ইউএনএইচসিআর
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২ কোটি ৫২ লাখ ডলারের অনুদান
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতিবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে আজ অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (৩ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত এই গুরুত্বপূর্ণ, নমনীয় এবং বহুবর্ষী অর্থায়ন বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
এমন এক সময়ে এই সহায়তা এসেছে, যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগপ্রবণ ও নাজুক পরিবেশে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় ৯ বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপত্তার আশায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশ কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং অনেককে টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর বিকল্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন বা প্রাণ হারান। রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা সুরক্ষা ও অপরিহার্য সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসইভাবে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থায়নের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষের ওপর। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ক্যাম্পে এসেছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয় এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানিসহ মৌলিক সেবার পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকার কারণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাৎক্ষণিক মানবিক চাহিদা পূরণ জরুরি হলেও, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুতি-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা সেই সংহতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস এবং তাদের জরুরি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২ দিন আগে
মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহতের আশঙ্কা
মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকা দুটিতে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও যাত্রা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, গত ৮ জুলাই প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এদিকে, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ে লিন অং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও দেশটির আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্রদের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে বছরের এই সময়ে তারা সাধারণত এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলেন। কারণ, এ সময়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেশি হয় ও সমুদ্র উত্তাল থাকে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এসব শরণার্থীর নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ২০১৭ সালে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যারাই এখনও মিয়ানমারের ক্ষমতায় রয়েছে।
মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেককে অন্তরীণ শিবিরে আটকে রেখেছে সরকার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ও একটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মিয়ানমারে এই অস্থিরতার কারণে ক্রমেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমুদ্রে বিপজ্জনক যাত্রাপথে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন। এছাড়া দেশটির স্থানীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধার না করে ফেলে রাখে। এমনকি তারা বিপদে পড়া নৌকার খবর পেয়েও অনেক সময় কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বৃহস্পতিবার আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সর্বশেষ এই সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। তাই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে অভিবাসন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। এসব পথে প্রাণহানি ঠেকাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। নৌপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। এছাড়া বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই পথেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০ দিন আগে
বাস্তুচ্যুতির ৯ বছর: রোহিঙ্গাদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান
এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। বিশেষ এই দিনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা—ইউএনএইচসিআর ও মানবিক সহায়তা অংশীদাররা।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভার পালে দে নাসিওঁতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ তার বক্তব্য এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। ইউএনএইচসিআর তার অংশীদারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভুলে না যায়। এদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করছেন।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে আসছেন। বাংলাদেশ সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে আসা এই শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় ঢলটি আসে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, যখন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, এমন এক সময়ে ইউএনএইচসিআর এই আহ্বান জানাচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক সংকটের চাপ বাড়ছে। এর ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, গত মাসে বাংলাদেশে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন করেছে। প্রয়োজন বাড়তে থাকলেও এই অতিগুরুত্বপূর্ণ চাহিদাভিত্তিক আবেদনটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমে মানবিক অর্থায়ন বাংলাদেশকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখতে এবং শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা রয়ে গেছে এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সংহতি ছাড়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর দুর্দশা আরও বাড়বে।
