যশোর
মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরল যশোরের প্রবাসী যুবকের মরদেহ
মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের যশোরের শার্শা উপজেলার এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরে।
এর আগে, দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে আসেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের স্বজন আরিফুল ইসলাম জানান, তার মৃত্যুতে পরিবার অনেকটা ভেঙে পড়েছে। এই শোক কীভাবে কাটাব তা বুঝতে পারছি না।
বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, উজ্জ্বলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আমরা সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
১ দিন আগে
যশোরের শার্শায় কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ১১০ জন আহত
যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১০ জন আহত হয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত এসব মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, গত আগস্ট মাসে শার্শা ও বেনাপোলে কুকুরের কামড়ে মোট ৪৮৩ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও ১১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মোট ৫৯৩ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে বেনাপোল পোর্ট থানার আমড়াখালী গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে সোহান হোসেন (২৯), আকবার আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫), মোরশেদ আলী (৫২), মহিউদ্দিন (৫৫), আবুল খায়েরের ছেলে কবির হোসেন (৩৫), আমির হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৩৫), সিরাজের স্ত্রী বাছিরুন নেছা (৪৫), কাগমারী গ্রামের আরোয়া হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৪৫) এবং শার্শার আব্দুল বাকী (১৮), সাইমুন (২৫) রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ বলেন, আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় কুকুরের কামড় থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমড়াখালী গ্রামের মোরশেদ আলী বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে একদল কুকুর সংঘবদ্ধভাবে আমড়াখালীর রেললাইন পার হয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে। এরপর কুকুরগুলো আচমকা মানুষকে কামড়াতে শুরু করে। সামনে যাকে পেয়েছে, তার ওপরই আক্রমণ চালিয়েছে তারা।
তিনি বলেন, প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুকুরের দলটি ২০ জনকে কামড়ে জখম করে। পরে আহতরা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
মোরশেদ আলী বলেন, কুকুরের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভয়ে অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। এমনকি সন্তানদেরও স্কুলে পাঠাতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শার্শা উপজেলা প্রশাসন ও বেনাপোল পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুকুরের কামড় অত্যন্ত বিপজ্জনক। জলাতঙ্ক রোগ হলে মৃত্যু অনিবার্য।
তিনি বলেন, কুকুর কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির পোষা প্রাণীকেও অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
১১ দিন আগে
লিবিয়ায় যাওয়ার পথে তিন বছর ধরে নিখোঁজ যশোরের ৫ যুবক
উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের শার্শার পাঁচ যুবক। তারা প্রত্যেকে স্থানীয় দালালদের ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন। তবে লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ যুবকেরা হলেন শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান।
স্বজনদের অভিযোগ, লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার তিন বছর পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। উল্টো জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে দালালদের দেওয়া টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি নিখোঁজদের জীবন নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে তারা যৌথভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান্যখোলা গ্রামের সোহাগ নামের এক দালাল লিবিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এই টাকার একটি বড় অংশ সোহাগের বাবা, মা ও বোনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
নিখোঁজ যুবকরা লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে সোহাগ কথা বলিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া ও যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কিছুই হয়। একপর্যায়ে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এদিকে নিখোঁজ শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের নামে সুবিধা নিয়েও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগের বাবা মফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে তিন বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছেন। তিনি বিদেশে লোক পাঠালেও বর্তমানে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি নিজে কোনো টাকা নেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন এবং ছেলের কোনো অপরাধের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার কর্মী নাজমুল ইসলাম জানান, কেবল শার্শার এই পাঁচ যুবকই নন, একই সময়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের উদ্ধারের আশা দেখছেন তিনি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২ দিন আগে
যশোরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মকছেদ আলী (৫৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে শার্শা থানায় মালমা করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
গ্রেপ্তার মকছেদ আলী উপজেলার মহিষা মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি খেলতে বের হয়। এ সময় মকছেদ আলী টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গ্রামের একটি ঘেরের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে শিশুটিকে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি প্রথমে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি। এরপর সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এক প্রতিবেশী নারীর কাছে ঘটনাটি জানায়। পরে ওই নারীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা তার মেয়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেন। মামলা পর আজ (বুধবার) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মকছেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির প্রতিবেশী এবং শিশুটি তাকে চাচা বলে ডাকত।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩১ দিন আগে
যশোরে পুকুরে ডুবে ৩ স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
যশোরের বাঘারপাড়ায় পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই বোনসহ ৩ স্কুলছাত্রীর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জামদিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— জামদিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার নিসার আলীর মেয়ে লামিয়া (১৩) ও সুলতানা (১০) এবং একই এলাকার আশিকের মেয়ে ফাহিমা (৯)। লামিয়া জামদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, সুলতানা ও ফাহিমা জামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যথাক্রমে চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতদের পরিবার জানায়, শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় লামিয়া, তার ছোট বোন সুলতানা ও প্রতিবেশী ফাহিমা দুপুর ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী ইকরাম মোল্লার পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প, ডুবছে ভবদহ
খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ভবদহ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বরং অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটার নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ রুদ্ধ করে খননকাজ পরিচালনা করায় খর্ণিয়া থেকে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি সাগরে পৌঁছাতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রীনদীর প্রায় সাড়ে ৮১ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, খর্ণিয়া সেতুসংলগ্ন এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে এক্সকাভেটর দিয়ে নদী খনন করায় জোয়ারের পানির সঙ্গে আসা বিপুল পলি নদীর তলদেশে জমতে থাকে। এতে খর্ণিয়া থেকে তেলিগাতি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যে নদীর গভীরতা এক বছর আগেও প্রায় ৩০ ফুট ছিল, বর্তমানে তার অনেকাংশই প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এর ফলে খর্ণিয়ার বিল, বিল সিঙ্গা, ডোমবার বিল, বিল তাওয়ালিয়া, আগরঘাটি, ভায়না, বরুনা, সালাতিয়া, দহকুলা, নাদিয়া, জোয়ারেরডাঙ্গা, বামুন্দিয়া, গোনালীসহ যশোর ও খুলনা অঞ্চলের অন্তত ৩০টি বিল ও অর্ধশতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক ওহিদ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদী খননের নামে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অন্য কোনো দুর্যোগেও হতো না। ‘জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে নদী খননের এমন উদাহরণ আগে দেখিনি। এর মাশুল এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।’
৩৮ দিন আগে
যশোরের শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করবে বোর্ড
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
তিনি বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারা দেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে এসব কথা বলেন সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বোর্ড থেকে ১১ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৮৫ জন ছাত্র এবং ৭১ হাজার ৯৭৯ জন ছাত্রী। ফলাফলে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা তুলনামূলক ভালো করেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশও বিজ্ঞান বিভাগের।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে মানবিক বিভাগের ফলাফল তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাডেমিক দুর্বলতা বা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে সচিব বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ বৈষম্য উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি ফলাফলের এই বৈষম্য কমানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এবারও ফলাফলে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো করেছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। শুধু পরীক্ষায় পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।
ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে টেলিটক মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে এ আবেদন করতে পারবে।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সেই হিসাবে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানান বোর্ডের সচিব।
৪০ দিন আগে
যশোরের বাঘারপাড়ায় কক্ষ থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়া থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩০) ও তাদের ৬ বছর বয়সী ছেলে জিসান।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে জাকির হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষে তার স্ত্রী ও ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক আক্তার হোসেন জানান, রাতে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জিসান খাটের ওপর পড়ে আছে। একই খাটে তার মায়ের মরদেহও ছিল। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ও ওড়নার দুই প্রান্ত দুই হাতে ধরা ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেনকে জানানো হয়। ঘটনার সময় তিনি বহরামপুর বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
নিহত জুবায়দার ছোট বোন পিঞ্জিরা জানান, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বলেন, ‘মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি সন্দেহজনক। আত্মহত্যা মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
৪১ দিন আগে
যশোর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) র্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ ইফাদ (২০) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, অপহৃত ছাত্রী যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইফাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে চণ্ডীপুর মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল্লাহ ইফাদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি এবং উদ্ধার ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
যশোরে বিজিবির পোশাক-সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩
যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামে এক চিহ্নিত দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। গতকাল (শনিবার) শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবিপুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়া এলাকার মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০), হরিশচন্দনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩২) এবং একই এলাকার মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৩০)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ষষ্ঠীতলা এলাকার রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ির তৃতীয় তলার পূর্ব পার্শ্বের ভাড়াটিয়ার বাসায় কয়েকজন দুস্কৃতিকারী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পরে বাড়ির মালিক, নিচতলার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের দরজায় কড়া নাড়া হয়। তখন ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি দরজা খোলেন এবং নিজেকে বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন।
পরে বাড়ির মালিকসহ ওই ঘরে প্রবেশ করে আরও দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকে নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। সে সময় তারা তর্কাতর্কি করে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন।
তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা বিজিবির সদস্য নন। তারা বিজিবির সরকারি পোশাক পরে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন।
পরে তাদের ঘর তল্লাশি করে উজ্জ্বল হোসেনের শোবার ঘরের খাটের নিচে একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক সেট বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি স্টিলের হ্যান্ডকাফ, দুটি ওয়াকিটকি, একটি স্টিলের চাইনিজ কুড়াল, দুটি স্টিলের কাটারি, একটি লোহা কাটার (গেন্ডার) মেশিন, একটি তালা কাটার মেশিন, একটি হ্যাকসো ব্লেড ও একটি নোস প্লাস জব্দ করা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি ও তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৪৮ দিন আগে