ভিসা জটিলতা
বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ নৌ পরিবহনমন্ত্রীর
বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) বিভিন্ন দেশে ভিসা, ট্রানজিট ও ক্রু চেঞ্জ-সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক, রেলপথ, সেতু ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেরিটাইম কাউন্সিলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মেরিটাইম শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীজনরাও উপস্থিত ছিলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাংলাদেশের নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।
সভায় বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্রানজিট ভিসা, ক্রু চেঞ্জ ভিসা, শোর পাস এবং এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তিতে বিদ্যমান জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাবিক সরবরাহকারী দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজে নিয়োগ, ক্রু রিলিফ এবং কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ফলে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাবিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার এবং আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ২০২৮ সালের আইএমও মেম্বার স্টেট অডিট স্কিমের (আইএমএসএএস) প্রস্তুতি, ২০১৭ সালের অডিটে চিহ্নিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির অগ্রগতি ও একটি সমন্বিত জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলি (টিএসডিএফ) স্থাপনের রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) ‘নেট-জিরো ফ্রেমওয়ার্ক’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহার-সংক্রান্ত জাতীয় তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠা, কার্বন নির্গমন বেসলাইন প্রণয়ন ও বাঙ্কার ফুয়েল মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাশাপাশি সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, আইএমডিজি কোড বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ‘ডেঞ্জারাস গুডস ভ্যালিডেশন মডিউল’ সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় দেশের সামুদ্রিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ন্যাশনাল মেরিটাইম পলিসি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ নীতিমালার মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন, ব্লু ইকোনমির বিকাশ, বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও সামুদ্রিক খাতের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
১ দিন আগে
ভিসা জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আমাদের ভিসার যে অবনমন ঘটেছে এবং সেটার জন্য আপনারা অনেকগুলো দিন সময়ও পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের ভিসা-পাসপোর্টের মান এত নিচে রয়েছে যে অনেক দেশের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সাংবাদিকরা তা জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা মাত্র সাড়ে চার মাস হলো সরকার গঠন করেছি। এর আগ থেকেই ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ছিল।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা বন্ধ রয়েছে এবং এ বিষয় সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভিসা বন্ধ থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক বাংলাদেশি বৈধ পথের পরিবর্তে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার করেন। এসব সমস্যাও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছি।’
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছি।’
১৩ দিন আগে
ঈদ অবকাশ: ভিসা-মুক্ত এশিয়ায় সেরা ভ্রমণ গন্তব্য
ঈদের ছুটি মানেই বিরামহীন কর্মব্যস্ততা থেকে বড় সময়ের জন্য অব্যাহতি। কর্মচাঞ্চল্যে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা ভ্রমণপিপাসু মানুষগুলো মুখিয়ে থাকে এই মৌসুমের জন্য। ছুটির পরিসরটা পর্যাপ্ত হওয়ায় অনেকেই চিন্তা করেন দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার। কিন্তু যখন ভিসা জটিলতার ব্যাপার আসে, তখনই ছুটিকে ঘিরে যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাছাড়া ট্যুর শেষ করে অফিস শুরুর আগেই তাড়া থাকে দেশে ফেরার। এই দুটো শর্ত পূরণেই অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে এশিয়ার ভিসামুক্ত দেশগুলো। হেনলি পাসপোর্ট ইন্ডেক্স অনুসারে ২০২৪ সালে এশিয়ার ৪টি দেশের ভিসা নিয়মনীতি শিথিল রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। চলুন, সেই দেশগুলোর দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
এই ঈদে ভিসা ছাড়াই ঘুরে আসতে পারেন এশিয়ার যে দেশগুলোতে
ভুটান
পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার স্থলবেষ্টিত এই দেশটির উত্তরে চীন এবং দক্ষিণে ভারত। একদিকে স্থাপত্যশিল্পের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, অন্যদিকে রাফটিংয়ের জন্য এশিয়ার সেরা গন্তব্যগুলোর একটি এই ভুটান। দেশটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গাংখার পুয়েনসাম বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়া, যেটি এখন পর্যন্ত আরোহণ করা সম্ভব হয়নি। ভুটানের বিশেষত্বের মাঝে আরও রয়েছে এর বৈচিত্র্যপূর্ণ বন্যপ্রাণী, যার মধ্যে রয়েছে হিমালয় টাকিন এবং সোনালি ল্যাঙ্গুর।
ভুটানের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা
পারো
বিমান বন্দর থেকে নেমেই সোজা চলে যেতে হবে ভুটানের সর্বোচ্চ রাস্তা লা পাসে’তে। কেননা এখান থেকে দেখা মিলবে জলমহরি পর্বতের মোহনীয় দর্শন। অন্যান্য দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইগারস নেস্ট, কিচু মনস্ট্রি, পারো চু, রিনপুং জং, পারো মনস্ট্রি এবং তাং সাং।
আরও পড়ুন: ১০ হাজার টাকা বাজেটে দেশের বাইরে কোথায় ঘুরতে যাবেন?
