমূহ।
অন্যদিকে, কুয়েটের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক) ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৮তম বিশেষ সভায় স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষাটি এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আবাসনসংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী—এই তিনটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৭ দিন আগে
রবিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরছে খুবি শিক্ষার্থীরা
প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর অবশেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করায় আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালুর আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিন দফা দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনায় আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে একই সঙ্গে তারা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। ভবিষ্যতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদমান রহমান বলেন, ‘আমাদের টার্ম পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হোক। তবে একই সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যেহেতু ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, তাই আমরা ক্লাসে ফিরছি। আশা করি বাকি সিদ্ধান্তগুলোরও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেসব বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। প্রশাসনের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হবে এবং আগামীকাল থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।
৩৪ দিন আগে
মেয়েদের হলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে খুবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনিক ভবনে তালা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার পর সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুবির সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতেন তার স্ত্রীও।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান।
যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাতেই প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।’
৪৩ দিন আগে
শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: খুবি শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমানের এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর আগস্ট মাসে অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেন এক নারী শিক্ষার্থী। কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুইটি তদন্তের জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুইটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনগুলো গত ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪ তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য অভিযোগে তাকে আগামী দুই বছর বাংলা বিভাগে পাঠদান, পরীক্ষার কাজসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল (রবিবার) তাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রেজিস্ট্রার আরও জানান, ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকলেও এ সময় অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়েছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।
২৩৫ দিন আগে
তুলে নেওয়ার সাড়ে ৫ বছর পর জামিনে মুক্ত দুই খুবি শিক্ষার্থী
জঙ্গি সন্দেহে তুলে নেওয়ার সাড়ে ৫ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মাদ অনিক এবং মোজাহিদুল ইসলাম।
সোমবার (৭ জুলাই) রাতে খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত সপ্তাহে উচ্চ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
খুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমসহ বর্তমান প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে বিস্ফোরক মামলাসহ ছয়টি মামলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি মিললো দুই শিক্ষার্থী অনিক ও মোজাহিদুলের।
জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে করা মামলায় এই দুই শিক্ষার্থীর ৩০ বছরের সাজা হয়েছিল। তবে ছাত-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার পর কারা অভ্যন্তরে তারা অনশন শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া শুরু করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট বেগম আক্তার জাহান রুকু। মামলা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেল।
সহপাঠীরা জানান, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি ওই দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ১৭ দিন অজানা স্থানে রেখে তাদের নির্যাতন করা হয়। পরে ২৫ জানুয়ারি তাদের বিস্ফোরক দ্রব্যসহ গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সেদিনই তাদের খুলনার কৃষক লীগ কার্যালয় ও আড়ংঘাটা থানার গাড়ির গ্যারেজে বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর একে একে তাদের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা করে পুলিশ। সেই থেকে গত পাঁচ বছর তারা কারাবন্দি ছিলেন।
অভ্যুত্থানের পরে তাদের মুক্তির দাবিতে খুবি ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করেন সহপাঠী, রুমমেট, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা।
গ্রেপ্তারের সময় অনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে এবং রাফি পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনে অধ্যয়নরত ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্যাম্পাসে একাধিকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন সহপাঠী, শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আকতার জাহান রুকু বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় খালাস, দুটিতে জামিন এবং সোনাডাঙ্গা থানার দুটি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজা হওয়া দুটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন চাওয়া হলে হাইকোর্ট সেটি মঞ্জুর করেন।’
তিনি আরও জানান, জামিন আদেশ আশুরার ছুটির কারণে কারাগারে পৌঁছাতে দেরি হয়। সোমবার আদেশ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম জানান, তাদের অনশনের বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমন্বয়কের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে কারাবন্দি দুই শিক্ষার্থীর জামিনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল সেলের পরিচালক এস এম শাকিল রহমানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া ফেরত ৩ বাংলাদেশি জঙ্গি নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৪২৩ দিন আগে
খুবিতে শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল
শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল, ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ, স্নাতক ডিগ্রির সনদ বাতিলসহ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার(৩ মে) বিকালে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগ পর্যন্ত ওই ছাত্রের স্নাতক ডিগ্রির সনদপত্র স্থগিত থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম এসব সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার(২ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ নোমান সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক হাসান মাহমুদ সাকির মাথায় ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। এসময় আম চুরি করতে যাওয়া ছাত্ররা পালিয়ে যায়। পরে আহত শিক্ষককে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: খুবি শিক্ষকের উপর ছাত্রের হামলা, প্রতিবাদে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
এদিকে, শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল থেকে ছাত্ররা বেরিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল শুরু করেন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিচার দাবি করে ভিসির বাংলোর সামনে অবস্থান নেন। শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে সরবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীকে সাধারণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্ররা বিক্ষোভ করেন।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শনিবার(৩ মে) বিকাল তিনটায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ভিসি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। এসময় প্রো ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ খানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিসি জানান, ২৩১তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উল্লিখিত সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় ফৌজদারি আইনে মামলা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বাদী হয়ে মামলা করবেন বলেও তিনি জানান।
