কুড়িগ্রাম
তিস্তার ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকিতে, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সমাধান দাবি ভুক্তভোগীদের
তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। এতে জীবন-জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নদীতীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই জমি হারাচ্ছেন কৃষকেরা। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা। অনেক বসতবাড়িও এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে, ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের পর এটি নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গাইবান্ধার হরিপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। নদীটির বাংলাদেশ অংশ প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ারডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় ৪০০ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নের একটি অংশে ৫০০ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে ১ হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে ৫০০ মিটার এবং বজরা এলাকায় ৭০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়লেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। শুধু অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দিচ্ছে না।
রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই নদী আমাদের জমি গ্রাস করছে। এখন ঘরবাড়িও ঝুঁকিতে। আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।’
একই এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ‘ভাঙনের ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। প্রতিবারই কাজের আশ্বাস পাই, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না।’
কৃষক মোকসেদ আলী বলেন, ‘আমার চাষের জমি নদীতে চলে গেছে। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের বসতভিটাসহ গৃহ নির্মাণে সহযোগিতা করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের ব্যবস্থা নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে, রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙনরোধে ফেলা হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে মানুষ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
৫ দিন আগে
কুড়িগ্রামে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাছপালা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতি
কুড়িগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা, ঘরবাড়ি ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বসতঘরগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে ঝড় শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরেই কুড়িগ্রামে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড দমকা হাওয়া ও ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় জেলার ৯টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়ে। এছাড়া অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম রাঙ্গাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোকন আলী বলেন, ‘গত রাতের ঝড়ে গাছ ভেঙে আমার টিনের ঘরের ওপর পড়ে। আমি গরিব মানুষ, কী দিয়ে এখন টিন কিনে ঘর ঠিক করব?’
একইভাবে হলোখানা ইউনিয়নের চর সারোডোব এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রাতে হঠাৎ ঝড়ে আমার তিনটি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। এখন হাতে টাকা-পয়সা নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে থাকব বুঝতে পারছি না।’
৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৫
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাগেশ্বরী পৌরসভার বাঁশের তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
নিহতরা হলেন— ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই গ্রামের আসাদমোড় এলাকার শামীম হোসেন (৩২) ও তার মেয়ে মোছা. সাদিয়া (৮), একই পরিবারের বাবু মিয়ার স্ত্রী তামান্না (২৮), জাহিদুল ইসলামের ছেলে নুরনবী (২৮) এবং সাইফুর রহমানের ছেলে লিমন (৩০)। লিমন পেশায় মাইক্রোবাসচালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক কুড়িগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। নাগেশ্বরীর বাঁশের তল এলাকা অতিক্রমকালে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ভূরুঙ্গামারীগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তাদের কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ (বুধবার) সকালে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একসঙ্গে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, একটি পরিবারের এতজন সদস্য একসঙ্গে মারা যাওয়ায় পুরো ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তবে দুর্ঘটনাটি নাগেশ্বরী থানার এলাকায় হওয়ায় আইনগত বিষয়টি তারা দেখছে।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। তবে কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৭ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে কুড়িগ্রামের জলাংকারকুঠির চর, ঝুঁকিতে একমাত্র স্কুল
ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জলাংকারকুঠির চর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এতে চরের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। একইসঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে চরের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ স্কুল।
চরটি উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসব পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে এই দুর্গম চরে আশ্রয় নিয়েছে।
উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখানে বসবাস করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোনো সুযোগ না থাকলেও তারা সংগ্রাম করে টিকে আছে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় উদ্যোগে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাঁশ ও টিনে নির্মিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আশপাশের চরাঞ্চল থেকেও শিশুরা এখানে পড়তে আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোত ও ভাঙনে চরটির আয়তন দ্রুত কমে আসছে। ইতোমধ্যে বসতঘরের পাশ ঘেঁষে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং নদী ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় স্কুলসহ পুরো বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীভাঙনের কারণে তাদের স্কুলটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সাইদ ও এনামুল হক বলেন, চরের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন চরম ঝুঁকিতে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
চরের গৃহবধূ রজিবা বেগম বলেন, আগে বাচ্চাদের পড়াশোনার সুযোগ ছিল না। এখন স্কুল হয়েছে, কিন্তু ভাঙন বন্ধ না হলে সেটিও টিকবে না।
এদিকে, চরের বাসিন্দা হায়দার আলী ও আবু বক্করসহ আরও কয়েকজন জানান, নদীভাঙনে তারা আগেই জমিজমা হারিয়েছেন। এখন আবারও উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, চরে ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কাজ করার নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আবেদন পেলে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জলাংকারকুঠির চর বিলীন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি প্রজন্ম শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে।
১১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদেশি আঙুর চাষে দুই উদ্যোক্তার সাফল্য দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদেশি প্রজাতির (বাইকুনুর) লাল আঙুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমীন ও হাসেম আলী। তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার আশা জাগিয়েছে।
