বাগেরহাট
বাগেরহাট কারাগারে গলায় খাবার আটকে হাজতির মৃত্যু
বাগেরহাট জেলা কারাগারে খাবার খাওয়ার সময় গলায় খাবার আটকে চাঁন মিয়া ফকির (৪৪) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কারাগারে সকালের খাবার খাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চাঁন মিয়া বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামের হেলাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, আজ (শুক্রবার) সকালে বন্দিরা খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ চাঁন মিয়ার শ্বাসনালিতে খাবার আটকে যায়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কারাগার সুপার আরও জানান, কারা বিধি অনুযায়ী সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, অসুস্থ অবস্থায় কারাগার থেকে হাজতি চাঁন মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
৩২ দিন আগে
ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল করে সিম নিবন্ধন, চক্রের হোতাসহ আটক ৩
বাগেরহাটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল করে বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড নিবন্ধন করা প্রতারক চক্রের হোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এর আগে গভীর রাতে বাগেরহাট জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন বা জাল করার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন প্রতারক চক্রের হোতা সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া গ্রামের মো. মামুন আলী খাঁ (৩০), মো. জিহাদ বিশ্বাস (২৩) ও মে. লিটু বিশ্বাস ওরফে বাবু (২২)।
মামুন আলী খাঁর বাড়ি থেকে জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল করার কাজে ব্যবহৃত রাবারের ১৪১টি কিট, অব্যবহৃত ২১টি সিম কার্ড, ফিঙ্গার স্ক্যানার মেশিন, চারটি ইউএসবি কেবল, প্লাস্টিক পেপারের ওপর ছয়টি ফিঙ্গার প্রিন্ট, নিবন্ধন কাজে ব্যবহৃত টেপ ও তিনটি মোবাইল ফোন।
পুলিশ সুপার জানান, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট ক্লোন (জাল) করে মোবাইলের সিম কার্ড নিবন্ধন (ভুয়া নিবন্ধন) করছিলেন। সিম কার্ডগুলো তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। পরে এসব সিম কার্ড ব্যবহার করে নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, প্রতারক চক্রের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো অপরাধ ঘটলে পুলিশি তদন্তে সিম কার্ড ব্যবহারকারী হিসেবে সাধারণ মানুষের নাম আসছে। পুলিশ ফিঙ্গার প্রিন্টের সূত্র ধরে সাধারণ মানুষের কাছে গেলে জানা যায়, ওই সিম কার্ড তারা ব্যবহার করেন না। এভাবে সাধারণ মানুষ সমাস্যায় পড়ছে।
চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৩৩ দিন আগে
বাগেরহাটে শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পানবরজ থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে পুলিশ কচুড়িয়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মুসলিমা খাতুন (৭) উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসলাম শেখের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহদাৎ হোসেন জানান, উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামে পানবরাজের পাশে বস্তায় শিশুর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মুসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, হত্যার কারণ উদঘাটন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
৩৭ দিন আগে
বাগেরহাটে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক দগ্ধ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল চত্বরে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়িতে রোগীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে পাশে থাকা ৯টি মোটরসাইকেলও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
অগ্নিদগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেনকে (৬৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুল আলম এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স বাগেরহাট জেলা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ফটকে আসে। তবে রোগী ওঠানোর আগেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
৮৪ দিন আগে
বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় মা, মেয়ে ও নাতিসহ একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের চাঁদেরখোলা গ্রামে নিহতদের বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন—চাঁদেরখোলা গ্রামের রশিদ শেখের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৮৫), তার মেয়ে মনিরা বেগম (৫৫) এবং মনিরার ছেলে আহাত হাওলাদার (২৫)।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহামুদ হাসান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারী ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি জানান, কাঠের তৈরি ঘরের একটি কক্ষ থেকে মনিরা বেগম ও তার ছেলে আহাত হাওলাদারের মরদেহ এবং অপর কক্ষ থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এক থেকে দুই দিন আগে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আজ (মঙ্গলবার) সকালে এক প্রতিবেশী বাড়িটিতে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি করেন। তবে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই বাড়িতে নিহত তিনজন ছাড়া আর কেউ বসবাস করতেন না। নিহত আহাত হাওলাদার পেশায় একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি ছিলেন।
এসআই মাহামুদ হাসান জানান, কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
৯১ দিন আগে
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আইনজীবীর
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪৮) নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় ওই আইনজীবীর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
নিহত নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাগেরহাট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন।
বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান দিপু জানান, বাগেরহাট শহরে চেম্বারে কাজ শেষ করে প্রতিদিনের মতো নিজাম উদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল গাতিরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় তিনি দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, মৎস্য ঘের নিয়ে এলাকায় নিজামের সঙ্গে বিরোধ আছে বলে শোনা যাচ্ছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরেই মধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকারীদের আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। তবে এখনও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
আজ (শনিবার) সকালে আইনজীবী নেতারা বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হন। তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
১০১ দিন আগে
জমে উঠেছে বাগেরহাটের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা
বাগেরহাটের লাউপালায় ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা জমে উঠেছে। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষের ঢল নেমেছে মেলায়। মাসব্যাপী এই মেলায় গ্রামবাংলার নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে থাকে মেলা প্রাঙ্গণ।
