আসিয়ান
রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল, রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গারা ঘটনাক্রমে রাষ্ট্রহীন হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রাখাইন রাজ্যে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকল্পে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, তাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার জন্য রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।”
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।
এ সময় সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান ড. খলিলুর রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সুবিধা এবং ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি শাসন কাঠামো (টেকনোলজি গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক) গঠনের প্রস্তাব দেন।
সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবিক সহায়তা, বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ দ্বিক্ষিক ও বহুক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে, এআরএফ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ড. খলিলুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে দুই দেশ কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আসিয়ানের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিকতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এর আগে, বুধবার এআরএফ বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে এআরএফ প্ল্যাটফর্ম।
১২ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় ঢাকা
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানীতে আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হবে।
১৩ দিন আগে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’ নিয়ে সতর্ক করলেন আনোয়ার ইব্রাহিম
বৈশ্বিক বাণিজ্য এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এ কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ‘বাণিজ্যযুদ্ধে’ না জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৯ জুলাই) আসিয়ান জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই সতর্কতার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের কারণে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বর্তমানে উদ্বিগ্নতার মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে এই সতর্কতা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট হচ্ছে আসিয়ান। বিশ্বের সবচেয়ে বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর বেশ কয়েকটি এই জোটের সদস্য বলে মনে করা হয়। তবে জোটের ১০টির মধ্যে আটটি দেশই পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের মুখে, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে আনোয়ার বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে নীতিকে অস্থির করে তুলছে ক্ষমতা। একসময় যে বিষয়গুলো প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হতো, এখন তা চাপ সৃষ্টি, একঘরে করা ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও চলমান বাণিজ্য হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জোটভুক্ত দেশগুলোকে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানো, আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের সংহতি কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না। এই বাণিজ্য হুমকি কোনো ক্ষণস্থায়ী ঝড় নয়। এটি আমাদের সময়ের নতুন বাস্তবতা।’
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অবশ্য সমঝোতার সুযোগ দিতে সে সময় ৯০ দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত করা হয়। এরপর সোমবার (৭ জুলাই) ও বুধবার (৯ জুলাই) নতুন করে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হারে, কোনো দেশের ওপর আবার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কোনো সমঝোতায় না এলে ১ আগস্ট থেকে এই হারে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে, কোনো দেশ পাল্টা পদক্ষেপ নিলে তার বিরুদ্ধে আরও শুল্ক বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
প্রথমবারে শুল্ক আরোপের পর কেবল ভিয়েতনামই একটি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ৪৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামাতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ব্রাজিলের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের ওপর ২৫ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ২০ শতাংশ, আর লাওস ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। বাংলাদেশের ওপরও শুল্কের এই খড়্গ নেমে এসেছে ৩৫ শতাংশ হারে।
আসিয়ানভুক্ত অনেক দেশ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে আসিয়ান-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তারা যৌথ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করবে।
৩৯১ দিন আগে
আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৫৭তম সম্মেলন ২১-২৭ জুলাই
আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৫৭তম সম্মেলনের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে লাওস। অতিথিদের আবাসন, পরিবহন এবং যোগাযোগসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অ্যাসোসিয়েশনের ৫৭তম সম্মেলনের (এএমএম) পূর্ণ প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করছে দেশটি।
আগামী ২১ থেকে ২৭ জুলাই লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে ৫৭তম এএমএম ও সংশ্লিষ্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার(১২ জুলাই) উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালুমক্সে কোমাসিথকে উদ্ধৃত করে লাও নিউজ এজেন্সি বলেছে, ‘লাওস এবং এই অঞ্চলের জাতীয় স্বার্থের সুবিধার্থে আমরা আসিয়ানের সভাপতিত্বের প্রতিপাদ্যটি অনুধাবন করার জন্য ৯টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি।
আরও পড়ুন: মিয়ানমার বিষয়ক আসিয়ানের বিশেষ দূতকে সু চির সঙ্গে দেখা করার আহ্বান
সালেমক্সে ৫৭তম এএমএমের প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। যা আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিবৃতি গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাসঙ্গিক ওয়ার্কিং গ্রুপ খসড়া বিবৃতির আলোচনায় ভাল অগ্রগতি করেছে।
বৈঠকে আসিয়ান কমিউনিটি ভিশন ২০২৫ বাস্তবায়ন এবং এ সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনার খসড়া তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
