ঝিনাইদহ
ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঝিনাইদহে আটক ৮
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টার সময় আটজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার হলদারপাড়া গ্রামে ইছামতি নদীর পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) শ্রীনাথপুর বিওপির একটি টহল দল এ অভিযান চালায়।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সীমান্ত পিলার ৬১-আর থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নিজেদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তারা হলেন মিবানী সিং (২৬), দেবকুমার বিশ্বাস (৩৩) ও দেবশ্রী বিশ্বাস (১৫)। তারা একই পরিবারের সদস্য।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
আটক অন্য পাঁচজন নিজেদের গোপালগঞ্জের শুভজিৎ দাস (২০) ও দুলালী (৪০), নারায়ণগঞ্জের সামিয়া আক্তার (১৭), পিরোজপুরের পূর্ণিমা মৃধা (২১) এবং বরিশালের অঞ্জনা সিং (১৮) বলে পরিচয় দিয়েছেন।
মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা করার জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম জানান, নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন ভারতীয় এবং কতজন বাংলাদেশি, তা জানা যাবে।
৫ দিন আগে
লাটভিয়া থেকে ফিরল সোহেল রানার দেহ
মানব পাচারকারী চক্রের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে লাটভিয়ায় নিহত সোহেল রানার (৪৫) দেহ দেশে ফিরেছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মরদেহটি ঝিনাইদহে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নিহত সোহেল রানা সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে।
স্থানীয় রামচন্দ্রপুর স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক নিলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের শ্বশুর আলফাজ উদ্দীন জানান, ইতালি পাঠানোর নামে মানব পাচারকারী চক্র সোহেলের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। গত ৭ অক্টোবর লাটভিয়া ও বেলারুশ সীমান্তের একটি জঙ্গল থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন ৮ অক্টোবর লাটভিয়ার লাতগালে অঞ্চলের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এরপর ১২ অক্টোবর ক্ষুদে বার্তায় পরিবারকে সোহেলের মৃত্যুর সংবাদ জানায় পোল্যান্ড পুলিশ।
গত ১৭ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগ এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
৯ দিন আগে
ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঝিনাইদহে আটক ১২
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১২ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়া চোরাচালানবিরোধী এক অভিযানে ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এসব তথ্য জানান।
এর আগে মধ্যরাতে সীমান্তবর্তী মাইলবাড়িয়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে ওই সাত পুরুষ ও পাঁচ নারীকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নাইম মোল্যা (২২), সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কলাটুপি গ্রামের শহিদুল মুফতি (৩৫), যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের গয়ড়া গ্রামের নুর নবী (২৪), মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রামের শুভ বিশ্বাস (২৪), নড়াইল সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আকাশ রায় (২৩), ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর পাড়ার সজিব (২০) ও যশোর সদর উপজেলার সাখারীগাতি গ্রামের ইমামুল হোসেন (২৬)। বিজিবির পক্ষ থেকে আটক পাঁচ নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে সকালে মহেশপুর সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৬৬ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক জব্দ করেছে বিজিবি।
সকাল ৬টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের গয়েশপুর বিওপির সদস্যরা গয়েশপুর গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে এসব কীটনাশক জব্দ করেন।
১৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে জামাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুর আটক
ঝিনাইদহের মহেশপুরে পারিবারিক কলহের জেরে জামাইকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম রহমান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হুদারাড়ী পাড়া গ্রামের কারী গোলামের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম বলিভদ্রপুর গ্রামের মৃত গাজী আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য এনামুল হোসেন জানান, গতকাল (সোমবার) শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গোলাম রহমান। মেয়ের ওপর নির্যাতনের কারণে শ্বশুরের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল। এর জেরে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তরিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে কুড়াল দিয়ে জামাইকে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে আটক করে।
এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালও উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর এ বিষয়ে জানানো যাবে।
১৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে হুমায়রা (৩) ও নাহিয়ান (৪) নামের দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমায়রা ওই গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে এবং নাহিয়ান আশিকুরের ভাই বাবুর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, প্রতিদিনের মতো এদিন দুপুরেও দুই শিশু বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে হুমায়রা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে নাহিয়ানও পানিতে তলিয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরের পানিতে তাদের ভেসে উঠতে দেখেন স্বজনরা।
দুই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাড়ির কোলঘেঁষা পুকুরপাড়ে নিষ্পাপ দুটি শিশু খেলতে গিয়ে যে এভাবে চিরতরে হারিয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুই অবুঝ সোনামণির এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো যাদবপুর গ্রাম আজ শোকস্তব্ধ।’
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
২১ দিন আগে
স্থায়ী ভিটা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি যুবক: মন্ত্রীকে সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সহকারীর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শুধু স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার যুবক মিশন আচার্য। গণমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন তার নিয়োগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে ডিও লেটার বা আধা-সরকারি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) পাঠানো ওই ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পাননি মর্মে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আমার নিজ জেলা ঝিনাইদহের সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মিশন আচার্য সদর উপজেলার কলাবাগানে জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করছেন। তিনি এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আজ পর্যন্ত এই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।’
চিঠিতে মিশন আচার্যের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ছোটবেলা থেকেই তিনি পিতৃহীন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার মা অনেক কষ্টে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
স্থানীয় অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়।
