চাঁদপুর
ঈদের আগে চাঁদপুরের সেই ৬ প্রতিবন্ধী ভাইবোন পেল নতুন বসতঘর
আগামীকাল শনিবার দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তার আগে সুখবর পেলেন ফরিদগঞ্জের পশ্চিম বড়ালী গ্রামের আজিম বাড়ির ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইবোন।
দীর্ঘদিন ধরে এক কুঁড়ে ঘরে বসবাস করে আসছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই ছয় ভাইবোন। মা ফুল বানুর সঙ্গে এক ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ। এ খবর জেনে এগিয়ে আসেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ৭ লাখ টাকা ব্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অর্থায়নে এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সহযোগিতায় তিন কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড পাকা ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভুমি) এ আর এম জাহিদ হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য বিল্লাল হোসেন মানিক ও আশপাশের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
নির্মাণ কাজের ফলক উন্মোচনের পর জেলা প্রশাসক নিজ হাতে ইট গেঁথে কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর পরিবারটির হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের নতুন জামাকাপড় এবং চিনি-সেমাই তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে, জেলা প্রশাসক ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের জীবন ও সমস্যার অবস্থা সম্পর্কে জানেন।
তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের আয়না। বিভিন্ন চ্যানেল ও সংবাদপত্রে ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের করুণ কাহিনী প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
‘শুধু আমরা নই, বিত্তশালীদেরও সরকারের পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত। আমরা এখানেই থেমে থাকব না। জেলায় যেখানেই প্রতিবন্ধী ও অসহায় লোকজন রয়েছেন, সেখানে সাহায্যের হাত বাড়ানো হবে।’
১ দিন আগে
নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ
প্রায় ৪ বছর আগে শতকোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তা শেষ হয়নি। বর্তমানে এ ঘাটের পন্টুনের সঙ্গে লাগানো কাঠের সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু। পন্টুনের সীমিত স্থানে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওয়াশরুম ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারের মতো সুবিধাগুলো এখানে নেই। ঘাটে থাকা পরিবহনে রয়েছে অব্যবস্থাপনা।
ঘাটে আসা যাত্রীদের অনেকে অভিযোগ করেন, সব মিলিয়ে এ ঘাটে একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লঞ্চে আসা যাত্রীদের ঘাটে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লঞ্চঘাটে থেকে সরেজমিনে দেখা গেছে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে যাত্রীরা লঞ্চ থেকে টার্মিনালে পা রাখলে ঘাটে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোবাইক চালকরা যাত্রীদের মালপত্র নিয়ে টানাটানিতে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হচ্ছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণকাজ শুরু হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঈদ উপলক্ষে বিআইডাব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ যাত্রী চলাচলে কিছুটা মেরামত কাজ করলেও তাতে হাজার হাজার যাত্রীর দুর্ভোগ কমছে না।
চাঁদপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে দৈনিক প্রায় ৩০টি লঞ্চে যাতায়াত করছেন হাজার হাজার যাত্রী। এ ঘাট দিয়ে চাঁদপুর ছাড়াও পাশের জেলা লক্ষীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ ও দুরবর্তী উপজেলা হাইমচরের শত শত যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। দৈনিক প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এ ঘাট ব্যবহার করছে বলে জানান লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি আলী আজগর, রুহুল আমিনসহ অন্যরা।
৩ দিন আগে
চাঁদপুরে ঈদে শোকের ছায়া নিয়ে বাড়ি ফিরলেন জাবির খাদিজা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা (২৫) সাভারে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের পর চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে ফিরলেন শোকের ছায়া নিয়ে। ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পরিবারের কাছে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে তার মরদেহ কচুয়ার তেতৈয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত খাদিজা কচুয়া উপজেলার ৬ নম্বর কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহজাহান মোল্লার মেয়ে ছিলেন। জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের তিনি আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।
এদিকে, ঈদের আনন্দের সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গ্রামের প্রতিবেশিরা জানান, খাদিজা খুবই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশের নামকরা মানুষ হবে খাদিজা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাহিম আল হাসান (২২) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা।
এ হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে, এ ঘটনায় নিহত খাদিজার চাচা মনিরুল ইসলাম (৪৬) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মনিরুল ইসলাম মামলার এজাহারে অভিযোগ করে বলেন, শারমিন জাহান খাদিজার সঙ্গে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম আল হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা গত ২৪ জুন ইসলামি শরিয়ত মেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর আমাদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।
মামলার এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বর মাস থেকে আশুলিয়া থানার ইসলামনগর জামে মসজিদ-সংলগ্ন জনৈক সুপ্তদের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়া বসবাস করেছিলেন তারা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই উভয়ের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ সৃষ্টি হয়। কলহের বিষয়টি খাদিজা তার বাবা ও মাকে জানিয়েছিলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ তলা বাড়িটির নীচ তলার বাম পাশের রুমে ঢুকে খাদিজাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তখন আমি আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আমার ভাতিজিকে চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, মর্গে মরদেহ পাঠানোর আগে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। খাদিজার কপালের ডান পাশে, মাথার ওপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে জানতে পারি, আসামি ফাহিম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরে যান। এই সময়ের মধ্যেই ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামারা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা।
৪ দিন আগে
চাঁদপুরে প্রতিবেশীর এক ঘুষিতে প্রাণ গেল অটোচালকের
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কলার পাতা কাটাকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার (৬৩) নামে এক ব্যক্তির এক ঘুষিতেই তার প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আজ (শনিবার) গ্রেপ্তার তিনজনকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দীন।
নিহত বিল্লাল হোসেন (৫০) ইছাপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে ছিলেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, তিন সন্তানের বাবা বিল্লাল ও আবুল বাশার প্রতিবেশী হলেও জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার তা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলেন আবুল বাশার।
গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে স্থানীয় রমজান আলীর দোকানের সামনে দুজনের মধ্যে এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল বাশার হঠাৎ পেছন দিক থেকে বিল্লাল হোসেনের ঘাড়ে ঘুষি দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান বিল্লাল। পরে উপস্থিত কয়েকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হেলাল উদ্দীন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, ঘটনার পরপরই আবুল বাশার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সাকের্ল) মুকুর চাকমার দিকনির্দেশনায় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামি—আবুল বাশার, তার দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমাম হোসেনকে (৩০) আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) তাদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭ দিন আগে
চাঁদপুরে তারাবির পড়তে গিয়ে নিখোঁজ রুবেলের মরদেহ মিলল বাঁশঝাড়ে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নুরানী মাদরাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল নিখোঁজ হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে মিলেছে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ও নাকে মুখে রক্ত বের হচ্ছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির পাশের বাশঁঝাড়ে মরদেহটি পড়ে ছিল।
নিহত মো. রুবেল হোসেন মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। সে সানকিসাইর মাদরাসার নুরানি বিভাগের ছাত্র ছিল।
তার মৃত্যু কখন হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তার খেলার সাথীরা জানায়, তারাবির নামাজের সময় রুবেলকে দেখা যায়নি, তখনই থেকেই নিখোঁজ ছিল সে।
পরিবারের স্বজনরা জানান, বুধবার ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে যায় তারাবির নামাজ পড়তে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেন।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় পাশের বাড়ির কালু নামের এক ব্যক্তি। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা নিশ্চিত হন যে শিশুটি মারা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক ও উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির গলায় ফাঁসের দাগ এবং নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দীন।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করল। সে কী অপরাধ করেছিল?’
