ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
৭ দিন আগে
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা রিমান্ডে
ঝিনাইদহে বাস পোড়ানো মামলায় বৈষম্যবিরোধী দুই ছাত্রনেতার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেষ্ঠ্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোখলেছুর রহমান এ আদেশ দেন।
রিমান্ড পাওয়া দুই ছাত্রনেতা হলেন— ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং ‘দ্য রেড জুলাই’-এর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।
ঝিনাইদহ আদালত পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বলেন, হুমায়ন কবির ও তানাইমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন।
গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বাস মালিকপক্ষ থেকে মামলা করা হয়। ওই মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতাদের আসামি করা হয়।
একই দিন আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতার জামিন নামঞ্জুর করে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঝিনাইদাহ আদালতের পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের মামলায় আটক আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে পাম্পকর্মীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহমেদ নিরব। পাম্পে তেল নিতে গিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বৈষম্যবিরোধী ওই নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করেন পাম্পের কর্মীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনার পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা রাতে আওয়ামী লীগ নেতার একটি ফিলিং স্টেশনের ভাঙচুর চালান। একই দিন মধ্যরাতে ঝিনাইদহ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ মার্চ অগ্নিসংযোগ ও ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
এরপর ওইদিন মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের আটক করে। পরে তাদের ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ ৭ জনকে আটকের পর পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও ৩টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান ও পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাক্ষরিত এক প্রেসনোটে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
জেলা পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।
এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পাম্পের ৩ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তারা একই মালিকের আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ঘটনার দিন দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি ও জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে তারা আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিং করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা জানান, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপরাধ রয়েছেন। ফলে আইনের প্রয়োগ যেন সঠিক হয়।
হত্যার চেয়ে যদি ভাঙচুরের ঘটনা বড় করে দেখানো হয়, তবে সেটা দুঃখজনক ঘটনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১২ দিন আগে
ঝিনাইদহে জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার জেরে বাসে আগুন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ শহর। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাসে আগুন দেওয়াসহ সৃজনী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করে একদল ব্যক্তি।
শনিবার (৭ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের আরাপপুর এলাকায় ও ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের আবু দাউদকে আটক করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবকে হত্যা করার জেরে শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর আগে, সৃজনী এনজিওর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের কোষাধ্যক্ষ আলামিন শেখ জানান, গতকাল (শনিবার) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে আকস্মিক হামলা চালিয়ে পাম্পের মেশিন ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ঝিনাইদাহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে থাকা তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব জানিয়েছেন, আজ (রবিবার) জোহরের পর নিহত নিরবের জানাজার নামাজ শেষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা হবে। শহরে অব্যাহত ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শহরের বেপারীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নিরব খুন হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাত ৮টার দিকে জ্বালানি তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতা ফারদিন আহমেদ নিরবকে পিটিয়ে জখম করে পাম্পের কর্মচারীরা। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ শহরের সৃজনী পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাম্পকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা তাদের মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তারা ফিরে আসার সময় দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তাদের মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ করায় পুত্রকে ত্যাজ্য করলেন পিতা
ঝিনাইদহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় নিজ সন্তানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন এক পিতা।
সোমবার (২ মার্চ) ঝিনাইদহ জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন তিনি।
হলফনামা সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী মো. আবু জাফর (৪৮) তার পুত্র মো. নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) ত্যাজ্যপুত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। সবুজ ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
হলফনামায় মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, তার পুত্র দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য জীবনযাপন করছেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন না, আলাদা থাকেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও সবুজ এ সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পিতা হিসেবে তিনি বিব্রত বোধ করেন।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, সবুজের কোনো প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পিতা বা তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
তার কোনো অপকর্মের দায়ভারও পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।
আবু জাফর বলেন, ‘দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনো কাজ আমার সন্তান করুক, তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. সাদাতুর রহমান হাদির মাধ্যমে এ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনটি খোলা পাওয়া যায়নি।
