গবাদিপশু
দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু, কমবে খামারিদের ব্যয়: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এলএসডি ভ্যাকসিন বাজারজাত হলে গবাদিপশু সুরক্ষিত হবে, খামারিদের ব্যয় কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও টেকসই হবে।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও গোটপক্স ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন এবং টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
আমিন উর রশিদ বলেন, গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়লে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ভাইরাল এলএসডি ভ্যাকসিন এই রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু। দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাজারজাত হলে খামারিদের ব্যয় কমবে, সহজলভ্যতা বাড়বে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও টেকসই হবে।
তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন দেশেই এই ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি খামারিদের উদ্দেশে বলেন, গবাদিপশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলএসডির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। একটি খামারে রোগ দেখা দিলে দ্রুত তা অন্য পশুতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
গবাদিপশুর খাদ্য ব্যয় কমাতে নতুন উদ্ভাবিত উচ্চ-পুষ্টিমানসম্পন্ন ঘাস চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বিএলআরআই উদ্ভাবিত নতুন ঘাসের জাতটিতে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এই ঘাস চাষ করলে খামারিরা কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন এবং দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এর আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। আর নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান প্রাণিসম্পদ। এর মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং প্রাণিসম্পদ খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের লাম্পি স্কিন ডিজিজ এবং গোটপক্সের প্রাদুর্ভাবের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তায় আজকের ক্যাম্পেইনের আওতায় ২০০০ ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন ও ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন উপজেলার গবাদিপশুতে প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে সময়মতো ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে সময়মতো ভ্যাকসিন প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গবাদিপশু পালনের ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গবাদিপশু যাতে রোগে আক্রান্ত না হয়, এ লক্ষ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। শুধু মাংস উৎপাদন বা রপ্তানির জন্য নয়, পশুর স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
শনিবার (২৮ জুন) সকালে মানিকগঞ্জ পৌরসভার জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে নির্বাচিত চারটি জেলায় গবাদিপশুর ক্ষুরারোগের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ভ্যাকসিন যেন নির্দিষ্ট সময়েই দেওয়া হয়—তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খামারিদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আপনাদের সমসময় সচেষ্ট থাকতে হবে।
এলএসডির জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেশে উৎপাদনের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত গরু কোরবানির হাটে এসেছে বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে এধরণের গরু হাটে আসেনি।
পড়ুন: দেশীয় জাতের গবাদিপশু বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
দুধের ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, গরুর দুধের সঠিক দাম না পাওয়ার কারণে খামারিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই চিলিং সেন্টার স্থাপন করা জরুরি। যে অর্থ দিয়ে বিদেশ থেকে গুড়া দুধ আমদানি করা হয়—তা দেশের চিলিং সেন্টার স্থাপনে ব্যয় করলে খামারিরা উপকৃত হতেন।
তিনি আরও বলেন, গুড়া দুধ আমদানি আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। এ খাতে সরকার ছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা, পুলিশ সুপার মোছাম্মাৎ ইয়াছমিন খাতুন, অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. অমর জ্যোতি চাকমা।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, সুফল ভোগীদের পক্ষে বক্তৃতা করেন সেবিকা মন্ডল, আতাউর রহমান। এসময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গবাদিপশু খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় গরু-মহিষের ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রকল্পভুক্ত নির্বাচিত চারটি জেলায় (মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও ভোলা) আজ সকালে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
৪৩৩ দিন আগে
