ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে সবজির বাজার দাম কমলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে
ঝিনাইদহে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফেরেনি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান এবং সামগ্রিক চড়া মূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে, সবজির বাজার সামান্য কমতির দিকে হলেও মাছের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের ভরসা তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দামই এখন নাগালের বাইরে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫-২০ দিন আগের আকাশছোঁয়া দাম থেকে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কিছুটা কসেছে। তবে পাইকারি কেনা দামের চেয়ে খুচরা বিক্রি দামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ফারাক।
বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ পাইকারি ২৪০ টাকায় কিনে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকা, পটল ৪৭ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, বরবটি ৬৮ টাকায় কিনে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, ঢেঁড়শ ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, মুলা ৪৫ টাকায় কিনে ৬০ টাকা এবং কচু ৪০ টাকায় কিনে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ৬৫ টাকায় কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পালংশাক প্রতি আঁটি ১৭ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আলুর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই দরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিড়ার বাসিন্দা তাহুরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম দুই-এক টাকা কমলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই দামে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে আয়, তাতে সংসার চালানোই দায়; তার ওপর তরকারির এই দাম।’
একই সুর উপ-শহরপাড়ার বেবি খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে দাম কমার কথা শুনলেও বাজারে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এক কেজি তরকারি কিনতে গেলে অন্য তরকারি আর কেনা হচ্ছে না। মাছের বাজারে তো যাওয়ারই উপায় নেই।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তরকারি বিক্রেতা রমজান আলী ও আবুল কালাম জানান, অতিবৃষ্টি ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে ১৫-২০ দিন আগে দাম খুব বেশি ছিল। এখন সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে। তবে পাইকারি বাজার থেকে পরিবহন খরচ ও অপচয় হিসাব করেই খুচরা দর নির্ধারণ করতে হয়।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও মিলেছে ইতিবাচক বার্তা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে পুরোদমে উঠবে। তখন তরিতরকারির বাজার পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।’
২ দিন আগে
ছয় বছরে হয়েছে ২ শতাংশ কাজ, অনিশ্চয়তায় ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উইকেয়ার ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উল্টো মহাসড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও খানাখন্দের কারণে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। প্রথম লটে অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় লটে মাত্র ২ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিসেম্বর ২০২৬-এর পর বিশ্বব্যাংক আর অর্থায়ন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রশাসনিক সহায়তা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
প্রকল্পের ধীরগতির জন্য শুরুতে জমি অধিগ্রহণকে দায়ী করা হলেও বর্তমানে মূল অভিযোগের তীর লট-২ ও ৩-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড এবং লট-১-এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (এলআর বিসি-মিল জেভি, চীন)-এর স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় জমি পাওয়ার পরও তারা কাজ এগিয়ে নিতে চরম গড়িমসি করছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণে সরকারের ছয়টি বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় জরিপ ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিলম্ব হয়েছিল। এতে শুরুতে অধিগ্রহণের গতি কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে জেলা প্রশাসন দ্রুতগতিতে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বরং দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সহায়ক হয়, সেভাবেই আমরা অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
৭ দিন আগে
ঝিনাইদহে হাঁটতে বের হয়ে ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সকালে হাঁটতে বের হয়ে ট্রাকের চাপায় তারিফ উদ্দীন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের চণ্ডীপুর এলাকায় হান্নান ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তারিফ উদ্দীন শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো আজও ফজরের নামাজ আদায় শেষে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন তারিফ উদ্দীন। এ সময় হান্নান ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে কুষ্টিয়াগামী একটি দ্রুতগতির ১০ চাকার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরই ট্রাকটি পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। ট্রাকটি এখনো জব্দ করা সম্ভব হয়নি, তবে সেটি শনাক্তে কাজ চলছে।
১২ দিন আগে
৫৪ বছরেও মেলেনি বিভাগীয় স্বীকৃতি, ঝিনাইদহে ডাক বিভাগের কর্মচারীদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে গ্রাহক
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি ডাক বিভাগের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা এখনও বিভাগীয় কর্মচারীর স্বীকৃতি পাননি। মাত্র ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪৬০ টাকার ভাতায় দিনরাত দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির ‘ন্যায্য’ দাবিতে গত ৬ জুলাই থেকে ঝিনাইদহসহ সারা দেশে পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ফলে ঝিনাইদহে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ডাকসেবা। এতে করে সাধারণ গ্রাহকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনরত গোপালপুর শাখা পোস্টমাস্টার রিপন হোসেন বলেন, ‘ঝিনাইদহে ১০৪টি শাখা ডাকঘরে প্রায় ৩০০ জন এবং সারা বাংলাদেশে ৮ হাজার ৫৪৩টি ডাকঘরে মোট ২৩ হাজার ২১ জন ইডি কর্মচারী কর্মরত আছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও বিগত ৮ বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি আমাদের কোনো উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাসও নেই। বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