আরও পড়ুন: মৎস্য খাতে আসিয়ান-বাংলাদেশের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ পর্বের উদ্বোধন
৭৫৩ দিন আগে
আগামী ৫ ও ৭ সেপ্টেম্বর হচ্ছে আসিয়ান ও পূর্ব-এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আসিয়ানের ৪৩তম শীর্ষ সম্মেলন এবং ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৮তম পূর্ব-এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, চলতি বছরের আসিয়ান চেয়ার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এ সম্মেলনের আয়োজন করছে দেশটি। সম্মেলনে আসিয়ান ও ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) এর মধ্যে একটি সহযোগিতমূলক চুক্ত সই হবে। এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে দুই সংস্থার মহাসচিব উপস্থিত থাকবেন।
আরও পড়ুন: প্রাক-নির্বাচন অপপ্রচার প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
এ ছাড়া পাকিস্তানের মারিতে ৩ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত তৃতীয় ডি-৮ সম্মেলনে পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ও চতুর্থ ডি-৮ সম্মেলনে পর্যটনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর পরিচালক (আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সভায় “ডি-৮ পর্যটন করপোরেশন ইসলামাবাদ ঘোষণা” গৃহীত হয়।
এ ছাড়াও, সভায় পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যৌথ প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডি-৮ ভুক্ত দেশের ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজতর করার উপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়াও, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর পর্যটন সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ডি-৮ সচিবালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতি দুই বছর অন্তর ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের সভা এবং নিয়মিত কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সংঘাতপূর্ণ সুদান থেকে দেশে ফিরেছেন ৭২১ জন বাংলাদেশি: সেহেলী সাবরীন
১০৮৩ দিন আগে
মিয়ানমার বিষয়ক আসিয়ানের বিশেষ দূতকে সু চির সঙ্গে দেখা করার আহ্বান
এশীয় পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর) এর চেয়ার চার্লস সান্তিয়াগো বলেছেন, মিয়ানমার বিষয়ক আসিয়ানের বিশেষ দূত প্রাক সোখনকে নিশ্চিয়তা দিতে হবে যে তিনি অং সান সু চি, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নেমেন্ট (এনইউজি), সুশীল সমাজ ও দেশটির সকল অংশীজনদের সাথে দেখা করবেন।
মিয়ানমার সম্পর্কে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে শুক্রবার সান্তিয়াগো বলেছেন, ‘আমরা পাঁচ দফায় ঐক্যমতের জন্য জান্তাকে দায়বদ্ধ রাখার বিষয়ে আসিয়ানের অবস্থানকে সম্মান করার জন্য কম্বোডিয়ার অবস্থানকে স্বাগত জানাই।’
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন: জাতিসংঘ
এপিএইচআর চেয়ার বলেছেন, তারা মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহর মন্তব্যের দ্বারাও উৎসাহিত হয়েছেন। যিনি আসিয়ানের বিশেষ দূতকে এনইউজি এবং জাতীয় ঐক্য পরামর্শ পরিষদের (এনইউসিসি) প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এপিএইচআর চেয়ার বলেন, আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই সপ্তাহে মিয়ানমারের প্রতিনিধি ছাড়াই মিলিত হয়েছে। তবে আসিয়ানকে অবশ্যই মিয়ানমার সংকটের জন্য একটি অর্থবহ এবং সমন্বিত সমাধানের পথ খুঁজতে হবে, যা মিয়ানমারের জনগণকে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে জান্তা অভ্যুত্থানের বছরপূর্তিতে আটক অর্ধশতাধিক
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাই ত্বরান্বিত করতে সম্মত বাংলাদেশ-মিয়ানমার
১৬২৯ দিন আগে
আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান নেতাদের সাথে জাকার্তায় এক জরুরি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মিয়ানমারের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। শনিবার (২৪ এপ্রিল) আসিয়ান নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিতে জাকার্তা পৌঁছান এই সেনা কর্মকর্তা।
ধারণা করা হচ্ছে বৈঠকে, আসিয়ান নেতারা সু চির মুক্তি ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং দেশটিতে চলমান গণবিক্ষোভে সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি জানাবেন।
আরও পড়ুন: গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান ফর্টিফাই রাইটসের
তবে আসিয়ান ছয়টি দেশের প্রধান ও তিনটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে ক্ষমতা দখলকারী এই জেনারেলের দুই ঘণ্টার বৈঠকে তেমন ফলপ্রসূ কিছু হবে না মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পর জান্তা সরকার প্রধানের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। তার এই সিদ্ধান্তকে মিয়ানমার সংকট নিরসনে আসিয়ান জোটের বড় ভূমিকা রাখার এটাই সুযোগ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের বিষয়ে বলেন, “এখন সংকট সমাধান না করা গেলে মিয়ানমার, আসিয়ান ও এই অঞ্চলের জন্য জটিল সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা পরবর্তী ধাপে সম্মিলিতভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি যাতে মিয়ানমারের মানুষ বর্তমান অচল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।”
আরও পড়ুন: ‘মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবে জাতিসংঘ’
এদিকে সংবাদ সংস্থা এপিকে এক কূটনৈতিক জানান, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং প্রশাসন রাজি হলে ব্রুনাই এর প্রধানমন্ত্রী ও আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি হাসান আল বলকিয়াহ মিয়ানমার সফর করবেন। উক্ত সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন আসিয়ান মহাসচিব লিম জক হই। আসিয়ান এই প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফরের মাধ্যমে সু চি এবং জেনারেল হ্লেইং এর সাথে আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা করবেন।
১৯২৮ দিন আগে
মিয়ানমারে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত
সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে মিয়ানমারে সাধারণ জনগণের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে পুলিশ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে।
১৯৮২ দিন আগে
করোনা মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত আসিয়ান নেতারা
করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় অগ্রাধিকার প্রদান এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে রবিবার শেষ হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোটের (আসিয়ান) ৩৭তম শীর্ষ সম্মেলন এবং এ সম্পর্কিত সভা।
২০৮৭ দিন আগে