১৭ দিন আগে
বেকারত্বের চাপ: বিদেশমুখী হতে গিয়ে দালালচক্রের ফাঁদে ঝিনাইদহের যুবসমাজ
ঝিনাইদহ জেলায় বাড়ি বাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে বেকারত্বের কালো ছায়া। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন অসংখ্য তরুণ। জীবিকা ও স্বপ্নের সন্ধানে তারা দলে দলে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে, কিন্তু বিদেশযাত্রার সেই স্বপ্ন অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। দালালচক্রের প্রতারণায় লাখ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে পরিবারগুলো। কেউ নিখোঁজ, কেউ নির্যাতনের শিকার, আবার কেউ প্রাণ হারিয়েও ফিরতে পারছে না দেশে।
অভিযোগ রয়েছে, ঝিনাইদহজুড়ে সক্রিয় দালালচক্র ও কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকদের টার্গেট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের কোনো বৈধ নথি না থাকায় প্রতারিত পরিবারগুলো আইনি প্রতিকার পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের শাহ আলম সিদ্দিক ইমন দালালের মাধ্যমে মিসরে যান। সেখানে কিছুদিন কাজ করলেও গত তিন মাস ধরে তিনি নিখোঁজ। পরিবারের দাবি, দালালরা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।
একইভাবে শৈলকুপা উপজেলার ক্ষুদ্র রয়েড়া গ্রামের সোহাগ মোল্লা দালালের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। আর্থিক সংকটে তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই গ্রামের আরও অন্তত ছয় যুবক কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, এলাকার অধিকাংশ পরিবার দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। এই সুযোগে একটি চক্র বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদ পেতে বসেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তার দাবি, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক দালাল সক্রিয় রয়েছেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৩০টি মানবপাচার চক্র কাজ করছে।
শৈলকুপার বাসিন্দা বিল্লাল মোল্লা জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে আট মাস আগে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তার ছেলে সোহাগকে কম্বোডিয়ায় পাঠান। মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদেশে গিয়ে ছেলে ফোনে জানাতেন, তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, তার ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এখনও মরদেহ দেশে আনতে পারেননি তারা।
বংকিরা গ্রামের শাহানা খাতুন বলেন, এক বছর আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করে তার ছেলে ইমনকে মিসরে পাঠান। সেখানে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন বলে পরিবার জানতে পারে। নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও তিন মাস ধরে তার কোনো সন্ধান নেই। দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উল্টো আরও টাকা দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু সন্তানের খোঁজ মিলছে না।
মানবাধিকারকর্মী বাবুল কুণ্ডু বলেন, দালাল ও অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সারা দেশ থেকে যে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে গ্রামের নিরীহ পরিবারগুলো সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে প্রতারিত এক যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা না বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সহজ আয়ের আশায় ও যথাযথ তথ্যের অভাবে অনেক যুবক প্রলোভনের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারিত পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
ঝিনাইদহে ট্রাকচাপায় দুই যুবক হতাহত
ঝিনাইদহ শহরে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে শাহরিয়ার রহমান শান্ত (৩১) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহী টিটোন (৩২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের পবহাটী কলারহাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শান্ত শহরের আরাপপুর এলাকার দুঃখি মাহমুদ সড়কের শাহীন রহমানের ছেলে। আহত টিটোন ব্যাপারীপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পবহাটী কলারহাট এলাকায় একটি ট্রাক একটি মটরসাইকেলকে চাপা দিলে শান্ত ও টিটোন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাপস জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শান্ত নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহত টিটোনকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২৮ দিন আগে
সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আসাদুজ্জামান
রাজনীতিতে যেখানে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মাঝে দেখা যায় দূরত্ব, বিরূপতা ও প্রতিহিংসার ছায়া, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের ভোটাররা। জয়-পরাজয়ের বিভাজনরেখা সরিয়ে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুসারে, ঝিনাইদহ-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আসাদ।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোট গণনা শেষে রাতেই জানা যায় আসাদুজ্জামানের জয়ের খবর। এরপর আজ (শুক্রবার) সকাল হতেই ফুলের মালা হাতে তিনি ছোটেন মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।
কুশল বিনিময়ের পর আসাদুজ্জামান নিজের বিজয়মাল্য পরিয়ে দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায়। মুহূর্তটি উপস্থিত দুপক্ষের নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের কাছে প্রতীকী বলে মনে হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় সম্পর্কের অটুট বন্ধন।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বহুবার দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টি শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তার সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাব।’
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের জন্যে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটের ফলাফল সংখ্যায় মাপা যায়, কিন্তু আন্তরিকতার এই দৃশ্য মনে রাখবে ঝিনাইদহ-১ আসনের আপামর মানুষ। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের স্থান রয়েছে, নাদপাড়া গ্রামের একটি উঠানে তারই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল একটি ফুলের মালা।
৩৬ দিন আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনে বেসরকারি ফলে নির্বাচিত বিএনপির আসাদুজ্জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার বিপরীতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৫৭৭।
একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৯৫ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ২৭৫ জন।
৩৭ দিন আগে