বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের আশা মন্ত্রীর
চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো নতুন চুক্তিতেও ‘নিশ্চয়তা ধারা’ বা ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিদ্যমান ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে সই হওয়া পাঁচ বছরের চুক্তিতে গ্যারান্টি ধারা ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে নতুন চুক্তি সইয়ের সময় এই ধারাটি বাদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হবে।’
এছাড়া আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে বলেও জানান শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। পাশাপাশি তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে ২০২৭ সালে মূল নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মাস্টার প্ল্যানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ উপকৃত হবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোনো বিদেশি চাপ বা বাধা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা নদীর তীরবর্তী মানুষরা বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের মানুষের স্বার্থ ও প্রত্যাশাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাদের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
পদ্মা ব্যারাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে—২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। কিন্তু এরপর তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করেছে।’
তিস্তার মতো বড় একটি প্রকল্পের সমীক্ষা রাতারাতি বা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, আগের কর্তৃপক্ষ কাজটি শেষ করতে পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নেয়নি। বর্তমান সরকার নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে চায় এবং তিস্তা প্রকল্পকে দৃশ্যমান রূপ দিতে চায়।
১১ দিন আগে
পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের আন্তরিকতা জরুরি: হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে আন্তরিকতা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে যদি আন্তরিকতা থাকে—সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ে, নেতৃত্ব পর্যায়ে এবং দুই পক্ষের পানি নিয়ে কাজ করা আলোচকদের মধ্যে...আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি।’
দুই দেশের নেতৃত্ব সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে পানি সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নেতৃত্বের যদি এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এই সমস্যার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’
তিনি মনে করেন, সিনিয়র কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পানি নিয়ে আলোচনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব হবে।
পানিসম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে বৃহত্তর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, কূটনীতি ও সংলাপই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।’
এসব সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে আমরা এই অবস্থানেই আছি।’
গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা-কুশিয়ারা ও ফেনীসহ বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে নেয়। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদীর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করে।
এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষ নিজ নিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও সংলাপ চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের অবস্থান থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’
১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিতসহ বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে একটি নতুন ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।
বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পানি কূটনীতি বোঝা এবং অন্যান্য সমমনা দেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও নিজেদের প্রচেষ্টা জোরদারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুযোগ চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ এবং পানি ন্যায়বিচারে তরুণদের কণ্ঠ আরও জোরালো করার বিষয়টি নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।
একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণ নেতৃত্ব ও তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাব্য পথ নিয়েও আলোচনা হয়।
১১ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলে মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর আশা
ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হলে লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলার সদর উপজেলায় মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা এ আশ্বাস দেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। সে কারণে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা চুক্তি করতে হবে। আর অবকাঠামোগত সংস্কার আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা আমরা করতে পারব। ভারতের আগ্রহ থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চুক্তি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
স্থলবন্দরটি চালু হলে এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুরু হলে দুই দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
অন্যদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় চায় এ বন্দরটি পুনরায় চালু হোক। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদাগুলো পূরণ হোক। স্থলবন্দরটি পুনরায় চালু করতে যে অবকাঠামো বা জনবল দরকার তা পূরণ করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার না চাইলে তো এককভাবে আমরা চালু করতে পারব না। তাই ভারতের সঙ্গে আগে চুক্তি করা দরকার।
রাজিব আহসান বলেন, অতীতে আমরা ভারতের আগ্রহের কথা শুনেছি। যেহেতু অতীতে এ বন্দরটি চালু ছিল, তাই তারাও বিষয়টি অবগত রয়েছে। খুব অল্প সময়ে চুক্তি করে এ বন্দরটি পুনরায় চালু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা-দিল্লি, চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার আশা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফলাফল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান।
হাইকমিশনারের সঙ্গে ‘খুব ভালো, আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। এছাড়া সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব। আর অবশ্যই, যখন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীও সফর করতে পারেন...আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পরে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা যখন পরিবেশ অনুকূল হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সফর করব।’
তবে সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বর নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘অনেক গুঞ্জনই থাকে, কিন্তু আমি গুঞ্জন নিয়ে কথা বলি না। আমি বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি, আর বাস্তবতা হলো—আজকে আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’
সম্পর্ক ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’
অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার বলেন, আমি আবারও বলছি, আমাদের আমন্ত্রণ খোলা আছে। আমার মনে হয় না, তাড়াহুড়ার কোনো প্রয়োজন আছে। সবকিছুই খুব ইতিবাচক। তবে আমাদের যথাযথ সময় দিতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরবর্তী যোগাযোগের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময় খুঁজে নেবে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই নিজেদের সুবিধাজনক মনে করবেন, তখনই বিষয়টি এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী।
নেতিবাচক কোনো কিছুর প্রশ্নই ওঠে না উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রশ্নই নেই। আমি ইতিবাচক, প্রতিমন্ত্রী ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের জনগণও ইতিবাচক। সবকিছুই সম্ভব।’
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশেরই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কাজ এগিয়ে চলছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তার সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি হুমায়ুন কবিরকে খুবই নীতিবান, অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও খোলামেলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাদের আলোচনা খোলামেলা ও ইতিবাচক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ত্রিবেদী। তিনি জানান, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর একটি সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি খুশি। পাশাপাশি তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেও আমার শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার চমৎকার বৈঠক হয়েছে।’
