যশোর
রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
রান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সারা দেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পুনর্খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে শার্শায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে সমাবেশে তিনি বলেন, মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই; সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এর মাধ্যমে মা-বোনদের কাছে এলপি গ্যাস পৌঁছে দেবো। যাতে করে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।
তারেক রহমান বলেন, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে রাখলে চলবে না। এই বিশাল জনশক্তিকে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই খাল ভরাট ও দখল হয়ে পড়ে ছিল। এতে কৃষকের কোনো উপকার হয়নি। আমরা এই চার কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করছি। এর ফলে ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, ১ হাজর ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে এবং প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি সুফল পাবে। খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালে পানি থাকলে মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন। আগামী ৫ বছরে আমরা সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়।
নারী শিক্ষার প্রসারের ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি (উচ্চতর) পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ ফ্রি করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের জন্য থাকবে বিশেষ উপবৃত্তি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা ওয়াদা করেছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। এছাড়া বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া চলছে যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়। মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৭৩ দিন হরতাল করে যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেই ভূত এখন আবার অন্য কারো কাঁধে আছর করেছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
৮ দিন আগে
যশোরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে যশোর ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে শহরের চাচড়া এলাকার হরিণার বিলে হাসপাতালের এই ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা এবং মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে, আমরা যদি সামনে বাড়তে চাই, আমরা যদি দেশকে সামনে নিতে চাই, জাতিকে সামনে নিতে চাই, তাহলে অবশ্যই একটি সুস্থ জাতির প্রয়োজন। জাতি সুস্থসবল না থাকলে আমরা পিছিয়ে যাব।
জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করলে আমাদের জন্য পুরো বিষয়টি সহজ হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, এই কাজগুলোকে এমনভাবে সামনে নিয়ে যাওয়া যাতে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সহজেই তাদের ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারি। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা।
২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয়। এ লক্ষ্যে শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে এবং অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতাল ভবনে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল নির্মাণ আর এগোয়নি।
দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি আসে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্মাণকাজে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, তৃতীয় বর্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু হওয়ায় তাদের নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে শেষ বর্ষে সান্ধ্যকালীন ক্লাস থাকায় এ যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
তাদের মতে, কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপিত হলে শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ১০ তলাবিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, মসজিদ এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলশী খালের পুনর্খনন কাজ উদ্বোধনের পর খালের পাড়ে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ সতর্কবাণী দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি— ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি— সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।’
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ জাতির অগ্রগতিকে নস্যাৎ করার সুযোগ না পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ তার সরকার পর্যায়ক্রমে এবং অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ এবং সতর্ক থাকি, তবে কেউ বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।’
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কেমন জবাব দিতে পারে, তা সেদিন মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট মানুষ যেভাবে উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল, ভবিষ্যতে কেউ যদি তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলার চেষ্টা করে, তবে তারা আবারও একইভাবে জবাব দেবে।
৮ দিন আগে
উলশী খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের সূচনা করেন তিনি। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাটি কেটে খাল পুনর্খনন কাজের সূচনা শেষে উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলকটিতে লেখা আছে, ‘যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলসী খাল (জিয়া খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬।’
উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খনন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ‘জিয়া খাল’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। এখন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালটি পুনর্খনন করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল পুনর্খননের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।
আজ (সোমবার) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বাসে করে শার্শা উপজেলার উলশীতে যান এবং খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
খালের পাড়ে একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। পরবর্তীতে, যশোর সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজের পর তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন।
বিকেলে জেলা বিএনপি আয়োজিত যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। কর্মসূচিগুলো শেষ করে সন্ধ্যায় আকাশপথে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর যশোরে এটিই তার প্রথম সফর। এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এই জেলা সফর করেছিলেন তিনি। সেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।
৮ দিন আগে
যশোরে বস্তাবন্দি অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বেজপাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম সকিনা বেগম (৬০)।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার বাসার সামনের একটি বস্তা থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সকিনা লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে দোকানে যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়মের কাছে মায়ের খোঁজ করলে তিনি বাইরে তালিমে গেছেন বলে জানান তার স্ত্রী। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে পুনরায় খোঁজ নেন। তখনও তার স্ত্রী জানান, সকিনা বেগম বাসায় ফেরেননি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসার সামনের একটি বস্তার মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন শহিদুল। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন শাহিদা বেগম মরদেহটি তাদের মায়ের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
