আফগানিস্তান
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর নতুন প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
পেশাদার কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক, জেনেভা, বেইজিং ও কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব তার নিবেদিত সেবার জন্য রোজা ওতুনবায়েভার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাতিসংঘ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইউএনএএমএর উপ-বিশেষ প্রতিনিধি কানাডার জর্জেট গ্যাগননের প্রতিও মহাসচিব কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
রাবাব ফাতিমার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে দায়িত্ব পালনের ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
বর্তমানে তিনি স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল দেশবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন।
ওই দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০২০ সালে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ড এবং ২০২২ সালে ইউএন-উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২১ সালে ইউএনডিপি/ইউএনএফপিএ/ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহসভাপতি ছিলেন।
২০২২ সালে তিনি শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের চেয়ার হিসেবে নির্বাচিত প্রথম নারী হন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাবাব ফাতিমা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক উপদেষ্টা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় সংস্থাটির আঞ্চলিক প্রতিনিধি ছিলেন।
এছাড়া ২০০৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত লন্ডনে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাবাব ফাতিমা।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরা থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
নিজের মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন এবং হিন্দি ও উর্দু ভাষায় কাজ চালানোর মতো জ্ঞান রয়েছে তার।
৬ দিন আগে
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ৩৬ বেসামরিক নিহত, আহত ১৬০
পাকিস্তানি বাহিনীর রাতভর বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। পরে জঙ্গিদের আস্তানা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ ও ‘চরম নিষ্ঠুরতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সহকারী মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী পাকতিয়া প্রদেশের চামকানি জেলায় একটি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে এক বৃদ্ধ ও এক শিশু নিহত হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলে একই স্থানে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে ২৮ জন গ্রামবাসী নিহত এবং ১৫৮ জন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের গিয়ান জেলার একটি গ্রামে আরেকটি বাড়িতে হামলায় ছয়জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া কুনার প্রদেশের একটি বেসামরিক বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রায় ৩০টি গবাদিপশু মারা গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। এসব হামলার জন্য পাকিস্তান সরকার মূলত পাকিস্তানি তালেবান, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের মিত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে।
পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবান আলাদা সংগঠন হলেও তারা পরস্পরের মিত্র।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে করাচিতে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় তিন সেনা সদস্য নিহত হন। সে সময় পাল্টা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
ওই হামলার জবাবে রবিবার রাতভর আফগানিস্তানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
২৩ দিন আগে
আফগানিস্তানে শরণার্থী বহনকারী ট্রাক উল্টে নিহত ১৮
পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরা আফগান শরণার্থীদের বহনকারী একটি ট্রাক পূর্ব আফগানিস্তানে মহাসড়কে উল্টে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
শনিবার (৩০ মে) রাজধানী কাবুলের সঙ্গে নানগারহার প্রদেশকে সংযুক্তকারী প্রধান মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লাগমান প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আবদুল মালিক নিয়াজাই বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ১০টি শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য নানগারহারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানে সড়কের দুরবস্থা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ট্রাকটির যাত্রীরা ছিলেন পাকিস্তান থেকে সম্প্রতি ফিরে আসা হাজারো আফগান শরণার্থীর অংশ। ২০২৩ সালে পাকিস্তান অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর থেকে বহু আফগানকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে ইরানও আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস ও কাজ করেছেন।
৫৩ দিন আগে
আফগানিস্তানে বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১০
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড় এবং ভারী বর্ষণে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় নতুন করে আরও সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটিতে সামনে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রায় ১২ দিন আগে আফগানিস্তানজুড়ে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, যা দেশটির ৩৪টি প্রদেশকে প্রভাবিত করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই দেশজুড়ে ১১ জন মারা গেছেন এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নতুন করে সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন যাদের সবাই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ১২ দিনে বন্যা, ভূমিধস এবং বজ্রপাতে মোট ১১০ জন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৯৫৮টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ১৫৫টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত প্রদেশে বন্যার পানিতে আটকে পড়া দুইজনকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটির ৩২৫ কিলোমিটারেরও বেশি সড়কপথ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, সেচ খাল ও পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৬ হাজার ১২২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব তথ্য প্রাথমিক বলে উল্লেখ করেছে তারা।