বাবর বালোচ বলেন, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনও ব্যাপকভাবে ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগ এবং কমে যাওয়া সহায়তা পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন আগত মানুষের জন্য।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, নিপীড়ন এবং সংঘাত অব্যাহত থাকায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে অনেক শরণার্থী মরিয়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন, প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও অনেক শরণার্থী ভালো জীবনের আশায় অন্য দেশে যেতে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন।
তার মতে, ২০২৫ সাল ছিল এ ধরনের যাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সহায়তার আবেদনটি সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজনগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ।
ইউএনএইচসিআর জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অতি জরুরি সহায়তা আবেদনে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ পাওয়া গেছে। তবে শুধু ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মিয়ানমারে সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে প্রচেষ্টা চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
৬৪ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ফিনল্যান্ড
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিসহ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যেখানে এত দিন অর্থের ঘাটতি ছিল।
মিয়ানমারে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সীমিত জীবিকার সুযোগের কারণে তারা মূলত মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করেছে, যা তাদের জন্য অনুমোদিত একমাত্র আনুষ্ঠানিক জীবিকামূলক কার্যক্রম। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী এবং অনিশ্চিত, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের কোনো উৎসই ছিল না।
তহবিল সংকোচনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বয়স্ক মানুষ। পাশাপাশি ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাও এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে জায়গার অভাবে তাদের অনেকেই এখনও আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা এখন একটি নাজুক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ক্রমহ্রাসমান তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা এর প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের বর্ধিত প্রতিশ্রুতি তাদের অসাধারণ উদারতার পরিচয় বহন করে।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ‘ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে রয়েছে। বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গারা এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগের অপেক্ষায় আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক সহায়তার পাশাপাশি একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের দুর্দশা যেন বৈশ্বিক দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’
এই অনুদান এমন সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদাররা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২০ মে তারা রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) ২০২৬ সালের হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে।
পরিকল্পনাটির আওতায় শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জেআরপির তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ২৬ শতাংশ কম। এটি মূলত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এই আবেদনের ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৬ সালে দেশটি ইউএনএইচসিআরের মূল তহবিলে আরও ৭০ লাখ ইউরো দিচ্ছে, যা সংস্থাটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।
ইউএনএইচসিআরের মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে এবং মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি।
৬৬ দিন আগে
তহবিল সংকটে বর্ষায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রোহিঙ্গারা: জাতিসংঘ
প্রবল বর্ষায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছেন বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গারা। তহবিল সংকটের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
বাংলাদেশে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে জীবন সবসময়ই কঠিন। তবে, বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বর্ষার মৌসুমে নানা ধরনের দুর্ভোগের মধ্যে যেতে হয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে। ভূমিধস, জলাবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ নানা দুর্ভোগ যেন এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা।
ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের দিয়ে রাস্তা-পাহাড়ি ঢাল মেরামত ও অন্যান্য জরুরি কাজ করিয়ে বিনিময়ে তাদের কিছু পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এতে তাদের সংসার চালাতে কিছুটা হলেও সহায়তা হতো। কেউ কেউ বলছেন, আগে এই আয় দিয়ে পরিবারে বাড়তি খাবার আনা যেত। কিন্তু এখন সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক তহবিল সংকটের কারণে এই কার্যক্রম বন্ধের পথে রয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, আগে এমন প্রকল্পে যেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গা কাজ করতেন, এখন সেখানে ৭-৮ জনকেও সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিবিরের রাস্তাঘাট, সেতু, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও টয়লেট মেরামত কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বর্ষাকালে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
ইউএনএইচসিআরের ওই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তায় অর্থ বরাদ্দ কমানোর ফলে শরণার্থী জনগোষ্ঠীগুলোর এর ওপর সরাসরি প্রভাবের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
