ঢাকা
হাতিরঝিলে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজারের মধুবাগ খেলার মাঠে দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে রাব্বি (১৯) নামে শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সে স্থানীয় মগবাজার আঞ্জুমান হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে দশটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাব্বি পঞ্চগড়ের ফুলতলা উপজেলার মো. ফারুক মিয়ার ছেলে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে বসবাস করত সে।
নিহতের সহপাঠী মেহেদী হাসান জানান, গতকাল রাতে মধুবাগের মাদরাসা মাঠ দিয়ে যাওয়ার সময় ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাব্বির বুকের বাঁ পাশে, পেটের ডান পাশ ও মাঝখানে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে আমরা খবর পেয়ে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে গেলেও রাব্বিকে আর বাঁচানো যায়নি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাতিরঝিল থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে নারী নিহত
রাজধানীর তুরাগের মেট্রো স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশা থেকে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে এক ছিনতাইকারী টান দিলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামের ওই নারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে তাকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন ।
ঢামেক থেকে নিহতের স্বামী লিমন হোসেন জানান, আমার স্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঈদের কেনাকাটা করে অটোরিকশায় চড়ে বাসায় ফিরছিল। পথে তুরাগের মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীরা আমার স্ত্রীর ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে সে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। ওখানে অবস্থার অবনতি হলে অন্য আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়ি রাজশাহী জেলা গোদাগাড়ী থানা ফরহাদপুর গ্রামে। বর্তমানে দক্ষিনখানের ফায়দাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ছিলাম আমরা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্মা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
২ দিন আগে
প্রস্তুতি যথেষ্ট, ঈদে রাজধানীতে নিরাপত্তার শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। এছাড়া ঈদ জামাতকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ‘যথেষ্ট প্রস্তুতি’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে। যদি কিছু হয়, আমাদের জানাবে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদসহ মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।
এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মো. সরওয়ার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ডিএমপির বোম ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। পুরো এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
৩ দিন আগে
এক ট্রেনেই চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুট, ট্রেন বাড়ানোর দাবি
একটি মাত্র ট্রেন দিয়ে চলছে ঢাকা–নড়াইল–খুলনা ও ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রেলপথের যাত্রীসেবা। একই ট্রেন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে চলাচল করায় দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া যাতায়াতের সুযোগ নেই। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয় নড়াইল জেলা। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে একটি মাত্র ট্রেন ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘জাহানাবাদ’—এই দুই নামে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল এবং খুলনা রুটে চলাচল করছে।
‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ নামে ট্রেনটি সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ছেড়ে সকাল সোয়া ৭টায় নড়াইলে পৌঁছায়। একই ট্রেন বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে বিকেল ৩টায় ছেড়ে নড়াইলে আসে বিকেল পৌনে ৫টায়। নড়াইল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো যায়। তবে রাতে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
রেলযাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘নড়াইল থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম এখন রেলপথ। কিন্তু সকাল ও বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
আরেক যাত্রী আ. আল-মারজান বলেন, ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগের সুবিধা হয়েছে ঠিকই, তবে মাত্র একটি ট্রেন দুটি নামে চলায় আমরা পুরো সুবিধা পাচ্ছি না। নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
আমেনা বেগম বলেন, ‘রেল চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। সকালে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারি, আবার রাতে বাড়ি ফিরি। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাতায়াত আরও সহজ হবে।’
নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, ‘ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে ট্রেন চালুর মাধ্যমে। তবে চাহিদা অনুযায়ী রেলসেবা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করেছে ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা দিয়েছে চীন।
৯ দিন আগে
সাভারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট, নির্দেশনা না মানার অভিযোগ
সাভারে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা না মানারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগিরা।
রবিবার (৮ মার্চ) সাভারের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আনন্দপুর এলাকায় এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনকে ১০০ টাকা সমমূল্যের অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। অপরদিকে, সাভারের পাকিজার মোড় এলাকার আফজাল ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন বিক্রি করছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এর বেশি কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।
এছাড়া সাভারের রেড়িও কলোনি এলাকায় সাহারা পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ হওয়ার পর গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) তা পুনরায় চালু করেছে পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ সময় সাভারের হেমায়েতপুর, যাদুর চর ও বাইপাইলে অবস্থিত ৫টি পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির একই চিত্র দেখা যায়।
এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে অকটেন কিনতে আসেন এমারত আলী তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে একবার ২ লিটার অকটেন নিতে পারব, কিন্তু এই পেট্রোল পাম্প ১০০ টাকার বেশি অকটেন বিক্রি করছে না। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা না মেনে তাদের ইচ্ছেমতো অকটেন বিক্রি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা খারাপ ব্যবহার করছে। এত অল্প তেল দিয়ে তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পৌর এলাকার পাকিজার নিকট আফজাল পেট্রোল পাম্পে অকটেন কিনতে এসে নেয়ামত উল্লাহ জানান, পেট্রোল পাম্পের লোকজনের কাছে আমরা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছি। তারা সরকারি নির্দেশনা না মেনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো তেল বিক্রি করছে। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই পাম্পে বাইকের জন্য অকটেন নিতে এসেছি। পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ২০০ টাকার বেশি অকটেন দিচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে এস আই চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩ দিন আগে
