সৌদি আরব
হজে কোটা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব: ধর্মমন্ত্রী
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য আরও ২০ হাজার কোটা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
হজ চুক্তি হওয়ার আগেই অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়ে একটি সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় সৌদি রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সহানুভূতি সত্যিই প্রশংসনীয়। কোনো বিষয় জানালে তিনি তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।
বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি মন্ত্রী তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী, সহকারী মন্ত্রী ও সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, সামনে হজ চুক্তির জন্য যখন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফরে যাবে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সমাধান হয়ে যাবে।’
অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য থাকাকালে তিনি বাংলাদেশিদের হজ কোটার বিষয়টি জানতে পারেন। সে সময়ই তিনি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিঙ্গাপুর থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান। এরপর সৌদি মন্ত্রীর সঙ্গে তার খুদে বার্তা (এসএমএস) আদান-প্রদান হয়। জবাবে সৌদি মন্ত্রী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
২ দিন আগে
সৌদি আরবে হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ
দম্মাম বিমানবন্দরে হামলাসহ সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং সৌদি সরকার ও জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ এবং কূটনৈতিক উপায়ে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় দম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুজন নিহত এবং দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ আটজন আহত হন।
আহত বাংলাদেশিরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সজল চন্দ্র দাস এবং নোয়াখালী সদর থানার গোবিগল্লপপুর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুর রহিম।
আহতদের পরিচয় প্রকাশ করে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আহতরা বর্তমানে দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১১ দিন আগে
সৌদিগামী ১৩৪ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত মোট ১৩৪টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে ২০ হাজার ২৫৪ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা শাখার স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বুধবার (২১ অক্টোবর) এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিঘ্ন হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬১টি সরাসরি ও ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইট। এছাড়া সৌদিয়ার ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ও রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে ইন্ডিগোর ২৮টি ফ্লাইট। এছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি ও ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।
১৩ দিন আগে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ক্ষতিপূরণ পেল নিহত সৌদিপ্রবাসীর পরিবার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ২০২৩ সালে সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী তাদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে পরিবারটি ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করে।
ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণের পর নুরুল হকের পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
১৫ দিন আগে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপির অপেক্ষায় ঢাকা
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ এখনও বিস্তারিত জানার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাই দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া বিদেশে কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে তাকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আগেই বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলে প্রত্যাশা করে সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব তথ্য জানান।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ‘খুবই হতাশাজনক’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এখানে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে কেন ঘাটতি হয়েছে, তা জানতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আমরা আলোচনা করছি।
পুরো প্রক্রিয়ার কোনো এক পর্যায়ে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের সঙ্গে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক ও গভীর বন্ধন রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার সময় আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, এ ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তারা এখনও রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত দয়া করে অপেক্ষা করুন। এরপর আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং কী করা যেতে পারে তা খতিয়ে দেখব।
শামা ওবায়েদ বলেন, নিয়মিত বিরতিতে তারা আমাদের একটি তালিকা দেয়। ওই তালিকার মাধ্যমে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারি, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কখন করা হয়েছে। তালিকায় তাদের নাম রয়েছে কি না, তা আমরা যাচাই করছি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার এখনও বিস্তারিত তথ্য পায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই। আমরা তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছি। তারা তা দিলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে সরকার তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
২০২৩ সালে সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে নিহত এক বাংলাদেশির দুই সন্তানের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছিল সরকার। সোমবার পরিবারটি সেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একেক দেশের আইনি প্রক্রিয়া একেক রকম। সৌদি আরবেরও নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিককে ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলে দেশটির কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অন্তত তাদের জানা উচিত, তাদের একজন নাগরিক বাংলাদেশের মাটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশও সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের কাছ থেকে একই ধরনের যোগাযোগ প্রত্যাশা করে, যাতে দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তা করা যায়।
সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী সবাইকে সেই আইন মেনে চলতে হয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থানে যান, সেখানে কারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা
এর আগে রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও তথ্য চায় ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানান মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাকু ও বাগদাদে কবিরের কর্মসূচি
অন্যদিকে বিদেশ সফর নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, আজারবাইজানের বাকুতে সিআইসিএ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদে যান।
তিনি এ সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলোতে আন্তর্জাতিক অংশীজনরা বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন কবির।
তিনি বলেন, আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সফরকালে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
১৫ দিন আগে
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন সচিব
সম্প্রতি সৌদি আরবে কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ঢাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৬ দিন আগে
সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবে সম্প্রতি বাংলাদেশি এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা এখনও বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি সরকারকে বাংলাদেশ চিঠি পাঠিয়েছে।
এর আগে সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ওই দুজন ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে তাদের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে থাকতে পারে এবং সে অনুযায়ী দেশটির আদালত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যা যা জানার প্রয়োজন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাব আসলে তিনি জানাতে পারবেন।
এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সৌদি আরবের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সে সফরের প্রস্তুতিও চলছে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সাংবাদিকেরা আবার জানতে চান, দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে না জানানোর কারণটি সরকার আলাদাভাবে জানতে চেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যা যা জানার দরকার, সবকিছুই আমরা জানতে চেয়েছি। এখন তাদের উত্তর আসুক। এরপর আবার জিজ্ঞেস করলে বলতে পারব।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৭ দিন আগে
সৌদিপ্রবাসী কর্মীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন এসএবিসিসিআই, সংঘাত সমাধানের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশিসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘাতে হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এসব কথা বলে এসএবিসিসিআই।
এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, আমদানি ও রপ্তানি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এসএবিসিসিআই নিবিড়ভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অস্থিতিশীলতা শুধু সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় পরিস্থিতির দ্রুত স্বাভাবিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছে তারা।
গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এসএবিসিসিআই জানায়, গত কয়েক দিনে ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবগামী ১৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর কর্মস্থলে যোগদান ব্যাহত হয়েছে।
এসএবিসিসিআই বলছে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগদান, চাকরির নিশ্চয়তা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় তারা।
এ অবস্থায় সৌদি আরবগামী কর্মীদের কর্মস্থলে যোগদানের অনিশ্চয়তা দূর করতে বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রয়োজনে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়, কর্মস্থলে যোগদানের বিকল্প ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটি মনে করে, পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।
সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্যিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
২০ দিন আগে
মঙ্গলবারের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান
নিরাপত্তাজনিত কারণে মঙ্গলবারের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ১০ মিনিটের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে।
ফ্লাইটটির সংশোধিত সময়সূচি বুধবার দুপুরের মধ্যে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
২২ দিন আগে
রিয়াদে নিহত বগুড়ার সাহেদের পরিবারে শোকের মাতম
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রবাসী বাংলাদেশি সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান।
নিহত সাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। তিনি স্ত্রী, ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ও মা-বাবাকে রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাহেদ তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় এক মাস ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা বলেন সাহেদ। সে সময় রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে জেদ্দায় গিয়ে আবার ফোন করবেন বলে জানান তিনি। তার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও তাইফুর রহমান জানান, গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হুতির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে বগুড়ার সাহেদ আহমেদও নিহত হন।
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি খরচে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাহেদের মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। মা শাহেরা বেগমও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে ছাড়া কাকলি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।
২২ দিন আগে