ন্যাটো
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত ইউরোপ
জার্মানি থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে সোমবার তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউরোপকে এখন নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ।
গত সপ্তাহে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ট্রাম্প শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনছি। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। আকস্মিক এই ঘোষণায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট—ন্যাটো অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত হতে অনাগ্রহের কারণে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে বলেন, ‘আমি এটাকে অতিরঞ্জিত করব না। তবে, আমরা আশা করছি, ইউরোপ নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ভূমিকা নেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন থেকে ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
মেয়ার্সকে শাস্তি দিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে কাল্লাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনের ভেতরে কী চলছে, তা আমি জানি না। তাই বিষয়টি তাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।’
গত সপ্তাহের শেষে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ৩২টি দেশের এই সামরিক জোটের কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছেন।’
গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা জানত যে ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অক্টোবরেই কিছু মার্কিন সেনা রোমানিয়া ছেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপত্তা শূন্যতা এড়াতে তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই পদক্ষেপকে ছোট করে দেখিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাশা রয়েছে।’
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
তবে ট্রাম্প নেতৃত্বের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুটে বলেন, ‘আমি বলব ইউরোপীয়রা বার্তাটি শুনেছে। তারা এখন নিশ্চিত করছে যে সব দ্বিপাক্ষিক ঘাঁটি-সংক্রান্ত চুক্তি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানান, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ পুনরায় খুলতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা সেটাই চাইছিলাম।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন কোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয় যা ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার মনে নয়’।
মেয়ার্সের সঙ্গে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ইইউয়ে উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশ বড় গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জার্মানির জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।
ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘একই মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সরবরাহশৃঙ্খল স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির নেটওয়ার্ক ইউরোপেরই রয়েছে।’
৬ দিন আগে
ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের হয়ে যেতে বললেন ইলন মাস্ক
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ মার্চ) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘এক্সিট ন্যাটো নাউ (এখনই ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাও)।’
ওই পোস্টকে সমর্থন করে মাস্ক আরেক পোস্টে বলেন, ‘ইউরোপের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সত্যিই ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: মাস্কের কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের পিটিশনে সই
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের(ইইউ) ওপর শুল্কারোপ করার হুমকি দিয়ে এসেছেন ট্রাম্প।
এ ছাড়াও তার পুতিন-প্রীতিও ইউরোপীয়দের শঙ্কায় ফেলেছে। শুধু তাই নয়, ন্যাটোর ছত্রছায়ায় ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে নিরাপত্তা পেয়ে থাকে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিতর্কিত বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে ইউরোপকে বাদ দিয়ে এককভাবে নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো থেকে বের হওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন ট্রাম্প ঘনিষ্ট মার্কিন ধনকুবের মাস্ক।
আগামী মাসে ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)। এমন সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ও মাস্কের এসব পোস্ট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ট্রাম্প ও তার বন্ধু মাস্কের এসব বক্তব্য সত্ত্বেও এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন দার লিয়েন।
