হাসপাতাল
কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর, দুই চিকিৎসক আহত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এতে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম রাফি (৩)। সে ওই গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (শুক্রবার) সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় রাফি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মিরপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাদের অবহেলায় রকির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে অসদাচরণ করেন। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রকির মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন তারা।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল রিয়া বলেন, স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমরা সহানুভূতির সঙ্গে দেখি। তবে হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, ভাঙচুরের পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।
মিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
চিকিৎসক-জনবল সংকটে ভুগছে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্ধ অপারেশন থিয়েটার
৫০ শয্যার হাসপাতাল, রয়েছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীরা।
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, এমন রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি সময়, অর্থ ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবলের সংকটে অনেক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়েই অন্যত্র যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিশেষ করে জরুরি ও জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট জনবল থাকলে অনেক রোগীর চিকিৎসা নড়িয়াতেই সম্ভব হতো। কিন্তু জনবল না থাকায় সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালের ওপর।
হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটারের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাবে সেটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ছোটবড় বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদেরও অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের মতে, নড়িয়ার মতো একটি বড় উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত পূরণ করা জরুরি। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক রোগীর চিকিৎসা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জেলা সদর ও রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কমবে।
এলাকাবাসী দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালের সব সেবা কার্যকরভাবে চালু করবে।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. দিদার হোসেন বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতির কারণে অপারেশন থিয়েটার চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকট কাটলে হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
৭ দিন আগে
হাসপাতালে বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর অভিযোগে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সব ধরনের পরীক্ষা হাসপাতালে করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডও পরিদর্শন করেন।
এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর অভিযোগ পান তিনি। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সাখাওয়াত বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সম্প্রতি হাসপাতালের সেবার মান ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের ক্ষোভের বিষয়টি নজরে আসার পর পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
৮ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০,৩১১, প্রয়োজন ৮৮,৯০৯: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনসংখ্যার ন্যূনতম অনুপাত পূরণ করতে দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সংসদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহার (মাদারীপুর-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন সংসদে জানান, সরকারের অর্থায়নে ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসকের ন্যূনতম মান পূরণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মী-সংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে দেশে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ ও চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করতে সরবার চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে।
১২ দিন আগে
জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
অসুস্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে যান এবং জ্বালানিমন্ত্রীর শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, এ সময় তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন। তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদের সাথেও কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
ওই সময়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্ণেল এ কে এম ফয়জুল হক, রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব মো. ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার বাবা তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে জ্বালানিমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।
১৭ দিন আগে
আবহাওয়া পরিবর্তন ও লোডশেডিংয়ে ঝিনাইদহের জনস্বাস্থ্যে প্রভাব, হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু
গরমের পাশাপাশি হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে ঝিনাইদহে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে জেলা শহরের দুইটি হাসপাতালে ২০০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে।
এদিকে, মাত্র ৪৬টি বেডের বিপরীতে একই সঙ্গে ১৯৭ শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং যা অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৪৬টি, কিন্তু সেখানে ১৯৭টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৮০ জন, ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত কারণে ৯৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে আরও ২০ জন শিশু।
অন্যদিকে, শহরের ২৫ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আরও ২১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। সদর হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও প্যাসেজে শয্যা পেতে শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
রাহেলা বেগম নামে এক শিশু রোগীর স্বজন জানান, তীব্র গরমের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা ছটফট করছে। এনসিইউ ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে ছোট ছোট শিশুদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মায়েরা।
২৭ দিন আগে
বাগেরহাটে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক দগ্ধ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল চত্বরে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়িতে রোগীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে পাশে থাকা ৯টি মোটরসাইকেলও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
অগ্নিদগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেনকে (৬৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুল আলম এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স বাগেরহাট জেলা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ফটকে আসে। তবে রোগী ওঠানোর আগেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
৩৯ দিন আগে
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা
ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়ায় করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈম উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয় উঠে আসে।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময় হাসপাতালটির নানা অব্যবস্থাপনার সত্যতা পাওয়া যায়। যার মধ্যে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) অব্যবস্থাপনা, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের শয্যায় মনিটর না থাকা এবং ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে। পরে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এছাড়া একই এলাকার আরও ৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন। লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনা করার অপরাধে এসব হাসপাতালের কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযান শেষে সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সেগুলো বন্ধ করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আল-জারা হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন এবং সহকারী অধ্যাপক। এই হাসপাতালে এসে অস্ত্রোপচার করা তার ঠিক হয়নি। তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব এবং তাকে শোকজ করা হবে।’
৪৬ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে টেস্ট বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, টেন্ডার কারসাজি ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খুলবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন, কমিশন খাবেন, রোগী এলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে—এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো আমরা মনিটর করব।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এমন অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়, যা প্রতিযোগিতা সীমিত করারই কৌশল।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দুটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু যেখানে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই প্রস্তুত ছিল না। ফলে একটি মেশিন ফরিদপুরে এবং অন্যটি খুলনায় অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, একটি বিদেশি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সেবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। এর ফলে আগামী ডিসেম্বর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়লেও মানুষের সচেতনতা কম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন ও এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি পরীক্ষা করবেন। পুরুষদের কাছে পুরুষ এবং নারীদের কাছে নারী স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন।
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে এক টাকাও ঘুষ দেওয়া যাবে না। সৎ থাকলে কাউকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অডিটে কেউ অনৈতিক টাকা চাইলে সরাসরি আমার কাছে আসবেন।
হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন করানোর প্রবণতা বন্ধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় লেবার রুম, লেবার চেয়ার ও নবজাতকের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।
গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা এবং ৯৫ জন কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে ৩২টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থ অব্যয়িত থাকলেও মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গবেষণায় বলা হয়, অব্যয়িত অর্থের প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা।
এছাড়া সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তর খাতে ব্যয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে
সাতক্ষীরায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই চিকিৎসকসহ তিনজন বরখাস্ত
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুজন চিকিৎসকসহ তিনজনকে শাস্তি দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ডা. তন্নি নামের এক চিকিৎসককে এবং চুরির ঘটনায় এক নাইট গার্ডকে বরখাস্ত করেন তিনি।
পরে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় এক মাসের বেশি সময় ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামের আরেক চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম। গত ১৭ বছরে স্বৈরশাসন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়নি; কোনো দিকে খেয়াল করেনি; যে কারণে এ সমস্যা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ১০১ শয্যার ফিজিওথেরাপি ও আধুনিক প্যাথলজি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালগুলোতেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারকে পিপিপির আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুতই ই-হেলথ কার্ড দেওয়া শুরু করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন।’
৫৫ দিন আগে