উপজেলার গংগাহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে প্রায় এক দশকের পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে তাদের আঙুর বাগান। বর্তমানে সেখানে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরলতা রয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৪০টি চারা দিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে সামান্য ফলন এলেও ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর বিক্রি শুরু করেন তারা। ওই বছর ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ৫ মণ আঙুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১০ মণ, ২০২৪ সালে ১৫ মণ এবং ২০২৫ সালে ২০ মণ আঙুর বিক্রি করা হয়। চলতি বছর ৬০টি গাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তারা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হবে বলে ধারণা তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে বাইকুনুর ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি জাতের আঙুরের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ফলজ গাছ রয়েছে। বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগ্রহীরা এখান থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।
১৫ দিন আগে
কুড়িগ্রামে দুই দিনে দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় পরপর দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে মো. আব্দুল জব্বার (৬৫) এবং উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রামের মৃত বানছার আলীর ছেলে আব্দুল আখের ওরফে ফাকের (৬০)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে বসতঘর থেকে আব্দুল জব্বারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জব্বারের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান জব্বার। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বোনের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বকস খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তাকে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা জানান, জব্বারের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত তার। গত ১২ এপ্রিল এ নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
অন্যদিকে, গতকাল (সোমবার) উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রাম থেকে আব্দুল আখের ওরফে ফাকেরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভোরে বাড়ির আঙিনায় একটি কূলগাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা দোলনার প্লাস্টিকের রশিতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। সকালে তার পুত্রবধূ মাজেদা বেগম তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় সেখানে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন তিনি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, দুটি ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
২১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে চাইলেও ফার্মেসিগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু।
অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ করছে।
কোনো কোনো ফার্মেসি ওষুধের গায়ে উল্লিখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে উদ্যোগী হলেও তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে; অনেক সময় ভয়ভীতিও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর ফলে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাজারে কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০, ৪১ ও ৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি এবং সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, জেলায় ২ হাজার ২৬৫টি ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি হয়। তাদের দপ্তর ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, তবে মূল্য নির্ধারণ করে না। এ সময় কুড়িগ্রাম শহর ও উলিপুরে দাম নিয়ে অভিযোগের কথা তিনি স্বীকার করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো সীমিত পরিমাণ ডিসকাউন্ট দেয়। কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা। এর বেশি নেওয়া যাবে না, তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কেউ এতে বাধা দিলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাধারণ ক্রেতারা জানান, একই ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কম দামে কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৩৭ দিন আগে
বোনকে কুপ্রস্তাবে প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আবুল কালামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালাম ও তার সহযোগীরা শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে শাহিদা ও তার ছোট ভাই প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আসামি সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা বাড়ির উঠানে রান্নার চাল ধোয়ার জন্য যান। সে সময় তাকে একা পেয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় শাহিদার বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৩।
৬০ দিন আগে
সেতুটি ভেঙেছে ১৭ বছর আগে, নতুন সেতু হবে কবে?
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জামতলাপাড়া থেকে কচুয়ারপাড়া-মাদাইখাল সংযোগ সড়কে ডুবুরীরখাল এখন আর শুধু একটি খাল নয়, এটি দুই পাড়ের মানুষের বিচ্ছিন্ন জীবনের প্রতীক। একসময় যেখানে একটি সেতুর মাধ্যমে দুপাড়ের মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ছিল, এখন সেখানে দেখা যায় কেবল ভাঙা কংক্রিটের চিহ্ন।
প্রায় দেড় দশক আগে ধ্বসে পড়া সেতুটির জায়গায় আজও নতুন কোনো স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়নি। ভাঙা সেতুর উপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা। ফলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। শিশুদের স্কুল, কৃষকের ফসল পরিবহন, রোগীর হাসপাতালে যাওয়া—সবকিছুই এখন একটি অস্থায়ী কাঠের পথের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ভাঙা সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। শুরুতে সেটি কিছুটা স্বস্তি দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাঠ ক্ষয়ে গেছে, পাটাতন ঢিলা হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় ফাঁক তৈরি হয়েছে। এখন সেটিই হয়ে উঠেছে নতুন ঝুঁকির কারণ।
জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ডুবুরীরখালের ওপর আগে পরপর দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বন্যার তীব্র স্রোতে সেগুলো দেবে যায়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে নির্মিত সেতুটি ২০০৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময়, কিন্তু সেতু পুনর্নির্মাণে আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
৬৪ দিন আগে
নদী শুকিয়ে চর জেগেছে, সবুজে ভরেছে ধরলা–বারোমাসিয়া
এক সময় উত্তাল স্রোত আর গর্জনে তীরবর্তী মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানো ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর চিরচেনা রূপ এখন আর নেই। জলবায়ু পরিবর্তন ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নদীর বুকে জেগে উঠেছে প্রায় আড়াই শতাধিক চর। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে ধু-ধু বালুচরে সবুজ ফসলের সমারোহে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা এলাকায় ধরলা–বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীসহ বিভিন্ন নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে কৃষকরা বোরো ধান, ভুট্টা, তামাক, বাদামসহ নানামুখী ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন চোখে পড়ে সবুজের এক অপরূপ দৃশ্য।
নদীতে পানি না থাকায় অনেক স্থানে মানুষজন পায়ে হেঁটে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়রা জানান, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এসব চরাঞ্চলে নিয়মিত ফসল চাষ হচ্ছে এবং প্রতি বছরই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
ধরলা নদী পাড়ের সোনাইকাজী এলাকার কৃষক আলতাফ হোসেন ও মজিবর রহমান বলেন, এক সময় এই ধরলা নদীই আমাদের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি গিলে নিয়েছিল। অসংখ্য মানুষ নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন। সেই নদীই এখন শুকিয়ে গেছে। আমরা প্রতি বছর ধরলার বুকে জেগে ওঠা পলিমাটিতে বোরো চাষ করি। এবারও প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ ধান পাওয়ার আশা করছি। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারদর ভালো না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মজসেদ আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ধরলার বুকে বোরো ও ভুট্টা চাষাবাদ হচ্ছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। চলতি বছরও ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
৬৭ দিন আগে