দেশীয় জাতের গবাদিপশু বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশীয় জাতের গবাদিপশু উৎপাদনে যথাযথ সহায়তা ও সঠিক পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে এগুলোকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজন হলে পশুখাদ্যের গুণগত মান ও উপাদান নিয়ে গবেষণা জোরদার করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে সাভারের বিসিএস লাইভস্টক একাডেমিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) মাধ্যমে নবনির্মিত ডরমিটরি ভবনের (হোয়াইট হল) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, নতুন ডরমিটরি ও মনোরম পরিবেশে প্রশিক্ষণের ফলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়বে। যার সুফল পাবেন দেশের খামারিরা।
তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এবছর কোরবানিতে গবাদিপশু সুস্থ ও সবল ছিল।
শিল্প-কারখানাভিত্তিক পশু পালন জলবায়ু পরিবর্তনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রান্তিক খামার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে খামারিরা যেভাবে গবাদিপশু পালন করছেন, তাতে রোগ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা উদ্ভাবন ও প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
কৃষির মতো প্রাণিসম্পদখাতে ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে খামারিরা সরাসরি উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ উদ্যোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করা হয়েছে। এই খাতের কর্মকর্তাদের শুধু শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের নয়; অন্য তরুণদেরও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বিসিএস লাইভস্টক একাডেমির পরিচালক ডা. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহজামান খান, এলডিডিপি প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানীসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিসিএস লাইভস্টক একাডেমির কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণের জন্য আগত বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডারের ৩৩ এবং ৪৩ ব্যাচের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন এলডিডিপির প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন।
আরও পড়ুন: কোরবানির জন্য দেশে পর্যাপ্ত পশু মজুদ রয়েছে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
৪৪৪ দিন আগে
কৃমিজনিত রোগে গবাদিপশুর মৃত্যু: প্রতিকার ও প্রতিরোধ
গবাদিপশুর হওয়া রোগগুলোর বেশিরভাগই কৃমিজনিত রোগ। এর ফলে ওজন কমে যায়, দুধ উৎপাদন হ্রাস পায় এবং মৃত্যুর কারণও হতে পারে। গবাদিপশুর কৃমি সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যা একজন খামারির অর্থনৈতিক ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া গবাদিপশুর রোগ নিয়ে আগাম কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে খামারিরা তাদের গবাদিপশুকে কৃমিজনিত রোগ থেকে অনেকাংশেই নিরাপদ রাখতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মো. সহিদুজ্জামান ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খামারিদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কৃমি রোগের চিকিৎসা অনেকটা অবহেলিত। সাধারণ খামারিরা নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়ান না বললেই চলে। গবাদিপশুর অন্ত্রে বসবাসকারী কৃমি পুষ্টিকর উপাদান শোষণ করে, ফলে পশুটি পুষ্টিহীনতায় ভোগে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গে কিছু কিছু কৃমি আক্রমণ করায় পশু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক সময়ে কৃমি শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা না হলে পশু মারা যেতে পারে। তাই পশুকে কৃমি পরীক্ষা ও কৃমিনাশক খাওয়ানো জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষাকালে ও শীতের শুরুতে পরজীবীর আক্রমণ অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। এর পূর্বেই খামারিদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কৃমি সংক্রমণের কারণগুলোর মধ্যে সংক্রমিত চারণভূমি বা ঘাস খাওয়া, অপরিষ্কার পানি পান করা, সংক্রমিত পশুর মল দ্বারা দূষিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত কৃমিনাশক না দেওয়া, খামারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কৃমি সংক্রমণ সম্পর্কে অসচেতনতা অন্যতম।’
তিনি বলেন, ‘বর্ষার আগে বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে কৃমিনাশক প্রয়োগ করা ভালো। এতে করে যকৃতকৃমি ও পেটের কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব। চারণভূমি ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হবে ও জলাবদ্ধ এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এসব জায়গায় কৃমির সংক্রমণ বেশি হয়। অনেক খামারি নিয়মিত কৃমিনাশক প্রয়োগ করেন না, ফলে দেহে কৃমি সংক্রমিত হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দেয়। গরুর ক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত কৃমিনাশক ব্যবহার, খামার পরিচ্ছন্ন রাখা ও সংক্রমিত গরুকে আলাদা করা জরুরি। এছাড়া সংক্রমিত পশুর ওজন কমে যায়, দুর্বলতা দেখা দেয়, খাওয়ার অনীহা তৈরি হয় ও অনেক ক্ষেত্রে রক্তশূন্যতা হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে শরীর ফুলে যাওয়া ও মলে কৃমির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।’
আরও পড়ুন: ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে বাকৃবিতে নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কোনো গবাদিপশু কৃমিতে আক্রান্ত হলে সেটির চিকিৎসা সম্পর্কে অধ্যাপক সহিদুজ্জামান বলেন, ‘অ্যালবেনডাজল, লেভামিজোল, আইভারমেকটিন ও ট্রিকলাবেনডাজলসহ বিভিন্ন কৃমিনাশক ওষুধ সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।’
