নবজাতকের মৃত্যু
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের সারমর্ম তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি বলেন, ‘আইনে যতটুকু হার্ড (কঠোর) হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব। এবার আর কাউকে মাফ করে দেওয়া যায় না।’
গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। সেদিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এরপর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চায়।
কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা ছিলেন।
কমিটি আজ দুপুর ৩টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালটিতে দীর্ঘ সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সচল ছিল না। প্রয়োজনীয় এসির ব্যবস্থা না থাকায় ঘটনাস্থলে তীব্র অক্সিজেন স্বল্পতা তৈরি হয়। যার ফলে সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নবজাতকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ ছাড়াও হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ছোট ও বদ্ধ কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে বলে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটির যে পোস্ট অপারেটিভ রুমে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ইতোমধ্যেই সিলগালা করে দিয়েছি। তবে পুরো হাসপাতালে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় হুট করে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা আগামী দুই দিন বন্ধের মধ্যে আইন খতিয়ে দেখব এবং আগামী রবিবারের মধ্যে হাসপাতালটির বিষয়ে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাব, ইনশাআল্লাহ।’
হাসপাতালগুলোর এই লাগামহীন অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে সচিব, ডিজি এবং প্রতিমন্ত্রীসহ সবাই মিলে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম সাজাচ্ছি এবং যে ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস—ভবিষ্যতে আর কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এভাবে বদ্ধ ঘরে মানুষ বা শিশু রাখার দুঃসাহস দেখাবে না।’
তিনি আরও জানান, বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি, যা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
ছয় শিশুর মৃত্যুকে কেবল পেশাগত অবহেলা নাকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ এবং এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে। আবেগের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা শিশুদের মরদেহ নিয়ে গেছেন, যা আসামিরা আইনি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি রাতের আঁধারে ঘটা কোনো গোপন ঘটনা নয়, এটি শতভাগ প্রমাণিত সত্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কোনো ছাড় দেবেন না।’
তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট অপারেটিভ কক্ষটি মোটেও হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী ছিল না। ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন না থাকায় কক্ষটিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
সবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে আমরা একের পর এক জুম মিটিং করছি। আমাদের নির্দেশনা এবং ব্যবস্থাপনা দিন দিন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে, যা আপনারা শিগগিরই মাঠে দেখতে পাবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
৬ নবজাতকের মৃত্যুতে যা জানাল আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৭ মে) এক বিবৃতিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার কারণ উদঘাটনে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড–২-এ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) চালু ছিল। তবে একাধিক নবজাতকের মা এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে দায়িত্বরত নার্সরা এসি বন্ধ করে দেন।
পরে রাত ৩টার দিকে আবারও এসি চালু করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, রাত ৪টার দিকে একটি নবজাতক অস্বাভাবিকভাবে কান্না করতে শুরু করলে তাকে দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ নবজাতককেও এনআইসিইউতে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ (বুধবার) সকাল ৬টার দিকে প্রথম নবজাতকের মৃত্যু হয়। এরপর সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে আরও পাঁচ নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডে সদ্য প্রসূতি মায়েরা নবজাতকদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন এবং রাতে তিনজন নার্স দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণভাবে পৃথক তদন্ত পরিচালনা করছে।
তদন্তে কারও গাফিলতি বা ত্রুটি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
৯ দিন আগে
ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নার্সের ভুলে ৩ দিন বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাভির ইনজেকশন হাতের শিরায় পুশ করার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
নিহত শিশুটির বাবা সাব্বির হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: হাজীগঞ্জে বালতির পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু
শিশুটির বাবা সাব্বির হোসেন বলেন, রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। বাচ্চাটা বেশি অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। আমি নার্সদের ডেকে নিয়ে আসি। চিকিৎসক সানিকোর্ড (Sanicord) নামে একটি ওষুধ নিয়ে আসতে বলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসি। একজন নার্স সেই ওষুধ সিরিঞ্জে করে নিয়ে হাতের ক্যানুলাতে পুশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার সন্তান মারা যায়। আমরা এর বিচার চাই।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল আলম চয়ন বলেন, খবর পেয়ে শিশু ওয়ার্ডে গিয়েছিলাম। তিন দিন বয়সি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিভাগীয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
৬২৬ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া ৪ নবজাতকের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসূতি সোনিয়া পারভীন (২৫) উপজেলার ব্রাহ্মণ গ্রামের ভ্যানচালক সবুজ সেখের স্ত্রী। নবজাতক ওই সন্তানগুলোর নাম রাখা হয়- লাম, মিম, নূন ও জিম। এ দম্পতির ১১ মাসের আরেকটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ব্যথা ওঠে। তাকে দুপুরেই শাহজাদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক এক করে চার সন্তানের জন্ম দেন। ওইদিন বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রসূতিসহ চার নবজাতককে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই ওই ৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: বামনায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতালে তালা
বৃহস্পতিবার সকালে ওই হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার পর গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর ইসলামিয়া হাসপাতালের ডা. ইফতেয়ার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, জন্মের পর এ চার নবজাতকের ওজন কম ছিল। এজন্য ওই হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছিল। তবে রাতেই ওই ৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়। তবে প্রসূতি চিকিৎসাধীন এবং তিনি শারীরিকভাবে এখন অনেকটাই সুস্থ।
আরও পড়ুন: আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতাল দায়ী: ডা. সংযুক্তা সাহা
৭৯২ দিন আগে
আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতাল দায়ী: ডা. সংযুক্তা সাহা
এবার ‘ভুল চিকিৎসা’য় মাহবুবা রহমান আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতালকে দায়ী করেছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহা।
আঁখি তার রোগী নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেন্ট্রাল হাসপাতাল আমাকে নিয়ে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছে।’
মঙ্গলবার সংযুক্তা সাহা তার বাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘আঁখির ভর্তির সময় তারা আমার কাছ থেকে মৌখিক বা লিখিত সম্মতি নেয়নি।’
তিনি প্রশ্ন করেন যে ‘তার অপারেশনের সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম না... আমি সেখানে না থাকলে আমি কীভাবে দায়ী থাকব?’
