টাঙ্গাইল
তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী
টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তাঁতপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
শনিবার (১ আগস্ট) টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি ভবন বা অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতী, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে তাঁতীদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে।
মো. শরীফুল আলম বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক। টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে। ‘এক গ্রাম, এক পণ্য-ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ ধারণাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশম ও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে। এসব পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতীদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও জিআই পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দর ব্যবহারে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতীরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁতীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইলের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে মো. শরীফুল আলম বলেন, মিলটি একসময় এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁতীরা আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁতীদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প আরও শক্তিশালী হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ মসময় অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩
টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মধুপুর উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেতু আক্তার (২২) ও তাজবীর (৮)। অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ক্রাউন ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মাদারগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি রক্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইলগামী একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন আহত হয়েছেন ।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
৪ দিন আগে
টাঙ্গাইলে শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইলে ৯ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে সাব্বির মিয়া (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত সাব্বির মিয়া সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। এ সময় সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে সাব্বির শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহটি পাশের একটি ধানখেতের নালায় কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন তিনি।
এরপর তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমো আইডি থেকে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার একদিন পর ৮ সেপ্টম্বর সেই ধানখেতের নালা থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, বিচার শেষে সামিয়াকে হত্যার দায়ে আসামি সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। এছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।
পিপি আরও জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০ দিন আগে
টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
টাঙ্গাইলের সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে নূরনবী (৬৪), নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে রফিকুল (১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ভোলা জেলার মো. সেলিমের ছেলে সুমন (২৬)। সুমন ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মন্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া বাজার-সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি ট্রাকে বাঁশ বোঝাই করার কাজ চলছিল। এ সময় বড়চওনার দিক থেকে আসা দ্রুতগতির মুরগিবোঝাই পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় ট্রাকে থাকা জহিরুলও গুরুতর আহত হন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৫৭ দিন আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৫ যাত্রী নিহত, আহত ৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ যাত্রী।
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রডবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটিতে চেপে কিছু মানুষ ঈদযাত্রায় ঘরে ফিরছিলেন। ভোরে ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ এবং যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ৬ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধার কাজের কারণে ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে যমুনা সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
৭২ দিন আগে
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
টাঙ্গাইলে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন।
সোমবার (৪ মে) ভোরে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের রাবনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে রাবনা ফ্লাইওভারের ওপর উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক সামনের একটি পিকআপকে ওভারটেক করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত এবং ২ জন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়া আহতদের একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
৯৩ দিন আগে
টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের সংঘর্ষে বাসের সুপারভাইজার ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান।
নিহতরা হলেন— গোপালপুর উপজেলার মনতলা গ্রামের লাল মামুদের ছেলে আতিকুল ইসলাম (৪০)। তিনি বাসের সুপারভাইজার ছিলেন। অপরজন একই উপজেলার পাকুয়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে মজনু মিয়া (৪৩)। দুর্ঘটনাকবলিত বাসের সহকারী ছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গোপালপুর থেকে ছেড়ে আসা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই বাসের সহকারী ও সুপারভাইজার নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তা স্বাভাবিক হয়েছে।
ওসি মো. মোকছেদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১০৬ দিন আগে
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি টাঙ্গাইল শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১০টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক মো. আবু কায়সার, মো. রোমান, শাহনুর আলম, মো. শাহ আলম, জুলেখা আক্তার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আক্তার, শামীমা আক্তার, লায়লা বেগম এবং তাহমিনাসহ ১৫ জনের হাতে কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসূচি চালুর সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে স্থানান্তরিত হয়। শুধু টাঙ্গাইলেই ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই অর্থ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই তিনি সরাসরি মঞ্চে যান এবং হাত নেড়ে উপস্থিত কৃষকদের অভিবাদন জানান। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল এবং ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়।
নববর্ষের দিন কয়েক হাজার কৃষক এবং নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠ এবং গ্যালারি—উভয় স্থানই লোকারণ্যে পরিণত হয়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ইসলাম।
দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষকদের সরাসরি সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির আওতায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি ডেবিট কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কার্ডটির মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ ঋণ, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার আপডেট ও ফসল-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিমার সুবিধা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক এবং মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। কর্মসূচিটি প্রথমে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে (প্রাক-পাইলট, পাইলট এবং দেশব্যাপী) বাস্তবায়িত হবে। প্রাক-পাইলট পর্যায়ে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই টাঙ্গাইল সদর ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে আসা অনেক কৃষক সরকারের এই নতুন উদ্যোগের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচির উদ্বোধনকে টাঙ্গাইলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উপস্থিত কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কার্ড বিশেষ করে বীজ, সেচ এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করবে।
১১২ দিন আগে
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
টাঙ্গাইল সদরে আগামীকাল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড বিতরণের এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
একই দিনে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জুড়ী উপজেলার ১ হাজার ১০০ জন কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষি বিমাসহ মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার। প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে ভূমিহীন (৫ শতাংশের কম জমির মালিক), প্রান্তিক (৫–৪৯ শতাংশ) ও ক্ষুদ্রসহ (৫০–২৪৯ শতাংশ) মোট ৫টি শ্রেণিতে কৃষকদের বিভক্ত করে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
১১৩ দিন আগে
টাঙ্গাইলে প্রশিক্ষণ চলাকালে শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ
টাঙ্গাইল জেলার মহেড়া পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (পিটিসি) প্রশিক্ষণ চলাকালীন ফায়ারিং বাটে দুর্ঘটনাবশত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মাসুম (১৯) নামে এক ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে প্রশিক্ষণ চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র্যাবের হেলিকপ্টারে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) মারুফ আব্দুল্লাহ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক।
তারা জানান, মহেড়া পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফায়ারিং বাটে পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎ একটি চায়না রাইফেলের গুলি মাসুমের পিঠের বাঁ কাঁধে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য র্যাবের হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঢামেকের চিকিৎসকরা।
১৯৭ দিন আগে