‘সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ওষুধের প্রয়োগ পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। ওষুধ প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণের জন্য অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গবাদিপশুর কৃমি সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ করে গরুর ক্ষেত্রে, জন্মের ১৫ দিন থেকে ১ মাসের মধ্যে প্রথম কৃমিনাশক প্রয়োগ করা উচিত। এরপর প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে। খামার পরিচ্ছন্ন রাখা ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘খামারিরা এসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করলে পশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।’
৫২৫ দিন আগে
গবাদিপশুর ম্যাসটাইটিস ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করলেন বাকৃবির অধ্যাপক
দেশে প্রথম গবাদিপশুর ম্যাসটাইটিস বা ওলান ফোলা রোগের ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের দাবি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান ইউএনবিকে জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা ৭০ শতাংশ হলেই সেটি সফল ভ্যাক্সিন হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু তার উদ্ভাবিত ভ্যাক্সিনটি ম্যাসটাইটিস রোগের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ শতাংশ কার্যকর।
তিনি বলেন, দুগ্ধপ্রধানকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ম্যাসটাইটিস বা ওলান ফোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ। তবে দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মোট চাহিদার ৯০ শতাংশই পূরণ করা হয় গরুর দুধ থেকে। ম্যাসটাইটিস রোগে গাভী আক্রান্ত হলে দুধ উৎপাদন আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ভালো দুধ উৎপাদন পেতে গাভীর ওলানের সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মূলত ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষেত্র বিশেষ কিছু ছত্রাকের আক্রমণে গাভীর এই রোগ হয়ে থাকে। দেশে বর্তমানে অনেক উচ্চ ফলনশীল গাভী পাওয়া যাচ্ছে। এইসব গাভীর দুধ উৎপাদন বেশি তাই ওলানও অনেক বড় হয়। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে নোংরা পরিবেশে থাকলে বা দুধ দোহন করার পরপরই গাভীগুলো মাটিতে শুয়ে পড়লে ম্যাসটাইটিসের সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। সাব ক্লিনিকেল ম্যাসটাইটিসে গাভী আক্রান্ত হলে দুধ উৎপাদন কমে যায় ও জীবাণু ছড়ায় কিন্তু ক্লিনিকেল ম্যাসটাইটিস হলে গাভীর দুধ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গাভীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে ও দুধ উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেই উদ্দেশ্যেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভ্যাক্সিন তৈরির গবেষণাটি করা হয়েছে।
ভ্যাক্সিন তৈরির গবেষণাতে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী-ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (বাস-ইউএসডিএ)।
অধ্যাপক বাহানুরের নেতৃত্বে এই গবেষণায় আরও ছিলেন পিএইচডি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কিছু শিক্ষার্থী।
এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ভূমিকা সম্পর্কে অধ্যাপক জানান, দেশের প্রায় ৩৬ লাখ পরিবার জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে দুধ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একজন মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য দৈনিক ২৫০ গ্রাম দুধ পান করা উচিত। তথ্যমতে দেশে ১৫৮ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন দুধের চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১৩০ দশমিক ৭৪ লাখ মেট্রিক টন দুধ। এছাড়া বিপুল পরিমান দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিদেশ থেকে প্রতিবছর আমদানি করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১ লাখ ১৮ হাজার টন দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করা হয়েছে। অর্থের হিসেবে প্রায় ১২২ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা শুধু বাংলাদেশই দুধের ঘাটতি পূরণে ব্যয় করে থাকে। এছাড়া দেশের অনেক পরিবার এক থেকে দুটি গাভীকে কেন্দ্র করেই জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়াও ম্যাসটাইটিস হলে প্রচলিত এন্টিবায়োটিক চিকিৎসাতেও তেমন কাজ হয় না।
তিনি জানান, ম্যাসটাইটিস ভ্যাক্সিনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ভ্যাক্সিনটি এন্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে, মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করে।
দেশে পূর্বে এই রোগের ভ্যাক্সিন বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও বর্তমানে এই ভ্যাক্সিন দেশে আর পাওয়া যায় না। দেশে উৎপাদিত গাভীর নমুনা থেকে সংগৃহীত ম্যাসটাইটিস রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করেই ভ্যাক্সিনটি তৈরি করা হয়েছে। অধ্যাপক বলেন, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নেত্রকোনাসহ দেশের ৯টি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫১৭টি গাভী থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।
