রান্নাঘর
ফেনী সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এখন ‘রান্নাঘর’
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হলেও কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। তার ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ডা. জামাল হোসেন, ডা. আদনান আহমেদ ও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ গত দুই বছর ধরে নিয়মিত রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম। স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন সময়ে সেখানে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ভোজের আয়োজনও করে থাকেন।
বৃহস্পতিবার রাকিব নামের এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বোনের প্রসববেদনা উঠলে তাকে আজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি, নার্সরা নাকি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন! এটা কেমন কথা? তাও দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে, ভাবা যায়?’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে নূর জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, “খাইছি; আরও খামু। কনে কিয়া (কে কী) কইরবো দেখা যাবে।”’
অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিব মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
আরএমও ডা. রোকন-উদ-দৌলা বলেন, ‘ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এটা আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। আমাদের পাঁচটা দিন সময় দিন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পরে তাকে এ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হলে প্রতিক্রিয়ায় এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালের কর্মচারী মোশারফকে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য পাঠান। তবে মোশাররফ সেখানে যাওয়ার আগেই রান্নার সামগ্রী লুকিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ফিরে এসে জানান।
ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তাতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
৭ দিন আগে
রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সিলেটে নারীসহ আহত ৬
সিলেটের বিশ্বনাথে রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর বাড়িতে সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- শ্রীধরপুর গ্রামের ওয়ারিছ আলী (৭০), তার স্ত্রী দিলারা বেগম (৬০), ছেলে মঈনুল ইসলাম (২৬), ফয়সল আহমদ (২৩), মৃত সিতাব আলীর ছেলে নাঈম আহমদ (১৭) ও আনছার আলীর ছেলে কামরান মিয়া (২২)। তাদের মধ্যে আগুনে দগ্ধ মঈনুল ইসলাম, ফয়সল আহমদ ও দিলারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ মামলায় আত্নসমর্পণের দিনই ২২ আসামির জামিন
ওয়ারিছ আলীর প্রতিবেশী মকসুদ খান ও মো. শাহিন জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ওয়ারিছ আলীর বাড়ির রান্নাঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের পাশেই মাটির চুলায় রান্না শুরু করার পর তারা বুঝতে পারেন গ্যাসের সিলিন্ডার হতে গ্যাস লিক হচ্ছে। এসময় তারা পানি দিয়ে লাকড়ির চুলার আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে ওই চুলা থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে পাশে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর পড়ে। তখনই সিলিন্ডারটি বিস্ফোরণ হয়। এতে দগ্ধ হন মঈনুল, ফয়সল ও তাদের মা দিলারা বেগম।
আরও পড়ুন: পৌর নির্বাচন: ফেনীর দাগনভূঞায় ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৩
এসময় বিস্ফোরণের আগুনে ফ্রিজসহ রান্নাঘরে রাখা সকল আসবাবপত্র পুড়ে যায়। দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার ও আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে মঈনুলের বাবা ওয়ারিছ আলী, চাচাত ভাই নাঈম আহমদ ও ভাতিজা কামরান মিয়া আহত হন।
আরও পড়ুন: গুলশানের ইউএই ভিসা সেন্টারে এসি বিস্ফোরণ: নিহত এক, আহত ৭
স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত মঈনুল ইসলাম, ফয়সল আহমদ ও তাদের মা দিলারা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপর আহতরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে গেছেন।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১
১৭৬৩ দিন আগে