খুন
মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বাবাকে খুন করল ছেলে
বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় জয়পুরহাটে ছেলের হাতে খুন হয়েছেন তারই বাবা কৃষক আক্কাস আলী (৫৭)। সে সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্কাস আলীর স্ত্রী ও মেয়েও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলে গোলাপ হোসেনকে (২৯) আটক করে পুলিশ।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জেলার সহকারী পুলিশ সুপার তুহিন রেজা শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, জমির আলু বিক্রির পর গোলাপ হোসেন তার বাবা আক্কাস আলীকে ওই আলু বিক্রির টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরে আসছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তার বাবা তাকে মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে গতকাল (শনিবার) ইফতারের আগে তাদের দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলাপ ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবাকে বাঁশ, চাকু ও দা দিয়ে পেটাতে ও কোপাতে শুরু করেন।
সে সময় তাকে বাধা দিতে গেলে সে তার মা ও বোনের ওপরও চড়াও হন তিনি। এতে তারাও গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে আক্কাস আলীর মৃত্যু হয়। আর তার স্ত্রী ও মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মা আবেদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাবাকে হত্যার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ছেলে গোলাপ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬ দিন আগে
পরকীয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ফেনীতে তাঁতিদল নেতা খুন
ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে আইয়ুব নবী তারেক (২৬) নামে এক তাঁতিদল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুণক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইয়ুব নবী তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতিদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গুণক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পিতা কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, একই বাড়ির ওহিদুর রহমানের স্ত্রী নারু (নাহার) আগের একটি বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে তারেককে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওহিদুর রহমানের ছেলে নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও স্ত্রী নারু দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তারেকের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই আমার ছেলে মারা যাওয়ার পরও ওহিদুর রহমান তাকে ডাকাত বলে আখ্যা দিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারেক ও ওহিদুর রহমানের ছেলে নাহিদের স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
একই বাড়ির আবদুল গফুর জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হক চৌধুরীর কাছে নাহিদ অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বলেছিলেন নাহিদ।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নিহত তারেকের বিরুদ্ধে একটি পরোয়ানা ছিল। তবে এটি কোন রাজনৈতিক হত্যা নয়। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
২৩ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাদরাসা শিক্ষার্থী খুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাহিম মিয়া (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কাজলা স্কুল গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাহিম কিশোরগঞ্জ সদরের দিন ইসলামের ছেলে। সে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় থাকত। স্থানীয় একটি মাদরাসায় হেফজ বিভাগে সে পড়ত বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. রাফি জানান, রবিবার রাতে স্কুল গলিতে কয়েকজন কিশোর মাহিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি তারা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছুরিকাঘাতে গৃহবধু খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবক নিহত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে আমেনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মেহেদী ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে খুনের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমেনা বেগম কেরাবো এলাকার বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। মেহেদী পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কেরাবো এলাকার মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ান নিজ বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। ওই বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ দেওয়া হয় মেহেদীকে। সেই থেকে আমেনাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন তিনি।
তারা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় আমেনা বেগমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আমেনা বেগম। এ সময় আমেনার কাছ থেকে ছুটে যেতে জোরাজুরি করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমেনার গলায় আঘাত করেন মেহেদী। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন তিনি।
এ সময় আমেনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে শুরু করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মেহেদী নিহত হন।
অপরদিকে আমেনা বেগমকে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৬৩ দিন আগে
খুলনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক খুন
খুলনার রূপসায় আব্দুল রাশেদ পিকুল (২৬) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাগমারা এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পিকুল রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আওয়ালের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কদমতলা বালুর মাঠে পিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
রূপসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সবুর বলেন, গতকাল রাতে পিকুলকে কয়েকজন ব্যক্তি গুলি করেন। এর মধ্যে দুইটি গুলি বুকে এবং একটি গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে স্থানীয়রা বের হয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়রা খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
