শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
এছাড়া দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন নির্ধারণ করবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করতে চাইলে আইন সেটা নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন উনি আপিল করতে চাইবেন, তখন আইন তা নির্ধারণ করবে। তার আগে না।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে ভারত হস্তান্তর করবে না বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যর্পণ আপনি আগে দেখেন, প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, সেটা দেখে তারপর প্রশ্ন করেন।’
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ — সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি মঙ্গলবার এজলাস ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। কখন, কীভাবে সমাধান করতে হয়, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
১০ দিন আগে
অনুমতি ছাড়া কনসার্ট, শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান; আয়োজক কারাগারে
গোপালগঞ্জে পুলিশের অনুমতি ছাড়া কনসার্ট আয়োজন এবং সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান পিয়ালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। পরে জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন মাইনুল আহসান নোবেল।
অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকসারি থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ‘শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’ স্লোগানে কনসার্ট এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। আয়োজকরা স্লোগান বন্ধ করতে দর্শকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। মঞ্চ থেকেও ঘোষণা দেওয়া হয়, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। তবে এরপরও স্লোগান অব্যাহত থাকায় রাত সোয়া ৯টার দিকে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, কনসার্ট আয়োজনের আগে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক করে অনুষ্ঠান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি নিজস্ব পার্টি সেন্টারের ভেতরে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু পুলিশের অনুমতি না নিয়েই কনসার্টের আয়োজন করা হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে হাফিজুর রহমান পিয়ালকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
১১ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন কিংবা ভারত থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা হোক, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে, এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন, এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। ‘আমরা এক্সপেক্ট করব, ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন।’
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এই অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারত, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছে না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।’
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষোভের, তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে, আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।’
সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক, সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।
১১ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনা, বেনজিরসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনা, বেনজীর আহমেদসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশনা দিয়ে এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ (বৃহস্পতিবার) এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় আনা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।
ট্রাইব্যুনালে আনা অপর আসামিরা হলেন: তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল ও ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।
পলাতকরা হলেন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান ও তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১১ আসামিকে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকৃত ব্যক্তিদের নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর না আসায় সময় চায় প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ মামলায় দুটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
১৬ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে সমর্থনকে অপরাধ গণ্য করতে আইন লাগবে: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হলে এ বিষয়ে আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বানানো যাবে না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকদের একাংশ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অপরাধের আওতায় নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। কয়েকজন সাংবাদিক এরই মধ্যে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কোনো কিছুকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আগ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা যায় না। আইন করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগই ছিল—সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা পরিকল্পিতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, সেটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে—এমন কোনো তৎপরতা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রচলিত আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন আইন করা যেতে পারে, তবে শুধু নতুন আইন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন নয়। তার মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার বিদ্যমান আইনেই অব্যাহত রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলাকালে কারও নাম নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা করা উচিত নয়।
প্রধান প্রসিকিউটর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্সেশনালিজমের (চাঞ্চল্য সৃষ্টি) জন্য যে কারও একটা নাম বলে ফেলা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলে গণমাধ্যম তখন বিষয়টি জানতে পারবে।’
১৮ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা খতিয়ে দেখতে খুবিতে তদন্ত কমিটি
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কোনো শিক্ষক জড়িত কি না, তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১১আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক কার্যালয়ের আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
কার্যালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা সূত্রের খবরে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি গোপন তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের কোনো গোপন অপতৎপরতায় জড়িত আছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
গঠিত কমিটিতে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলমকে সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: শিক্ষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জব্বার, আইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান ও সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ শারাফাত হোসেন।
আদেশে কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
হাদি হত্যার আসামি ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার তাগিদ ঢাকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ এবং শহিদ ওসমান হাদিকে হত্যায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে গেলে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মধ্যে এ দুটি বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আজ বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে স্বাগত জানান। এ সময় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাস দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
গত এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ষোড়শ হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় ভারত। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন।
গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঢাকায় কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
৪০ দিন আগে
সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি তাকে হতে দেওয়া উচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গী-সাথীদের তাদের দলে (জামায়াতে) নিতে গেলে অবশ্যই কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আমাদের কাছে কেউ অনুমতি চায়নি। অতএব কাউকে তাদের দলে নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি না, এখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসার উপযুক্ত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি হত্যা করেছে। তারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে। গুম হওয়া মানুষদের সবাই এখনও ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় খোলস বদল করে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে চলে আসবে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের মধ্যে অনুশোচনা নেই। পাশের দেশ থেকে উসকানি অব্যাহত রেখেছে। দল ভারী করার জন্য তাদের (আওয়ামী লীগকে) রাজনীতিতে সামিল করলে তা হবে অন্যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলো তাকে ফেস করতে দেওয়া উচিত। বিচার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যায্য বিচার চাই না।
তিনি বলেন, সংসদে কৌশলগত বিষয় এলে সরকার বিরোধী দলকে সহজে কথা বলতে দেয় না। সংসদে পদ্ধতিগতভাবে কথা বলতে গেলে মাঝে মধ্যে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। তবে সে দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার তাকে বাধা দেন না। তিনি আশা করেন, সরকার এই বাধা তুলে নেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নানান সমস্যা আছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের জনগণ সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণ পাঁচ বছর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম বিবেচনায় নেবে। পাঁচ বছর পরে জনগণ বিচারের রায় প্রদান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসলে শারীরিক ব্যায়ামের জায়গা নেই। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতিতে মাসল পাওয়ারের ব্যবহার দেখে আসছি। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা, এখানে শারীরিক কসরতের জায়গা নেই। বুদ্ধি-বিবেচনা করে রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতের চারজন খুন হয়েছেন। সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের পেতেই হবে। তা না হলে রাজনীতিতে আমাদের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি দলের। দায়িত্বশীল ভূমিকা তাদেরকেই পালন করতে হবে। সরকারি দল যত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেবে, দেশ তত সুন্দরভাবে চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যেখানে সহযোগিতা করা দরকার সেখানে সহযোগিতা করে থাকি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার সেখানে বিরোধিতা করি।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দল সরকার পরিচালনা করলেও দেশের সমস্ত মানুষ সরকারকে ভোট দেয় না। মানুষ তার পছন্দমতো ভোট দেয়। এটাই গণতন্ত্রের ভাষা। এ সময় মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখা এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমি এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল পরিচালক ও সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াত নেতা বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম প্রমুখ।
৪৩ দিন আগে
হাসিনা গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে আসলে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা খুন, গুম ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তবে অবশ্যই তার দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা। হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক।
শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার-সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি। এতদিনেও কি তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে? তিনি কি এতগুলো অপরাধের জন্য জনগণের কাছে মাফ চেয়েছেন?’
বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব।’
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় ও স্মরণসভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
৪৩ দিন আগে