কুমিল্লা
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় বিএনপি নেতা আটকের ঘটনায় থানা ঘেরাও
কুমিল্লার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন তার নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, রেজাউল কাইয়ুমের আটকের খবরে তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করেছেন। তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনাকে ঘিরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় পুলিশের বাড়তি সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।
তবে তাকে কী কারণে আটক করা হয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তা প্রকাশ করা হয়নি।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার দায়ে ময়নাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই রায় দেন শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আবদুল হান্নান। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন জানান, ২০২১ সালে উপজেলার ভারেল্লা গ্রামে আসামি ময়নাল হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া শিশু উম্মে হাবিবা মীমকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পলিথিনে পেঁচিয়ে মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় নিহত উম্মে হাবিবার মীমের মা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
৬ দিন আগে
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে জালিয়াতি, ‘নির্বিকার’ কুমিল্লা বোর্ড
সাবিকুন নাহার ঝুমা। দশম শ্রেণিতে মেয়েটির রোল ছিল ১২। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী নির্বাচনি পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
ঝুমার বাবা ফার্নিচারের কাজ করেন, মা গৃহিণী। প্রথম সন্তানের ফলাফল আসবে, এ নিয়ে উচ্ছ্বাসের সীমা ছিল না তাদের। তার ওপর সামনের সারির শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ পাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। কিন্তু বিধি বাম! ঝুমার ফলাফলই আসেনি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঝুমা আবিষ্কার করে, তার রোল নম্বরের জায়গায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফল এসেছে। তাও তিন বিষয়ে অকৃতকার্য। মুহূর্তেই ঝুমার জীবনে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় পুরো পরিবারের।
এ নিয়ে মতলব দক্ষিণের বাসিন্দা এই শিক্ষার্থীর পরিবারে হাহাকার নেমে এলেও তাদের কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড এখনও নির্বিকার অবস্থায় রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছেন। নামমাত্র তদন্ত কমিটি হলেও তাতে কমিটির সদস্যদের শুধু সই নেওয়া হয়েছে, বিস্তারিত তাদেরও জানানো হয়নি।
তবে ঝুমার পরিবার প্রতিবাদ করতেই বেরিয়ে আসে অন্য গল্প। শুধু ঝুমা নয়, এমন আরও ২০ জনের ফলাফলে গরমিল দেখা গেছে। তারা যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছিল, সেই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ফল আসে অন্য শিক্ষার্থীদের, যাদের কেউই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
ঝুমার মা শাহিদা আক্তার জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কয়েকবার কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে যান তারা। তদন্ত শেষে ২০ জনের ফল পরিবর্তনও হয়, ফল পরিবর্তন হয়নি শুধু তার মেয়ের।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের একটা বছর নষ্ট হলো। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ল। এর দায় কে নেবে?’
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের খাদেরগাঁও গ্রামে অবস্থিত। ওই ইউনিয়নের প্রথম বিদ্যালয় এটি। বিদ্যালয়টি নিয়ে গ্রামের সবার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া।
বিদ্যালয়টির দাতা সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, এক একর জমির ওপর এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। আমি এখানে ২২ শতাংশ জায়গা দান করি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দারুণভাবে চলছিল। এখানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০২২ সালে যোগ দেন মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। আগে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে ভালোই ছিলেন, তবে প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর তার মাথায় লোভ কাজ করা শুরু করে। তিনি রাত ১১টা পর্যন্ত অফিস কক্ষে বসে থাকতেন। কোনো কাজই অন্যদের দিয়ে করাতেন না।
বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর ঢালীর দাবি, প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে নিয়মিত ২০ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করেননি। তার পরিবর্তে টাকা খেয়ে তিনি অন্য দুর্বল ও অনিয়মিত ২০ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন করেন। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রকে ফটোশপে এডিট করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় বসিয়ে দেন। এটা দিয়েই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার কারণে ফল আসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা দুর্বল ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বোর্ডকে জানাই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুবার বোর্ডে যাই। বোর্ড পরবর্তীতে আগের ফল বাতিল করে নতুন ফল দেয়।’
এদিকে, সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সাবিকুন নাহার ঝুমা নয়, খাদিজা আক্তার নামে বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীও জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। তারও ফল শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি।
বিদ্যালয়টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালে ৭৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ২০ জনের ফলে এমন গরমিল দেখা দেয়। এবার ৯৯ জন পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ফেরাতে কাজ করছি। এ ঘটনায় বোর্ড একটি তদন্ত করেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে আরও একটি তদন্ত চলছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেরও দায় আছে। এক-দুজন নয়, একই প্রতিষ্ঠানের ২০ জন শিক্ষার্থী অন্যের রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় বোর্ডের তা দৃষ্টিগোচর হয়নি। পুরো বোর্ডে এমন অসংখ্য জালিয়াতি হতে পারে।
তারা আরও বলেছেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষ এতবড় জালিয়াতির ঘটনায় কী তদন্ত করেছেন, তদন্তের ফলাফল কী, তা স্পষ্ট করেননি। বোর্ড থেকে ওই বিদ্যালয়ের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি; ফেরত দেওয়া হয়নি বঞ্চিত একাধিক শিক্ষার্থীর ফলাফল।
তাদের দাবি, তদন্ত কমিটিতে যে ছয়জন রয়েছেন, তদন্তের ফলাফলের অনুলিপি তাদের সরবরাহ করা হয়নি। ইংরেজি ‘এস’ অদ্যাক্ষরের দুই কর্মকর্তার এতে যোগসাজস রয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন বলেন, ‘এ ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধান শিক্ষক এমনভাবে জালিয়াতি করেছেন যা কল্পনাকেও হার মানায়। তিনি রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যেভাবে নকল করেছেন, তা যে কারও পক্ষে ধরা মুশকিল। তারপরও তদন্তের পর যে কয়জনের খাতা পাওয়া গেছে, তাদের ফল সংশোধন করা হয়েছে। যাদের পাওয়া যায়নি, তাদেরটা সংশোধন করা যায়নি।’