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে হত্যা করে থাকলে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৯ দিন আগে
চাঁদপুরে ১২৭ মণ জাটকা জব্দ, ১০ জেলের কারাদণ্ড
চাঁদপুর জেলার হাইমচরের মেঘনায় অভিযান চালিয়ে ১২৭.৫ মণ (৫১০০ কেজি) জাটকাসহ ১০ জেলেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার (১১ মার্চ) কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয় ।
কোষ্টগার্ড সুত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে চাঁদপুর কোস্ট গার্ড স্টেশন হাইমচরের চরভৈরবী ও এর আশপাশের এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বড় কাঠের জেলে নৌকায় তল্লাশি করে ৫ হাজার ১০০ কেজি জাটকা জব্দ করে। সে সময় ১০ জেলেকে আটক করা হয়।
জব্দ করা জাটকার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে চাঁদপুর কোস্টগার্ড স্টেশনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক জেলেদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে জেলেদের নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, জব্দ করা জাটকাগুলো আজ (বুধবার) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুকের উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা, গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণের জন্য মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
১০ দিন আগে
হাঁস চুরির অভিযোগে সালিশ, অপমান সইতে না পেরে তরুণের ‘আত্মহত্যা’
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামের এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রবিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে নাকে খত দেওয়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করেন ও হুমকি দেন। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সময় খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি, মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় চাঁদপুরে কৃষককে ‘পিটিয়ে হত্যা’
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, জাকির তিন মেয়ে ও দুই ছেলেসহ পাঁচ সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ফাইম মিয়াজী (২৪), মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের রিফাত বেপারী ও রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনায় জাকির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হঠাৎ হামলা চালান। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান জাকির।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। টানা ১৩ দিন ঢামেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল (রবিবার) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজীর ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী মামলা করেছেন।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে।
বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তদের নামে নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।
১২ দিন আগে
চাঁদপুরে অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দেশীয় অস্ত্র ও পিকআপ নিয়ে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জাব্বার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটকরা হলেন— লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার মো. জাহেদ প্রকাশ জাহিদ (২৭), কুমিল্লা মুরাদ নগর থানার ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও দাউদকান্দি থানার মো. মহসীন মিয়া (৩০)।
ওসি আব্দুল জাব্বার জানান, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পারে কুমিল্লা থেকে একদল ডাকাত পিকআপ নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারে ডাকাতি করার জন্য আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ বাজারের পূর্ববাজার সেতুর পাকা সড়কের ওপর পুলিশ তাৎক্ষণিক চেকপোস্ট বসায়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল), পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব শর্মা, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দিলীপ চন্দ্র দাসসহ পুলিশ সদস্যরা গাড়ি তল্লাশি করেন।
তিনি বলেন, দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে টাটা ব্র্যান্ডের নীল রঙয়ের ছোট পিকআপ আটক করে পুলিশ। তখন পিকআপে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে দিলীপ চন্দ্রা সাহা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের অস্ত্রসহ আটক করেন।
জব্দ করা দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— ১টি ধারালো রামদা, চাপাতি, ছুরি, লোহার কাটার, ৩টি লোহার রড, ১টি লোহার শাবল, পুরাতন ৩টি সুতি গামছা, ৫টি ধারালো সার্প কোম্পানির ব্লেড ও ৩টি কালো রঙয়ের মাস্ক।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে। আসামিদেরও চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।
১৪ দিন আগে
চাঁদপুরে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবি, আহত ৪
চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা নদীর শাখা ধনাগোদা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ চারজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধনাগোদা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হলে আহত দম্পতি সৌরভ (২২) ও রাহেলা আক্তারকে (২০) চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা চাঁদপুর সদর উপজলার পূর্ব শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রানা সাহা জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনের অবস্থাই এখন আশঙ্কমুক্ত। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানান, তারা নৌকা চড়ে মতলব উত্তর থেকে মতলব দক্ষিণে আসার পথে নৌকাটি খেয়াঘাট এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পানিতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় নৌকার মাঝিসহ ৪ জন আহত হন। এ ঘটনায় সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
২৫ দিন আগে