যশোর
যশোরে ২৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ আটক ১
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) একটি টহল দল এ অভিযান চালায়।
আটক জালাল উদ্দিন শেখ (৫৫) পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর থানার চর বারইখালী গ্রামের বাসিন্দা।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির টহল দলটি যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আফিল জুট মিলের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন জালালকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে জালালের শরীরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১১৬ দশমিক ৬৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৭ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এছাড়া নগদ তিন হাজার ২৪০ টাকা ও ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে তার কাছ থেকে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালাল জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশে সোনার বারটি নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে জালালকে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি অধিনায়ক।
৮ দিন আগে
যশোরে প্রায় ৪ কোটি টাকার সোনার বারসহ ‘পাচারকারী’ আটক
যশোরের শার্শায় চার কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি সোনার বারসহ আলাউদ্দীন (৫২) নামের এক সন্দেহভাজন পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা এলাকায় প্রাইম ব্রিকসের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
আটক আলাউদ্দীন শার্শা উপজেলার হাড়িখালী (যদুনাথপুর) গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, সোনার একটি বড় চালান ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা এলাকার প্রাইম ব্রিকসের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় আলাউদ্দীন মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকায় পৌঁছালে তার দেহ তল্লাশি করে ১৮টি সোনার বার পাওয়া যায়।
পুলিশ আরও জানায়, জব্দ করা সোনার বারগুলোর ওজন দুই কেজি ৯০ গ্রাম, যার বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি ১০ লাখ টাকা।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ বলেন, আটক আলাউদ্দীনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জব্দ করা সোনার বারগুলো সরকারি ট্রেজারি শাখায় জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
১৩ দিন আগে
যশোরে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি, যুবককে খুঁজছে পুলিশ
যশোরের শার্শায় চাঁদা দাবি ও বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটকে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত শরিফুল উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের ফুলসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী বিপুল বিশ্বাস একই ইউনিয়নের বিশ্বাসবাড়ি এলাকার সামসুর বিশ্বাসের ছেলে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি সালিশকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে বিপুলকে মারধর করেন শরিফুল। তার পর থেকে তিনি বিপুলের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। এসব নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে সাড়াতলা বাজারে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে হঠাৎ বিপুলের সামনে পিস্তল প্রদর্শন করেন শরিফুল এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে শরিফুল ও শাওন নামের আরেক যুবক মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে বিপুল বলেন, ‘প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চা। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শন করেছেন শরিফুল। জনসমক্ষে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ওসি শামিনুল জানান, এ ঘটনায় শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
১৩ দিন আগে
রিসোর্টে আগুন: যশোরের একই পরিবারের ৪ সদস্য এখনও নিখোঁজ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য এখনও নিখোঁজ।
এ চারজন হলেন যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১) ও তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়াতে বসবাস করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নাহিদুরের বড় ভাই ও যশোরোর মণিরামপুর পৌরশহরের বাসিন্দা জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে বুকিংয়ের বিল দেখে তারা জানতে পারেন, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওই রিসোর্টের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। নাহিদুর ১১ অক্টোবর কক্ষটি বুকিং দেন এবং ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
নাহিদুর শুক্রবার কক্সবাজারে যাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তাই শনিবার আগুনের ঘটনা জানার পর ছোট ভাইয়ের মোবাইল ফোনে কল দেন জাহিদুর। তবে তিনি নাহিদুর বা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
জাহিদুর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাবা এখনও নাহিদুরদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানেন না। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে সেটাও নিশ্চিত হতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান তাকে জানিয়েছেন, নাহিদ নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়। এর মধ্যে চারজন নিহতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
১৬ দিন আগে
যশোরে অভিনেতা সমু চৌধুরীকে পিটিয়ে জখম
যশোরে আবর্জনা ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে অভিনেতা সমু চৌধুরীকে (৬০) লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার বাড়ির সামনে থাকা মোটরসাইকেল গ্যারেজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা এলাকায় অভিনেতার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সামনে থাকা মোটরসাইকেল গ্যারেজের কর্মচারীদের সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়ে সমু চৌধুরীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর (৩৬) ও হৃদয় (৩২) নামের দুই ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে রক্তক্ষরণ হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা সমু চৌধুরীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, অভিনেতার ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শিগগিরই তাদের আটক করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২১ দিন আগে
মোটরসাইকেলে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা, স্কুলছাত্র নিহত
যশোরের চৌগাছায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় জুবায়ের হোসেন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্র নিহত ও আরও দুই স্কুলছাত্র আহত হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ফাসতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুবায়ের হোসেন চৌগাছা উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আলীম দাফাদারের ছেলে। আহতরা হলো একই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে লিখন (১৫) ও ওসিমের ছেলে ফাহিম (১৫)। তারা সবাই চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় একটি পিকআপ ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানসহ চালক পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে সকাল ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিখন ও ফাহিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, নিহতের দেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ভ্যানটি শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
৩০ দিন আগে
যশোরে ডাকাত সন্দেহে ৫ যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ
যশোর সদর উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে গণধোলাই দিয়ে পাঁচ যুবককে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনগণ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং করা হলে দুই গ্রামের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
আটক যুবকরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা গ্রামে ঢোকেন। তারা এলাকার বিভিন্ন গলিতে ঘোরাঘুরি করতে থাকলে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেন।
পরে মান্দারতলা এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকার ফেলে যুবকরা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পার্শ্ববর্তী মালোপাড়া এলাকা থেকে চারজনকে ধরে ফেলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ সময় মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, তাদের দলে একজন নারীও ছিলেন, তবে তাকে আটক করা যায়নি।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আটক ব্যক্তিরা ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। তাদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করতে তারা এই গ্রামে এসেছিলেন।
আরেকজন দাবি করেন, তাদের একজনের স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে এসেছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসী তাদের ডাকাত ভেবে ভুল করেছে। অন্য একজন জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাদের এই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে পুরো ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো ডাকাতির আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনগণ তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
যশোরে ২৬টি সোনার বারসহ পাচারকারী আটক
ভারতে পাচারের সময় যশোরের শার্শায় ২৬টি সোনার বারসহ রিপন হোসেন (৪১) নামের একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে সাত কোটি ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের সোনা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাগআঁচড়া বাজার এলাকার বাবু সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক ও সোনা জব্দ করা হয়।
আটক রিপন হোসেন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবি জানায়, সোনার একটি বড় চালান ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বাগআঁচড়া বাজারের বাবু সুপার মার্কেটে এক পাচারকারী অবস্থান করছেন—রাতে এমন গোপন সংবাদ পায় তার। পরে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের রুদ্রপুর ক্যাম্পের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে পাচারকারী রিপন হোসেনকে আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২৬টি সোনার বার, পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি স্মার্ট ঘড়ি জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সোনার ওজন তিন কেজি ৪৩৮ গ্রাম, যার বাজারমূল্য সাত কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অন্যান্য মালামালসহ মোট জব্দমূল্য ৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান জানান, আটক রিপনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে শার্শা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সোনার বারগুলো সরকারি ট্রেজারি শাখায় জমা দেওয়া হবে।
চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে বিজিবি।
৩৪ দিন আগে
মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরল যশোরের প্রবাসী যুবকের মরদেহ
মালয়েশিয়া প্রবাসী উজ্জ্বল হোসেন নামের যশোরের শার্শা উপজেলার এক যুবকের মরদেহ মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেশে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে তার কফিনবন্দি মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে কফিনে করে তার মরদেহ উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
উজ্জ্বল হোসেন ওই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে এবং একটু সুখের আশায় ২০১৫ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান উজ্জ্বল। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হলো নিথর দেহে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরে।
এর আগে, দীর্ঘ আট বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে দেশে আসেন তিনি। এরপর বিয়ে করেন। নতুন সংসারের স্বপ্নে তখন রঙিন হয়ে ওঠে জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই স্ত্রীকে রেখে আবারও মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয় উজ্জ্বলকে।
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন উজ্জ্বল। সহকর্মীরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার সুলতানা আমিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
স্বজনেরা বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় আমরা তার মরদেহ দেশে আনতে পেরেছি। আজ সকাল ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহতের স্বজন আরিফুল ইসলাম জানান, তার মৃত্যুতে পরিবার অনেকটা ভেঙে পড়েছে। এই শোক কীভাবে কাটাব তা বুঝতে পারছি না।
বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, উজ্জ্বলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসার খবর পেয়ে আমরা সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
৪৬ দিন আগে
যশোরের শার্শায় কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ১১০ জন আহত
যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১০ জন আহত হয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত এসব মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, গত আগস্ট মাসে শার্শা ও বেনাপোলে কুকুরের কামড়ে মোট ৪৮৩ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও ১১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মোট ৫৯৩ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে বেনাপোল পোর্ট থানার আমড়াখালী গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে সোহান হোসেন (২৯), আকবার আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫), মোরশেদ আলী (৫২), মহিউদ্দিন (৫৫), আবুল খায়েরের ছেলে কবির হোসেন (৩৫), আমির হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৩৫), সিরাজের স্ত্রী বাছিরুন নেছা (৪৫), কাগমারী গ্রামের আরোয়া হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৪৫) এবং শার্শার আব্দুল বাকী (১৮), সাইমুন (২৫) রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ বলেন, আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় কুকুরের কামড় থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমড়াখালী গ্রামের মোরশেদ আলী বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে একদল কুকুর সংঘবদ্ধভাবে আমড়াখালীর রেললাইন পার হয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে। এরপর কুকুরগুলো আচমকা মানুষকে কামড়াতে শুরু করে। সামনে যাকে পেয়েছে, তার ওপরই আক্রমণ চালিয়েছে তারা।
তিনি বলেন, প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুকুরের দলটি ২০ জনকে কামড়ে জখম করে। পরে আহতরা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
মোরশেদ আলী বলেন, কুকুরের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভয়ে অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। এমনকি সন্তানদেরও স্কুলে পাঠাতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শার্শা উপজেলা প্রশাসন ও বেনাপোল পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুকুরের কামড় অত্যন্ত বিপজ্জনক। জলাতঙ্ক রোগ হলে মৃত্যু অনিবার্য।
তিনি বলেন, কুকুর কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির পোষা প্রাণীকেও অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
৫৬ দিন আগে