সড়ক
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে সড়ক বিভাগের ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের কার্পেটিং (বিটুমিন) ধুয়ে গেছে, ধসে গেছে সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) এবং ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল। একই সঙ্গে চারটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ সড়ক) ধসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-পিরোজপুর ও সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফকিরহাট, চিতলমারী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং ধুয়ে ইট ও পাথরের খোয়া বেরিয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যে ছোটবড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো খানাখন্দে পানি জমে আছে। এসব এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় খানাখন্দে পড়ে যাচ্ছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকরা ধীরগতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন।
এছাড়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) ধসে যাওয়ায় কোনো কোনো স্থানে সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার, ১১টি আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১১০ কিলোমিটার এবং ১৪টি জেলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২৮ কিলোমিটার। টানা বৃষ্টির কারণে এর মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি বাড়িয়েছে বৃষ্টি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহর থেকে পান্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। তবে সড়কটি যেন আর সড়ক নেই, অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দে ভরে গেছে সেটি। কোথাও আবার বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। ভাঙা সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।
এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সড়কটি পুনঃসংস্কার করে এলজিইডি। তবে ১০ টন ধারণক্ষমতার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের অসংখ্য বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারের মাত্র চার বছরের মাথায় বেহাল দশা হয়েছে সড়কটির।
এলাকাবাসী জানায়, কুমারখালীর দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নবাসীর উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই নানাবয়সি দুই থেকে তিন লাখ মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার একাংশের মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু অবৈধভাবে অতিরিক্ত বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ভারী যানবহন চলাচলের কারণে সংস্কারের পর দ্রুতই ভেঙে গেছে সড়কটি। ভাঙা সড়কে চলতে ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। দ্রুত ভারী যানবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
৮ দিন আগে
কচুয়ায় উদ্বোধনের আগেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, জনমনে ক্ষোভ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন হওয়ার আগেই এর সংযোগ সড়কে (অ্যাপ্রোচ রোড) ধস দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সড়কের মাটি ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল (গার্ডওয়াল) সরে গিয়ে সেতুর মূল কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের মাঝিগাছা-নিন্দপুর রঙের বাজার সংযোগ সড়কের হরিপুর গ্রামে প্রায় ১২ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড সন্স। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১১৬ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়ালের নিচের মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধুয়ে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী ও জিলানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি, এর মধ্যেই যদি রাস্তা ভেঙে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এমন নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বর্তমানে মেরামত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটিও সংস্কার করে দেওয়া হবে।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারকে এখনও চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। কাজের গুণগত মান যাচাই করার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭১ দিন আগে
হাইমচরে এক কিলোমিটার সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়াল মোড় থেকে মরহুম আব্দুর রহমান চেয়ারম্যানের এতিমখানা মসজিদ পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত এই সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দ ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয়। বিশেষ করে ছৈয়াল বাড়ি-সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকাটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃসাধ্য। প্রতিনিয়ত ছোটবড় যানবাহন উল্টে এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এই করুণ দশার পেছনে মূল কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু ও ইটবাহী অবৈধ ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। নিয়মিত এসব ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। খানাখন্দের কারণে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোরিকশাচালকরা জানান, এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কয়েকবার গাড়ি উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অনেক চালক এখন এই পথে গাড়ি চালাতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই সড়কে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থী। সিয়াম ও হাফিজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন এই পথে আসতে চায় না, আসলেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার কারণে সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রাস্তার বালু উড়ে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবী মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী বলেন, আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। নির্বাচনের পর বরাদ্দ আসায় এই রাস্তাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৌশলীর মাধ্যমে এস্টিমেট (প্রস্তাব) প্রস্তুত করে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত কাজ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আশরাফুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় মহজমপুর ঈদগাহ থেকে ছৈয়াল বাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এটি এলজিইডি আইডিভুক্ত সড়ক। