ইলিশ
মধ্যরাত থেকে জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শনিবার দিবাগত রাত থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বার্তায় বলেছে, মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ (জাটকা) আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত, কেনাবেচা ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিমওয়ালা ইলিশের ছাড়া ডিম থেকে ফোটা পোনা পাঁচ থেকে আট মাস বয়স পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় অবস্থান করে।
ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং এর টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এ সময়ে পোনা রক্ষা করা জরুরি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পোনাগুলো নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর সারা দেশে কঠোরভাবে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে।
৩ দিন আগে
চাঁদপুরে ইলিশ ধরার দায়ে ২০ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার দায়ে ২০ জেলেকে ১০ ও ১৫ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেলা টাস্ক ফোর্সের আওতায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদার নেতৃত্বে কোস্ট গার্ড চাঁদপুরের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযানে ২০ জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় ৩০ কেজি ইলিশ, ৩৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ইঞ্জিনচালিত তিনটি কাঠের মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ১৩ জনকে ১০ দিন করে এবং বাকি সাতজনকে ১৫ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়।
জব্দ করা ইলিশ আজ (শুক্রবার) সকালে এতিমখানায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া নৌকাগুলো কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন শুক্কুর শেখ (২৫), মফিজ গাজী (৬০), সাব্বির গাজী (১৮), ফরহাদ গাজী (১৯), হাবিব খান (২০), তোফাজ্জল হোসেন (৫৫), সিয়াম পাটওয়ারী (২২), আলমগীর হাওলাদার (২৫), শহীদ গাজী (২৬), মো. আব্বাস (৪০), রিপন মিয়াজী (২০), মো. মাসুদ (৪১), নুর মোহাম্মদ (৩৫), দেলু সরদার (৪৫), মো. শাকিল (১৯), কালু খান (৩০), মো. হাবিব (৩৫), মো. হাবিব খান (৪০), মো. বারেক (২৮) ও মো. রবিউল ইসলাম (১৯)। তারা সবাই চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
১১ দিন আগে
চাঁদপুরে ইলিশ ধরার অপরাধে ৩০ জনকে জেলে প্রেরণ
চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩২ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড। আটকদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুজন ছেলেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব রশীদ জানান, অভিযানের পর উপজেলা সদরে ফিরে এসে গভীর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে হাতেনাতে মোট ৩২ জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার এদেরকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
তাছাড়া, অভিযানের সময় জব্দ করা প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল নদীর পাড়েই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা ২৪ কেজি মা ইলিশ আজ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে ।
ইউএনও নজরুল ইসলাম আরও বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৮ দিন আগে
ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল শতাধিক এনওসি
ইলিশ আমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া এখন বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে এসব অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। সেখানে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতে তাদের ইলিশ মাছ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকশানের কথাও জানান তিনি।
৪১ দিন আগে
৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ
প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সময়ে সারা দেশে ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।
সভায় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ধরা ইলিশ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। চাঁদপুরের মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনো অবস্থাতেই মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
৪৯ দিন আগে
বেনাপোলে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি, ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না করার আহ্বান
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ভারত থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এসব ইলিশ ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ দেশে আসে। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়। দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।
এর মধ্যে জুলাইয়ে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। অর্থাৎ আগস্টে ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।
ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি হওয়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ ও যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে এসব মাছের একটি অংশ বাজারে ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন আড়তদারের দাবি, মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তবে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আমদানি হওয়া ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।
ইলিশ কিনতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে তিনি একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে খাওয়ার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তার মতে, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন। এতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ফলে আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম।
ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক বড় আকারের মাছ কম দামে পাওয়ায় অনেক ক্রেতাই বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মাছ ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে দেশে আসছে। কম দামের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কমেছে।