প্রাপ্ত নমুনা থেকে ম্যাসটাইটিসের জন্য দায়ী চারটি ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- স্ট্রেপ্টোকক্কাস অ্যাগালাক্টিয়া (Streptococcus agalactiae), এসচেরিচিয়া কোলি (Escherichia coli), স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস (Staphylococcus aureus) ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস উবেরিস (Streptococcus uberis)। চারটি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করবে বিধায় একে পলিভ্যালেন্ট ম্যাস্টাইটিস ভ্যাকসিন (Polyvalent Mastitis Vaccine) বলা হয়।
অধ্যাপক বাহানুর বলেন, প্রাপ্ত নমুনায় দেখা গেছে প্রায় ৪৬ দশমিক ২৩ শতাংশ গাভী ওলান ফোলা রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ ক্লিনিকেল ম্যাসটাইটিস ও ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ সাব ক্লিনিকেল ম্যাসটাইটিসে আক্রান্ত। তবে উদ্ভাবিত ভ্যাক্সিনের দুটি ডোজ গাভীকে প্রয়োগ করলে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাবে।
গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে অধ্যাপক বাহানুর বলেন, নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুরুতে গাভীর চারটি ওলান ক্যালিফোর্নিয়া ম্যাস্টাইটিস পরীক্ষা (California Mastitis Test) বা সিএমটি (CMT) দ্বারা পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর সংক্রমিত গাভীর সোমাটিক কোষ (Somatic cell) গণনা করা হয়েছে। সুস্থ গাভীর ক্ষেত্রে সোমাটিক কোষ (Somatic cell) এর সংখ্যা শূন্য থেকে দুই লাখ, সাব ক্লিনিকেল ম্যাসটাইটিসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা দুই থেকে পাঁচ লাখ এবং ক্লিনিকেল ম্যাসটাইটিসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা পাঁচ লাখের ওপরে পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া প্রচলিত চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত গাভীর সোমাটিক কোষ এর সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ এন্টিবায়োটিকগুলো কাজ করছে না।
অধ্যাপক বাহানুর রহমান গাভী ও দুধে তার আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিনের প্রয়োগে তেমন কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বলে জানিয়েছেন।
৫৯৯ দিন আগে
গবাদিপশুর জন্য ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় বাকৃবি শিক্ষার্থীরা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুই জেলা ফেনী ও মৌলভীবাজারে গবাদিপশুর জন্য ত্রাণ হিসেবে প্রায় ৬ টন পশুখাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদ ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৩১ আগস্ট) বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী ও গবাদিপশুর ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক রাকিব রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসময় রাকিব রনি বলেন, আমরা মোট ৬ টন পশুখাদ্য সংগ্রহ করছি। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি দল শুক্রবার (৩০ আগস্ট) আড়াই টন পশুখাদ্য নিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গিয়েছে। এছাড়া গত ২৮ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল ৩ টন পশুখাদ্য নিয়ে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়ায় গিয়েছে। এছাড়া বাকি আধা টন পশুখাদ্য দেশের অন্যান্য বন্যাকবলিত অঞ্চলে দেওয়া হবে।
গবাদিপশুর ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক আরও বলেন, বাকৃবির শিক্ষার্থী হিসেবে শুধু মানুষ নয়, আমরা প্রাণীদের পাশেও দাঁড়াব। সেক্ষেত্রে আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছি।
আরও পড়ুন: দিনব্যাপী আয়োজনে বাকৃবির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
জরুরি ভিত্তিতে বন্যাকবলিত এলাকায় ৪টি সেবা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা
১. অসুস্থ প্রাণীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া।
২. যেসব প্রাণীর ডায়রিয়া, ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, পুষ্টি সমস্যা তাদের রুচিবর্ধক এবং ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লাই দেওয়া।
৩. পশুখাদ্য সরবরাহ করা।
৪. পরে খামারিদের কোনো সমস্যা হলে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া।
ত্রাণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে জানা যায়, সংগৃহীত পশুখাদ্যের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা সিপি বাংলাদেশ।
ইনোভা, মিনার এগ্রো ও লোকাল কিছু পেট কোম্পানি পশুখাদ্য পাঠিয়েছে। স্কয়ার, একমি, এসিআই, এসকেএফ ও বায়োল্যাব ওষুধের যোগান দিয়েছে।
টেলিমেডিসিন সেবা সম্পর্কে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মাশশারাত মালিহা বলেন, খামারিদের ভেটেরিনারিয়ানদের নাম্বার দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে গবাদি পশুগুলো যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় তবে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে খামারিরা আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবে।
ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত। সেখানে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুগুলোও দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। প্রচুর পোলট্রি ফার্ম, এ্যানিমেল ফার্ম ধ্বংস হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তারা সমাজের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ফেনীতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেনীর ৩টি বন্যা দুর্গত এলাকা ফুলগাজী, পশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলাযর প্রায় ৯০০ খামারিদের মাঝে পশুখাদ্য, ওষুধ ও কয়েকটি খামার পরিদর্শন ও বিভিন্ন টেকনিকেল পরামর্শ দেওয় হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথম নারী পরিচালক পেল বাকৃবির আইকিউএসি
