ফসল রক্ষা বাঁধ
সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, হাওরে আশঙ্কায় কৃষক
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরের ১৩৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।
এ অবস্থায় ধারদেনা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া পিআইসি সদস্যরা পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অন্যদিকে, সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় ৯টি হাওরের বাঁধের কাজ সোমবার পর্যন্ত গড়ে ৭৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি নয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া—এই ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এসব হাওরে ধর্মপাশায় ৯৩টি এবং মধ্যনগরে ৪১টি প্রকল্পসহ মোট ১৩৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিরা কেবল প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল এবং মধ্যনগরের ঘোড়াডোবা, গুরমা ও কাইলানী হাওরের অন্তত ৩০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ চলমান, আবার কয়েকটি বাঁধ নিম্নমানেরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর উপজেলার কাইলানী হাওরের ১৩ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাঁধটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ২৯৫ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ভেকু মেশিন নষ্ট থাকার কারণে ও টাকার অভাবে কাজ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ধারদেনা করে এতদিন কাজ চালিয়েছি। পুরো কাজ শেষ করতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন লাগবে।’
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৩৯ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকাই পেয়েছি। ধারদেনা করে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছি। এখন পাওনাদারদের টাকা দিতে না পারায় বাঁধে যেতে পারছি না, নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রেখেছি।’
হাওরপাড়ের কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সময়মতো কাজ শেষ না হলে এবার বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সদর ইউনিয়ন সভাপতি বিপ্লব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন না। অনেক স্থানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং ঘাস লাগানো হয়নি, ফলে বৃষ্টির পানিতে বাঁধের অংশ ধসে পড়ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘অর্থের অভাবে অনেক পিআইসি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’
৩ ঘণ্টা আগে
ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: পানি সম্পদমন্ত্রী
পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, হাওর অঞ্চলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও রক্ষা করার জন্য বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ডুবে যাওয়া বাঁধগুলো প্রতি বছর মেরামতের ফলে এ অঞ্চলে ফসল উৎপাদন অনেকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জন্য হাওর অঞ্চলকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতি বছর যেন বাঁধ মেরামত হয় এবং দুর্নীতিমুক্ত হয় সেদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বেশি নজর থাকবে। ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল কিছু করবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় এ অঞ্চলের খোঁজখবর রাখছেন। আমরা দায়িত্ব নিয়েই আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষি কাজে সেচের ব্যবস্থা করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দেশব্যাপী খাল-পুকুর-জলাশয় খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে শুকনো মৌসুমেও সেচের মাধ্যমে কীভাবে ফসল উৎপাদন করা যায় সে উদ্যোগ নেবে সরকার। এখানে উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে ধান রক্ষা করতে বাঁধ জরুরি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়সর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দীন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
১৯ দিন আগে
ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি, হতাশ কৃষকেরা
সুনামগঞ্জের ৫২টি বড় হাওরের ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য এবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে ৮১১টি বাঁধের কাজ হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বাঁধের কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় হতাশ হাওর পাড়ের কৃষকেরা।
১৮৩৬ দিন আগে