জীবনের অন্যতম ভরসা
রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা জাহিদ আলম নামের ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন, আমরা মাসে যে পরিমাণ খাবার পাই, তা খুবই সীমিত। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়ে নিজের দুই সন্তানের জন্য বাড়তি কিছু খাবার কিনতে পারতাম। এখন সেটাও আর সম্ভব হচ্ছে না।
পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত তারেক
জাহিদ ও তার স্ত্রী—দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তাদের পুষ্টি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিকীকরণের সুযোগও তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন তা বন্ধের পথে।
আফরোজা সুলতানা নামের ব্র্যাকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি কেবল একটি কর্মসূচি ছিল না, এটি ছিল তাদের জীবনের অন্যতম ভরসা। এটি শুধু পারিশ্রমিকই দেয়নি, মানুষকে আত্মমর্যাদা দিয়েছে, পরিবার চালানোর সামর্থ্য দিয়েছে এবং ন্যূনতম চাহিদা পূরণের বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি করেছে।’
তিনি জানান, এই কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে, কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন, আবার অনেকে বিপজ্জনক পথে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাও করছেন।
অবকাঠামোগত ঝুঁকি
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা তহবিলে ঘাটতির কারণে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে জরুরি অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় সড়ক, সেতু, চলার পথ ও পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।
২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গা পাঁচ শতাধিক বেশি অবকাঠামো প্রকল্পে নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু চলতি বছর এই কার্যক্রমের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ফলে ভাঙা রাস্তা-সেতু ও বন্ধ ড্রেন এখন শিবিরজুড়ে স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফরোজা সুলতানা বলেন, ‘এসব কারণে শিবিরে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও চলাচল হুমকির মুখে পড়ছে।’
২৪ বছর বয়সী জয়নব বেগম বলেন, ‘আমাদের আশপাশে একটি ল্যাট্রিন, কিন্তু ভূমিধসের ঝুঁকিতে সেটি ব্যবহার করতেও ভয় পাচ্ছি।’
পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
তহবিল সংকটের কারণে শিবিরে অবকাঠামোগত ঝুঁকির পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, মিয়ানমার থেকে আরও রোহিঙ্গা আসায় মানবিক সেবার ওপর চাপ বেড়েছে।
চলতি মাসের ১১ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, অতিরিক্ত তহবিল পাওয়া না গেলে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, খাদ্য সহায়তা এবং শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিঘ্নিত হতে পারে।
এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩৮২ দিন আগে
রোহিঙ্গা নিয়ে ভুল প্রতিবেদন: জাতিসংঘের কাছে ব্যাখ্যা চাইল সরকার
মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) একটি প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইসকে পাঠানো বার্তায় এই প্রতিবেদেন নিয়ে অসন্তোষের কথাও বলা হয়েছে। ইউএনবিকে এমন তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র।
কীসের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, জাতিসংঘের কাছে সেটাও জানতে চেয়েছে সরকার। সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ সঠিক তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
গেল ৭ জানুয়ারি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মিয়ানমার কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭১ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের সবাই ভারতের মনিপুর ও মিজোরামে প্রবেশ করেছন।
গেল তিন বছরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে কেউ অনুপ্রবেশ করেননি বলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
৫৬৮ দিন আগে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূত ও ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি সাম্বল রিজভি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিনশেত্রু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুটি পৃথক বৈঠকে সাক্ষাৎ করেন তারা।
ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী ও বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর চলমান সশস্ত্র সংঘাত, মিয়ানমার বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশ সীমান্তে পালিয়ে আসা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জীবনযাত্রা নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী স্পেনের ব্যবসায়ীরা: বিদায়ী রাষ্ট্রদূত
ড. হাছান বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রায় শত বছরের পুরনো। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর বিকল্প নেই। ভারত ও চীনকে এ বিষয়ে আরও তৎপর করার উদ্যোগ নিতে পারে ইউএনএইচসিআর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিটে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আশ্রিতদের দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে নিজ দেশে ফিরে তাদের পেশাগত জীবন গড়া সহজ হবে।
ভাসানচরে আরও রোহিঙ্গা স্থানান্তর ও সেখানকার স্থাপনা নিয়মিত মেরামতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হাছান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নারীদের জন্য চীনের অনুদানে ইউএনএইচসিআরের ধন্যবাদ
পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিনশেত্রুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশের রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ স্পেনকে দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আইটি ভিলেজগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
পাশাপাশি স্পেনের সঙ্গে 'মাইগ্রেশন মোবিলিটি এগ্রিমেন্ট' করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হন মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল জানান, স্পেনে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে, যারা দেশটির অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পেন সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দেশকে আরও এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৮১০ দিন আগে