আরও পড়ুন: সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসকের ‘অবহেলায়’ মারা যাওয়া নবজাতকের মায়ের মৃত্যু
আঁখির অপারেশনের সময় তার উপস্থিতি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
ডা. সাহা বলেন, ঘটনার আগ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়ে গর্বিত ছিল। ‘তারা এখন তাদের অবহেলা আড়াল করার জন্য আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।’
তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে মাহবুবা রহমান আঁখি তার নিয়মিত রোগী নন।
আঁখি ও তার শিশুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ডা. সাহা তাদের আত্মার চির শান্তি কামনা করেন।
এর আগে, গত ১০ জুন আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন বাদী হয়ে ছয়জন চিহ্নিত ব্যক্তি এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন, যার ফলে তাদের নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল।
মামলার বিবৃতিতে বলা হয়, আঁখি গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. সংযুক্তা সাহার তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং তার অবস্থা স্বাভাবিক বলে জানা গেছে।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাহা আঁখির পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করবেন।
গত ১০ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আঁখি।
হাসপাতালে ভর্তির সময় ডা. সাহা উপস্থিত না থাকলেও তার সহকারী জানান, তিনি অপারেশন থিয়েটারে কাজ করছিলেন।
পরে গ্রেপ্তার হওয়া দুই চিকিৎসক ডা. শাহজাদী ও ডা. মুন্না হাসপাতালে ডেলিভারি পরিচালনা করেছিলেন, যা নবজাতকের মৃত্যুর কারণ বলে অভিযোগে বলা হয়।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৬ জুন সেন্ট্রাল হাসপাতালকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) এবং জরুরি বিভাগে অসন্তোষজনক পরিষেবার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার অপারেশন থিয়েটারে কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লিখিত অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত হাসাপাতালটিতে কোনও বিশেষজ্ঞ পরিষেবা না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
নবজাতকের মৃত্যুর পর গত ১৮ জুন ঢাকার ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আঁখি।
আরও পড়ুন: সেন্ট্রাল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: অপারেশন থিয়েটার বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
১০৮১ দিন আগে
মাগুরায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
মাগুরায় নিউ আল বারাকা নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত রাশিদা বেগম (২৪) মাগুরা সদর উপজেলার খর্দ গ্রামের রমজান শেখের স্ত্রী।
আরও পড়ুন: বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, কথিত ‘চিকিৎসক’ কারাগারে
রমজান শেখের বাবা রাশিদার শ্বশুর মাখন অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূ রাশিদা বেগম সন্তান প্রসবের জন্যে শুক্রবার রাতে শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকায় নিউ আল বারাকা প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হন। শনিবার রাতে সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দিলারা আকবর লাবনি ওই ক্লিনিকে রাশিদা বেগমের শরীরে অস্ত্রপচার করেন। এসময় একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেয় রাশিদা। কিন্তু অস্ত্রপচারের আগে রক্তের প্রয়োজন হলে রাশিদার শরীরে ‘ও’ পজেটিভ রক্তের পরিবর্তে ক্লিনিকের প্যাথলজি থেকে ‘এবি’ পজেটিভ রক্ত দেয়া হয়। এতে জন্মের পরপরই অসুস্থ হয়ে মারা যায় ওই নবজাতক। অন্যদিকে রক্তের ভুল ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন মা রাশিদা। উপায়ন্ত না দেখে ক্লিনিক কতৃর্পক্ষ প্রসুতি রাশিদা বেগমকে দ্রুত ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোরে রাশিদার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে চিকিৎসক দিলারা আকবর লাবনি বলেন, ‘রোগীর শরীরে অস্ত্রপচার করার সময় তেমন কোন সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে গর্ভে পানির স্বল্পতা ছিল। যে কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মা রাশিদার কিডনি জটিলতা ছিল। রাশিদার শরীরে রক্ত দিয়েছে ক্লিনিক কতৃর্পক্ষ। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই’।
আরও পড়ুন: বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, কথিত ‘চিকিৎসক’ কারাগারে
মাগুরা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ওই ক্লিনিকের প্যাথলজির কোন অনুমোদন নেই। এমনকি ক্লিনিকের অনুমোদনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। ভুল রক্ত দেয়ার কারণে ওই প্রসূতি ও নবজাতকের এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাক্তার শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, ‘প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি আমি জেনেছি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন: সন্তানের মুখ দেখা হলো না মায়ের, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
এদিকে আল বারাকা ক্লিনিকের মালিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
১৫৭৯ দিন আগে