বসন্ত পড়তেই বৃষ্টিতে ভিজল ঢাকা
বর্ষা শেষ হয়ে শরৎ, হেমন্ত পেরিয়ে শীত; দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম শেষ হয়ে বসন্ত এসেছে কয়েকদিন হলো। এর মধ্যেই বৃষ্টির আগমনে প্রাণ সঞ্চার হলো প্রকৃতিতে।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকেই আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা। সূর্যের দেখা তেমনভাবে মিলছিল না। এরপর দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই নামে বৃষ্টি।
বিকেল সাড়ে ৩টার পরপরই ঝুপ করে শুরু হয় বৃষ্টি। তার সঙ্গে ছিল ঝড়ো হাওয়া। সব মিলিয়ে শুষ্ক ধুলায় ঢাকা রাজধানীতে স্বস্তির পরশ নিয়ে এসেছে এই বৃষ্টি।
অবশ্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বলছিল একই সম্ভাবনার কথা। আজ দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এর প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বৃষ্টির এই পূর্বাভাস আগামীকালও দেশের চার বিভাগে অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলেছে, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
১৯ দিন আগে
সাভারে হানিফ পরিবহনের বাসে আগুন
সাভারে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী পার্কিং করা বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এটি অগ্নিসংযোগ নাকি কেবলই অগ্নিকাণ্ড, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকায় কফিল পেট্রোল পাম্পের সামনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট আধা ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে, এ ঘটনায় আর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এলাকার কফিল পেট্রোল পাম্পের সামনে আরিচাগামী লেনে হানিফ পরিবহনের একটি বাস পার্কিং করা ছিল। হঠাৎ ওই বাসে পথচারীরা আগুন দেখতে পান। পরে সাভার ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
সাভার ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার ফাইটার আবু হানিফ বলেন, খবর পেয়ে আমাদের দুই ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা জানা যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গাড়ির যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে। তবে, এটি নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হানিফ পরিবহনের মালিক কফিলউদ্দিন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা।
৩৪ দিন আগে
রাতে রাজধানীতে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত
গতরাতে রাজধানীতে দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একটি দুর্ঘটনা ঘটে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এবং অন্যটি ডেমরায়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনের রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকচাপায় মো. জাহিদ (১১) নামে এক পথশিশু নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগি নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাহিদের বন্ধু রাব্বি বলে, আমরা দুজনেই রাস্তায় বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করি। আজ রাতে দনিয়া কলেজের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিলাম। এ সময় একটি ট্রাক আমার বন্ধুকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে আমিসহ কয়েকজন মিলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আমার বন্ধু আর বেঁচে নেই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এর আগে, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে লেগুনার সংঘর্ষে অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তি নিহত হন।
নিহত ব্যক্তি একজন ভ্যানচালক ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টার সেতুর ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালেরর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক জানান, রাত ১০টার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সেতুর ওপর সিএনজি ও লেগুনার সংঘর্ষ ঘটে। এতে পাশে থাকা ভ্যানচালক গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৬৩ দিন আগে
কুমিল্লায় সমাহিত হলেন উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ জন
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের তিনজনকে কুমিল্লায় তাদের নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ি প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কুমিল্লা নগরীর দারোগা বাড়ি মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে নানুয়াদিঘীর বাসভবনে মরদেহগুলো রাখা হয়।
আজ সকালে মরদেহগুলো তাদের নিজ গ্রামে নিয়ে গেলে এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসী নিহতদের এক নজর দেখার জন্য কাজী বাড়িতে ছুটে আসেন।
জানাজার নামাজে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) এবং তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান (৩) নিহত হন।
একমাত্র ছেলে রাব্বী, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন কাজী খোরশেদল আলম ও ফেরদৌস আরা বেগম দম্পতি। রাব্বীর মা কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘীরপাড়ের বাসায় আনা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (শনিবার) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
৬৩ দিন আগে
উত্তরায় অগ্নিকাণ্ড: ময়মনসিংহে পাশাপাশি সমাহিত হলেন এক পরিবারের ৩ জন
রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পড়েছে পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা, ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২) কাজের সন্ধানে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় যান। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন তারা। গতকাল (শুক্রবার) সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তার (১৫) নিহত হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হয়েছে। মসজিদের সামনে বাঁশ কেটে রাখা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, মাদরাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো মানুষের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
হারেছের দোকানে একসময় কাজ করতেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, তিনি দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তিনি দোকানে চলে গিয়েছিলেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।
হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন মানুষ মারা গেল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।
এই অগ্নিদুর্ঘটনায় মোট ৬ জন নিহত হয়েছে। অন্য তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তাদেরও নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
৬৩ দিন আগে