২০ দিন আগে
কালীগঞ্জের শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, হত্যার পর মরদেহ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এর ফলে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম মূলত মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে ছিল। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত।
আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তাবাচ্ছুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন।
গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ (সোমবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, ‘মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’
অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা ও মা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
৪৩ দিন আগে
বিশ্বকাপের রঙে রঙিন কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা কেবল টেলিভিশনের পর্দা কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা যেন ছড়িয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের এক শান্ত সবুজ পল্লীতেও। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মুসলিম জাগরণের কবি’ খ্যাত গোলাম মোস্তফার স্মৃতিবিজড়িত আদি বাড়ি।
শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এখন ল্যাটিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন। কবিবাড়ির এই অভূতপূর্ব রূপান্তর পুরো গ্রামকে পরিণত করেছে এক টুকরো ‘ফুটবল ভিলেজে’।
সরেজমিনে মনোহরপুর গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক ভিন্নজগৎ। চারদিকে শুধু ফুটবল আর ফুটবল। রাস্তার দুপাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, তবে মূল আকর্ষণ কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। কবির বাড়ির মূল ফটক, কাচারিঘর, সবুজ আঙিনা, বসতঘর থেকে শুরু করে আশপাশের গাছপালা সবই এখন মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটবল আবেগে। একদিকে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, অন্যদিকে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ রঙের নান্দনিক দেয়ালচিত্র ও পতাকা শোভা পাচ্ছে। দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিতে শোভা পাচ্ছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশাল সব প্রতিকৃতি। কোথাও আবার আঁকা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি।
ফুটবল আর ইতিহাসের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবিবাড়িতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসছেন। মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউবা পতাকা কাঁধে জড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, দলের সমর্থনে ভিন্নতা থাকলেও এই আয়োজন পুরো গ্রামের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি এখন শুধু ফুটবল উন্মাদনা নয়, বরং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্রামীণ আবহে এমন নান্দনিক আয়োজন সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই গ্রামে আনন্দ হয়, কিন্তু এবার কবিবাড়িকে কেন্দ্র করে যে সাজসজ্জা হয়েছে, তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের আগমনে আমাদের গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।’
এই বর্ণিল উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। কয়েক সপ্তাহের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা কবিবাড়ি ও আশপাশের এলাকাকে এভাবে সাজিয়ে তুলেছেন।
তরুণ সংগঠক শাওন শ্রাবন ও শিহাব হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করা। নিজেদের পকেটের টাকায়, নিজেদের পরিশ্রমে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের হাসিমুখ আর ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যত জমছে, মনোহরপুরের কবিবাড়িতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। ফুটবল আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করছে—খেলাধুলা শুধু মাঠের লড়াই নয়, তা মানুষের হৃদয়কে এক করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
৪৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাঁচ মাসে ২১ মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ
ঝিনাইদহ জেলায় গত পাঁচ মাসে খুনসহ অন্তত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে ১৩টি হত্যাকাণ্ড বলে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি ৮টি ঝুলন্ত বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা বলে পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত পাঁচ মাসে জেলায় যে ১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের বুলবুলি, পাগলাকানাই এলাকার খুশি খাতুন, মহেশপুর উপজেলার ঘোষপুর গ্রামের জোহরা আক্তার এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের শিশু তাবাসসুমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলাজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের পেছনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের চরম রূপ দেখা গেছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বিরোধের জেরে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। শৈলকুপার মাধবপুর গ্রামে সামাজিক বিরোধে নিহত হন মোহন শেখ। মহেশপুরের পলিয়ানপুর এলাকায় ইছামতি নদী থেকে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী ও রতিকান্ত জয়ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এছাড়া হরিণাকুণ্ডুর কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে বিএনপি কর্মী আবুল কাশেম ও সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি নেতা তরু মুন্সিকে হত্যা করা হয়েছে। জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরবকে। এ ছাড়াও হরিণাকুণ্ডুর দৌলতপুর গ্রামে ভ্যানচালক জসিম এবং শৈলকুপার জয়ন্তিনগর গ্রামে কেসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৮টি মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই ৮টি মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদই এসব আত্মহত্যার প্রধান কারণ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহের সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি সায়েদুল আলমের মতে, ঝিনাইদহে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কাজ করছে। বিশেষ করে শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দলাদলি ও আধিপত্যের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে বিভিন্ন হত্যার ঘটনা ঘটছে, যার শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন আজ (সোমবার) দুপুরে জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দুইটি রাজনৈতিক হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
