হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলার ১১ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আব্দুল মান্নানের আদালতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে শুনানি শেষ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা বন্ডে মেডিকেল প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলায় কোনো ঘটনার তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল হাই ও সি এস আই আবু তালেব বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য খণ্ডন করার মতো কোনো উপাদান মামলার এজাহারে নেই।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন জুয়েলসহ বিএনপিপন্থি অসংখ্য ব্যক্তি শুনানিতে অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও। এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। জেলা যুব শক্তির আহ্ববায়ক তন্ময় তাহের মামলাটি করেন।
২ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ছাত্রদলের
হবিগঞ্জে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রোকন।
এর আগে, গত বুধবার জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেকের দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মমলার এজাহারে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা সদরে এক সমাবেশ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন সারজিস আলম ও মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় হামলায় এনসিপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা সদরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনসিপি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে ফিরে যান।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার
হবিগঞ্জ জেলা সদরের পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এ আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল (বুধবার) এনসিপি ও বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা আর বিদ্যমান না থাকায় এ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সারা দিন নানা নাটকীয় ঘটনার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহম্মদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে বিক্ষোভের সমাপ্তি টানেন।
পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া চা-বাগান এলাকায় অবস্থান নেন। বুধবার বেলা ৩টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে দুই জেলার মধ্যবর্তী মুছাই এলাকায় হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশে পুলিশ ও প্রশাসন তাদের বাধা দেয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বুধবার ঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে মৌলভীবাজার হয়ে হবিগঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করায় পুলিশ তাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়নি। পুলিশ ট্রাক ও ব্যারিকেড বসালেও তারা ব্যারিকেড অতিক্রম করে জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে পুলিশ তাদের আর সামনে এগোতে দেয়নি। পরে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহম্মদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। হামলার সময় নেতাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলাটি করা হয়।
৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা কার্যকরে বিজিবি মোতায়েন
হবিগঞ্জ জেলা সদরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) থেকে তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় বিজিবি ড্রোনের মাধ্যমে মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি জেলার সংঘাতপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ৫৫ বিজিবি।
৬ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জে একই স্থানে এনসিপি ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করে এনসিপি। অপরদিকে, জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশাসন আজ বুধবার সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেয়।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, এমপি আখতার হোসেন, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ও এমপি ড. আতিক মোজাহিদ হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন। এ ঘটনার পর জেলার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীপূর্বঘোষিত জুলাই গণজাগরণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিকেলে শহরের টাউন হলের সামনে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদের সামনে তারা হামলার শিকার হন। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জন্য সারজিস আলম ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের একজন সহকর্মীর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অপর একজনের মুখ গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীহবিগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্কিট হাউসের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, উশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘এনসিপি নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের সামান্য ঠেলাধাক্কা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, বাহুবল উপজেলার সংগঠক নবীর হোসেন হৃদয়সহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা আমার ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
৬ দিন আগে
হুমকির মুখে হবিগঞ্জের খোয়াই প্রতিরক্ষা বাঁধ, নদীর পাড় উপচে হাওরে ঢুকছে পানি
হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি উজানে হ্রাস পেলেও ভাটিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের হুমকি দেখা দিয়েছে। পানির চাপে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে বাঁধ। হালকা ফাটল ও ছিদ্র হয়ে চুইছে পানি।
প্রতিরক্ষা বাঁধের অপর পাশে থাকা বানিয়াচং উপজেলার মকরমপুর ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় নদীর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে ওই উপজেলার মকরমপুর ও সুজাতপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে হাওরে কোনো ফসল না থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা কম রয়েছে।
এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকার দানিয়ালপুর যশের আব্দা, কামড়াপুর এলাকায় শতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বিকেল ৩টায় খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জে ১১৮ সেন্টিমিটার ও শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী বাল্লায় খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ শহরতলীর মাছুলিয়া এলাকায় ১২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শহরের প্রতিরক্ষা বাঁধ মোটামুটি ভালো আছে। তবে শরতলীর ভাদই এলাকায় বাঁধের কিছু স্থান ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থানে জিও ব্যাগ ও বালু দিয়ে মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বানিয়াচং উপজেলার রাধানগর গ্রামে খোয়াই নদীর তীর উপচে বন্যার পানি হাওরে প্রবেশ করছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বৃষ্টিপাত কমছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উজানে বৃষ্টি কমায় আশা করা যাচ্ছে, আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার দিকে হবিগঞ্জেও খোয়াই নদীর পানি কমবে।
২৬ দিন আগে
হবিগঞ্জে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৫০
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানার ওসিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন ) সকালে উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি ফরিদ মিয়া জুলাই আন্দোলনের মামলায় কারাগারে ছিলেন। এ সময় তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় যুবদল নেতা কফিল উদ্দিন।
সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হন ফরিদ আহমেদ। তিনি হাইকোর্টের আদেশে স্বপদে পুনর্বহাল হন। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকেন।
এদিকে, সোমবার সকালে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করেন। সেই কার্যক্রমে কফিল উদ্দিন বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা করে। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ ৪ জন আহত হন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে সংঘর্ষ থামাতে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। এছাড়া সেখানে পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৫৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
ঢাকা সিলেট মহাসড়কে হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে সাহেব বাড়ি গেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবের গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে আবুল বাশার (৩৫) ও রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে আশিক আহমেদ (২৫)।
জানা যায়, দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ঢাকা থেকে সিলেট ঘুরতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উল্লিখিত স্থানে পৌঁছালে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি নিহতদের পরিবার এবং পুলিশ।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৭০ দিন আগে
হবিগঞ্জে শিশুকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, প্রধান অভিযুক্তকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ৯ বছরের এক শিশুকে মুখে গামছা বেঁধে নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্তকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) রাতে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের বড়চর বাজারে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটক ব্যক্তি ওই উপজেলার বড়চর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে বড়চর গ্রামের ওই শিশু বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাওয়ার পথে আটক ব্যক্তি ও তার এক সহযোগী মিলে শিশুটির মুখে গামছা বেঁধে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান এবং পাশবিক নির্যাতন চালান। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
পরদিন ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা ওই ব্যক্তিকে গতকাল রাতে পাশের বাহুবল উপজেলার দিগম্বর বাজারে দেখতে পেয়ে ধরে ফেলেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে তাকে বড়চর বাজারে নিয়ে আসার পর জনতা তাকে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আটক করে হেফাজতে নেয়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া প্রধান অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৭০ দিন আগে
হবিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বড়চর গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রবিবার (২৪ মে) বিকালে বড়চর সরকারী প্রাইমারী স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৯ বছর বয়সী ওই শিশুটি গ্রামের দোকানে যাওয়ার পথে একই গ্রামের আফরোজ মিয়া (৩৫) তার সঙ্গী ওই শিশুকে জোরপূর্বক পাশের বাঁশঝাড়ের নির্জন স্থানে মুখে গামছা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। স্থানীয়রা মেয়েটির চিৎকার শুনে ধর্ষণকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ওই ছাত্রীর বাবা ওইদিন বাড়িতে না থাকায় আজ (সোমবার) দুপুরে ভুক্তভোগীকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আশঙ্কাকাজনক অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, তার মেয়েটি খাবার কেনার জন্য স্থানীয় একটি দোকানে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নির্জনস্থানে মেয়েটিকে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করেছে একই গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া ও তার সহকর্মী অজ্ঞাত আরেকজন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ধর্ষকদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
৭১ দিন আগে