কুমিল্লা
শখের ময়ূরই বদলে দিয়েছে কুমিল্লার শাহ আলীর জীবন
ময়ূরের পেখম মেলে নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের যুবক মো. শাহ আলী। সেই মুগ্ধতা থেকেই শখের বসে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন তিনি। এরপর আরও পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন।
সেই সাতটি ময়ূর থেকেই বংশবিস্তার করে গড়ে তোলেন ময়ূরের খামার। আর এই খামারি তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
শাহ আলীর খামারে বর্তমানে ৮৫টি ময়ূর রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় ময়ূরসহ খামারের ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন তিনি। ময়ূর পালনের পাশাপাশি গরু, ছাগল, ভেড়া, তিতির ও কোয়েল পাখিও পালন করছেন তিনি।
বাবরকান্দি গ্রামে ময়ূরের খামারি বলতেই সবাই শাহ আলীকে চেনেন। অনেকে তাকে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন।
সরেজমিনে তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙিন ময়ূর। কেউ কেউ পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে এবং কিনতে তার বাড়িতে দেখা যায় মানুষের ভিড়।
শাহ আলী বলেন, আমি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় বাবা গরুর খামার করেছিলেন। আমি গরুর জন্য ঘাস কেটে দিতাম। পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচা করতাম। সেখানেই দুটি ময়ূর দেখে ভালো লেগে যায়।
তিনি জানান, পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে এক জোড়া ময়ূর কেনেন। ওই জোড়া ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। পরে গ্রামে ফিরে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করেন। এরপর আরও আড়াই লাখ টাকা দিয়ে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর কেনেন তিনি। সাতটি ময়ূর ১৪০টি ডিম দেওয়ার পর সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফোটে।
শাহ আলী বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও টিনশেড ঘর নির্মাণসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছি। বর্তমানে খামারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫টি ময়ূর রয়েছে।
ময়ূরের বয়স ও আকারভেদে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। বড় এক জোড়া ময়ূর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ময়ূরের একেকটি পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং ডিম একেক হালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ময়ূরের খাবার সম্পর্কে শাহ আলী বলেন, মুরগির খাবারের পাশাপাশি লালশাক, পালং শাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাক খাওয়াই। আগে আমি একাই দেখাশোনা করতাম। এখন মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন নারী কর্মী রেখেছি। কর্মীর বেতনসহ খামারে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলীর পরামর্শ, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা উচিত নয়। প্রথমে এক-দুই জোড়া পালন করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর খামার করার উদ্যোগ নেওয়া ভালো। কারণ ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। তাই পাশাপাশি অন্য আয়ের উৎস থাকা প্রয়োজন।
বাবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ময়ূরের খামারের কারণে আমাদের গ্রামটিও এখন জেলা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, হোমনা উপজেলায় শাহ আলীরই ময়ূরের খামার রয়েছে। আমরা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করি এবং সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
শখের বসে এক জোড়া ময়ূর দিয়ে শুরু করা শাহ আলীর উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে খামারে। ময়ূরের সৌন্দর্য যেমন দর্শনার্থীদের টানছে, তেমনি এর বিক্রিও এনে দিয়েছে আয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
১৫ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩
কুমিল্লার লালমাইয়ে আবদুর রশিদ (৩৫) নামে এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার হরিশ্চর রেলগেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পাশ থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় আবদুর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবদুর রশিদ উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
আটকরা হলেন: পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩৪), উৎসবপদুয়া গ্রামের মো. রাকিব (২৫) এবং মেঘনা উপজেলার সাতানি শিবনগর গ্রামের আল আমিন (৩৬)।
এ বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথার ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
১ দিন আগে
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন: আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গেল সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
‘সেতুতে উঠলেই বুক ধড়ফড় করে’, পাঁচ বছরেও কাটেনি ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনা বাজার–ভবানীপুর দক্ষিণ হিন্দুপাড়া এলাকায় ধনাগদা নদীর সংযোগস্থলের শাখা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ১৫ থেকে ২০ বছর আগে নির্মিত সেতুটির মাঝের অংশের পিলার দেবে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পিলারগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। সেতুটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, গুচ্ছগ্রাম, ভবানীপুর, ঠেটালিয়া, তুলাতলী, নলচক, নয়াচর, পাঁচগাছিয়া, বাজারখোলা উত্তর, বাজারখোলা দক্ষিণ ও শৈঠারদিয়া গ্রামের মানুষ নিয়মিত এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। এসব গ্রামের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়।
সেতুটির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাদের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। একইভাবে অসুস্থ রোগীকে সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। সেতুটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে আনা-নেওয়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
৫ দিন আগে
কুমিল্লায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ৬
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় কুকুরের কামড়ে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিদলাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সিদলাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— সিদলাই গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে মো. আলিফা ইসলাম (৫), কামরুল হাসানের ছেলে মো. হামিম (৫), শরিফুল ইসলামের ছেলে মো. তানভির (৪), একই গ্রামের হুজাইফা (৩), কুলসুম (১০) ও শিরিন (১৯)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলার সময় একটি কুকুর এসে এলোপাতাড়ি কামড় দিতে থাকে। এতে ছয়জন আহত হন।