মেলায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডস, নানা ধরনের খেলনা, প্রসাধন সামগ্রী, গৃহস্থালী সামগ্রী, আসবাপত্র, বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগোরদোলাসহ নানা জিনিস এসেছে মেলায়। মেলায় ‘বালিশ মিষ্টি’ নামে পরিচিত বড় বড় মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে একেকটি ৫০০ টাকায়। মেলা ঘিরে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ রীতিমতো উৎসবে মেতে উঠেছে। মেলা প্রাঙ্গন ছড়াচ্ছে উচ্ছাস আর আনন্দ।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত, পূণ্যার্থী আর দর্শনার্থীরা এসেছেন মেলা প্রাঙ্গণে। বাবা-মায়ের কোলে চড়ে শিশুরা যেমন এসেছে, তেমনি বৃদ্ধরা এসেছেন লাঠি ভর করে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মেলায় এসেছেন। মেলায় বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা ছাড়াও খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল এবং গোপালগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও দেখা মিলেছে।
মেলায় মানুষের ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটায় কোনো কমতি নেই। বিক্রি ভালো হওয়ায় দোকানিরা প্রচুর পরিমাণ পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মন্দিরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে মূল সড়কের দুই পাশজুড়ে দোকানিদের হরেক রকমের পণ্য শোভা পাচ্ছে। মানুষের মধ্যে উৎসাহ আর উদ্দীপনা মেলা প্রাঙ্গণ ছাপিয়ে আশপাশে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।
১০৭ দিন আগে
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আইনজীবী সমাজ সবসময় ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিশ্বাস বা চেতনার কারণে অনেককে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার থেকে অনেক মানুষ বঞ্চিত ছিল। অনেক রাজনৈতিক-কর্মী মিথ্যা মামলাকে আলিঙ্গন করে যখন সংগ্রাম করেছিলেন, তাদের নাজেহাল করা হয়েছে। তারা যেন আইনি সুবিধা না পায়, সে জন্য বিধিব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছিল।
জুলাই শহিদদের প্রতি গভীর জানিয়ে করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ২৪-এর মহান গণঅভ্যুত্থ্যান, রক্তক্ষয়ী যে গণঅভ্যুত্থ্যানের মাধ্যমে আমরা নতুন রাষ্ট্র পেয়েছি, যে প্রত্যাশা নিয়ে আমার ভাই-আপনার ভাই রক্ত দিয়েছেন, অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, আমরা যাতে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত দিনে অনেকেই আইনজীবী সমিতি ও আইনি কাঠামো ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন এসবের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলাম। সেই আমরা যেন আইনি প্রথা নিজেরা ভঙ্গ না করি। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বার ও বেঞ্চ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বার এবং বেঞ্চ যখন শোল্ডার টু শোল্ডার (কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে) কাজ করবে, তখন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।’
বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে সমিতির আহবায়ক এ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান লাহুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মন্টু, পিপি ও যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট মাহাবুব মোর্শেদ লালন প্রমুখ।
বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান লাহুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মন্টু, পিপি ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহাবুব মোর্শেদ লালন প্রমুখ।
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীতে ‘স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (স্কিল আইটি)’ নামে একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডেপুটি স্পিকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের প্রয়োজনে দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ও বাগেরহাট অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, আমেরিকা প্রবাসী সিপিএ রফিকুল ইসলাম, স্মার্ট ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ মিনা ওলিউজ্জামান প্রমুখ।
পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই হাজার ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।
এরপর বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেশরগাতি এলাকায় লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
১০৮ দিন আগে
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে সড়ক বিভাগের ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের কার্পেটিং (বিটুমিন) ধুয়ে গেছে, ধসে গেছে সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) এবং ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল। একই সঙ্গে চারটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ সড়ক) ধসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-পিরোজপুর ও সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফকিরহাট, চিতলমারী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং ধুয়ে ইট ও পাথরের খোয়া বেরিয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যে ছোটবড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো খানাখন্দে পানি জমে আছে। এসব এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় খানাখন্দে পড়ে যাচ্ছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকরা ধীরগতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন।
এছাড়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) ধসে যাওয়ায় কোনো কোনো স্থানে সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার, ১১টি আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১১০ কিলোমিটার এবং ১৪টি জেলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২৮ কিলোমিটার। টানা বৃষ্টির কারণে এর মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১০৯ দিন আগে
বাগেরহাটে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাউপালায় জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় পূণ্যার্থীদের ঢল
বাগেরহাটের প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীপাট লাউপালায় শ্রী শ্রী গোপাল জিউর মন্দিরে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশাল কাঠের রথে জগন্নাথদেবের সঙ্গে তার ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে বসিয়ে সুসজ্জিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে পূণ্যার্থীরা রথের দড়ি টেনে সামনের চত্ত্বরে নিয়ে আসেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের দড়ি স্পর্শ করলে অসীম পূণ্যলাভ এবং জন্ম জন্মান্তরের সমস্ত পাপ নাশ হয়। এই বিশ্বাস নিয়ে নানা বয়সের শত শত নারী-পুরুষ রথ উৎসবে অংশ নেন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য পূণ্যার্থী এই রথযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
লাউপালায় রথযাত্রা উপলক্ষে মাসব্যাপী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা বসেছে। মেলায় হস্ত ও কুটির শিল্প, মৃৎশিল্পসহ রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
এছাড়া বাগেরহাট শহরের রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বের করা হয়। এরপর পূণ্যার্থীরা রথ টেনে শালতলাস্থ শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দিরে নিয়ে আসেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
আগমী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্যে দিয়ে জগন্নাথদেব মন্দিরে ফিরে আসবেন। রথযাত্রা শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য বাগেরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১১০ দিন আগে