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে ভারত আবারও জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করে দেশটি।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী সম্পর্ক চায়।
বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান মুখপাত্র।
জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এই সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে, গঠনমূলক দিকে এবং দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নেওয়া।’
২০ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: স্পিকার
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সৎ প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে যে ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক থাকা উচিত, বাংলাদেশও সেই সম্পর্কই চায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের কারণে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধ্বংস নেমে এসেছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। সাত মাস এ কাজের জন্য খুবই অল্প সময়।
সংস্কার প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো সমঝোতায় এলে দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনা ও দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।
তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রম শুরু ও শেষ হওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে। তবে সংস্কার প্রক্রিয়া এখনও আইনগতভাবে শুরু হয়নি।
স্পিকার বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত আইনগত সংস্কার করা সম্ভব হবে। আইনে যেসব পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেসব পরিবর্তন করা গেলে গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে।
পরে স্পিকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তারপর চার দিনের সফর শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে ভোলা ত্যাগ করেন।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে ১৫ বছর অস্বস্তিকর সম্পর্কের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।
জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’
তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’
ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’
এছাড়া সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
৩৬ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে আসলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত করেছে কেউ একজন। ব্রিক্সের সভাপতি হিসেবে দাওয়াত করেছে। তারেক রহমান তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একটা স্বাধীন দেশকে, এতটুকু মর্যাদা তো আপনারা দেবেন। এতটুকু মর্যাদা আপনার কাছে আশা করতে পারিনি? আবার যদি বলেন আপনি আমার বন্ধু, তা কেমনে হলো? সবাই আমাদের বন্ধু আমরা সবাইকে বলি আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে কাজটা আমরা আগে করব সেটাই আমরা আগে করতে চাই।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।
বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
৩৮ দিন আগে
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই: হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি উল্লেখ করে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাহলে এই প্রশ্ন করছেন কেন?’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর কোনো বহুপক্ষীয় সফর হতে পারে না। সময় অনুকূল হলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর আয়োজনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
গত বছরের এপ্রিলে আগামী দুই বছরের জন্য বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
ভারত জানিয়েছে, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণও রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অংশ নেবেন।
ব্রিকসের ২০২৬ সালের চেয়ারম্যান ভারত। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। ভারতের এবারের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য, ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’।
সম্মেলনে অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়ে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।
ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর দেশটির ২৫টির বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল ক্ষেত্রে ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব বাস্তবভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী ফলাফলের দিকে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ভারত ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে তিনবার জোটটির সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দেশটি চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয়। এ বছর ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তিও হচ্ছে।
৩৯ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন কিংবা ভারত থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা হোক, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে, এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন, এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। ‘আমরা এক্সপেক্ট করব, ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন।’
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এই অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারত, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছে না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।’
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষোভের, তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে, আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।’
সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক, সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।
৪১ দিন আগে
সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অতীতে আটকে থাকা যাবে না: ভারতীয় হাইকমিশনার
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অতীতে আটকে থাকা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’
বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না, আমাদের বলা উচিতও নয়। কেননা, দেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, দেশের নির্বাচিত সরকার জনগণের জন্য যা ভালো বুঝবে, ওটাই আসল কথা।
ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে দুই দেশের সম্পর্ককে কীভাবে দেখেন, জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, ‘প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ, ওইটা সব সময়...আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলেও একই জিনিস। আপনারও যে প্রতিনিধি ওখানে (দিল্লিতে) আছে, উনিও একটাই কথা চান।’
এছাড়া দুই দেশের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, সর্বোপরি যেটা হয় যে, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভার পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য যা কিছু ভালো, সে বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে। আর আমরা তো সব সময় বলি যে আমরা তো একটি স্বপ্ন শেয়ার করি।
দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের কথা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ অ্যা নেইবার (প্রতিবেশী হিসেবে) আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সবসময় বলি, উই আর ইকুয়াল (সমান)।’ কেউ বড় নয়, কেউ ছোটও নয়, বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবে। গণতন্ত্রে বাংলাদেশের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো আমাকে উপলব্ধি করতে হবে। আবার ভারতের চ্যালেঞ্জগুলোকেও বাংলাদেশকে উপলব্ধি করতে হবে। এটা মাথায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অতীতের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমরা যদি অতীতে আটকে যাই, অতীতকে যদি আমরা ভুলতে না পারি, তাহলে তো উন্নয়নের কাজ হবে না!
আজকের বৈঠকে দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে আমরা দুই দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে পারি, আন্তঃনির্ভরশীল মুক্ত বাণিজ্য—এগুলো নিয়েও কথা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে ভারতীয় দূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উনি সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির আজকে পয়লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত একটা আলোচনা হয়েছে।’
সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আর কি।’
৪৮ দিন আগে