মির্জা ফখরুল
দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগেই মিলবে টেকসই সমাধান: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও অন্যান্য দূষণরোধে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীবলেন, পরিবেশ দূষণ বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নগরায়ন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী ও জলাশয়ে বর্জ্য নিক্ষেপ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার পরিবেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার কমানো এবং বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে তার মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় পানি দূষণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদ-নদী সংরক্ষণ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহা. শওকত রশীদ চৌধুরী, এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পানি ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১০ ঘণ্টা আগে
বিরোধীদলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন আমাদের সম্মানীয় বিরোধীদলীয় নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক একই রকম কথা অতীতে শেখ হাসিনাও বলতেন।
১৯৯১ ও ৯৬ সালে আওয়ামী লীগও বর্তমান বিরোধীদলের মতো একই সুরে সরকারকে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার কথা বলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বিরোধীদলের নেতাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং আমরা মনে করি যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, কার্যকর করতে হলে বিরোধীদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই তারা বিরোধিতা করবেন এবং যে ভুলগুলো সরকার করবে সেগুলো দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা সংসদের মধ্যে হলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা ঠিক থাকে।
তিনি আফসোস করে বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই আগের মতো রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা, জটলা তৈরি করা আবার শুরু হয়েছে। এটাতে তো আপত্তি নেই, এটা আপনাদের গণতান্ত্রিক নীতি; কিন্তু সেটা এমন পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাতের রূপ নেয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অবশ্যই নিন্দা জানাই, যে সমস্ত জায়গাগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা নিন্দনীয় এবং এটা অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি।
বিএনপি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সংগ্রাম মূলত ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করেছে। এই ১৭-১৮ বছরে প্রায় ৬০ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার মামলা হয়েছে মিথ্যা মামলা।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, একটা মহল থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ পালন করছে না। এটা কিন্তু পুরোপুরিভাবে একটি ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমি এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ বিএনপিই হচ্ছে সেই দল যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। একদলের শাসন ব্যবস্থাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে এসেছে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
জুলাই সনদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের তথ্য বলা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না, বিএনপি সরে যাচ্ছে, বিএনপি দূরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যাতো অন্য জায়গায়। সেটা হচ্ছে গণভোট, যেটার কথা বার বার বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন ছিল, সে চারটা প্রশ্নের মধ্যে তিনটাতে আমরা একমতই ছিলাম। কিন্তু একটা প্রশ্নে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে, তারা এটা চাপিয়ে দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই জিনিসটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আমরা কখনোই সেটা মেনে নেইনি। আমরা বারবার বলেছি যে আমরা এইখানে একমত নই। ওভাবেই নির্বাচন হয়েছে।
তিনি বলেন, সেভাবেই তো ম্যানিফেস্টো (নির্বাচনি ইশতেহার) দিয়েছি আমরা, সেভাবেই জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা সরকারে এসেছি। সরকারে এসে আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ অক্ষরে—আমরা যতটুকুতে সম্মত হয়েছি—পালন করতে চাই।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ হয়েছে, সংসদে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাই, সংবিধান অ্যামেন্ডমেন্ট কমিটি বা সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে শব্দ নিয়ে বিতর্ক—সংস্কার হবে নাকি নাকি সংশোধন হবে।
বিরোধীদলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন, আমরা আলোচনা করি। সংসদে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই। কোন কোন জায়গায় আলোচনা আছে, সে বিষয়ে কথা বলি। তখন যদি একমত না হয়ে বেরিয়ে যাবেন, বেরিয়ে যাবেন। তবুও আলোচনা করুন।
১ দিন আগে
আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে (ঠামেক) শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিস সমিতির আয়োজনে এবং নেপালের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। প্রতিটি থানায় এ ধরনের আই ক্যাম্পের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অত্যন্ত উদ্যোগী ও পরিশ্রমী। তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। যেসব মানুষ সহজে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা পান না, তাদের জন্য এ ধরনের আই ক্যাম্প একটি বড় সুযোগ। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিপ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনআইএস-এর চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডাক্তার চেতরাজ প্রান্ত, বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলার চিকিৎসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
পাঁচ দিনব্যাপী এ চক্ষু ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে। চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি রোগী তাদের নাম নথিভুক্ত করেছেন।
পরে মির্জা ফখরুল ও নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিপ অব মিশন মি. প্রতীক কার্কিসহ অতিথিরা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন।
২ দিন আগে
যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, প্রার্থী ঠিক করবে দল: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। একবার নয়, বিএনপি পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সে রকমভাবে গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আর জামায়াতে ইসলামীর আমির সাহেব তাদের দলের গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়বেন। তাদের দল কতটা গণতান্ত্রিক, সেটি তারাই বিবেচনা করবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে, তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।
৮ দিন আগে
শুধু চাকরি নয়, তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শেকৃবির উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের
বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি দেশে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে চীনের অভূতপূর্ব অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
১৭ দিন আগে
গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুকের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় যুক্তরাজ্যকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশা করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
এদিকে, একইদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস)-এর বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ইউএনওপিএসের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৮ দিন আগে
জাইকা বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।
৩০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর বাংলাদেশের কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, এই সফরের ফলে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর উপলক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।
তিনি জানান, সফরকালে বিশেষ করে চীনের সঙ্গে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যা এ ইস্যুতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের আগে বা পরে জনসমাগমনির্ভর সংবর্ধনার প্রচলিত সংস্কৃতি পরিহার করে রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব রাজনৈতিক চর্চার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও ইতিবাচক ও আধুনিক ধারায় এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতা ও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
৩৮ দিন আগে
বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্রগুলো চালুর আশ্বাস স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্রগুলো তথ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় পুনরায় চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘১৬ জুন-সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমরা সবসময় সাংবাদিক বন্ধুদের পাশে পেয়েছি। অত্যন্ত কঠিন সময়গুলোতেও তারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমি কখনো ভুলতে পারি না, যেদিন রাতে প্রেসক্লাবে আমাকে আটক করে রাখা হয়েছিল, সেদিন সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে নিরাপত্তা দিয়ে আমার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে তাদের অবদান কখনো ভোলার নয়। গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবাদিকদের অবদান জাতি স্মরণ রাখবে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতের নানা প্রতিকূল সময়ের তুলনায় বর্তমানে সাংবাদিকরা অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনও অনেক সাংবাদিক কর্মহীন রয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্রগুলো পুনরায় চালু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি কার্যকর নীতিনির্ধারণী ফোরাম গঠন জরুরি। পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে, কেননা গণমাধ্যমের দায়িত্ব দেশের সমগ্র জনগণের স্বার্থ ও উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৯ দিন আগে