এদিকে, মঙ্গলবারের জন্য প্রায় পুরো দেশজুড়ে আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে জনগণকে নদীর কাছাকাছি এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানজুড়ে ভারী তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এছাড়া ভূমিধস ও বন্যার কারণে দেশটিতে দুটি প্রধান মহাসড়ক কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্ত ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে সংযুক্তকারী কাবুল-জালালাবাদ মহাসড়ক গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, জালালাবাদ থেকে কুনার ও নুরিস্তানগামী সড়কটি রবিবার থেকে পাথর পড়ার কারণে বন্ধ হয়ে আছে।
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায়ই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে বসন্তে এমনই এক আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।
১০৬ দিন আগে
বন্যা ও ভূমিধসে আফগানিস্তানে ১০ দিনে ঝরেছে ৭৭ প্রাণ
আফগানিস্তানে প্রবল ঝড় এবং ভারী বর্ষণে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে ১০ দিনে অন্ততপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৭ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এরকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পুরো আফগানিস্তানজুড়ে আরও কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এমতাবস্থায় জনসাধারণকে নদী-তীরবর্তী অঞ্চলসহ বন্যাপ্রবণ অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আফগানিস্তান মূলত একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশটিতে আকস্মিক বন্যা, ব্যাপক তুষারপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি এই বন্যা ও ভূমিধসে ৪৮ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে মোট ২৬ জন। এ ছাড়াও ২ হাজার ৬৭৩টি ঘর আংশিক এবং ৭৯৩টি ঘর পুরোপুরি ধসে গেছে। প্রায় ৩৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দুর্যোগে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, পানির কূপ এবং সেচ খালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৮০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আফগানিস্তানের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ হকশিনাস বলেন, বন্যা ও ভূমিধসে রাজধানী কাবুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ভ্রমণকারীদের কাবুলে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পথ হিসেবে অন্য রাস্তা দিয়ে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে কাবুল থেকে জালালাবাদ মহাসড়ক। এই মহাসড়ক রাজধানী কাবুলকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান পথ। ভূমিধস, পাথর ধস এবং বন্যার কারণে গত বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। এই মহাসড়ক রাজধানী কাবুলকে পাকিস্তান সীমান্ত এবং পূর্বাঞ্চলীয় আফগান প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান পথ। সড়কটি পুনরায় খোলার জন্য কর্মীরা কাজ করছেন।
এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তা ব্যবহার করার সময় ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে বলেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দুর্যোগের কারণে হিন্দুকুশ পর্বতমালায় অবস্থিত উঁচু গিরিপথ সালাং পাসও বন্ধ হয়ে গেছে। এই গিরিপথ মূলত কাবুলকে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুন্দুজ ও মাজার-ই-শরিফের মতো প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করে।
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায় প্রায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে শত শত মানুষ মারা যায়। এর আগে ২০২৪ সালে বসন্তকালীন আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
১০৮ দিন আগে
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলায় ৪০০ জন নিহতের দাবি, ইসলামাবাদের অস্বীকার
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে আফগানিস্তান।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ভেতর সংঘাতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় ঘটনা। এই সময়ে সীমান্তে বারবার সংঘর্ষসহ আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো বারবার সংযম প্রদর্শন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনও তা আমলে নেয়নি যুদ্ধরত এ দুই দেশ।
তবে সর্বশেষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান বলেছে, তারা কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা করেনি। ইসলামাবাদের দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানে তারা যে হামলা চালিয়েছে, সেগুলোতেও কোনো বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
আফগানিস্তান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক এক্স পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওই হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলায় ২ হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০০ জন এবং আরও অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর এক্সে প্রকাশিত ভিডিও থেকে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সার্চলাইট ব্যবহার করে হতাহতদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
ফিতরাত জানান, উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মরদেহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এ হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে আফগানিস্তানের চারজন নিহত হয়েছেন।
এর মাধ্যমে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ-সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করল।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স পোস্টে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
নিহতের সংখ্যা যে এত বেশি, তা সামনে আসার আগেই এক এক্স পোস্টে তিনি বলেছিলেন, যারা এই বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন, তারা সবাই ওই হাসপাতালের রোগী ছিলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি স্বীকৃত নীতিমালা ও মানবতার বিরুদ্ধ অপরাধ।’
অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জায়েদি রীতিমত অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টে জানান, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, কাবুলের দুটি জায়গায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘সকল লক্ষ্যবস্তুই পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু যেসব অবকাঠামো আফগান তালেবান সরকার এবং তার সন্ত্রাসীদলগুলোকে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে সাহায্য করবে, সেগুলোই আমাদের লক্ষ্যবস্তু।’