এছাড়া ঘটনার তদন্তে গঠিত তিন সদসস্যের কমিটির প্রধান করা হয় অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হককে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম ও অধ্যাপক ড. মো. আজমল হুদা।
৪৮৯ দিন আগে
খুবি শিক্ষকের উপর ছাত্রের হামলা, প্রতিবাদে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক হাসান মাহমুদ সাকির উপর হামলা করেছেন সাবেক এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন খুবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (০২ মে) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ নোমান। তিনি বাংলা বিভাগের ২০১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিক্ষক সাকি। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। হামলাকারী নোমানকে ক্যাম্পাসে আজীবনের জন্য অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন তারা। তাকে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: টুঙ্গিপাড়াসহ ঢাকা-খুলনায় থাকা শেখ পরিবারের জমি জব্দের আদেশ
এদিকে রাত ১টার দিকে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি ইউএনবি কে বলেন, ‘আমি নির্বাক। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা একটি নিকৃষ্ট ও গর্হিত কাজ। যা কখনও চিন্তা করা যায় না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ বছর ইতিহাসে এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা একটিও ঘটেনি।’
উপাচার্য আরও বলেন, একজন শিক্ষক লাঞ্ছিত করা মানে পুরো শিক্ষক সমাজকেই লাঞ্ছিত করা। হামলাকারীকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।
৪৮৯ দিন আগে
দুর্বৃত্তের গুলিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ণব কুমার সরকার নামে এক ছাত্রকে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
রাতে সর্বশেষ খবর পার্ওয়া পর্যন্ত নিহত অর্ণবের লাশ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল।
নিহত অর্নব (২২) নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিতিশ কুমার সরকারের ছেলে। তিনি খুবি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে নামাজে যাওয়ার পথে ব্যবসায়ীকে গুলি করা হত্যা
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ আহসান হাবীব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানা গেছে, শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে একটি মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে অর্ণব চা পান করছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে সশস্ত্র লোকজন এসে প্রথমে তাকে গুলি করে। গুলি তার গায়ে লাগার পর রাস্তার ওপর পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় অর্নবকে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত অর্ণবের লাশ খুমেক হাসপাতালে রয়েছে। শুনেছি তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে তার শরীরের কোথায় গুলি ও কোপানো হয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। আমরা এখনও তাকে দেখতে পারিনি। কারা বা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা-ও প্রাথমিকভাবে বলা সম্ভব নয়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ সবকিছুর খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
খুবি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, প্রভোস্ট অধ্যাপক শরিফ মোহাম্মদ খান এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত নিশ্চিত করেন যে অর্ণব খুবি’র ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. শাহ আলম বলেন, ‘নিহত শিক্ষার্থী ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করছি।’
আরও পড়ুন: সিলেটে বাজার থেকে ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা, লাশ মিলল সুরমায়
৫৮৭ দিন আগে
উপকূলে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালন
১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের মানুষ দিনটিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে পালন করে।
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষায় খুলনাসহ উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুই দশক ধরে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠন ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করে প্রতিবছর তা পালন করে আসছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের বেঁচে থাকার বিরাট অনুষঙ্গ। সুন্দরবন দক্ষিণ এশিয়ার ফুসফুস। এটা রক্ষা করতে না পারলে আমাদের দেশ একটা বিরাট সংকটের সম্মুখীন হবে। তাই সবার আগে সুন্দরবনকে ভালোবাসতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে সুন্দরবন দিবস।’
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারি আমরা উপকূলের মানুষকে সুন্দরবনকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। অনেকেই বুঝতে পারছে না সুন্দরবনের কী ক্ষতিটা হচ্ছে। লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ নেই। সেখানে গরান, গেওয়া, কেওড়া বাড়ছে। সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে পরিবর্তন এসেছে। এই সুন্দরবন না থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে কয়রা উপজেলার নাম–নিশানা মুছে যেত।’
সুন্দরবনসংলগ্ন মহিশরীপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার কেরামত মাওলা বলেন, ‘এখন আমাদের সুন্দরবনের পাশের নদীতেও সেভাবে মাছ পাওয়া যায় না। মুনাফালোভীরা সুন্দরবনকে ধ্বংস করার জন্য বিষ দিয়ে প্রাণী হত্যা করছে। আগে যে সংখ্যক হরিণ দেখা যেত, সেটা এখন দেখা যায় না। বিষ দিয়ে মাছ ধরার বিষক্রিয়ায় শূকর, বাঘ ও অন্য প্রাণীরা হুমকির মুখে পড়ে। গোলপাতা আহরণকারীরা ৫০০ মণের পারমিট নিয়ে কয়েক হাজার মণ পাতা কাটে। আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব বিষয়ে সুন্দরবন দিবসে সচেতন করতে চাই।’
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, সুন্দরবনে ৫ হাজার প্রজাতির সম্পূরক উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ আছে। সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সমগ্র দেশের পরিবেশ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই কোটি মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থাও সুন্দরবনের উপর কমবেশি নির্ভরশীল। তাই যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রাকৃতিক এই সুরক্ষা দেয়ালকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে সুন্দরবনের ক্ষতি হয়, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে।
উল্লেখ করা যায় সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুন্দরবন অতুলনীয় ও জীববৈচিত্র্যে অসাধারণ। এটি শুধু বাংলাদেশের মানুষের কাছে নয়, বিশ্বের প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা
৯৩৫ দিন আগে
সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করবে আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে একসঙ্গে কাজ করবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন।
একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশে যৌথ কার্যক্রম হাতে নেবে এই দুই প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বন, পরিবেশ, ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ে যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
এছাড়াও, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করতে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে।
গবেষক ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগকেও জোরদার করতে একমত হয়েছে স্বাক্ষরকারী দুই প্রতিষ্ঠান।
এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে যৌথভাবে প্রাসঙ্গিক কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় আরণ্যক ফাউন্ডেশনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির সমর্থন: মন্ত্রী
সমঝোতা স্মারকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ট্রেজারার অধ্যাপক অমিত রায় চৌধুরী ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের পক্ষে এর চেয়ারপার্সন ও শাহজালান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এজেডএম মনজুর রশীদ স্মাক্ষর করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন পিএইচডি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রকিবুল হাসান মুকুল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ মো. বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী।
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গত ২০ বছর ধরে দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে আসছে আরণ্যক ফাউন্ডেশন। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৯টি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে পারছেন শিক্ষার্থীরা।
সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করবে আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি
সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প, ব্যয় হবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা
৯৮৩ দিন আগে