৭ দিন আগে
তনু হত্যা মামলা: ১০ বছরে প্রথম গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ডে আসামি
দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার।
কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তনুর ভাই রুবেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম।
গত ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের অনুমতি চান। তারা হলেন—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। আদালত তাতে সম্মতি দেন।
২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
আদালত সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ হয়েছে। গত এক দশকে চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা মামলার তদন্তে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৪ দিন আগে
কুমিল্লায় বাসচাপায় পথচারী নিহত
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মাধাইয়া এলাকার দোতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬০ বছর বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতিতে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের সামনে পড়ে যান ওই পথচারী।
তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে পথচারী বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে পড়ে যায়।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২০ দিন আগে
কুমিল্লায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাইে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন, আজাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক; বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন, একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু, মাজহারুল ইসলামের ছেলে আবুল হোসেন ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন শ্রমিক ট্রাক উল্টে এর নিচে চাপা পড়ে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর ট্রাকচালক বা সহকারী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ হোসেন বলেন, আমরা রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে ট্রাকের নিচ থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমরা ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।
২২ দিন আগে
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন অন্তত আরও ৪ জন।
বুধবার (১ এপ্রিল) জেলার দাউদকান্দি ও নিমসার এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির কানড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী সড়কে অজ্ঞাতনামা গাড়ি সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। তাদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এছাড়া একই এলাকার মো. নবীর হোসেন (৩৮), মো. কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও মো. সাগর মিয়া (৩৫) এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে মতলব বেলতলী সোলেমান লেংটার মাজারের মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আহতদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ ভোরে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় ঢাকাগামী পার্সেলবাহী গাড়িকে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় উভয় গাড়ির চালক নিহত হন। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার শিকার যানবাহন ও নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৩৫ দিন আগে
কুমিল্লায় জমির দ্বন্দ্বে বাড়ি ঘিরে বেড়া, আটকা পড়েছে দুটি পরিবার
কুমিল্লার চান্দিনায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে দুটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের বড়ইয়াকৃষ্ণপুর গ্রামে। কয়েক মাস ধরে এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই দিনাতিপাত করছে পরিবার দুটি। নিজেদের টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও নিতে পারছে না খাবার পানি, আরেক পরিবারের শৌচাগারে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের ফরাজি বাড়ির রফিজ উদ্দিন ফরাজি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার সঙ্গে একই বাড়ির বাচ্চু মিয়া ফরাজি ও জসিম উদ্দিন ফরাজির দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরেই রফিজ উদ্দিন জোরপূর্বক জসিম উদ্দিনের উঠানে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। একইভাবে বাচ্চু মিয়া ফরাজির বেশ কিছু অংশ দখলে নিয়ে বেড়া দিয়ে তাদেরও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
ভূক্তভোগী বাচ্চু মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান ফরাজি জানান, আমাদের দলিলকৃত বাড়ির অংশ জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন রফিজ উদ্দিন। তিনি আমাদের জয়গায় বেড়া দিয়ে দখল করে রাখায় এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমি নিজেদের শৌচাগার ব্যবহার করতে পারছি না।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা এলাকাবাসীর কাছে একাধিকবার গিয়েছি, কিন্তু আমার কেনা জায়গা আমাকে বুঝিয়ে দিতে পারেননি তারা। অপরদিকে, রফিজ উদ্দিন তার জায়গার কাগজপত্র কোনো সালিশ দরবারেও দেখান না।
তার অভিযোগ, রফিজ উদ্দিন ফরাজি সব সময় রাজনৈতিক স্রোতে গা ভাসিয়ে চলেন। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
৩৭ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: রেলক্রসিং কর্মী গ্রেপ্তার
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাস-রেল সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যান হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন র্যাব-১১-এর কোম্পানি-২ কুমিল্লার সদস্যরা।
এর আগে, গত সোমবার এ ঘটনায় গেটম্যান এবং সহকারীকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়।
গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে পদুয়া বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচের রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ১২ যাত্রী নিহত হয়। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ৫ যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ নারী ও ২ শিশু ছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রমকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ওই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। সে সময় চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে বাসটির ধাক্কায় ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে যায়। এরপর ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে থাকায় ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এতে করে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়।
এ সময় ট্রেন যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তারা তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়।
৪২ দিন আগে