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ও আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অযোোজানায়জাবিহুল্লাহের দাবি পুরোপুরি মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। এটি জনমত প্রভাবিত করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অবৈধ সমর্থন ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এ হামলা ছিল মূলত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত। সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক কোনো স্থাপনায় হামলা কখনোই তাদের অভিপ্রায় ছিল না।’
জঙ্গি দমনে পদক্ষেপ নিতে আফগানিস্তানকে জাতিসংঘের আহ্বান
পাকিস্তানের এই হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসবাদ দমনে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে পাকিস্তানে সংঘটিত নির্দিষ্ট হামলার উল্লেখ না থাকলেও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে সন্ত্রাসী হামলাগুলোকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি তালেবানরাও (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি) আছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, তারা টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়াও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য জঙ্গিদেরও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাবুল।
১২৭ দিন আগে
এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৪৪ দিন আগে
আফগান সীমান্তে হামলায় ৭০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, দেশের ভেতরে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে কাবুল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মাদরাসা ও একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ৭০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, এ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুনরায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
রবিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণকে রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক এ অভিযান চালানো হয়েছে। কাবুলকে বারবার সতর্ক করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জারদারি সতর্ক করে বলেছিলেন, তালেবান নেতৃত্বধীন সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগের সময়ের মতো বা তার চেয়েও খারাপ।
এক বিবৃতিতে জারদারি জানান, পাকিস্তান কেবল সীমান্তবর্তী আস্তানায় হামলা চালিয়ে সংযম দেখিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার জন্য দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা ইসলামিক আমিরাতের শরিয়াভিত্তিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
রবিবার নানগারহারে বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। সে সময় নিহতদের দাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
স্থানীয় নেতা হাবিব উল্লাহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা জঙ্গি ছিল না। তারা দরিদ্র সাধারণ মানুষ ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা তালেবান, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সরকারের কেউ নয়। তারা গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করত।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৭টি আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সব সময় চেষ্টা করেছে, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
১৪৯ দিন আগে
আফগান সীমান্তে জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান
সাম্প্রতিক সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলার পর আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসলামাবাদ। অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সহযোগী গোষ্ঠীর ৭টি আস্তানা ধ্বংসের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিশদ তথ্য দেয়নি ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে, কাবুলের তালেবান সরকার বলেছে, নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো এ হামলায় বেসামরিক নারী শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে। এক্স পোস্টে মুজাহিদ লিখেছেন, নানগরহার এবং পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় বেশকিছু মানুষ হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে মুজাহিদ বলেছেন, তারা দেশের ভেতরের নিরাপত্তার ঘাটতি মেটাতেই এ হামলা চালিয়েছে।
রবিবার ভোর হওয়ার আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে লিখেছেন যে সেনাবাহিনী পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ৭টি আস্তানার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তারার বলেছেন, ‘পাকিস্তান সর্বদা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
১৫০ দিন আগে
আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৬ শতাধিক মৃত্যু, আহত ১৫০০
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ।
স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) এক বিৃবতিতে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে কুনার প্রদেশে ৬১০ জন এবং পাশের নানগারহার প্রদেশে ১২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দূরত্ব এবং সেখানে পৌঁছানোর অসুবিধার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বিবিসির এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ওই ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮ কিলোমিটার গভীরে। এরপর থেকে অন্তত আরও তিনটি কম্পন অনভূত হয়েছে। সেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পকেন্দ্রের কাছাকাছি ভূমিধস হয়েছে। এতে অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকারীদের জন্য সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে রাশিয়া, জাপানে সুনামি; দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, কুনার প্রদেশের নুর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কারণ কর্মকর্তারা এখনো অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভূমিধসের কারণে সাওকি জেলার দেওয়া গুল এবং নূর গুল জেলার মাজার দারা যাওয়ার সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে অসুবিধা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, দুঃখের বিষয়, রোববার রাতের ভূমিকম্পে আমাদের পূর্বাঞ্চলীয় কিছু প্রদেশে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং বাসিন্দারা উদ্ধার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছেন। বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
৩২৪ দিন আগে