১৩ দিন আগে
যশোর কারাগারে ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আখতারুজ্জামান বাবুল ওরফে কুবরা বাবুল (৫৪) নামে ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগার থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আখতারুজ্জামান বাবুল নড়াইল সদর উপজেলার ভুয়াখালি গ্রামের লাল মিয়া বিশ্বাসের ছেলে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, বাবুল পৃথক দুটি অস্ত্র মামলায় ৩০ বছর করে ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। গত বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় আদালত। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। এ সময় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার আরও জানান, বাবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা ছাড়াও আরও ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জুবাইদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বাবুলের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হার্টঅ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৭ দিন আগে
যশোরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে ‘দোকানে আটকে নির্যাতন’
যশোরের শার্শায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে জোর করে তুলে নিয়ে দোকানঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু নির্যাতনই নয়, ওই স্কুলছাত্রের প্যান্ট খুলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
সজিব হোসেন বসন্তপুর গ্রামের ফরিদা খাতুনের ছেলে। সে কেরালখালী পাড়িয়া ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর মা ফরিদা খাতুন সাকিব, রিপন, রাজু, সিয়ামসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সজিব হোসেন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ১টার দিকে বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাকিবের দোকানের ভেতরে। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কাঠের বাটাম ও কুড়ালের আঘাতে তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সজিবের পরিহিত প্যান্ট খুলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে সজিবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মারধর ও নির্যাতনের ফলে সজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদা খাতুন জানান, থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমি ও আমার ছেলে সজিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
যশোরে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট
যশোরের শার্শায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কামাল হোসেন (২৭) নামে এক রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম করেছে ‘সন্ত্রাসীরা’। এ ছাড়াও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) উপজেলার গোগা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে গোগা বাজার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন কথিত বিএনপি নেতা ও আমেরিকা প্রবাসী হযরত আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, হযরত আলীর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। তিনি ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন সকালে হযরত আলী তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ৪০০ মণ রড ও ৩ হাজার বস্তা সিমেন্ট বাকি দিতে বলেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে আসেন। এরপর বিকেলে হযরত আলীর সহযোগীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রকাশ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ব্যবসা করতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই দিন সন্ধ্যায় হযরত আলী তার ২০-২৫ জন সন্ত্রাসীর দল নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় ক্যাশ টেবিল, গ্লাস, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং ড্রয়ারে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। প্রাণনাশের ভয়ে আমি থানায় মামলা করতে পারছি না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হযরত আলী বলেন, কামাল হোসেন অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে সহযোগিতা করেছেন। ওই মামলায় আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৭ দিন আগে
যশোরের চরমপন্থি নেতা গোফরান ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার
যশোরের অভয়নগরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে ওঠা চরমপন্থি নেতা নাসির শেখ গোফরান ও তার সহযোগী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনার রূপসা উপজেলা থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. নাসির শেখ গোফরান (৪০) বাগেরহাটের রামপাল থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। মো. সোহেল রানা (২৮) বাগেরহাটের রূপসা থানার আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গোফরান ‘বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা পরিচয়ে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে যশোর, খুলনা ও নড়াইলজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল বাশার জানান, গত ১ মার্চ গভীর রাতে অভয়নগরের গোপিনাথপুর গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গোফরান বাহিনী। সে সময় তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গোফরান বাহিনী নগদ ২০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে চক্রটি। তাদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
৫০ দিন আগে
যশোরে কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সেই ব্যবসায়ী উদ্ধার
যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত হওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব-৬-এর সদস্যরা। নিখোঁজের ৯ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামে এক অভিযানে একটি নির্জন ইটভাটা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন র্যাব সদস্যরা। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে ।
জাহাঙ্গীর আলম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপার সাতগাছি গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক লুৎফর রহমানের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরকে আনা হয় যশোর র্যাব কাম্পে। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ রাতে। শহরের শংকরপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের আর আর মেডিকেল ও জে আর এগ্রোভেট নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো ওই দিন রাত ৯টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের মোবাইল থেকে তার মা ও স্ত্রীর কাছে ফোন করা হয়। এ সময় তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।
অপহরণের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ফলাফল না পেয়ে গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি তার স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬-এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
৫৪ দিন আগে