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ দেখতে চায় হাইমচরের এই জনপদের ভুক্তভোগী মানুষ।
৭৪ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে জনজীবন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। এই অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দ, পিচ-পাথর উঠে যাওয়া এবং ছোট-বড় গর্তে ভরা এসব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে যাতায়াতে সময়ও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা সড়কের কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যাতায়াতে সময় আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাগছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বিয়ানীবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, চারখাই থেকে বারইগ্রাম এবং শেওলা থেকে সূতারকান্দি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৯ কিলোমিটার সড়ক সওজের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার সংস্কারকাজে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, যেসব স্থানে পানি জমে বেশি ক্ষতি হয়, সেখানে কংক্রিট ব্যবহার করা হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। এছাড়া পাকা ও ইটের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগই জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন। গত এক বছরে সীমিত আয় ও বরাদ্দ দিয়ে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কাজ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পৌরবাসীর প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙা সড়ক। পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারে তাদের অধীনে ৩৪৭টি সড়ক রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৬২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৭২ কিলোমিটার মাটির, ১০৫ কিলোমিটার পাকা এবং ১৮২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, এখানকার ১৬৫টি সড়কের প্রায় ২০২ কিলোমিটার অংশ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন।
এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ছোট সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এসব কাজ মূলত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চাহিদার ভিত্তিতে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ভাঙা সড়কগুলোর সংস্কারকাজ ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। আশা করি, ভবিষ্যতে সড়ক নিয়ে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
১০৫ দিন আগে
সিলেটের সড়ক ও রেলপথ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
সড়ক ও রেলপথ নিয়ে সিলেটবাসীকে সুসংবাদ দিলেন বাংলাদেশ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, আমার নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ছিল, যত দ্রুত সম্ভব সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ ও কাজ সম্পন্ন করা। আগামী দুই-আড়াই মাসের মধ্যে বাকি থাকা সব জমি অধিগ্রহণ করে সব ব্লকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় মহানগরের মির্জাজাঙ্গালে অবস্থিত নির্ভানা ইন হোটেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট-চট্রগ্রাম ৬ লেনের কাজও একই সময়ে শুরু হয়ে শেষ হবে ইনশাআল্লাহ। সিলেট-চট্টগ্রাম রাস্তার একটি বড় অংশ পড়েছে সিলেট-ঢাকা ৬ লেনে। এই দুই মহাসড়কের সংযোগ অংশের কাজের জন্য শিগগিরই প্রকল্প আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠানো হবে এবং পাস হয়ে কাজ শুরু হবে।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা ডবল গেজ রেললাইন স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিগগির এই কাজও শুরু হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে তিন বা সাড়ে তিন ঘণ্টায় সিলেট থেকে ঢাকা যাতায়াত করা যাবে। যেসব পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস নির্বাচনের আগে দিয়েছি, সেগুলো যেন আল্লাহ আমাকে দিয়ে পরিপূর্ণ করান—এই দোয়াই আপনারা করবেন।
ক্লাব সভাপতি দৈনিক আধুনিক কাগজের সম্পাদক মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলানিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
১২৮ দিন আগে
খুঁড়ে রাখা সড়কের হাঁটু পানিতে ভাসছে ভেলা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ করার জন্য সেটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। তাতে বৃষ্টির পানি জমে পরিণত হয়েছে নালায়, হয়ে উঠছে মরণফাঁদ। ভেলায় চড়ে সড়ক পাড়ি দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তবে নিত্যদিন দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের নজর নেই সংকটময় এ সড়কে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলি–জোরগাছ জিসি সড়ক (দৈর্ঘ্য ৫ কিমি ২৫০ মিটার) উন্নয়ন প্রকল্পে ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। দরপত্র অনুযায়ী কাজ পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। তারা পারফরমেন্স সিকিউরিটি জমা দিলেও কার্যাদেশ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারেনি।