৫৬ দিন আগে
শৈলকুপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে সামাজিক দল গঠন নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহত বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান সমর্থিত বেষ্টপুর গ্রামের মিরাজ জোয়ার্দার, আবু তালেব, উল্লাস, ইমরান, শাহিন মন্ডল, ফজলুর রহমান, সেলিম এবং একই গ্রামের কফিল মেম্বার সমর্থিত মো. লাল্টু বিশ্বাস, মো. আক্তার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম, মফিজুল আলী, মোশারফ হোসেন, আনিস মোল্লা, সাকিব, আব্দুল কাদের, মো. বিল্লাল হোসেন, অক্ষন, সাঞ্জু, আবেদ আলীর পরিচয় মিলেছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় গ্রামের বসিন্দা ইউনুস আলী জানান, সামাজিক দল গঠন নিয়ে মতিয়ার ও কফিল উদ্দীনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় গ্রুপের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন ভেড়ানো নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে গ্রামটিতে সামাজিক দল ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আওয়ামী লীগ ঢুকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অন্তত ১৫টি বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের মতিয়ার রহমান সমর্থিত আহতরা ঝিনাইদহে ও কফিল মেম্বরের লোকজন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর বলে জানান শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাশেদ আল মামুন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সামাজিক বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এখনও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন দুপুরে জানান, এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। আহতরা এখনো তাদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। বিকালে বা রাতে হয়তো মামলা হতে পারে।
৬০ দিন আগে
মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে ঝিনাইদহে একজন নিহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দেলোয়ার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে একটি শরবত ও চায়ের দোকানের পাশে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার।
পাখিমারা গ্রামের লাল্টু এবং হরিশপুর গ্রামের শুভর মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয় পক্ষের গ্রামবাসী জানতে পারলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, শুভ ও আবু তালেব আহত হন। আহতদের কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
পুলিশ জানায়, পাখিমারা গ্রামের লাল্টু, মশা ফকির, মাহাবুব ও বাদশার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে হরিশপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় হরিশপুর গ্রামের খয়বর মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের গলায় মারাত্মক আঘাত লেগে ছিদ্র হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) ভোরে দেলোয়ার মৃত্যুবরণ করেন।
ওসি অসিত কুমার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
৬৭ দিন আগে
টেন্ডার ছাড়াই ঝিনাইদহে জেলা পরিষদের গাছ সাবাড়
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের তালিকায় এবার ঠাঁই পেয়েছে সতেজ ও তরতাজা রেইনট্রি গাছ। জেলার কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া নামক স্থানে কোনোপ্রকার টেন্ডার (দরপত্র) ছাড়াই তিনটি কড়ই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ‘মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ অজুহাতে এভাবে জীবন্ত গাছ কেটে সাবাড় করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল।
স্থানীয়রা বলেন, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বড় কড়ই গাছ গত কয়েকদিন ধরে কাটা হচ্ছে। গাছগুলো সম্পূর্ণ সতেজ এবং ডালপালায় সবুজ পাতা ছিল। কোনোভাবেই এগুলো মৃত বা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মৌখিক আবেদনে জেলা পরিষদ গাছগুলো কাটার অনুমতি দেয় বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পদ বিক্রয় বা কাটার আগে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু হোসেন বলেন, আমার বাড়ির সামনের গাছের একটি ডাল তার তিনতলা ভবনের ছাদের অনেক ক্ষতি করছিল। ডালগুলো কাটার জন্য কিছুদিন আগে জেলা পরিষদে আবেদন করি। গত ১৯ মে জেলা পরিষদের কর্মচারি মিল্টন শ্রমিক দিয়ে ডালগুলো কেটে দেন। এ জন্য তিনি তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকাও নিয়েছেন। কিছু ডাল মিল্টন কালীগঞ্জে বিক্রিও করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ জানান, এই শতবর্ষী গাছগুলো কালীগঞ্জের ঐতিহ্য। তরতাজা এই গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা চরম অন্যায়। এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই গাছ কাটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় পরিবেশবিদ মিজানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে যেখানে দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ উল্টো পথে হাঁটছে। মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার দোহাই দিয়ে যেভাবে বিনা টেন্ডারে তরতাজা ও ছায়াঘন কড়ই গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এটি সরকারি সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশের ওপর চরম আঘাত।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন বলেন, ওই এলাকার বাবলু হোসেন নামের একজন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। অফিস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এটি দেখভাল করার জন্য। সেখান থেকে কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের সিএ শফিউদ্দিন জানান, আড়পাড়া গ্রামের বাবলু হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ঐ গাছগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত দাবি করে সেগুলো কাটার জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম রেজা জানান, বিভিন্ন সড়কে জেলা পরিষদের ডালপালাবিহীন, মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৯ মার্চ জেলা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আড়পাড়া এলাকার গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গাছ কাটার পরে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’
৭২ দিন আগে