ঠাকুরগাঁও
সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আবার বিপদে পড়বে দেশ: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে দেশ ও জাতি আবারও বড় বিপদের মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি গোষ্ঠী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পেছনে ফেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ সময় নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমি কখনও আদালতের বারান্দায় যাইনি। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার কারণে আমাকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভালো মানুষ ও ভালো দলকে ভোট দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।
সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
এবারের নির্বাচনকে কেউ বন্ধ করতে পারবে না: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত সময়ে আমরা নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হতে দেখেছি। কিছু লোক থাকবেই নির্বাচনকে বানচাল করতে। কিন্তু আমার বিশ্বাস এবারের নির্বাচনকে কেউ বন্ধ করতে পারবে না, বানচাল করতে পারবে না।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহম্মদপুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া ঈদগাহ ময়দানে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ আজ জেগে গেছে। আগের নির্বাচনগুলিতে তারা ভোট দিতে পারেনি। তাই এবার তারা পণ করেছে সামনের নির্বাচনে তারা ভোট দিয়েই ছাড়বে। আপনারাই ভোট পাহারা দেবেন—হিন্দু-মুসলিম সবাই যেন একজোট হয়ে ভোট দিতে পারেন।
বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন জনগণের হাতে আবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এরকম নেতা আমরা চাইনা, যে নেতা অসংখ্য নেতা-কর্মীদের ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমরা কোনো চোর-ডাকাতের দল করি না। আমরা শহিদ জিয়ার দল করি। আমাদের একটা আদর্শ আছে।
নিজ নেতা-কর্মীদের হয়ে মাফ চেয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ছেলেরা নির্বাচনি কাজে যদি আগ বাড়িয়ে কিছু করে তাহলে তাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেউ কিছু করে থাকলে তাদের হয়ে আমি ক্ষমা চাচ্ছি আপনাদের কাছে।
সভায় এক সমর্থকের দেওয়া ডিম ও মাটির ব্যাংক পেয়ে আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মার্কা ধানের শীষ। ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা এ মার্কায় আমাকে ভোট দিয়ে শেষবারের মতো জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।
নির্বাচনি পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের উন্নয়ন একমাত্র ধানের শীষ করতে পারবে, আর কেউ করতে পারবে না। আমরা সেই জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক। যাদের আপন ভেবে মানুষ কাঁদে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শোল্টোহরি বাজারে এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তিনি এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন।
এ সময় সরকারে থাকাকালীন যে সকল উন্নয়ন করেছেন সেসব উন্নয়ন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত এখন আর কেউ নেই।
ভোটারদের সজাগ করে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। একটা দল ভোট চাইতে আসছে আপনাদের কাছে। দাঁড়িপাল্লার কথা বলছে। তারা কখনো কি সরকারে গেছে? আপনাদের জন্য কোনো কাজ করেছে? করে নাই। আমরা কাজ করেছি। আমরা পরীক্ষিত দল। আপনাদের কাছে ভোট চেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন। আমরা সরকারে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
বিএনপি মহাসচিব উপস্থিত ভোটারদের কাছে জানতে চান গত পনেরো বছরে আপনারা কি কেউ ভোট দিতে পেরেছেন? জবাবে ভোটাররা বলেন—পারিনি।
তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। আবার কখনো ভোটটা নিয়ে চলে গেছে। এই ছিল গত পনেরো বছর। এখন একটা সুযোগ আসছে, আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছে ভারতে। চলে গেছেন ভালো করছেন। কিন্তু যারা সমর্থন করতো তাদের বিপদে ফেলে গেছেন। আমরা বলছি যারা নিরপরাধ তাদের কেউ বিপদে পড়বেন না। আমরা আছি তাদের পাশে। যারা অন্যায় করেনি তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার এলাকার হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে চায়। কিন্তু আমাদের ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করি।
১২ দিন আগে
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠাই বিএনপির লক্ষ্য: ফখরুল
ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমার ভবিষ্যৎ বংশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও শহরের মানব কল্যাণ পরিষদ চত্বরে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ দেশে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন আমরা করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্ট আমরা সবসময় করে এসেছি।
‘আমি যখন চরমোনাই পীর সাহেবের সঙ্গে বসেছিলাম, আমরা ১০টা বিষয়ের মধ্যে একমত হয়েছিলাম। তার মধ্যে এটা একটা। অনেকেই আপনাদের বিভ্রান্ত করার জন্য বলে, আমরা নাকি কুরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না। নাউজুবিল্লাহ! আমরা সবসময় কোরআন-সুন্নাহর মধ্যে থাকতে চাই। আমাদের বংশ সেটা, আমাদের রক্তের মধ্যে সেটা। আমি গর্বিত যে আমি একজন মুসলমান।’
তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমি আমার ইবাদত শান্তিতে করতে পারব, আমার ধর্মচর্চা শান্তিতে করতে পারব, আমার ভবিষ্যৎ বংশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারব। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব নির্বাসিত অবস্থা থেকে দেশে আসার পরে কীভাবে স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণ ঢাকার রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের আলেম-ওলামারা সবাই সেটাকে পছন্দ করেছেন। তিনি সেখানে বারবার ইসলামের কথা বলেছেন, আল্লাহর কথা বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কে অনেকেই অনেক কথা বলে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আমরা এদেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলমান। আমাদের ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য আমরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছি।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একটি ক্রান্তিকালের মধ্যে পার হচ্ছে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, আন্দোলন হচ্ছে। দেশকে অস্থির করার জন্য পেছন থেকে কিছু লোক কাজ করছে।
আবার যেন অন্ধকারের দিকে চলে না যেতে হয়, সেজন্য আমাদের এই সময়ে একটু সাবধান থাকতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা যেন বিভেদ ও চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ি। নাহলে দেশ আমাদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে, সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনাও এসময় তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারে যেতে পারি, তাহলে অবশ্যই ঠাকুরগাঁওয়ে পুনরায় বিমানবন্দর চালু করা হবে। আপনারা মেডিকেল কলেজের কথা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন, সবগুলোই প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। এই ঠাকুরগাঁওয়ে যতগুলো স্কুল-কলেজ, মাদরাসা রয়েছে, আমি বিশ্বাস করি, তার ৯০ শতাংশে আমাদের অবদান রয়েছে।
‘আপনারা জানেন, বিএনপি একটা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে মাসিক সম্মানী-ভাতা দেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে। দক্ষতার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’
সবশেষে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়ে গেছে। এরপরে আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা জানি না। আমি আপনাদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন যে আমি অতীতে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, কাজ করতে পেরেছি, তাহলে দয়া করে আমাকে (নির্বাচনে) সহযোগিতা করবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফসহ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৮ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে হাড় কাঁপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন
পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন যাবৎ গভীর রাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত অনেকটা বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা। চারদিক ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে, ফলে সামান্য দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছে না। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
গতকাল (শনিবার) ও আজ এক মুহূর্তের জন্য সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সারা দিন সূর্য ঢাকা পড়ে আছে মেঘে ও কুয়াশায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো আবহাওয়া অফিস নেই। তবে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত কয়েকদিন ধরে ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। এ সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠেনি।
মেঘে ও কুয়াশায় ঢাকা পড়ে থাকায় সূর্য তাপ ছড়াতো পারছে না। তাছাড়া ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে।
এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়রা। অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হচ্ছে।
শীত থেকে রক্ষা পেতে শীতবস্ত্রের দোকান ও ফুটপাতে কম্বল, সোয়েটার ও জ্যাকেট কিনতে মানুষের ভিড় এখন অনেক বেশি।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সড়ক-মহাসড়কেও। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুরসহ বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। দিনের বেলায়ও চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রকিবুল আলম (চয়ন) জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিনই রোগীরা হাসপাতালে আসছেন।
তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বেশি।
এ অবস্থায় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা।
৩৮ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: ২ জনের কারাদণ্ড
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসকের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন তাদের আটক করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আসাদ আলী (২৫) এবং দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নুর আলম (৩৫)।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নুর আলম অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অপরদিকে আসাদ আলীকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আটক করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশাদুল হক। তিনি বলেন, নুর আলমকে ১৫ দিনের এবং আসাদ আলীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন রাজস্ব প্রশাসনের অফিস সহায়ক পদের এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে চার হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের প্রশ্নপত্র ছিল।
৪০ দিন আগে