আরও পড়ুন: ওপেনএআই কিনতে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার প্রস্তাব মাস্কের
গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কিনা; জানতে চাইলে এমন সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন তিনি।
উরসুলা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও বৃহৎ পরিসরে তাদের স্বার্থ মূলত এক। তিনি বলেন, ‘মতের অমিল আমাদের থাকবেই, তবে সেগুলো সমাধান করেই এগিয়ে যেতে হবে।’
ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট, যে গত ২৫ থেকে ৩০ বছর যাবত ন্যাটো যে নীতিতে চলেছে, তা এখন সেই অর্থে আর প্রাসঙ্গিক নেই।’
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বাঁক বদল; ইইউ ও ন্যাটো নিয়ে নিজেদের অবস্থান নিয়ে মার্কিন সুরে যে পরিবর্তন এসেছে, তাকে ইউরোপের জন্য একটি ‘সতর্ক বার্তা’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সজাগ হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন উরসুলা।
৪২৬ দিন আগে
ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিতে প্রস্তুত, পুতিনের জন্য ধাক্কা
ফিনল্যান্ড ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে। যা ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণের ফলে মহাদেশের ঐতিহাসিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে রাশিয়াকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে।
মঙ্গলবার নথি হস্তান্তরের মাধ্যমে নর্ডিক জাতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম নিরাপত্তা জোটে প্রবেশ করেছে।এতে রাশিয়ার সঙ্গে তার সীমান্ত দ্বিগুণ হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের সদস্যপদ ইউরোপের নিরাপত্তা ভৌগলিক একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েতদের কাছে পরাজয়ের পর দেশটি নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে আগ্রাসন মস্কোর প্রতিবেশীদের মধ্যে ভয়ের কাঁপুনি ওঠার কয়েক মাস পর দেশটির নেতারা জোটে যোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে যতদিন দরকার ততদিন সাহায্য করবে ন্যাটো
এই পদক্ষেপটি পুতিনের জন্য একটি কৌশলগত এবং রাজনৈতিক আঘাত। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার দিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন তিনি। এবং আংশিকভাবে এটিকে আক্রমণের ন্যায্যতা হিসাবে ব্যবহার করেছেন। জোট বলেছে যে তারা মস্কোর জন্য কোনো হুমকি নয়।
রাশিয়া সতর্ক করেছে যে ফিনল্যান্ডের সদস্যপদ দ্বারা সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় এটিকে ‘প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা’ নিতে বাধ্য করা হবে। এটি সতর্ক করেছে যে এটি ফিনল্যান্ডের কাছে বাহিনীকে শক্তিশালী করবে যদি ন্যাটো তার ৩১তম সদস্য দেশটিতে অতিরিক্ত সেনা বা সরঞ্জাম পাঠায়।
২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সামরিক জোট এড়িয়ে যাওয়া প্রতিবেশী দেশ সুইডেনও আবেদন করেছে। কিন্তু ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও হাঙ্গেরির আপত্তির কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে আছে।
ফিনল্যান্ডের সদস্যপদ আনুষ্ঠানিক হয়ে ওঠে যখন এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে তার যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নথি হস্তান্তর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট হলো সদস্যপদ সংক্রান্ত ন্যাটো পাঠ্যের ভান্ডার।
আরও পড়ুন: পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আন্তর্জাতিক আদালত
১১৩২ দিন আগে
ইউক্রেনে যতদিন দরকার ততদিন সাহায্য করবে ন্যাটো
রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইউক্রেনীয়দের রক্ষা করতে যতদিন সময় লাগবে ততদিন ইউক্রেনকে সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর ন্যাটো। একই সঙ্গে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে পশ্চিমাদের মতো একটি আধুনিক সেনাবাহিনীতে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।
শুক্রবার সামরিক জোটটির মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ এই ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে রোমানিয়ায় ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেছে ইউক্রেনের সাড়ে ৫২ হাজার টন গম
সংগঠন হিসেবে ন্যাটো অস্ত্র সরবরাহ করে না উল্লেখ করে ইউক্রেনকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এককভাবে বা দলগতভাবে দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করেছেন স্টলটেনবার্গ।