থিম্পু
সমদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৭৫ থেকে ৮ হাজার ৬৮৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রাজধানী শহর থিম্পুর সর্পিলাকার রাস্তা উন্মাদকতা তৈরি করে পর্যটকদের মনে। রংবেরঙ্গের বাড়িগুলো যেন রঙের ফেরিওয়ালা।
শহরেই ঘোরার মাঝেই চোখে পড়ে মেমোরিয়াল চর্টেন, সিটি ভিউ পয়েন্ট, ক্লক টাওয়ার, থিম্পু জং, থিম্পু নদী, পার্লামেন্ট হাউস ও থিম্পু ডিজং।
পুনাখা
যাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষ হলেও বিস্ময়কর সুন্দর দোচুলা পাস থেকে ফেরার পথে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে পুনাখার অন্যান্য সৌন্দর্য্যগুলোও। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনাখা জং, ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম, আর্ট স্কুল ও ন্যাশনাল লাইব্রেরি। রাফটিংয়ের জন্য ভুটানের খ্যাতিটি মূলত এই পুনাখার কারণেই।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ ১০ দর্শনীয় স্থান: শীতের ছুটিতে সাধ্যের মধ্যে ভ্রমণ
ভুটানের ভিসামুক্ত ভ্রমণ রীতি
ভুটানে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। তবে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ বাংলাদেশ প্রস্থানের তারিখ থেকে অন্তত ৬ মাস বেশি থাকতে হয়। সেই সঙ্গে কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকা আবশ্যক। ভুটানে প্রবেশের আগ মুহূর্তে কাস্টমস কর্মকর্তা এগুলোর একটিতে ভিসা স্ট্যাম্প যুক্ত করে দেন।
এ সময় এসডিএফ (সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি) হিসেবে প্রতি দিনের জন্য ২০০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয়। বাংলাদেশি টাকায় এটি ২১ হাজার ৮৫২ টাকার (১ মার্কিন ডলার = ১০৯ দশমিক ২৬ বাংলাদেশি টাকা) সমান। ৪ দিনের এসডিএফ দিয়ে অতিরিক্ত আরও ৪ তথা মোট ৮ দিন থাকা যায়।
ভুটান ভ্রমণ খরচ
ভিসা ছাড়া ঢাকা থেকে ভুটান গমনের আকাশপথই একমাত্র উপায়। রাউন্ড ট্রিপের টিকিট কেটে রাখলে খরচ হবে ৬৭৩ থেকে ৮৪২ মার্কিন ডলার, যা ৭৩ হাজার ৫৩৫ থেকে ৯২ হাজার টাকার সমান। বিমানে মাত্র ১ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে ভুটানের পারোতে পৌঁছা যায়।
৫ দিনের ভ্রমণের জন্য এখানে খরচ হতে পারে জনপ্রতি কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬৫০ থেকে থেকে ৩৭ হাজার ৮৮০ গুলট্রাম। বাংলাদেশি টাকায় যেটি ২১ হাজার ৮৫৪ থেকে ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকার (১ ভুটানি গুলট্রাম = ১ দশমিক ৩২ টাকা) সমতূল্য। এর মধ্যেই থাকা-খাওয়াসহ অভ্যন্তরীণ যাতায়াত খরচ অন্তর্ভূক্ত।
আরও পড়ুন: সাধ্যের মধ্যে মালদ্বীপের বিকল্প হতে পারে এশিয়ার যেসব ট্যুরিস্ট স্পট
মালদ্বীপ
ভারত মহাসাগরে মাঝে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্রটি এশিয়ার সবচেয়ে ছোট দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর স্থলভাগের উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক বিন্দু মাত্র ৭ ফুট ১০ ইঞ্চি। যে কারণে মালদ্বীপ বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশ হিসেবে পরিচিত।
মালদ্বীপে কোথায় ঘুরবেন
মালে
মালদ্বীপের সবচেয়ে বড় এই শহরের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে দেশের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর সঙ্গে। এখানকার আকর্ষণ প্রবাল পাথরে বানানো হুকুরু মস্ক বা ওল্ড ফ্রাইডে, ভারুনুলা রালহুগান্ধু, মালে মাছ বাজার, সুনামি স্মৃতিস্তম্ভ, মালে জাতীয় জাদুঘর এবং মুলি আজ প্যালেস। স্নোর্কেলিং ও সার্ফিংয়ের স্বর্গরাজ্য এই মালে দ্বীপ।
হুলহুমালে দ্বীপ
মালদ্বীপের বৃহত্তম এই দ্বীপটি মূলত বাজেট হোটেল বা রেস্তোঁরার জন্য বিখ্যাত। রাজধানী মালে থেকে কাছাকাছি হওয়াতে নিমেষেই চলে আসা যায় হুলহুমলে সেন্ট্রাল পার্ক, হুলহুমলে বিচ, হুকুরু মিসকি এবং এইচডিসি বিল্ডিং দেখতে।
আরও পড়ুন: দিল্লি ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ভবিনফারু দ্বীপ
