সৌদি আরব
দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরব বাংলাদেশের মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সৌদি সরকার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে অবশ্যই সেই সফর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে বিনিয়োগবিষয়ক একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সেখানে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সৌদি সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয় এ বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কনস্যুলার ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
সৌদি আরবে প্রায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মিশন কাজ করছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সৌদি আরবে আমাদের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবারই জোর দিয়েছে যে তারা শুধু একটি খাতে নয়, বরং বহুমুখী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৮ ঘণ্টা আগে
কৌশলগত কারণে সৌদি জোটে যোগদান, ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুথি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
২ দিন আগে
সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী নিহত
সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৮) সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি আরব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরামকোকে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৃষ্ট বিঘ্ন এড়াতে তারা কিছু তেল রপ্তানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জেলায় জেলায় ঈদুল আজহা উদযাপন
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার মুসল্লি আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
সাতক্ষীরা, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী ও লালমনিরহাটের অন্তত শতাধিক গ্রামের মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন বলে ইউএনবির জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ঈদের নামাজের পাশাপাশি কোথাও পশু কোরবানি, কোথাও আবার বিশেষ মোনাজাতের আয়োজনও করা হয়েছে।
জেলায় জেলায় ঈদ
সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাদড়া বাউকোলা গ্রামের একটি মসজিদে আহলে হাদিসের একাংশের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান। একই সময়ে তালা উপজেলার ইসলামকাটি, সাতক্ষীরা সদরের গোয়ালচত্তর, ভাদড়া, ঘোনা, মিরগিডাঙ্গাসহ প্রায় ২৫ গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ঈদের জামাতে শরিক হন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, গত এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা এক দিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করেন এবং পশু কোরবানিতে ব্যস্ত সময় পার করেন।
অন্যদিকে, শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায়ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদ উদযাপনে অংশ নিয়েছেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে পৃথক মাঠে আরও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা মো. জুলহাস উদ্দিন।
জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তবে দরবার শরীফের নিয়ম অনুযায়ী সেখানে পশু কোরবানি করা হয় না।
দরবার শরীফ সূত্র জানায়, প্রায় ১৫০ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও এক দিন আগে ঈদুল আজহা পালন করা হচ্ছে।
এদিকে, পটুয়াখালীর অন্তত ৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষও বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।
জেলার সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ সকাল ৮টায় বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের ইমাম ও খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম গনি।
দরবার শরীফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় একশ বছর আগে থেকে এ অঞ্চলের মানুষ একদিন আগে রোজা শুরু করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা এক দিন আগে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।
জেলায় যেসব এলাকায় ঈদ উদযাপন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজহাওলা, কানকুনিপাড়া ও মৌডুবি; বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলাখালী, কনকদিয়া ও আমিরাবাদ; কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া ও ইটবাড়িয়া; এছাড়া শহরের নাঈয়াপট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিণ দেবপুর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব এলাকার মানুষ হানাফি মাজহাবের কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। তাদের বর্তমান পীর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হজরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।
এছাড়া, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকায় ঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এ ছাড়াও উপজেলার উত্তর বালাপাড়া ও লতাবর আহলে হাদিস জামে মসজিদে শতাধিক পরিবারের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে এসব এলাকার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে কদর ও শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও ঐতিহ্য
আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা সাধারণত বৈশ্বিকভাবে চাঁদ দেখার ধারণাকে অনুসরণ করেন। তাদের মতে, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করা যেতে পারে।
অনেক এলাকায় এই প্রথা কয়েক দশক থেকে শুরু করে একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। যেমন: চাঁদপুরে ১৯২৮ সাল থেকে এবং শরীয়তপুর অঞ্চলে প্রায় ১৫০ বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপনের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
দেশে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি
কয়েকটি স্থানে কিছু সংখ্যক মুসল্লি ঈদ উযাপন করলেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা সাধারণত পরের দিনও স্থানীয়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন, ফলে দুই দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে অনেক এলাকায়।
৬৯ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে।
রবিবার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।
প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।
উপস্থিত প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
প্রতিনিধিদলটি জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
৭২ দিন আগে
বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরব পৌঁছেছে
বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবে পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে হজযাত্রী ছিল ৪১৯ জন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম। সেখানে হজযাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি ও হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১০৮ দিন আগে
সৌদিতে নিহত মোশাররফের দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিল সরকার
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মোশাররফ হোসেনের দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ বহন করবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শুক্রবার (২০ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে প্রাপ্য সব সুবিধা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই সন্তানের শিক্ষার ব্যয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বহন করবে। এছাড়া পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় দাফন কার্য সম্পন্নের জন্য নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে ঈদের পর ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদানও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আমরা সব সময় প্রবাসীদের পাশে ছিলাম, প্রবাসীদের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও সব সময় আমরা প্রবাসীদের পাশে থাকব।’
ব্রিফিংয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, নিহতের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলো প্রবাসীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের আলখারাজ এলাকায় ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন মোশাররফ হোসেন। আজ (শুক্রবার) ভোরে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
নিহতের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩৭ দিন আগে
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও ঘণীভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অন্তত দুইটি ড্রোন সৌদি রাজধানীর মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। এর ফলে অগ্নিকাণ্ড এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদ এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর দিকে ধাবমান আরও বেশ কিছু ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।
এই প্রণালী বন্ধের ফলে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ কোম্পানি এবং বিমাকারীরা এই প্রণালী এড়িয়ে চলছে বলে জানা গেছে।
তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের ভূখণ্ডে সরকারি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই পদক্ষেপের জবাবে ইরানি বাহিনী দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে, যার মধ্যে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অন্তর্ভুক্ত।
এই বিস্তৃত সংঘাত বিশ্বনেতাদের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিণতির পাশাপাশি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
১৫৪ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে পোলট্রি মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
খবরে বলা হয়েছে, এই ৪০ দেশের মধ্যে কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০০৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি দেশকে নতুন করে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো
মুরগি ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধের সৌদি তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনিগ্রো থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি করবে না সৌদি আরব।
আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব দেশ
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও কঙ্গোর নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য বা শহরে আংশিক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকেই এসব পণ্য উৎপাদিত হতে হবে।
বছরে ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে সৌদি আরব। ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্দান, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি ডিম আমদানি করে থাকে দেশটি। আর মুরগির মাংসের চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ হয় সৌদি আরবের নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা থেকে। বাকিটা আমদানি হয় মূলত ব্রাজিল থেকে।
১৬০ দিন আগে
এক বছরে বাংলাদেশিদের ১৪ লাখ ভিসা দিয়েছে সৌদি আরব
বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৫ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসাসহ ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা জানান।
এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং সৌদি আরব-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসা এবং সব মিলিয়ে ১৪ লাখ ভিসা জারি করেছে। সৌদি আরবে অনেক উন্নয়ন কাজ চলছে বলে দক্ষ ও আধা-দক্ষকর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘকালীন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করেন যে, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে এক ঐতিহাসিক সফরও করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক অবদানের কথা উভয় পক্ষই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন।
ড. খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে সৌদি আরবে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানিসহ অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুরোধে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তার প্রশংসাও করেন তিনি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সৌদি আরবের সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও ব্যাপক ও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এর আগে, সৌদি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে তাকে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৬৩ দিন আগে