এরই মধ্যে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সড়কের কাজ হাতিয়ে নেয় এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ও কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: বাঁশের সরু সাঁকোই আট গ্রামের মানুষের ভরসা
পরে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলেও আগেই প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়। এতে সড়কটি এখন পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি এখন হাঁটু পানির নালায় পরিণত হয়েছে। এতে পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর। ভ্যান, রিকশা কিংবা অ্যাম্বুলেন্স চলাচল একেবারেই বন্ধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ সমস্যার সমাধান ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
৩০৬ দিন আগে
চুনিয়াগাড়ির বেহাল তিন সড়কে থমকে আছে সম্ভাবনা
নওগাঁ সদর উপজেলার অন্যতম বৃহৎ গ্রাম চুনিয়াগাড়ি। চারপাশে ধানখেত, পুকুর আর শান্ত গ্রামীণ জীবনের ছবি; তবে গ্রামে ঢুকতেই বদলে যায় চিত্র। রাস্তা যেন ধানের জমি! খানাখন্দে ভরা কাদাপথ পেরিয়ে চলতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী আর দিনমজুরদের।
চুনিয়াগাড়ির বাসিন্দাদের এখন শুধু একটাই দাবি— ‘রাস্তা চাই’। কারণ এই তিনটি ভাঙাচোরা গ্রামীণ সড়ক যেন তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক অদৃশ্য বাধার দেওয়াল তুলে দিয়েছে।
চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার ৯ নম্বর চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত চুনিয়াগাড়ি গ্রামটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত। গ্রামের ছোট চুনিয়াগাড়ি থেকে বড় চুনিয়াগাড়ি যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত মাটির রাস্তা। যে রাস্তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই রাস্তার খানাখন্দ ভরে যায় বৃষ্টির পানিতে। তখন দেখে বোঝার উপায় থাকে না—এটি রাস্তা নাকি ফসলের জমি।
আবার গ্রামের বটতলি থেকে বিশ্ববাঁধ পর্যন্ত আরেকটি আধা কিলোমিটার সড়কেরও বেহাল দশা। এই সড়কে ইট বিছানো থাকলেও বহু বছর মেরামত কিংবা সংস্কার না করার কারণে সড়কের একাধিক জায়গায় ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তা দিয়ে ছোট ছোট গ্রামীণ যানবাহন চলাচলের ঝক্কি পোহানো নো লাগেই, অনেকসময় গাড়ি উল্টে স্থানীয়দের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আরও পড়ুন: বর্জ্যে বিপন্ন হাজীগঞ্জ, ডেঙ্গু-শ্বাসকষ্টে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ
এ ছাড়া, গ্রামের তালতলি থেকে বিশ্ববাঁধ সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশের অবস্থাও বেহাল। বর্ষার সময় এই সড়ক দিয়ে বাইরের কেউ চলাচল করতে চান না। কিন্তু গ্রামের বাসিন্দাদের সেই সুযোগ নেই। দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই প্রতিনিয়ত কষ্ট করেই গলার কাঁটা এই তিনটি গ্রামীণ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
প্রভাবিত হচ্ছে গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা
চুনিয়াগাড়ি গ্রামের তালতলি-বিশ্ববাঁধ সড়কের বেহাল দশার কারণে বর্ষা মৌসুমের পুরোটাজুড়েই ভয়ে শিক্ষার্থীরা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যায় না। এমনকি গ্রামের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক যোগদান করলেও দুর্গম পরিস্থিতির কারণে তারা অন্যত্র চলে যাওয়ার তোড়জোড় করেন।
ছোট চুনিয়াগাড়ি থেকে বড় চুনিয়াগাড়ি যাওয়ার সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলাচলের সময় রাস্তার গর্তের পানিতে পড়ে গিয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাদায় লুটোপুটি খেতে হয় বলে জানান অভিভাবকরা।
অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় বাধা
চুনিয়াগাড়ির কৃষকরা ফসল ফলাতে পিছিয়ে নেই, কিন্তু তা বাজারে পৌঁছানো বিরাট এক ঝক্কির ব্যাপার।
সড়কের বেহাল দশার কারণে ছোট ছোট গ্রামীণ বাহনগুলো গ্রামে যেতে চায় না। ফলে এই গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়।
আরও পড়ুন: জামালগঞ্জে পরিত্যক্ত সেতু দিয়ে ঝুঁকিতে চলাচল, দুর্ভোগে ৩৫ গ্রামের মানুষ
সরেজমিনে দেখা যায়, বটতলী থেকে বিশ্ববাঁধ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার রাস্তায় বিছানো ইট অনেক আগেই উঠে গেছে; তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে করে পোল্ট্রি খামারিদের মুরগি পরিবহন কিংবা কৃষকের ধান বিক্রি—সবকিছুতেই যুক্ত হয়েছে লোকসানের ঝুঁকি।
৩৯৮ দিন আগে
ফুলবাড়ীতে সংস্কার হচ্ছে না সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বালারহাটের আদর্শ মোড় থেকে তিনকোণা পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ মিটারের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। ওই সড়কে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন মানুষের চলাচলের অযোগ্য।
সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। সড়কের পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে কাদাযুক্ত বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে লোকজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলাচল করছেন। ওই সড়কে যানবাহন চলাচলের সময় পানির ছিটা পথচারীর শরীরে যাচ্ছে।
সড়কের দুই পাশে স্থাপনা থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। এ পানি শুকাতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে।
স্থানীয় বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুরুষাফেরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাফল্য কিন্ডারগার্টেন, আশা ও গ্রামীণ ব্যাংক ও গজেরকুটি ও বালাতাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালারহাট বিজিবি ক্যাম্প এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় এবং ওই সড়কের পাশেই নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ।