এখানে ভিড়ের প্রধান কারণ হলো সৈকতের বন্যান ট্রি ভবিনফারুর ঘরগুলো। ঘুরে দেখার সময় পর্যটকগণ জেট স্কিইং, প্যারাসেইলিং এবং স্নোর্কেলিং করতে কখনই ভোলেন না।
৮৫৭ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: মোমেন
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে. আব্দুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশকে নিজেদের অভিবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিতে পারে। ২০২১-২২ সালে অভিবাসন প্রত্যাশী শরণার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে একথা উঠে আসে।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের সাথে নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০২১ সালে সাড়ে ৬২ হাজার এবং ২০২২ সালে ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রদান করা হবে। জো বাইডেন প্রশাসনের নতুন এই সিদ্ধান্তের বেশ প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত এবং বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বেশি সহায়তা দেয়া দেশ যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও এ সময় আশা ব্যক্ত করেন ড. মোমেন।
আলোচনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, ১৮ মে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমেরিকা আবারও সকলের কাছে সাহায্যের বিষয়টি তুলে ধরবে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, বাইডেন প্রশাসন কর্তৃক মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হওয়া যুদ্ধপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন: অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা পেতে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি ৪০ লাখ ভ্যাকসিন চায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি ড. মোমেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস পূর্বের সকল ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল করায় এবং নতুন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বন্ধ রাখায় অনেক শিক্ষার্থীই তাদের ফান্ডিং এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারানোসহ নানা আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদশে চলমান লকডাউনে কারণে বেশ কয়েকটি ইন্টার্ভিউ স্লট বাতিল করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, লকডাউন শেষ হলেই ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সকল শিক্ষার্থীদের ভিসা ইন্টারভিউয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তবে বৃহস্পতিবারের আলোচনার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা ও করণীয় বের করা।
আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৪০ লাখ ডোজ করোনা টিকা দেয়ার আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি আমেরিকার কাছ থেকে আরও ২ কোটি ডোজ অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের চাহিদার কথা জানান তিনি।
ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে মিলার আশ্বস্ত করে বলেন, মার্কিন সরকার বাংলাদেশের প্রস্তাবের ব্যাপারে কাজ করছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া কিছুটা সময় সাপেক্ষ বলেও জানান তিনি।
এ সময় মিলার বলেন, ‘আমেরিকা এখনও ভারতকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দেয়নি। আশা করছি ভারত ও বাংলাদেশকে একই সময়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।’
কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে জোর দেন।
এদিকে বুধবার (৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করোনা টিকার মেধাস্বত্ব প্রত্যাহারের দাবির প্রতি সমর্থন জানানোকে সমর্থন জানিয়েছেন ড. মোমেন।
তিনি মনে করেন, এর ফলে উন্নয়শীল ও দরিদ্র দেশগুলো নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করে সহজেই করোনা মোকাবিলা করতে পারবে।
এ সকল বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার।
১৯১৬ দিন আগে