পরকীয়ার অভিযোগে শালিসে মারধর, পরে মিলল গৃহবধূর মরদেহ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগে শালিস বৈঠকে এক গৃহবধূকে মারধরের পরদিন তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ কয়েকজনের নির্যাতন ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে না পেরে তৃপ্তি রায় (২৩) নামের ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের দক্ষিণ দোপাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের পবিত্র চন্দ্র রায়ের সঙ্গে একই এলাকার তৃপ্তি রায়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে—এলাকায় এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এর সূত্র ধরে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে পবিত্র রায়ের বাড়িতে তৃপ্তি রায়কে ডেকে নিয়ে বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার হিমুর উপস্থিতিতে শালিস বসে।
শালিসে চেয়ারম্যান হিমু ও ইউপি সদস্য মুসলিম উদ্দিন পরকীয়ার অভিযোগ তুলে তৃপ্তিকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। শালিস শেষে গৃহবধু তৃপ্তি রানীকে তার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে স্বামী যতীশ চন্দ্র রায় তাকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান।
পরদিন সকালে নওডাঙ্গা নয়াপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের পুকুরপাড়ের এক জাম্বুরা গাছে তৃপ্তি রায়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
তৃপ্তির স্বামী যতীশ চন্দ্র রায় বলেন, স্ত্রীকে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে দিনভর নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে ঘরে তুলিনি। অপমান সইতে না পেরে হয়তো সে আত্মহত্যা করেছে।
তৃপ্তির বাবা শীরেন চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, মেয়েকে শালিসের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে জামাই খবর দেয়, মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ দোপাইল গ্রামের বাসিন্দা দ্বীপঙ্কর রায় বলেন, এভাবে শালিস ডেকে একজন মেয়েকে চড়-থাপ্পড় মারা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। ঘটনার দিন অনেক লোক জড়ো হয়েছিল। সবাই চাপা গলায় কথা বলছিল। পরে শুনি মেয়েটা অপমান সহ্য করতে না পেরে লজ্জায় আত্মহত্যা করেছেন। খুব খারাপ লাগছে।
স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন বলেন, শুনেছি সকাল থেকেই ওকে নিয়ে টানাটানি হচ্ছিল। বিকেলের দিকে শালিস বসে। যেভাবে গালিগালাজ আর মারধর করা হলো, মানুষ হলে তো কষ্ট লাগবেই। আত্মহত্যা করুক বা যাই হোক, খুব অন্যায় হয়েছে মেয়েটার সঙ্গে।
স্থানীয় কৃষক সাদেকুল বলেন, পরকীয়া নিয়ে গুঞ্জন ছিল, তাই বলে শালিসে মারধর করবে? ইউনিয়ন পরিষদ যদি বিচার করতে গিয়ে নিজেরাই অপমান করে, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে?
ইমন আলী নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা খবর পাই যে মেয়েটাকে রাতে বাড়িতে নেয়নি তার স্বামী। দিনভর অপমান আর রাতে কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলে যে কেউ ভেঙে পড়বে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈরচুনা ইউপি চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার বলেন, এ ব্যাপারে কিছু বলব না। থানায় এজাহার হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।
ঘটনা সম্পর্কে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এটি আত্মহত্যা নাকি কোনো ধরনের প্ররোচনা বা হত্যার ঘটনা—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৫৮ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে সার বিতরণকালে মারধরের শিকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সার বিতরণের সময় মারধরের শিকার হয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার উমরাডাঙ্গী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, মল্লিক ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেনের তত্ত্বাবধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতারুল ইসলামের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় তিনটি ভ্যানে করে ৩৩ বস্তা সার নিয়ে যাচ্ছিলেন পাঁচজন কৃষক। এতে সার নিতে আসা অন্য কৃষকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে একপর্যায়ে আকতারুল ইসলাম দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম তাকে সঙ্গে নিয়ে ফের বিতরণস্থলে এলে উপস্থিত লোকজন আকতারুল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তার দাঁত ভেঙে যায় এবং মাথায়ও গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সার বিতরণের শুরু থেকেই বাজার এলাকায় অস্বাভাবিক চাপ ছিল। সকাল থেকে কৃষকরা সার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ দেখা যায়, ভ্যানে করে কয়েকজন কৃষক একসঙ্গে অনেক বস্তা সার নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এতে লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের মনে হয়, সার বুঝি শেষ হয়ে যাবে বা কাউকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই চিন্তা থেকেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় উমরাডাঙ্গী বাজারের ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, সকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সার বিতরণ চলছিল। পরে দেখি কয়েকজন একসঙ্গে অনেক বস্তা সার তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তখন লাইনে থাকা লোকজন চেঁচামেচি শুরু করে। কে আগে সার পেল, কে পেল না—এ নিয়ে সবাই রেগে যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা মোতালেব আলী বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু ভিড় এত বেশি, আর মানুষের রাগ এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, কেউ একজন কথা কাটাকাটি করতে গিয়েই মারামারি লেগে যায়।
ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা মিজান বলেন, কেউ ইচ্ছা করে মারধর করবে—এমন মনে হয় না। কিন্তু যে ভিড়টা তৈরি হয়েছিল, তাতে ঠেলা-ধাক্কা-উত্তেজনা মিলেই পুরো ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কর্মকর্তার দাঁত ভেঙে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। এটা না হলেই ভালো ছিল।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো নয়। মাথায় জখম হয়েছে, দাঁত ভেঙে গেছে। চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগীর মতামত অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৩ দিন আগে
বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, দেশটাকে বাঁচান: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর আমি নিজেই বুঝি না। জনগণ বুঝবে কী! গণভোট হতে হবে বা পিআর হতে হবে, না হলে ভোট হবে না— এইগুলো বাদ দেন। দেশের মানুষ একটি নির্বাচন চায়। পিআর দেশের মানুষ বোঝে না। পিআরটা আবার কি? আগে ভোট হোক, তারপর কার কী দাবি আছে সেটা সংসদে গিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আপনারা দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না।’
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যে সব মতে দলগুলো একমত সেগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, বাকি মতের জন্য গণভোট হবে। দয়া করে নির্বাচনটা দিয়ে এসব অস্থিরতা কাটান। আর হিংসার রাজনীতি চাই না, হিন্দু-মুসলিমের বিভেদ চাই না; সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অতীতে সরকারে ছিলাম, কীভাবে পরিচালনা করতে হয় জানি। বিএনপি নির্বাচিত হলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যকটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনি নির্বাচিত হবেন। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশটার ক্ষতি করবেন না। একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠান দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো মনে হয় না। আপনাদের দাবিদাওয়াগুলো আপাতত বন্ধ রাখুন। আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। পিআর নিয়ে মিছিল-মিটিং বন্ধ করুন। দয়া করে নির্বাচনটা হতে দিন। বাংলাদেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের অস্থিরতা কাটুক। আপনাদের কাছে অনুরোধ, সঠিক সিন্ধান্ত নিন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবর সংস্কার সনদে সই হবে। কিসের সংস্কার? সংস্কার কাকে বলে? কী কঠিন কঠিন শব্দ! তারপরও আমরা করছি। কারণ সংস্কার হলো ঘরের টিন বদলানোর মতো। ঘরের দরজা বা টিন যেমন কয়েক বছর পরপর বদলাতে হয়, তেমনি রাজনীতিতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও ছাত্ররা মনে করেছে দেশটাকে ঠিক করতে হলে সংস্কার করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি চাই না। আমরা চাই একটি শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার সবাই মিলে সত্যিকার অর্থে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি ১১ বার কারাগারে গেছি। শেখ হাসিনা আমাকে ভয় করত, যে কারণে কারাগারে পাঠাত। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের অনেক ছেলে প্রাণ দিয়েছে। তাই আসুন সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করি।’
এ সময় গড়েয়া ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমতভক্তিবিনয় স্বামী মহারাজ, লসকরা গৌড়ীয় মঠ এর ধর্মীয় গুরু স্বামী ভক্তিকেতন মহারাজ, বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গড়েয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম রেদো।
১১২ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পাঠ্যবই বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলম, সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও মানিক নামে এক দোকানদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ( ২৮ আগস্ট) রাতে মোহাম্মদ আলম ও মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পীরগঞ্জ উপজেলার বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম গত বুধবার বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির ৫৬৪ কেজি সরকারি পাঠ্যবই মানিক নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পৌর শহরের শান্তিবাগ এলাকা থেকে বিক্রি হওয়া বইয়ের মধ্যে ৯০ কেজি বই উদ্ধার করে অফিসে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় রাতে প্রধান শিক্ষক মো. আলম, সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম এবং দোকানদার মানিকের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ। এ ঘটনায় পুলিশ আলম ও মানিককে গ্রেপ্তার করে। তবে সালাম পলাতক রয়েছেন।
পড়ুন: গাজীপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
আটক হওয়ার আগে বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলম জানান, কয়েকদিন আগে স্টোর রুমে একটি বিষধর সাপ মারা হয়। বুধবার আবার স্কুলের স্টোর রুমে সাপের আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে স্টোর রুম পরিষ্কার করা হয়। আমাকে না জানিয়েই সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম পুরাতন বইগুলো বিক্রি করে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ জানান, বই বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইউএনও নির্দেশে থানায় মামলা হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, সরকারি বই বিক্রি করার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন পলাতক আছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৫৮ দিন আগে