আরও পড়ুন: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মোবাইল কোর্ট, ৪৫০০০ টাকা জরিমানা আদায়
প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন সড়কটি দিয়ে। স্কুল-কলেজ যাতায়াতের সময় সড়কের কাদাপানি ছিটকে পোশাক-পরিচ্ছদে পড়ে নষ্ট হওয়া নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। সব সময় অভিভাবকরা থাকছেন চরম দুশ্চিন্তায়। মোটরসাইকেল, অটোভ্যান, অটোরিক্সা, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়শই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
অন্য দিকে বালারহাট বাজারের পশ্চিম দিকে নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাওডাঙ্গা ভূমি অফিস ও বালারহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গরু ও সুপারি পট্টী, বালারহাট ডিএস দাখিল মাদরাসা যাওয়ার মূল সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানিতে পরিণত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজারও পথচারী।
বালারহাট বাজারের ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম রেজা, পিটন পাল, আবু তারেক ও রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তারা জানান, ‘বালারহাটর সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গরবার হাট বসে। বালারহাটে পশ্চিমে অযোগ্য সড়কের পাশেই বসে গরু, ছাগল ও সুপারির হাট৷ কাপড়-চোপড়।’
‘অন্য দিকে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে ধান, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি ও সাইকেলসহ সব ধরনের জিনিস এই বাজারে বেচাকেনা হয়। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই বাজারে। এই বাজার থেকে সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পায়। অথচ সামান্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পাকা সড়কে পানি জমে থাকছে। চেয়ারম্যান, মেম্বররা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই যাতায়াত করেন। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না,’ বলেন তারা।
আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শুভশ্রী রায়, তানজিলা আক্তার ও নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী হিয়ামনি জানান, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয়। বিকল্প সড়ক না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কাদাযুক্ত সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। বৃষ্টির সময়তো একদমই চলাচলের অনুপযোগী থাকে। এমনকি বর্ষা ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমেও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।’
৪৫২ দিন আগে
মার্চে সড়কে নিহত ৬০৪, আহত সহস্রাধিক
গত মার্চ মাসে দেশে সড়কে দুর্ঘটনায় ৬০৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ৮৯ জন ও শিশু ৯৭টি। শনিবার (১২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদেন এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, মার্চে দেশে ৫৮৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক হাজার ২৩১ জন।
৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
আরও পড়ুন: গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
এতে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৩৩ জন, যা মোট প্রাণহানির ৪১.২২ শতাংশ। পথচারী নিহত হয়েছেন ১০৯ জন (১৮.০৪ শতাংশ) এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী ৯৮ জন (১৬.২২ শতাংশ)।
এই সময়ে ৬টি নৌদুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৪ জন আহত হয়েছেন। ১৬টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়—মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২৩৩ জন (৩৮.৫৭ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৩২ জন (৫.২৯শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-ড্রাম ট্রাক-কার্গো ট্রাক আরোহী ৫৬ জন (৯.২৭শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ১৭ জন (২.৮১শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ১১৯ জন (১৯.৭০শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-পাখিভ্যান-মাহিন্দ্র-টমটম) ২৭ জন (৪.৪৭শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-রিকশা আরোহী ১১ জন (১.৮২শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২৮টি (৩৮.৮৪ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২৫৬টি (৪৩.৬১শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৭২টি (১২.২৬ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩১টি (৫.২৮শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়াও ১৫৩টি (২৬.০৬ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৫৮টি (৪৩.৯৫ শতাংশ) গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১১৩টি (১৯.২৫ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়ায়, ৪৭টি (৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ১৬টি (২.৭২ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
আরও পড়ুন: নভেম্বরে সারাদেশে সড়কে ৪৬৭ জনের প্রাণহানি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
এদিকে প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি প্রধান কারণ উল্লেখ করে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও শারীরিক সমস্যা, ট্রাফিক আইনের অজ্ঞতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং চাঁদাবাজি।
এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে— দক্ষ চালক তৈরি, চালকের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং রেল ও নৌপথ সংস্কার।
৪৬৪ দিন আগে