হবিগঞ্জ
জ্বালানি সংকট, দুর্যোগে হাওরের বোরো আবাদ বিপর্যস্ত
জ্বালানি তেলের সংকট, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো আবাদ। এর মধ্যে বাজারে কাঁচা ধানের দাম নেমে এসেছে প্রতি মণ ৭০০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত দামের অর্ধেকেরও কম।
স্থানীয় আড়তগুলোতে বোরো ধান ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা আরও কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে এখনও পানি নামেনি, কোথাও কোথাও পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ফলে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার প্রধান বোরো উৎপাদন এলাকা বানিয়াচং উপজেলায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
বানিয়াচং সদরের ধান-চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে তা আরও কম দামে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসেবে, জেলায় ৯টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০৪ হেক্টর কম। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর এবং বানিয়াচং উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ জানান, উপজেলায় ১০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এতে হারভেস্টারগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি জমিতে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্র নামানো যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন।
কুমড়ী গ্রামের কৃষক শহীদ চৌধুরী বলেন, ‘তেল সংকট ও জমিতে পানির কারণে ধান কাটতে চরম সমস্যায় পড়েছি। পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেলও পাইনি।’
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কাটার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হলেও চলতি মৌসুমে জ্বালানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার ৬টি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ে ২৪৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৫৪ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদরে ৯০ হেক্টর, লাখাইয়ে ২৫ হেক্টর, নবীগঞ্জে ২০ হেক্টর এবং চুনারুঘাটে ১৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
৮ দিন আগে
হবিগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিথঙ্গল আখড়া বাজারের সঞ্জিত রায়ের মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ রেস্টুরেন্টটিতে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় মসজিদের মাইকে আগুন লাগার ঘোষণা দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। একপর্যায়ে রেস্টুরেন্টে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩টি মুদি দোকান, একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানসহ মোট ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় কোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাজারের ৯টি দোকান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে বাজারে গিয়ে তারা দেখেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
বানিয়াচং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর রাতে পেলেও সড়ক ভালো না থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
১৪ দিন আগে
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্য আটক
হবিগঞ্জে সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় সার্টিফিকেট জালিয়াতি চক্রের সদস্য আব্দুল বাছিত রিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জেলার বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিল। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও সনদের পিডিএফ কপি তৈরি করে বিক্রি করতেন আটক ওই যুবক। মুল সনদ রাজশাহী থেকে প্রিন্ট করে কুরিয়ারে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।
র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ হোসেন সাগর বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
২৮ দিন আগে
হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার পর ১০০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে মালবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার পর সেখান থেকে ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পদ সুরক্ষা এবং উদ্ধার তৎপরতায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ মনতলা বিওপি থেকে বিজিবির একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল লুটপাটের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করে এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়, যারা বর্তমানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান উদ্ধার কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে বেসামরিক প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিজিবি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদ রক্ষা, জ্বালানি তেল উদ্ধারে সহায়তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং রেলযোগাযোগ পুনর্প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করেছে বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহপুর এলাকায় গতকাল (বুধবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে তেলবাহী একটি ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের খাদে পড়ে যায়।
মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম জানান, লাইনচ্যুত পাঁচটি বগির মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি বগিগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।
৩৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কাতার প্রবাসী নিহত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেলবাহী লরির নিচে পড়ে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মহাসড়কের বাহুবলের শেওড়াতলী আখঞ্জী ফিলিং স্টেশনের কাছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোতালেব। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বুড়িনাও গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত মোতালেব দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে পুটিজরী গ্রামে শশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানদের সিএনজি অটোরিকশায় বাড়িতে পাঠিয়ে নিজে মোটরসাইকেলে রওনা হন। যাত্রাপথে একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় একটি ইটের সঙ্গে মোটরসাইকলের ধাক্কা লাগলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বিপরীতমুখী তেলবাহী লরির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
গত ৪ মাস আগে মোতালেব কাতার থেকে দেশে আসেন। আগামী ৮ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় তার মাথা ও মুখ থেঁতলে গেছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
৩৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার আরও ১
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে আসা এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ ও সিপিসি-১-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আখাউড়া থানার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মিয়া (৩০)। তিনি মাধবপুর উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গত ২৩ মার্চ বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে মাধবপুর বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে সুরমা চা বাগানে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা বাগানের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় দুই ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘ডাকাত’ বলে ধাওয়া করলে তরুণীর সঙ্গে থাকা ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর অভিযুক্তরা তরুণীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক চা বাগানের ভেতরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে মারধর করে তার স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে, ভুক্তভোগীর সঙ্গী পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের মো. জসিম মিয়াকে (৩৪) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর কানের দুল উদ্ধার করা হয়। তবে মো. শাহীন মিয়া সে সময় পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৩৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে এমপির স্ত্রীকে নিয়ে প্রশাসনের সভা, ইউএনও-এসিল্যান্ড বদলি
সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে প্রশাসনের সভায় অতিথি করাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমান বদলির আদেশে সই করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউএনও লিটন দে-কে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এবং মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। যদিও সরকারি আদেশে এই রদবদলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দাবি, বির্তকিত ওই সভার জের ধরেই তাদের তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির আসনে বসেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। সেখানে তিনি বক্তব্যও দেন।
ওই সভার ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সিমির দুই পাশে বসে আছেন ইউএনও লিটন দে, এসিল্যান্ড মাহবুবুল আলম এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। সরকারি সভায় একজন জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের এমন উপস্থিতি ও প্রধান অতিথির আদলে বসে থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
৬৫ দিন আগে
গালাগালকাণ্ডে হবিগঞ্জের সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওসির মামলা, আদালতে সোপর্দ
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী তুষারকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৯/ ৫০৪ ও টেলিকমিউনিকেশন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর ৬৯ ধারায় বাহুবল থানায় মামলা করেছেন। আদালত পরিদর্শক সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বাহুবল থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে গতকাল (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে তুষারকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
এর আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
৭২ দিন আগে
ওসিকে গালাগাল করার অভিযোগে হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা আটক
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে তুষারকে আটক করেছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি শামীম ইকবাল।
এর আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তুষার চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি গত দুই মাসের মধ্যে কোনোদিন ওসিকে ফোনও দেইনি। আমি আমার ম্যানেজারকে গালাগাল করেছি, সেটাকে এডিট করে কেউ ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।
সর্বশেষ, তুষারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না জানতে বাহুবল থানার ওসি, সহকারী পুলিশ সুপার বাহুবল সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে কেউ কল ধরেননি।
৭২ দিন আগে
হবিগঞ্জ জেলা আ.লীগের কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ধ্বংসপ্রাপ্ত কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ভিডিওটি নতুন নাকি পুরোনো তা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা শহরের টাউন হল রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের পুড়িয়ে দেওয়া কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন যুবক ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে’, ‘রাজপথ কাঁপবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা ছিল এবং কয়েকজনের মুখ ঢাকা ছিল।
ওই সময় একজন বক্তা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি আবু জাহিরের নির্দেশে আজ থেকে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় নেতাকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি দুটি ভিডিও ও দুটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে দাবি করেন, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এবং হবিগঞ্জ সদর ও পৌর আওয়ামী লীগ, জেলা ও সদর উপজেলা যুবলীগ, জেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগ এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সশস্ত্র জঙ্গি সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কার্যালয়টি পুনরায় নেতা-কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে একটি জাতীয় ও একটি দলীয় পতাকা টানানো রয়েছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, আমরা মাত্র ভিডিওটি দেখেছি। ঘটনাটি আজকের নাকি পুরোনো, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করার পর বলা যাবে।
৭৭ দিন আগে