উক্ত এলাকাগুলোর বেশিরভাগ জায়গায় মানুষের খাদ্যের অপর্যাপ্ত না হলেও, পশুখাদ্যের অপর্যাপ্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপস্থিত খামারিরা ও ফেনীর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
ফেনী জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোজাম্মেল হক ইউএনবিকে বলেন, বাকৃবির শিক্ষার্থীরা ফেনী জেলার বন্যাদুর্গত ৩টি উপজেলায় প্রাণীদের পশুখাদ্য, চিকিৎসা ও ওষুধ সেবা প্রদান করেছে। শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমে ওই এলাকার খামারিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।
৭৩৪ দিন আগে
ঈদুল আজহায় ১ কোটি ৩০ লাখ গবাদিপশুর যোগান দেওয়া হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল আজহায় ১ কোটি ৩০ লাখ গবাদিপশুর যোগান নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আগামী কোরবানি ঈদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। কোনো ধরনের গবাদিপশুর ঘাটতি নেই।’
রবিবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘গতবার (গত কোরবানি) আমাদের ১ কোটি ২৫ লাখ গবাদি পশুর আমদানি ছিল। এর মধ্যে অবিক্রিত ছিল ১৯ লাখ। এবার কোরবানির সময় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি গবাদিপশুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের আহ্বান প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উৎসবের দিন সামনে আসছে, সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ও মতলববাজরা পুরো ব্যাপারটা ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মধ্যস্বত্বভোগীদের যে বাড়াবাড়ি বিষয়ে অনেক আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। গবাদিপশুর বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে। দাম যাতে মানুষ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেই বিষয়ে প্রস্তুতিমূলকভাবে খামারি ভাইদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের (খামারি) আশ্বস্ত করেছি গবাদিপশু আমদানি করার কোনো কারণ নেই। গরু আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নেই। আমাদের দেশে উৎপাদিত গবাদিপশুই যথেষ্ট। কোনো অপ্রতুলতা নেই। আমাদের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সবই ঠিক আছে।’
বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয়, সে বিষয়েও আয়োজন ও প্রস্তুতি আছে বলে জানান মো. আব্দুর রহমান।
কোরবানির পশু গাড়িতে চাঁদাবাজি বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোরবানির আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা হবে যাতে পথে-ঘাটে চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
আরও পড়ুন: ৩৫টি জেলায় দুধ-ডিম-মাংস বিক্রি: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
৮৫৯ দিন আগে
এ বছর ঈদুল আজহায় ১ কোটি ৪১,৮১২ টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে
এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে মোট ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর সারাদেশে কোরবানিকৃত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩ টি।
২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২ টি। গত বছরের তুলনায় এবার ৯১ হাজার ৪৯ টি গবাদিপশু বেশি কোরবানি হয়েছে।
এ বছর সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম পশু কোরবানি হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
আরও পড়ুন: কোরবানির পশুর হাট তদারকি করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা
মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে ২৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৮৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৭ টি, রাজশাহী বিভাগে ২১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৯টি, খুলনা বিভাগে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮১ টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৩টি, সিলেট বিভাগে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯টি, রংপুর বিভাগে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ১৮৭ টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।
কোরবানি হওয়া গবাদিপশুর মধ্যে ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ৬০ টি গরু, ১ লাখ ৭ হাজার ৮৭৫ টি মহিষ, ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৮ টি ছাগল, ৫ লাখ ২ হাজার ৩০৭ টি ভেড়া এবং ১ হাজার ২৪২ টি অন্যান্য পশু।