দিনাজপুর
বড়পুকুরিয়ায় আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ
বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে একমাত্র সচল ছিল ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি। অন্যদিকে ৫ বছর ধরে বন্ধ ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর আরেকটি ইউনিট। এ ছাড়াও ওভার হোলিং (রক্ষণাবেক্ষণ) কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটিও।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কেন্দ্রে ১ নম্বর ইউনিটে বয়লারের আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে শনিবার (২ মে) রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বয়লারের গরম পানি শীতল এবং টিউব পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে আরও ৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে।
এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল একই ইউনিটে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত ৬দিন বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। টিউব পরিবর্তন করে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছিল ইউনিটটি। তার ফলে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছিল ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি টিউব বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে তৈরি বাষ্প ইঞ্জিনে পৌঁছাতে অসংখ্য টিউব রয়েছে প্রতিটি ইউনিটে।
পাশ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তেলিত কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত এবং কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচ সুবিধার সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিটে শুরু হয়েছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়েছিল। তবে ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি কেন্দ্রটিতে।
১ দিন আগে
অচলাবস্থার অবসান, বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু
ছয় দিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট। এতে করে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) রাত ১০টা থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এতে উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি গতকাল (শুক্রবার) রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে ইউনিটটি গত ২৫ এপ্রিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এই প্রকৌশলী আরও বলেন, বন্ধ থাকা ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের ওভার হোলিংয়ের কাজ চলছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সেটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও বাড়ানো যাবে। এ ছাড়াও ৫ বছর ধরে অচল পড়ে থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি মেরামত করে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার নিশ্চিত এবং কৃষি প্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচের সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল।
শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যুক্ত করা হয়েছে। তবে ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রটি কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
৪ দিন আগে
দিনাজপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘুমন্ত দম্পতির মৃত্যু
দিনাজপুর শহরের আশ্রমপাড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) মধ্যরাতে শহরের আশ্রমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— তপন সরকার (৪৫) এবং তার স্ত্রী লতা সরকার (৩৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনই দোতলা ঘরের একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন। একই কক্ষে গ্যাস সিলিন্ডার এবং ম্যাজিক চুলায় রান্না করতেন তারা। গতকাল রাত ১টার দিকে ওই কক্ষে আগুন এবং ধোয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সে খবর দেন স্থানীয়রা।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ওই সময় সেখান থেকে স্বামী-স্ত্রীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম জানান, স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের সম্মতি দিয়েছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
১৬ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি ও চিকসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হৈচৈ ও চিকিৎসককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভর্তি বা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল রাতে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউতে নেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের জানানো হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যান।
এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লা আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হৈচৈয়ের কারণে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীর চিকিৎসাও ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য তারা তালা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপর আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গেটের তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলী নামে রোগীর এক স্বজনকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, বারবার হামলা এবং চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে কাজে যোগ দেয়নি ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। অচলাবস্থা অবসানে দুপুর ১২টার দিকে বিভাগীয় প্রধানসহ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলোচনায় ডেকেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান।
২৩ দিন আগে
বীরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে আব্দুল জলিল (২৭) নামক নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার সময় খবর পেয়ে নিহতের বাড়ির পাশের ভুট্টাখেত থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
আব্দুল জলিল বীরগঞ্জের ৬ নম্বর নিজপাড়া দামাইক্ষেত্র প্রামাণিক পাড়ার দুলাল মিয়ার ছেলে ছিলেন।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে হাবলুহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরে রাতের খাবার শেষ করে পাশের একটি বাজারে গিয়েছিলেন আব্দুল জলিল। বাজার থেকে ফিরে ঘরে শুয়েছিলেন তিনি। পরে ঘরে গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার স্বজনরা। কয়েক ঘন্টা ধরে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে বাড়ির পাশেই ভুট্টাখেতের আইলে জলিলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান তার চাচাতো ভাই আইনুল এবং প্রতিবেশী বেলাল।
বীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য কোনো আলামত চোখে পড়েনি তাদের। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহটি উদ্ধার করে আজ (সোমবার) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেছেন তারা।
২৯ দিন আগে
দিনাজপুরে পিডব্লিউ কার্যালয় সংস্কারের পরিবর্তে হস্তান্তর, স্থানীয়দের ক্ষোভ
সাম্প্রতিক ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশনের রেলপথ ও প্রকৌশল (পিডব্লিউ) কার্যালয় সংস্কারের পরিবর্তে জয়পুরহাট জেলায় হস্তান্তরের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঝড় ও বাতাসের ঝাপটায় গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কার্যালয়টি। তবে তা সারিয়ে তুলতে ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, হিলি রেলস্টেশনটি ব্রিটিশ আমলের নির্মিত একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। একসময়ে বিরামপুর থেকে সান্তাহার পর্যন্ত রেলপথের ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, সিগন্যালিংসহ স্টেশন পরিচালনার কাজ পরিচালিত হতো ওই কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে।