তিনি বলেন, ‘যতদিন লাগবে ইউক্রেনের পাশে থাকবে ন্যাটো। আমরা পিছপা হবো না। বলেছেন নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ‘মিত্ররা অভূতপূর্ব সামরিক সহায়তা দিয়েছে এবং আমি আশা করি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অ-প্রাণঘাতী সমর্থন বাড়াতে সম্মত হবেন।’স্টলটেনবার্গ বলেছিলেন যে ৩০ জাতির নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা জ্বালানি, জেনারেটর, চিকিৎসা সরবরাহ, শীতকালীন সরঞ্জাম এবং ড্রোন জ্যামিং ডিভাইস সরবরাহ করছে। তবে শীতকাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি প্রয়োজন হবে। বিশেষত রাশিয়া ইউক্রেনের শক্তি অবকাঠামোতে আক্রমণ করার কারণে।
তিনি বলেন, ‘বুখারেস্টে আমাদের বৈঠকে আমি আরও কিছু করার জন্য ডাকব।’ ‘দীর্ঘ মেয়াদে আমরা ইউক্রেনকে সোভিয়েত যুগের সরঞ্জাম থেকে আধুনিক ন্যাটোর মান, মতবাদ এবং প্রশিক্ষণে রূপান্তর করতে সহায়তা করব।’
স্টলটেনবার্গ বলেছিলেন যে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা তার দেশের সবচেয়ে চাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করতে মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগ দেবেন, তবে ন্যাটো কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রদান করতে পারে। ন্যাটোর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা বলেছেন যে সহায়তা ইউক্রেনকে একদিন জোটে যোগদানের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
বুখারেস্টে ২৯ ও ৩০ নভেম্বরের বৈঠকটি ন্যাটো প্রতিশ্রুতি দেয়ার প্রায় ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যে ইউক্রেন এবং জর্জিয়া একদিন এই সংস্থার সদস্য হবে। আর এই অঙ্গীকারটি রাশিয়াকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছিল।
বসনিয়া, জর্জিয়া এবং মলদোভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন - তিনটি অংশীদার যে ন্যাটো বলছে রাশিয়ার চাপ বাড়ছে৷
স্টলটেনবার্গ বলেন, 'বৈঠকটি দেখতে পাবে ন্যাটো `তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং তাদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা জোরদার করতে সাহায্য করার জন্য আরও পদক্ষেপ নেবে।‘
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১০ মাস আগে ন্যাটো প্রতিবেশী ইউক্রেনে আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছে ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু একটি বড় পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে বৃহত্তর যুদ্ধে জড়ানো এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে চেষ্টা করেছে ন্যাটো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যেতে ইউক্রেনের ওপর কোন চাপ দেননি স্টলটেনবার্গ। প্রকৃতপক্ষে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন যে পুতিন আলোচনার টেবিলে আসতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ যুদ্ধই আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়।’ তবে আলোচনার টেবিলে কী হবে তা নির্ভর করে যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটবে তার ওপর।
অতএব, শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা বাড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হলো ইউক্রেনকে সহায়তা করা।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বিলম্ব: মন্ত্রী
রুশ রাষ্ট্রদূত আশা করছেন শিগগিরই ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ হবে: তথ্যমন্ত্রী
১২৬১ দিন আগে
ক্ষেপণাস্ত্র কোম্পানির তথ্যচুরি খতিয়ে দেখছে ন্যাটো
উচ্চ পর্যায়ের গোপনীয় সামরিক কিছু নথি একটি হ্যাকার চক্র হ্যাক করে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। দলটি ওই নথিগুলোর তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপনও দিয়েছে। পুরো বিষয়টির প্রভাব কী হতে পারে তা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) খতিয়ে দেখছে।
নথিগুলোর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটো মিত্রদের মাধ্যমে ব্যবহৃত অস্ত্রের নীলনকশাও রয়েছে।
অপরাধী হ্যাকাররা নথিগুলো বিক্রি করছে, একটি প্রধান ইউরোপীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারকের সাথে যুক্ত ডেটা চুরি করার পরে।
ইউরোপীয় এক অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানি এমবিডিএ মিসাইল সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ একটি লিংক হাতিয়ে নেয়ার পর থেকেই নথিগুলো বিক্রি শুরু করেছে উক্ত হ্যাকার চক্র।
এমবিডিএ স্বীকার করেছে যে, ওই লিংকে নথিগুলো ছিল। তবে গোপনীয় কোনো নথিই তাদের সাথে সম্পর্ক যুক্ত নয়।
কোম্পানিটির সদরদপ্তর ফ্রান্সে অবস্থিত। তারা জানায়, এই তথ্যচুরির ঘটনা একটি তথ্য সংরক্ষণ করার এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ থেকে হয়েছে। তারা আরও বলেন, কোম্পনিটি ইতালিতে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছিল। যেখানে ঘটনাটি ঘটে।
এটি বোঝা যাচ্ছে তদন্তের বিষয়টি ঘটছে এমবিডিএর সরবরাহকারীদেরকে ঘিরে।
আরও পড়ুন: ন্যাটো: আমেরিকার নেতৃত্বে এ সামরিক জোট কি এখনো প্রয়োজন?