হত্যার কারণ উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
৬৯ দিন আগে
বোনের সঙ্গে প্রেমের চেষ্টা করায় বন্ধুকে খুন করল কিশোর
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম শাওন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করেছে তার বন্ধু ও মেয়েটির ভাই। এ ঘটনায় জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— উপজেলার চানগাঁও চকপাড়া এলাকার আবুল কায়েস (১৪) এবং জাহাঙ্গীরপুর এলাকার মো. মাহফুজ রহমান ইমরান (১৬)।
নিহত শাওন কদমশ্রী ভূঁইয়াহাটি গ্রামের দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, শাওন ও মাহফুজ সহপাঠী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। মাহফুজের ছোট বোন একই বিদ্যালয়ে পড়ত। শাওন তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলে মাহফুজ ক্ষেপে যায়। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শাওন। পরদিন সকালে কদমশ্রী হাওরের একটি কৃষিজমি থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে মাহফুজকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজ জানায়, সে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাওনকে হত্যা করেছে।
মাহফুজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকালে সহযোগী কায়েসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা গামছা ও গ্লাভস উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
৭২ দিন আগে
যশোরে বিএনপি নেতা খুন: বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক বিজিবি
যশোর সদরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি তল্লাশি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করে সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে বিজিবি।
গতকাল (শনিবার) রাত ৮টার দিকে শংকরপুর এলাকার হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে ছিলেন। আলমগীর যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। এলাকায় জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন তিনি।
নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে চড়ে শহরের বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে তাকে গুলি করা হয়। সংবাদ পেয়ে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই।
সীমান্তে নরজদারি বৃদ্ধির বিষয়ে আজ সকালে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আলমগীর হোসেন হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যেসব স্থানে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নেই, সীমান্তের সেসব স্থানে ব্যাপক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৭৬ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনার রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাগর শেখ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে রূপসা সেতুর পূর্বপাশে জাপুসা এলাকার চৌরাস্তার পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সাগর শেখ গ্রীন বাংলা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফয়েক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাগর বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন তার গতিরোধ করে তাকে গুলি করতে থাকে। একটি গুলি তার মাথায় ও অপরটি হাঁটুতে লাগে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপসা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গৌতম জানান, গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ দাশ বলেন, রাতে জাপুসা এলাকায় ডিউটিতে ছিলাম। থানা থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি করেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুনিদের গ্রেপ্তারে আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে।
৯৬ দিন আগে
যশোরে যুবক খুন, পকেটে পাওয়া গেল ৬১ পিস ইয়াবা
যশোরে তানভীর (২২) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে শহরের বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের পেছনে ঘটে এ ঘটনা।
নিহত তানভীর শহরের শংকরপুর হাজারিগেট এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম রিপন জানান, তানভীর ক্যাম্পের পেছনের দিক থেকে দৌড়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে যান। পরে কয়েকজন নারী তাকে দেখতে পেয়ে রিকশায় তুলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে তাকে দেখতে যায়। সেখানে গিয়ে তল্লাশি করে তানভীরের পকেট থেকে ৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শংকরপুর বেলের মাঠ এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে পাঁচটি বোমা ও একটি চাকুসহ নাঈম ও সাজু নামে দুই যুবককে আটক করে। সে সময় তানভীর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আটক দুই যুবকের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলো তানভীরের ছিল। পালিয়ে তিনি বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের পেছনে অবস্থান নিলে সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
১০৪ দিন আগে
রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে ‘গলাকেটে হত্যা’
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃদ্ধ এই দম্পতিকে কেন এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া গ্রামে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তিযোদ্ধা হলেন যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তার স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। যোগেশ চন্দ্র রায় ওই এলাকার রহিমাপুর নয়াহাট মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যোগেশ দম্পতির দুই ছেলে, তারা বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত। ফলে বাড়িতে একাই থাকতেন ওই দম্পতি। প্রতিদিনের মতো গতরাতেও তারা ঘুমাতে যান। এরপর আজ (রবিবার) সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশী দীপক নামের এক ব্যক্তি বাড়ির গেটের সামনে মই লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সুবর্ণা রায়কে রান্নাঘরে এবং যোগেশ চন্দ্র রায়কে খাবার ঘরে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু সাইয়ুম তালুকদার বলেন, ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিনের সদস্যরা রয়েছেন। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
১০৪ দিন আগে