তাদের অভিযোগ, কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার ফলে আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম; নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সম্পদ। এতে আগামীতে রেলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা ।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার খান জানান, হিলি রেলস্টেশনটি আমাদের গর্ব, কিন্তু অফিস সরানোর কারণে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবনের আশপাশের রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় সেগুলো চুরিসহ খোয়া যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পিডব্লিউ কার্যালয়টি অব্যবহৃত থাকায় গবাদিপশুর চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
পিডব্লিউ কার্যালয়টি পুনরায় হিলিতে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হিলি রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, কার্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত জয়পুরহাটে অস্থায়ীভাবে কার্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমোদনে সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ চলছে।
৩৭ দিন আগে
দিনাজপুরে ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ বাসযাত্রী
দিনাজপুরের বিরামপুরের চন্ডিপুরে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বাস হেরিটেজ স্লিপার কোচের সঙ্গে বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে বাসের ২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর।
রবিবার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুইজনের মধ্যে মোশারফ হোসেন বাবু (৫৭) মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের দক্ষিণ রাহিখাল গ্রামের খবির উদ্দিন শেখের ছেলে। অন্যজনের পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।
বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআাই) এরশাদ জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, নিহত দুইজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানতে পেরেছি। অন্যজনের পরিচয় বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
৩৮ দিন আগে
রাতভর বৃষ্টিতে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গোর এ শহীদ ময়দানে লাখো মুসল্লির ঢল
দিনাজপুরের গোর এ শহীদ বড় ময়দানে প্রায় লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে আদায় করা হয়েছে ঈদুল ফিতরের নামাজ।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তর এই ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন আশপাশেরসহ দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা।
নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমি। অংশ নেন স্থানীয় এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
ঈদের নামাজ উপলক্ষে ময়দান ও আশপাশজুড়ে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতরাতে দিনাজপুরে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সঙ্গে ঝড়ো বাতাসের কারণে আজ সকালে নামাজ আদায় নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন মুসল্লিরা। সকালেও মাঠজুড়ে ছিল বৃষ্টির পানি। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি শুকিয়ে যায় মাঠে জমে থাকা পানি স্তরও।
প্রতিকূল আবহাওয়ার পরেও বৃহৎ এই জামাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি মুসল্লিরা।
৪৬ দিন আগে
কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষক ও কৃষাণী ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বিএনপির রাজনীতি। বিএনপি জনগণের দল জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সরকার পরিচালনা করব।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ‘শাহাপাড়া খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, খাল খনন কর্মসুচির মাধ্যমে আমরা দেশ গড়ার কর্মসুচিতে হাত দিলাম। কৃষক ও কৃষানের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
তারেক রহমান বলেন, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ শাহাপাড়া খালটির খনন কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে ১২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং এলাকার সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে এই খালের সুবিধা ভোগ করবেন। এতে এই এলাকায় আগের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি ফসল উৎপাদিত হবে।
এ সময় শুধু খাল খননই নয়, খালের দুই পাড়ে সাত হাজার বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আমরা সুদসহ সেই কৃষি ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি। দেশের চার কোটি পরিবারের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার মায়ের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেডগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর এ বিষয়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমরা বসব।
বিএনপি সরকারকে ‘কৃষকবান্ধব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য হলো মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। আজকে যে মানুষটি মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে, আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যে তার আয় যেন ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়, আমরা সেই পলিসি নিয়েই কাজ করছি। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে।
দেশের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশের উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। জনগণই হচ্ছে আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। এই দেশের মানুষই একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে এবং ২৪ সালে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার বিদায় করেছে। এ মানুষগুলোই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
তবে বিভিন্ন রকম মিষ্টি কথা বলে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল কাটার উদ্বোধন করেন এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
৫১ দিন আগে
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এ কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। এই উদ্যোগটি মূলত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনল।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া আরও একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমান কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে সাহাপাড়া খাল পুনর্খননের কাজ শুরু করেন।
নিজ হাতে খাল খনন করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার পিতা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেন। প্রায় পাঁচ দশক আগে, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি নিজে খাল খনন করে এই ধরনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
সরকারপ্রধানকে তার প্রয়াত পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজে খাল খনন করতে দেখে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ বিপুল উৎসাহের সঙ্গে তা প্রত্যক্ষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে দিনাজপুরের বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় যান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর।
সাহাপাড়া খালের কাছে একটি জনসভায় তার ভাষণ দেওয়ারও কথা রয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিএনপি যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
৫১ দিন আগে