সব তথ্য ও মানবিক দিক বিবেচনায় এনে বিধি মোতাবেক মিশন আচার্যকে সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগপত্র দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানান রাশেদ খাঁন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা আশা করছেন, এই মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে একজন যোগ্য ও মেধাবী তরুণ তার প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।
৩০ দিন আগে
ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পৌর কর্মকর্তা ও ভ্যানচালক নিহত
ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পৌর কর্মকর্তা ও ভ্যানচালক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে বাসচাপায় আ স ম আব্দুস সামাদ (৪৮) নামের এক পৌর কর্মকর্তা নিহত হন। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভায় কসাইখানা পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আব্দুস সামাদ মোটরসাইকেলে করে অফিসে যাওয়ার সময় খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী রূপসা পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, পুলিশ বাসটি জব্দ করতে পারলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে একই দিন সকালে মহেশপুর উপজেলার কুল্লাগাছা মাদরাসার সামনে ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টরের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালক মামুন হোসেন (৩২) নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার গাড়াপোতা গ্রামের বাহাদুর খানের পোষ্য ছেলে।
সকালে যাত্রী নিয়ে বের হওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক্টরটি মামুনের ভ্যানকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে যায়। এতে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন ভ্যানচালক মামুনের মৃত্যু হয়।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করের যান দুটি জব্দ করেছে এবং এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান দুর্ঘটনার দুটির খবর নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর ও কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
ট্রেনে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন, নারীর মৃত্যু
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রেনে উঠতে গিয়ে পিছলে পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর ওই নারীকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোরে নেওয়ার পথে বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রাবেয়া খাতুন রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে। তিনি কালীগঞ্জে খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মোবারকগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছায়। ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে রাবেয়া দৌড়ে উঠতে গিয়ে ট্রেনের পাপোশে পা পিছলে নিচে পড়ে যান। এতে ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে তার দুটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং একটি হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত এসে রাবেয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
৩৮ দিন আগে
১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম হত্যার রহস্য উদঘাটন
১৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা নিঝুম খাতুনকে (১৭) অপহরণ ও শ্বাসরোধে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেল স্টেশনের নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যান। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নিঝুমের মরদেহ অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সংস্থা। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জিম। তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, গত বছরের ১৩ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন নিঝুম খাতুন। ওই দিনই ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশনের নির্জন এলাকায় নিয়ে যান প্রেমিক জিম। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
আসামি জিমের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি জ্ঞান হারান। ওই সময় নিঝুম রোজা ছিল। তাকে মৃত ভেবে জিম নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যান এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে একটি গর্তে ফেলে রাখেন। এরপর ট্রেনে করে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার চার দিন পর, অর্থাৎ ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী রেলস্টেশনের ওই নির্জন জায়গা থেকে এক অজ্ঞাতনামা কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা করে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে পাঁচজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন নিঝুমের মা তাসলিমা খাতুন। দীর্ঘদিন নিঝুমের খোঁজ না মেলায় ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল যৌথভাবে মাঠে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে জিমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের নির্মম বিবরণ দেন।
এরপর আসামি জিমকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী এলাকায় ঘটনাস্থল শনাক্ত করে সাইবার সেল। সিআইডির ক্রাইম সিন বিশেষজ্ঞদের আর্কাইভে সংরক্ষিত সেই অজ্ঞাত মরদেহের কাপড়ের ছবি দেখে জিম নিশ্চিত করেন, উদ্ধার করা সেই মরদেহটি নিঝুমেরই ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হিমানিশ জানান, আসামি জিম আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইকলাচুর রহমান জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল (মঙ্গলবার) আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের দক্ষ টিম সমন্বিতভাবে কাজ করে এই জটিল ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। জেলায় অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
৪২ দিন আগে
ঝিনাইদহের কৃষিতে আশা দেখাচ্ছে সৌরসেচ
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে সেচের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া কৃষকদের জন্য ঝিনাইদহের মাঠে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচের খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নিজেদের জমিতে তুলনামূলক কম খরচে সেচ দিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের পানি আশপাশের কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ১০৬টি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প চালু হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাতটি, এইড ফাউন্ডেশনের ৩৪টি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ৬৫টি পাম্প রয়েছে। শুধু সীমান্তঘেঁষা মহেশপুরেই স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি পাম্প। এর বাইরেও কিছু ছোট ছোট সৌর প্যানেল রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) উদ্যোগে ব্যক্তিগত পর্যায়েও বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল।
ফুলচাষিদের বাড়তি আয়
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে মহেশপুরের সীমান্ত এলাকার ফুলচাষিদের মাঝে।
উপজেলার ফুলচাষি গফুর মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প বসানোর পর থেকে তেল বা বিদ্যুতের কোনো ঝক্কি আর তাকে পোহাতে হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পর সাশ্রয়কৃত পানি অন্যদের কাছে বিক্রি করে ভালো বাড়তি আয় হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, প্রকল্পের ঋণ ও অনুদান নিয়ে তিনি সৌর সেচ প্রকল্প গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমির চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আশপাশের আরও ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত সেচ দিচ্ছেন।
৪২ দিন আগে