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা নারীদের জন্য চীনের অনুদানে ইউএনএইচসিআরের ধন্যবাদ
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে চীনের ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
১২ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সির মাধ্যমে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এর সুফল পাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টেটিভ) সুম্বুল রিজভী বলেন, ‘চীনের তরফ থেকে এই অনুদান এল এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন চলমান রোহিঙ্গা সংকটটির সপ্তম বছর চলছে।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক-এডিবির ঋণ নয়, অনুদান চাই: টিআইবি
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ হিসেবে চীন তার দায়িত্ব পালন করছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে। আমরা ভবিষ্যতে ইউএনএইচসিআরের আরও কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আশা রাখি। তবে এই সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হলো বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।’
শরণার্থী নারী ও কিশোরীরা প্রতি বছর দুটি করে হাইজিন কিট পাচ্ছে। চীনের সহায়তায় আড়াই লাখের বেশি হাইজিন কিট রোহিঙ্গা নারীদের কাছে পৌঁছে দেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ইউএনএইচসিআর।
এই হাইজিন কিটগুলো সরবরাহ করতে ইউএনএইচসিআর ও চীন সরকার একসঙ্গে কাজ করবে। চীনের অনুদান নিশ্চিত করবে গোসলের ও কাপড় ধোয়ার সাবান ও বালতিসহ কিছু সামগ্রী। কক্সবাজারে শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে দুইশোর বেশি নারী এসব হাইজিন কিটগুলোর বাকি জিনিসগুলো তৈরি করবেন। এর মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতাকে নিজ জনগোষ্ঠীর কাজে ব্যবহার করতে পারবেন এবং সীমিত পরিসরে জীবিকা নির্বাহের কাজে নিজেদের স্বনির্ভর করার একটি প্রয়াস পাবেন।
ইউএনএইচসিআর-এর রিপ্রেজেন্টেটিভ সুম্বুল রিজভী আরও বলেন, ‘শরণার্থী নারী যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা এই কিটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। তাদের কাছে এটি অতি প্রয়োজনীয়, আর নিজ সমাজের নারীদের মাধ্যমে তৈরি এই সামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও তারা সন্তুষ্ট।’ ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশে নারী ও বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য চলমান মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তার জন্য চীন ও অন্যান্য দেশের মানবিক সাহায্য অত্যন্ত জরুরি। ৯ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ৪ লাখ ৯৫ হাজার স্থানীয় বাংলাদেশি মিলিয়ে মোট প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সহায়তার জন্য প্রায় ৮৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আবেদন করেছিল মানবিক সংস্থাগুলো। ডিসেম্বরের শুরুর সময় পর্যন্ত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানটি (যৌথ কর্ম পরিকল্পনা) প্রায় ৫০ শতাংশ তহবিল পেয়েছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় রোহিঙ্গা যুবককে গুলি করে হত্যা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত: টিআইবি জরিপ
৯৭৩ দিন আগে
আন্দামান সাগরে দুর্ঘটনাকবলিত রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে আঞ্চলিক উদ্যোগের আহ্বান ইউএনএইচসিআরের
শত শত রোহিঙ্গা নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানগুলো উদ্ধারে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাতে সব দেশ বিশেষ করে আন্দামান সাগরের আশেপাশের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
এছাড়াও, এই বিপজ্জনক সামুদ্রিক যাত্রা মোকাবিলা করতে ব্যাপক আঞ্চলিক পদক্ষেপের জন্য তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউএনএইচসিআর।
২০২২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ সমুদ্রে মৃত বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ফের সতর্ক করেছে, উপকূলীয় দেশগুলো সময়মতো উদ্ধার অভিযান না চালালে এবং দুর্ঘটনাকবলিতদের নিরাপদ স্থানে না আনলে অনেকের মৃত্যু হতে পারে।
বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যে জেনেছে ইউএনএইচসিআর, যাত্রীবাহী দুটি নৌকারই ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে এবং বর্তমানে আন্দামান সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে।
আরেকটি বিষয় হলো আগামী দিনে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা।
শনিবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, দুটি নৌকায় প্রায় ৪০০ জন যাত্রী আছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের জন্য ৮৭৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তার আহ্বান জানাল ইউএনএইচসিআর
১৫০ জন রোহিঙ্গা নিয়ে আরেকটি নৌকা শনিবার ভোরে আচেহের উত্তরে একটি দ্বীপ সাবাং-এ পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটরাবকলিতদের খাবার ও পানি ফুরিয়ে যেতে পারে বলেও ইউএনএইচসিআর উদ্বিগ্ন।
তাদের আশঙ্কা দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার না করা হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
নন-ফুলমেন্টের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমুদ্র আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখতে হবে এবং জাতীয়তা বা আইনি অবস্থা নির্বিশেষে সমুদ্রে দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে।
১৪ নভেম্বর থেকে ১ হাজার জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রশংসা করেছে ইউএনএইচসিআর।
ইন্দোনেশিয়ার সংহতি ও মানবতার উদাহরণ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলেছে, ইউএনএইচসিআর এবং তার অংশীদারেরা দুর্ঘটনাকবলিতদের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতদের স্থায়ী সমাধানে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব চায় ইউএনএইচসিআর-এনজিও
রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সাড়ে ৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করল জাপান-ইউএনএইচসিআর
৯৭৭ দিন আগে
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতদের স্থায়ী সমাধানে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব চায় ইউএনএইচসিআর-এনজিও
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীনদের জন্য টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সুশীল সমাজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ইউএনএইচসিআরের ২০২৩ সালের আঞ্চলিক এনজিও কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস নেটওয়ার্ক (এপিআরআরএন), ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব ভলান্টারি এজেন্সিস (আইসিভিএ) এবং এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক অব রিফিউজিসের (এপিএনওআর) সহযোগিতায় এ কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনে ৭১ লাখ বাংলাদেশি বাস্তুচ্যুত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
"টেকসই সমাধানের জন্য অন্তর্ভুক্তিমুলক প্রচার" প্র্রতিপাদ্য সামনে রেখে বেশ কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে এতে। এ অনুষ্ঠানে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৯ টি দেশের ১৬১ টি সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ১৮০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়েছিলেন।
২০২২ সালের শেষে রেকর্ড করা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই অঞ্চলে ৭০ লাখেরও বেশি শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী এবং ৫০ লাখ সংঘাত-প্রভাবিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ (আইডিপি) রয়েছে।
বাস্তুচ্যুতদের বেশিরভাগই আশ্রয় পাওয়া দেশগুলোতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাস করছে।
ইউএনএইচসিআর’র এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক ইন্দ্রিকা রাতওয়াতে বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তি একটি জটিল বিষয়, যা প্রায়শই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে যখন আমরা শরণার্থীদের জন্য স্থানীয়ভাবে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য শিক্ষা, জীবিকা, দক্ষতা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানবিক অংশীদারদের জীবনের সব ক্ষেত্রে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রহীন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা কীভাবে সমগ্র সমাজের উপকারের জন্য স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে সে বিষয়ে আলোচনা হয় এ কনসালটেশনে। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের বিষয়ে সর্বোত্তম অনুশীলন ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেয় এটি।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আইসিভিএ'র আঞ্চলিক প্রতিনিধি কেয়া সাহা চৌধুরী বলেন, ‘ফলপ্রসু অন্তর্ভুক্তির জন্য বাস্তুচূতদের প্রতি ধারণার পরিবর্তন প্রয়োজন। মনে করতে হবে- জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা শুধু সহায়তার সুবিধাভোগী নয় বরং সম্পদ, তারা যে সব সম্প্রদায়ের অংশ, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একই সঙ্গে সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সহায়ক নীতি ও সুরক্ষা প্রয়োজন।‘
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে যুদ্ধ ও দুর্যোগে ২০২২ সালে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭১ মিলিয়ন: প্রতিবেদন
ইউএনএইচসিআর, এনজিও ও কমিউনিটি-ভিত্তিক সংস্থাগুলো কীভাবে জাতীয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির প্রচারের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং সমর্থন করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
এপিএনওআর-এর নির্বাহী পরিচালক নাজিবা ওয়াজেফাদোস্ট বলেন।
এপিএনওআর’র নির্বাহী পরিচালক নাজিবা ওয়াজেফাদোস্ট বলেন, শরণার্থী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। এই সংস্থাগুলো তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সম্প্রদায়গুলোকে বুঝতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। যোগাযোগের ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারে এবং সম্প্রদায়ের মাধ্যমে সমাধানগুলো সহজতর করতে পারে। দ্বিতীয়ত, লিঙ্গ ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যে এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে সব স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করা উচিত।’
শরণার্থী নেতৃত্বাধীন সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করেছেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা। কীভাবে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে পুনর্বাসন ও পরিপূরক পথগুলোতে জড়িত হতে আরও উৎসাহিত করা যায় এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি অনুমানযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস নেটওয়ার্কের এপিআরআরএন-এর কো-সেক্রেটারি জেনারেল হাফসার তামিসুদ্দিন বলেন, ‘শরণার্থীরা স্থানীয়দের সঙ্গে যেন নিজেদের দক্ষতা যোগ করতে পারে তার জন্য আমাদের উদ্ভাবনী উপায়গুলো ভাবতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে শরণার্থীদের সেই দক্ষতাগুলো কাজে লাগানোর এবং সমাজে অবদান রাখার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যাতে তারা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী থেকে সক্ষম সম্প্রদায়গুলোতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’
আরও পড়ুন: ভারতের মণিপুরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৬০, কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত
আলোচনার সুপারিশগুলো ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে এবং ২০২৪ সালের জুনে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাপী এনজিও কনসালটেশনে এগুলো জানানো ও সমর্থন করা হবে।
প্রথম ইউএনএইচসিআর-এনজিও আঞ্চলিক পরামর্শ জুলাই ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং কোভিড -১৯ এর প্রেক্ষাপটে শরণার্থীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছিল।
১০৫৫ দিন আগে