এদিকে, বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ দেশে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না করে আমদানি করা ইলিশের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৫১ দিন আগে
চাঁদপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতারা
প্রায় চার মাস পর চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে গত কয়েকদিনে জেলার বাজারগুলোতে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি গড়ে প্রায় ৪০০ টাকা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততাও বেড়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ৩০ এপ্রিল জাটকা ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত চার মাস ধরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ মণ ইলিশ আসত। তবে গত কয়েকদিনে সরবরাহ বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, তিন দিন আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিপণীবাগ কাঁচাবাজারে একই ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়; আগে যার দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে আসা এসব ইলিশ পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশ।
গেল সোমবার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে দুই কেজি ওজনের একটি বড় বা ‘রাজা ইলিশ’ কেজিপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মোট ৯ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন এক ইলিশপ্রেমী।
প্রবীণ মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, বড় ইলিশের স্বাদ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে ইলিশের মূল মৌসুম চলছে। অমাবস্যার প্রভাবে গত ২৮ আগস্ট থেকে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে জেলেদের জালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে।
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী শবেবরাত সরকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঘাটে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
তিনি বলেন, ‘গত রবিবারও প্রায় সাড়ে ৩৫০ মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। এখন ইলিশের মৌসুম। সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া গেলে দাম আরও কমতে পারে।’
ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাটের শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। শ্রমিক আল আমিন, মফিজ ও আনোয়ার হোসেন জানান, ইলিশের আমদানি বাড়ায় তাদের কাজও বেড়েছে। মাছ সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার জন্য বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বরফ গুঁড়া করে ইলিশ প্যাকেটজাত করার পর ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
ফরিদগঞ্জের সন্তোষপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জহিরুল আলম এবং নোয়াখালীর সাইফুর রহমান জীবন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসেন। তারা জানান, তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে টাটকা ইলিশ কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
এদিকে, মাছঘাটসংলগ্ন একটি কক্ষে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের বা ‘রিজেক্টেড’ ইলিশের পেট থেকে ডিম সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেট করতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্রমিককে।
এ কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ইলিশের ডিমের প্যাকেট সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। বড় ইলিশ থেকে সংগ্রহ করা ডিমের দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব ডিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তিন থেকে চার বছর আগে ইলিশের ডিম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডিম ছাড়ানোর পর কিছু ইলিশে হালকা কাটার দাগ দিয়ে লবণ মাখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে হলুদ মিশিয়ে শুকানো এসব ‘কাটা ইলিশ’ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের লবণাক্ত ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শত বছরের পুরোনো এবং চাঁদপুর জেলার সবচেয়ে বড় এ মাছঘাটে প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের ব্যবসা করেন। ঘাটে প্রায় সাড়ে তিনশ দিনমজুর কাজ করেন।
৬৩ দিন আগে
মেঘনার এক রাজা ইলিশ বিক্রি হলো সাড়ে ৮ হাজার টাকায়
ভোলার মনপুরায় মেঘনায় জেলের জালে ধরা পড়েছে দুই কেজি ওজনের এক রাজা ইলিশ। পরে মাছটি নিলামে সাড়ে আট হাজারে বিক্রি করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাচ্চু চৌধুরীর মৎস্য আড়তে রাজা ইলিশটি বিক্রির জন্য আনেন জেলে কিরন মাঝি।
পরে মাছটি নিলামে সাড়ে আট হাজার টাকায় ক্রয় করেন মৎস্য বেপারি ফিরোজ।
কিরন মাঝি জানান, আজ (সোমবার) মেঘনায় জাল ফেলে মাছ শিকারের সময় অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে এই রাজা ইলিশ মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্যান্য মাছের সঙ্গে রাজা ইলিশটি নিলামে বাচ্চু চৌধুরী মৎস্য আড়তে বিক্রি করেন তিনি।
মৎস্য বেপারী ফিরোজ জানান, তিনিসহ অন্যান্য মৎস্য বেপারিরা নিলামে অংশ নেন। পরে তিনি সাড়ে ৮ হাজার টাকায় রাজা ইলিশ মাছটি কিনে নেন। ঢাকাগামী লঞ্চ করে তিনি রাজা ইলিশ মাছটি বিক্রির জন্য ঢাকার কাওরান বাজারে পাঠাবেন। মাছটি ঢাকায় আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, এমনিতে মেঘনায় ইলিশের হাহাকার চলছে। এরমধ্যে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়েছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৭১ দিন আগে
চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামছেন জেলেরা
চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নদীতে নামছেন জেলেরা। মেঘনা পাড়ের জেলেপাড়াগুলো এখন মাছ ধরার প্রস্তুতিতে সরগরম। ইতোমধ্যে তারা ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরানবাজার হরিসভা, পশ্চিম শ্রীরামদী, রণগোয়াল, দোকানঘর, হানারচর, বহরিয়া, ইব্রাহীমপুর, হরিণা ঘাট এবং শহরের উত্তরের আনন্দবাজার ও বিষ্ণুপুর এলাকার জেলেপাড়া ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়।
