মামলা
জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ইমামের যাবজ্জীবন
জামালপুরে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় মুছা মিয়া নামের এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি জামে মসজিদে ইমামতি ও মক্তবে শিক্ষকতা করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগীকে মসজিদে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন মুছা। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মা দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ২০২১ সালের ৫ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রায় ঘোষণা করলেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।
৯ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ অক্টোবর) এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে অপ্রতীমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার বাদী অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।’
১১ দিন আগে
বরিশালে ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল, ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বরিশালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিলের ঘটনায় ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
এর আগে গত শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সে সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণও ঘটান তারা। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নগরীর বাসিন্দারা।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নামধারী আসামিরা হলেন সাদ, মিরাজ, লাদেন, রাতুল, রাকিব, আবু বকর সিদ্দিক, রাশেদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম রাজা, উজ্জল, খোকা, সীমান্ত ও ইব্রাহিম। তারা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নগরীর সদর রোডের বাসিন্দা রমিজ হাওলাদার বলেন, বরিশালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে খুবই দুর্বল, তার অন্যতম উদাহরণ একের পর এক ছাত্রলীগের মিছিল ও সমাবেশ। ঢাকার বাইরে একমাত্র বরিশাল নগরীতেই একাধিক মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা।
পুলিশের দুর্বল ভূমিকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি করার সাহস পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের মিছিল করার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।
১৫ দিন আগে
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আশিস সূত্রধর শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে মামলাটি করেন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকিরা অজ্ঞাতপরিচয়। এতে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নামও রয়েছে।
এর আগে রিসোর্টের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম সুমনকে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তাকেও এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এর আগে শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহতদের মধ্যে ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মিম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। দুই নারী, এক শিশুসহ বাকি চারজন নিহতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
১৬ দিন আগে
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে ঘটনায় অজ্ঞাতনামা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি করেন এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে আসেন। মাজার পরিদর্শন ও লালনের গান শোনা শেষে রাত আনুমানিক সোয়া ৮টায় মাজারের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে একজন নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করেন। এরপর অন্যদের উদ্দেশে ‘শালাদের আজ শেষ করে ফেল’ বলে উসকানি দেন। পরে হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ, পাইপ, বাটাম, লোহার রড, পাথরসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসীরুদ্দীন ও তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা ও মারধর করেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলা থেকে বাঁচতে নাসীরুদ্দীন, এনসিপির নেতা-কর্মীরা মাজারের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে হামলাকারীরা তাদের পিছু নিয়ে মাজারের ভেতরেও ধাওয়া করেন এবং হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীনকে নিরাপদে বের হতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, এনসিপির নেতা-কর্মী ও উপস্থিত অন্যরা তাদের রক্ষায় এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাজার থেকে বের হয়ে মূল ফটকে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ও পুলিশের সহায়তায় নাসীরুদ্দীনসহ অন্যরা নিরাপদে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় গত বুধবার মামলা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে পুলিশ।
২৫ দিন আগে
সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
গত শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গতকাল (শনিবার) তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগ মামলায় রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
৩০ দিন আগে
সহিংসতার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে
ফরিদপুরে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর দায়ের করা সহিংসতার মামলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার মোল্যা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাহ মো. আলতাফ হুসাইন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাটিকানাইপুরের বাসিন্দা। চলতি বছরের ২৭ জুন কোতয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলার ১ নম্বর আসামি তিনি।
পুলিশ জানায়, মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামের জামে মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি ও ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় ১৭টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এর জেরে পরবর্তীতে ২৬ জুন দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইনকে ১ নম্বর আসামি করে এবং ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।
এসআই আবুল বাশার বলেন, ‘ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন শাহ মো. আলতাফ হুসাইন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।’
৩৫ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ, বিজিবির মামলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. বাবলা লিটন (২৮) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) তামাবিল ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ গুলি করলে তা লিটনের হাতে লাগে।
বাবলা লিটন নলজুড়ি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ১২৭৮/৪ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে বাবলা লিটনসহ সাত থেকে আটজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। তখন তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। এতে বাবলা লিটন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবলা লিটনসহ অন্যরা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে খবর পেয়ে সিলেট বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়া হয়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সতর্কতামূলকভাবে চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
৪০ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আব্দুস সবুরের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। লং মার্চ রংপুরের উদ্দেশে চলে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর একদল লোক হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া নুরনবী নামের আরেক জামায়াত নেতাও মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৪ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ধর্ষণের চার মামলায় গ্রেপ্তার ৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধর্ষণের পৃথক চার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল।
এছাড়া উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন জানান, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ অভিযুক্ত তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ‘ঘটনাগুলোতে থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
৪৪ দিন আগে