এক বিবৃতিতে ন্যাটোর একজন মুখপাত্র বলেন, এমবিডিএ থেকে চুরি যাওয়া তথ্যের অভিযোগ নিয়ে আমরা খতিয়ে দেখছি। ন্যাটোর কোনো নেটওয়ার্কে কোনোধরনের প্রবেশের ইঙ্গিত আমরা এখনও পাইনি।
রুশ ও ইংরেজি নানা ফোরাম থেকে অপরাধী চক্র তাদের কাজ চালাচ্ছে। ১৫ বিটকয়েনের বিনিময়ে ৮০ গিগাবাইট সমপরিমাণ তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে তারা। যার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ৭৩ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড। তারা এও দাবি করছে, ইতোমধ্যে একজন তাদের থেকে তথ্য কিনেছে।
বিবিসি ৫০ মেগাবাইটের বিনামূল্যের নমুনা তথ্য দেখেছে। যার নাম দেয়া ছিল, ‘ন্যাটো কনফিডেনিশিয়াল’, ‘ন্যাটো রেস্ট্রিকটেড’ ও ‘আনক্লাসিফাইড কন্ট্রোলড ইনফরমেশন’। পাশাপাশি হ্যাকার চক্রটি মেইলের মাধ্যমে ‘ন্যাটো সিক্রেট’ নামে তথ্য সরবরাহ করেছে।
আরও পড়ুন: ন্যাটো সম্মেলনে বিশ্বকাপ জয় উদযাপন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্টের
১৩৫১ দিন আগে
পশ্চিমা দেশের কাছে আরও অস্ত্রের আবেদন ইউক্রেনের
পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও অস্ত্রের আবেদন করেছে ইউক্রেন।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা নৃশংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করার জন্য তার যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে আরও অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য ন্যাটোর কাছে অনুরোধ জানান।
সামরিক সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ন্যাটো সদরদপ্তরে যান কুলেবা। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার এজেন্ডা খুবই সহজ... এটি অস্ত্র, অস্ত্র ও অস্ত্র।’
আরও পড়ুন: রাশিয়া নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে
তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি অস্ত্র পাব এবং যত তাড়াতাড়ি সেগুলো ইউক্রেনে পৌঁছাবে তত বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।’
ন্যাটোর কিছু দেশ রাশিয়ার পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে; তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে ৩০ সদস্যের কেউ যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে এমন পদক্ষেপ এড়াতে চেষ্টা করছে সামরিক জোটটি। এরপরও ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সদস্য দেশগুলোকে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন একটি প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে লড়ছে। তাই আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মধ্যে পার্থক্যের প্রকৃত কোনো অর্থ নেই।’
আরও পড়ুন: মারিউপোলে ৫ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত
পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ও অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট অস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে ইউক্রেনীয় সেনাদের ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া লাগবে এমন কোনো সরঞ্জাম যেমন বিমান, ট্যাঙ্ক, সরবরাহ করতে অনিচ্ছুক তারা।
ইউক্রেন আর কী চাইছে জানতে চাইলে কুলেবা বলেন, বিমান, স্থল ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
১৪৯৪ দিন আগে
ইউক্রেনে ৭ থেকে ১৫ হাজার রুশ সেনা নিহত: ন্যাটো
উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ইউক্রেনে চার সপ্তাহের যুদ্ধে ৭ থেকে ১৫ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় রাশিয়ার প্রকাশ করা তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন তাদের নিজস্ব সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সামান্যই তথ্য প্রকাশ করেছে। পশ্চিমারাও এ বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমার জেলেনস্কি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বলেছেন, রুশ হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর খুব দ্রুত ইউক্রেন সরকারের পতন ঘটবে বলে মনে করা হলেও বুধবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত পূর্ণ চার সপ্তাহের যুদ্ধে রুশ সৈন্যরা দেশটির একমাত্র খেরসন শহর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।বন্দর নগরী মারিউপোল ও খারকিভ শহর দখলের জন্য রুশ বাহিনী গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
পড়ুন: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ উদ্ধারকর্মী আটকের অভিযোগ ইউক্রেনের
চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি
১৫০৮ দিন আগে
চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ন্যাটো সদস্যপদ না চাওয়ার প্রতিশ্রুতি, রাশিয়ান সেনা প্রত্যাহার এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিময়ে চুক্তি নিয়ে তিনি আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার দেরীতে বলেছেন যে তিনি যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ন্যাটো সদস্যপদ না চাওয়ার প্রতিশ্রুতি, রাশিয়ান সেনা প্রত্যাহার এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ছিলেন।
সোমবার ইউক্রেনীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে এক সাক্ষাত্কারে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি সবার জন্য একটি আপস: পশ্চিমাদের জন্য, যারা ন্যাটোর বিষয়ে আমাদের সাথে কী করবে তা জানে না, ইউক্রেনের জন্য, যারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় এবং রাশিয়ার জন্য, যারা ন্যাটোর আর সম্প্রসারণ চায় না।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি আলোচনার কথা পুর্নব্যক্ত করে তিনি বলেন, পুতিনের সাথে সরাসরি আলোচনা না করলে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় কি না তা বোঝা অসম্ভব।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানের পদক্ষেপের পর ক্রিমিয়া এবং রাশিয়ান-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে থাকা পূর্ব ডনবাস অঞ্চলের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে।
পড়ুন: মারিউপোলবাসীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান রাশিয়ার
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
১৫১০ দিন আগে
ইউক্রেনে যুদ্ধ: নো-ফ্লাই জোন প্রত্যাখ্যানের জন্য ন্যাটোর নিন্দা জেলেনস্কির
দেশজুড়ে নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য ন্যাটো নেতাদের নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কিয়েভ থেকে দেয়া এক জ্বালাময়ী বক্তৃতায় ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেন, পশ্চিমাদের মধ্যস্থতায় অনীহা রাশিয়াকে ইউক্রেনের একের পর এক শহর ও গ্রামে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যেতে ‘সবুজ সঙ্কেত’ দিয়েছে।
অন্যদিকে ন্যাটোর যুক্তি হলো, নো-ফ্লাই জোনের ফলে মস্কোর সঙ্গে সংঘর্ষ বাড়বে।
তবে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ন্যাটোর এই মতের সঙ্গে একমত নন। সরাসরি পদক্ষেপ ‘ন্যাটোর বিরুদ্ধে সরাসরি রুশ আগ্রাসনকে উস্কে দিতে পারে’ বলে তিনি মনে করেন না।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের ২ শহরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা রাশিয়ার
জেলেনস্কি বলেন, এই যুক্তিটি ‘যারা দুর্বল ও আত্মবিশ্বাসহীন তাদের মনগড়া’। পশ্চিমাদের অবস্থানে বোঝা যায় যে তারা সব দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইউরোপের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে যারা মারা যাবে তারা আপনাদের কারণে মারা যাবে। আপনাদের দুর্বলতা ও অনৈক্যের কারণে মারা যাবে।’
এর আগে শুক্রবার ন্যাটোর সেক্রেটারি-জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, নো-ফ্লাই জোন প্রবর্তন ‘ইউরোপের আরও অনেক দেশকে জড়িত করতে পারে এবং অনেক বেশি দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও নো-ফ্লাই জোন প্রবর্তনের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জিততে পারে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ায় বিবিসিসহ একাধিক বিদেশি গণমাধ্যম নিষিদ্ধ
পুতিনের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল চায় ইউক্রেন
১৫২৭ দিন আগে
ইউক্রেনীয় উপকূলে বিস্ফোরণে ডুবল কার্গো জাহাজ
ইউক্রেনের উপকূলে বিস্ফোরণের পরে শুক্রবার একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। জাহাজটির মালিকদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ডুবে যাওয়া জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী এবং এটি এস্তোনিয়া ভিত্তিক কোম্পানি ভিস্তা শিপিং এজেন্সির মালিকানাধীন।
জাহাজটির মালিকরা বলছেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে ইউক্রেনের স্থানীয় উদ্ধারকারী পরিষেবা দল উদ্ধার করেছেন। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়।
বাল্টিক রাষ্ট্র এস্তোনিয়া সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য এবং রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির সীমান্ত রয়েছে।
বেশ কিছু দিন আগে ওডেসার কাছের চোরনোমর্স্কের দক্ষিণ বন্দর ছেড়ে যাওয়ার পর জাহাজটি ইউক্রেনের উপকূলে নোঙর করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আগুন নিভল
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
১৫২৮ দিন আগে