শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার অপচেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পুনর্নির্ধারণ করা হতো। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না।
অতীতের মজুরি পুনর্নির্ধারণের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
ডা. জাহেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পোশাকশ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। সরকার এ বাস্তবতা অস্বীকার করছে না। শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই নির্ধারিত সময়ের আগে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও যেভাবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু মানুষের মধ্যে যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না বলে তিনি মনে করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির কাছে থাকা বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে এসব অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরকেন্দ্রিক নয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে সরকার মনে করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা ডিসেম্বর না। এটা পুরো সময়, যতদিন উনি বেঁচে আছেন, উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করব।’
এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম দিনে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ওই সময় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। সেই মানসিকতার প্রতিফলন এখনও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত, কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে।
পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ কখনোই হাসিনার আমলের পুলিশের মতো হবে না। নাগরিক হিসেবে তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বল প্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে। তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে এবং আনুপাতিক হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা দেখা গেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় নয়, নাগরিক হিসেবেও তিনি বিষয়টি বলছেন। সরকার চায়, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় ও ক্ষয়ক্ষতি যেন যতটা সম্ভব কম হয়।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে কারা যুক্ত হচ্ছেন এবং কীভাবে এসব ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে সরকার এমনভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়, যাতে জনগণের ওপর এর প্রভাব কম পড়ে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে ডা. জাহেদ বলেন, শুরুতে শ্রমিকদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে এলে তাদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও পক্ষে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কঠিন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনা ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন: ডা. জাহেদ
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতি নয়, বরং ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার বাধা দেবে না। তবে দেশে ফেরার পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি যদি নিজেই আসেন, তাহলে তো ভালো। তাকে আর ধরে-বেঁধে আনতে হবে না। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি আসলে বিচারের মুখোমুখি হবেন।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে আলোচনা না করাই ভালো।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের কথা বলছেন। পরে হয়তো জুনের কথা বলবেন। এভাবে ছয় মাস পরপর একই আলোচনা চলতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা বা বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অর্থহীন।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিচার হবে। তার বিরুদ্ধে কোনো মব বা বেআইনি আচরণ করা হবে না। তিনি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন।
সরকার ন্যায়বিচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অন্যায়ের জবাব দিতে চায় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
৭ দিন আগে
ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে সরকার কাউকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুনছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে প্রতিবেশী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি শুরু থেকেই এ ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।
এ সময় দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ সরকার দেবে না বলে সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। কোনো অপশক্তিকে না, কোনো পতিত শক্তিকে না, কোনো ফ্যাসিস্টকে না, কোনো পলাতক অপরাধীকে না, কোনো গণহত্যাকারীকে না।’
গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া এবং শত শত নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগাম সতর্কতায় শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা
এবার ১৫ থেকে ১৭ বছর পর দেশে শান্তিপূর্ণভাবে, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং দেশের সব স্তরের মানুষের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেছে। এবার এসব অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়েছে।
সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কেন্দ্র পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতি মুহূর্ত মনিটরিং করা হয়েছে।
এছাড়া দুর্গোৎসব ঘিরে দুই-একটি ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা আগেই উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সে অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের কিছু কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। টহলরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে গেলে তারা হামলার শিকার হন। পুলিশ সদস্যরা সংখ্যা কম ছিলেন।
ঘটনাটির ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রাঙ্গামাটির সাজেকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ ছাড়াও একই ধরনের নামে আরও কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে।
পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পাহাড়ের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আরও নেবে।
এছাড়া স্থানীয় হেডম্যান ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
৯ দিন আগে
হাসিনার বিচার দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী: শাহে আলম
দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মীর শাহে আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ইতিহাস কখনও মুছে ফেলা যায় না, সত্যকেও আড়াল করে রাখা যায় না। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—এই ইতিহাস পাল্টানো যাবে না। খালেদা জিয়া আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন, তার সেই রাজনৈতিক অবস্থানও কেউ বদলে দিতে পারবে না।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হয়, দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুক। কারণ দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে।’
সরকার প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চায় বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ স্থানীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
১০ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা: মুশফিকুল
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও চীন-ভারত ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ভারতকে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব একটি দেশের জনগণের সঙ্গে গড়ে তুলতে হয়; তা কোনো একজন নেতা বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
২৪ দিন আগে
হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় তো রয়েছেই, তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন আরও দ্রুত সম্পন্ন হয়—ভারত সরকার সেই দিকে নজর দেবে বলেই আমরা আশা করি।’
দুই দেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং ভারত সরকারেরও একই ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।
প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামোর আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ করা অবশ্যই সম্ভব এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল (শনিবার) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনাদের সরাসরি উত্তর দিতে গেলে, ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় আইনি বিষয় জড়িত, আর এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া। সুতরাং সেই দিক থেকে প্রক্রিয়াটি চলমান।’
বিষয়টি আদালত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় চলমান বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনেরর অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হাইকমিশনার।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো গোপন করে রাখার কোনো মানে নেই, আর বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো মানে নেই।’
বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ, পরিবহনসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে, তবে তা থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে যথাযথ ফোরামে সংলাপ হতে হবে। আর সেই সংলাপ হতে হবে ধারাবাহিক।’
ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়ায় কোনো বিরতি নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বাস করুন, এর সমাধান হতে হবে এবং সমাধান হবেই।’
৩০ দিন আগে
হাসিনাকে ভারতীয় বিমান বা সেনাবাহিনী ভারতে আনেনি: ত্রিবেদী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
৩১ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
এছাড়া দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ দিন আগে
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন নির্ধারণ করবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করতে চাইলে আইন সেটা নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন উনি আপিল করতে চাইবেন, তখন আইন তা নির্ধারণ করবে। তার আগে না।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে ভারত হস্তান্তর করবে না বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যর্পণ আপনি আগে দেখেন, প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, সেটা দেখে তারপর প্রশ্ন করেন।’
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ — সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি মঙ্গলবার এজলাস ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। কখন, কীভাবে সমাধান করতে হয়, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
৫৫ দিন আগে
অনুমতি ছাড়া কনসার্ট, শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান; আয়োজক কারাগারে
গোপালগঞ্জে পুলিশের অনুমতি ছাড়া কনসার্ট আয়োজন এবং সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান পিয়ালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। পরে জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন মাইনুল আহসান নোবেল।
অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকসারি থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ‘শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’ স্লোগানে কনসার্ট এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। আয়োজকরা স্লোগান বন্ধ করতে দর্শকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। মঞ্চ থেকেও ঘোষণা দেওয়া হয়, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। তবে এরপরও স্লোগান অব্যাহত থাকায় রাত সোয়া ৯টার দিকে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, কনসার্ট আয়োজনের আগে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক করে অনুষ্ঠান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি নিজস্ব পার্টি সেন্টারের ভেতরে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু পুলিশের অনুমতি না নিয়েই কনসার্টের আয়োজন করা হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে হাফিজুর রহমান পিয়ালকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
৫৬ দিন আগে