পরে আহতদের স্বজনরা তাদের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আলিফা ও তানভিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. হাসিবুর রেজা বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ৮
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এভার গ্রীন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের কুড়েরপার এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে মহাসড়কের চান্দিনা কুড়েরপার এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডের সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির বাসটি ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
বাসের যাত্রী আব্দুর রহমান জানান, ‘কক্সবাজার থেকে ছাড়ার পর চট্টগ্রাম অংশেই সাতকানিয়া এলাকায় বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে চান্দিনা পৌঁছালে গাড়িটির ব্রেক আবারও অকার্যকর হয়ে পড়ে, যার ফলে চালক আর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফলে বাসটি খাদে পড়ে অন্তত ৮ জন যাত্রী আহত হয়।’
বাসের সুপারভাইজার মাশরাফি জানান, সাতকানিয়া এলাকায় বাসের একটি চাকা পাংচার হয়েছিল। সেখানে চাকা পরিবর্তন করার পর যাত্রা শুরু করলেও কুড়েরপার এলাকায় এসে হঠাৎ ব্রেক ফেল করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরও জানান, বাসটিতে যাত্রী ছিল ২৫ জন।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৮ দিন আগে
কুমিল্লায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ১৭ দিন পর দেহ উত্তোলন
কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার (৬) নামের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ১৭ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে দেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চুনারচর কবরস্থান থেকে মরদেহটি তোলা হয়। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আয়েশা দক্ষিণ চুনারচর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট দুপুরে গ্রামের একটি দোকানের পেছনের ঝোপ থেকে পোশাকবিহীন অবস্থায় আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথমে পানিতে পড়ে মৃত্যুর কথা বলা হলেও উদ্ধারস্থল, পোশাকহীন অবস্থা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা মো. জাকির হোসেন গত ২৫ আগস্ট হোমনা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তার ধারণা, মেয়েকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে আদালতের নির্দেশে মরদেহ তোলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা স্পষ্ট হবে। অপরাধের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মরদেহ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাম্মেদ মোফাচ্ছের উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে শিশু আয়েশার মরদেহটি তোলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।
১৬ দিন আগে
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ শনিবার সকালে কুমিল্লার মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
সড়ক বিভাগ জানায়, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। এ সময় একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গতরাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এর প্রভাব দাউদকান্দি ও মেঘনা হয়ে কুমিল্লার মাধাইয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাকচালকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।
বাসযাত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছি। কখন যানজট শেষ হবে, কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না। এতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
ট্রাকচালক আতিক বলেন, টানা ১৫ দিন কুমিল্লার আলেখারচর অংশে অসহ্য যানজটে ভুগেছেন তারা। এখন আবার এই এলাকায় এসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচল এখন চরম ভোগান্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, ‘আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের সংস্কারকাজের কারণেই মূলত এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
২১ দিন আগে
কুমিল্লায় এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণে ৯১ হাজার আবেদন, হতবাক কর্তৃপক্ষ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রেকর্ড ৯১ হাজার ৪৯৪টি উত্তরপত্রের পুনর্মূল্যায়ন আবেদন জমা পড়েছে। মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ফল সংশোধনের আবেদন করায় এই সংখ্যাকে ‘আশ্চর্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৬টি জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন, যেখানে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ হলেও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা, যাদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার সামান্য বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা। এবার মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জনই ছাত্রী।
বিভাগভিত্তিক পাসের হারে শতকরা হিসাবে এবারও শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ (৮২.৮৮ শতাংশ)। অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম, যা মাত্র ৫০ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে এ বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, ‘এবার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে বেশি।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের কাজ চালানো হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়েই ফল প্রকাশ করা যায়।
২৫ দিন আগে
কুমিল্লায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান, আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন; বাবা দোকানে চা পান করতে গিয়েছিলেন। এমন সময় দুষ্কৃতকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এ সময় আমাদের পাশের ঘরের এক জেঠা আমার মায়ের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমার মাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, স্থানীয়ভাবে যেটুকু জেনেছি, তাতে ধারণা করছি যে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পাারিনি। আমাদের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটনসহ দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।
৩২ দিন আগে