জেলেদের কেউ জাল মেরামত, কেউ নৌকা সংস্কার এবং অনেকে মিলে নৌকা নদীতে নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
এর আগে, চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল খাঁ ও মোহাম্মদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার নদীতে নামার জন্য জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছি।
বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম এবং লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে আনোয়ার হোসেন গাজী বলেন, নৌকা ও জাল মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন ইলিশ পাওয়া গেলে ঋণ শোধ করা যাবে।
একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, আমিও ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭ জন কাজ করেন। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না। নগদ টাকা দিলে কিছুটা উপকার হতো। অন্তত মাস প্রতি জেলেদের বিকাশে ১০ হাজার করে টাকা দিলে কিছুটা পোষাত। আমাদের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকার আগামীতে এটা নিয়ে যেন ভাবেন।
এদিকে, জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, আজকের জাটকাই আগামী দিনের বড় ইলিশ। যদি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে আগামীতে দেশে পৌনে ৬ লাখ টন ইলিশ বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করা যায়।
জেলেদের অবৈধভাবে ইলিশ ধরার ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছেন এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা পেয়েছে, তেমনি জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার চার মাসে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি ভিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ বছরই প্রথম জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ওমর ফারুক বলেন, পদ্মা-মেঘনার জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের জন্য এবার বিশেষ খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ এসেছে। আগে কখনও এ রকম বরাদ্দ আসেনি। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থপনা প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য চালের পাশাপাশি বিশেষ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ এসেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এসব খাদ্য সহায়তা জেলেদের হাতে পৌঁছাবে।
বিশেষ এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে— জনপ্রতি ৫ লিটার সয়াবিন, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ ও ৮ কেজি মসুর ডাল।
১৮৭ দিন আগে
১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত (৫৮ দিন) বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা হবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপিত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ইলিশ মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে জাটকা ও প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সফল বাস্তবায়ন অন্যতম। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির ফলে ইলিশ মাছ উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এগিয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জনসাধারণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে।
আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লাখ লোক ইলিশ পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই ইলিশ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় পালিত হবে। এ লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী।
ইলিশ রক্ষায় সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ সম্পদের টেকসই উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত (৫৮ দিন) বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা, প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা ও নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ, ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা এবং জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ এবং ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ আইন সংশোধন ও কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইলিশের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। উৎপাদন বাড়লে সরবরাহ বাড়বে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ইলিশের দাম কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে আরও উন্নত ও কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
পাশের দেশে ইলিশ পাচার ও অবৈধ রপ্তানি বন্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে আপনি দেখেছেন, আমরা বিভিন্ন আইনশৃখলা বাহিনীর সঙ্গেও আমরা প্রতিনিয়ত মিটিং করি। কালকের পর থেকে সমস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে। একেবারে গভীর সমুদ্র থেকে শুরু করে উপরের বাজার পর্যন্ত আমরা তদারকি করছি। এখানে ঝাটকা বিক্রি করে কি না আরও তদারকি করছি, ঘাট তদারকি করছি। আর মাছ ধরা বন্ধ করার জন্য নদী বা সমুদ্রে তো আমাদের কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনী এবং নৌ পুলিশ সবাই আছে।
ইলিশ রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিশ রপ্তানি বাংলাদেশ সরকার করে না। এটা কিছু কিছু সময় ভারতে যায় যখন পূজা হয়। উনারাও বাঙালি, আপনার যেমন ইলিশের প্রতি একটা দুর্বলতা আছে, একইভাবে তাদেরও একটা দুর্বলতা আছে। ওটা সৌজন্যমূলক সরকার-টু-সরকার। ইলিশের বাণিজ্যিক রপ্তানি না থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে সৌজন্যমূলকভাবে প্রতিবেশী দেশে সীমিত পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয়। যদি পাঠায় এটা সরকারপ্রধান জানেন।
অন্যদিকে, জেলেদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ কেজি তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ খাদ্য সহায়তা পায়নি। এরপরও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা জেলেদের সহযোগিতা করে যাবেন। তিনি বলেন, সরকার কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবে না এবং যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২১১ দিন আগে