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১ লাখ ৭১ হাজার ২১৭টি গরু, ৬ হাজার ৪৮০টি মহিষ, ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৯৫ টি ছাগল, ১ লাখ ২ হাজার ১৬ টি ভেড়া ও অন্যান্য ৮৭৬ টি পশু, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ লাখ ২৯ হাজার ৬২টি গরু, ৮৭ হাজার ২১৪ টি মহিষ, ৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৮টি ছাগল, ৯৩ হাজার ১৮১ টি ভেড়া ও অন্যান্য ৩৪২ টি পশু, রাজশাহী বিভাগে ৭ লাখ ১১ হাজার গরু, ৯ হাজার ৪৬৯ টি মহিষ, ১২ লাখ ৩১ হাজার ছাগল ও ১ লাখ ৮১ হাজার ভেড়া, খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৭০ হাজার ২১৯টি গরু, ১ হাজার ৪৯২টি মহিষ, ৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৩১টি ছাগল, ২৫ হাজার ১২৩টি ভেড়া ও অন্যান্য ১৬ টি পশু, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৫টি গরু, ৯৮৯ টি মহিষ, ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬৪টি ছাগল ও ১ হাজার ৪৮৫ টি ভেড়া, সিলেট বিভাগে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭২টি গরু, ১ হাজার ১৫৩ টি মহিষ, ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৪ টি ছাগল ও ২১ হাজার ৬৪০ টি ভেড়া, রংপুর বিভাগে ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০টি গরু, ২৬৯টি মহিষ, ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৭ টি ছাগল ও ৬৫ হাজার ৮৩৩ টি ভেড়া এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫ টি গরু, ৮০৯টি মহিষ, ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৯ টি ছাগল ও ১২ হাজার ২৯টি ভেড়া কোরবানি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছর সারাদেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩ টি।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও প্রধানমন্ত্রীর নামে সেই গরু কোরবানি দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কৃষক দম্পতি
এবার সাতক্ষীরার কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘হিরো সম্রাট’ ও ‘শুভরাজ’
১১৬২ দিন আগে
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গবাদিপশু বহনকারী যানবাহন থামানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন আইজিপি
কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শনিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কেউ কোরবানির পশু পরিবহন থামালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইজিপি বলেন, কেউ এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
তিনি পশু বহনকারী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্য স্থান/বাজারের নাম সম্বলিত ব্যানার টাঙানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।
শনিবার দুপুরে গাজীপুর জেলার গাজীপুর চৌরাস্তা, চন্দ্রা মোড় ও বাইপাইল এলাকায় যান চলাচল ও যানজট ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব কথা বলেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এবারের চ্যালেঞ্জ গত ঈদের চেয়ে ভিন্ন, কারণ গতবার শুধু যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। এবার যাত্রীদের পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনও রয়েছে। এছাড়া মৌসুমি ফলের পরিবহন তো আছেই।
আরও পড়ুন: সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে: আইজিপির প্রতি রাষ্ট্রপতি
আইজিপি আরও বলেন, সবকিছু মাথায় রেখে আমরা আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছি।
তিনি বলেন, মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশসহ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো জনগণের ঈদযাত্রা সহজ করতে একযোগে কাজ করছে।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আইজিপি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাধারণ যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে ভ্রমণ করবেন না।
ট্রেনের ছাদে যাতায়াত না করারও আহ্বান জানান তিনি।
আইজিপি বলেন, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনারোধে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (হাইওয়ে রেঞ্জ) মো. শাহাবুদ্দিন খান, ডিআইজি (অপারেশনস) মো. হায়দার আলী খান, ডিআইজি (হাইওয়ে রেঞ্জ) মো. মাহফুজুর রহমান, ডিআইজি হাইওয়ে রেঞ্জ মো. মোজাম্মেল হক,
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ সৈয়দ, নুরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে: আইজিপি
সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে: আইজিপি
১১৬৮ দিন আগে
মাগুরায় গবাদিপশু বাঁচাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু
মাগুরার শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোয়ালঘরের গবাদিপশু বাঁচাতে যেয়ে আগুনে পুড়ে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মিরাজ মোল্লা (১৪) বাগবাড়িয়া গ্রামের ফয়জার মোল্লার ছেলে এবং চর গোয়াল পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর তেজকুনিপাড়া বস্তিতে আগুন
প্রতিবেশিরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার সময় ফয়জার মোল্লার গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। গোয়ালঘরে গরু বাঁচানোর জন্য মিরাজ এগিয়ে আসলে আগুন তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া গোয়ালঘরে থাকা একটি গরু, ছয়টি ছাগল পুড়ে মারা যায়। পরে আগুন বসতঘরে লেগে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান, সাইকেল এবং ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায়।
প্রতিবেশিরা আরও জানান, ফয়জার মোল্লা সংসার খরচ চালানোর জন্য ঢাকাতে রিকশা চালায়। বাড়িতে আসলে সে ভ্যান চালাতো। এখনও সে ঢাকাতে আছে।
মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উপ-সহকারী পরিচালক আলী সাজ্জাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যারা রেললাইনে আগুন দিয়েছে তারা বহিরাগত: রাবির ভিসি
১২৭০ দিন আগে