সুজন
এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি চুয়াডাঙ্গা-১-এর সব প্রার্থী: দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও জবাবদিহির অঙ্গীকার
ভোটের রাজনীতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ভোটারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরাসরি জবাবদিহির এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড-সংলগ্ন মুক্ত মঞ্চে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক সংলাপ। এতে এক মঞ্চে দেখা যায় তিনজন প্রার্থীকে।
২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সকল প্রার্থীরা কেবল নিজেদের ইশতেহারই তুলে ধরেননি, বরং দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী আগামীর চুয়াডাঙ্গা গড়ার ১৫ দফার এক কঠোর ‘অঙ্গীকারনামায়’ স্বাক্ষর করেছেন।
শীতের সকাল উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাড়ে ৪ শতাধিক সাধারণ ভোটার এই সংলাপে অংশ নিয়ে প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সংলাপে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজি একই মঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় ভোটারদের সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় প্রার্থীরা অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।
বিএনপির প্রার্থী শরীফ তার বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে অঙ্গীকার করছি, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকায় পরিণত করব। আমরা এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে চাই যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমি সংসদে সোচ্চার থাকব। ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব প্রতি বছর জনসমক্ষে প্রকাশ করার যে নতুন ধারার রাজনীতির ডাক সুজন দিয়েছে, আমি তা সানন্দে গ্রহণ করছি।’
জামায়াতের প্রার্থী রাসেল তার বক্তব্যে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে, তবে আমি আইনসভার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকব। স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার প্রধান দায়িত্ব হবে। আমরা চাই একটি বৈষম্যহীন সমাজ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো উপড়ে ফেলাই হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আজিজি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের রাজনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনসেবার মানসিকতা নিয়ে নির্বাচনে এসেছি। নির্বাচিত হলে আমি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে কাজ করব। টেন্ডারবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে চিরতরে বিদায় করতে হবে।
‘আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, বিজয়ী হই বা না হই, সবসময় জনগণের পাশে থাকব এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কোনো সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার হবে না।’
৩ ঘণ্টা আগে
রাজনীতিকরা সদাচরণ করলে নির্বাচনে ঝুঁকি থাকবে না: ড. বদিউল
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘নির্বাচনি ট্রেন ট্র্যাকে উঠে গিয়েছে। রাজনীতিকরা সদাচরণ করলে এই নির্বাচনে কোনো ঝুঁকি থাকবে না।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বরিশালে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে। এটাকে ট্র্যাকচ্যুত করার চেষ্টা হতে পারে। রাজনীতিক এবং তাদের মনোনীত প্রার্থীরা যদি সদাচরণ করেন, তাহলে নির্বাচনে কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা থাকবে না। তারা উত্তেজনা কমালে, সহিংসতায় লিপ্ত না হলে এবং এমপি হওয়ার জন্য অপকৌশল বন্ধ করলে সুষ্ঠু সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় এই সংলাপে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা থেকে প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা তাদের মতামত প্রকাশ করেন।
১৬ দিন আগে
চূড়ান্ত ১০ জনের নাম প্রকাশের দাবি সুজনের
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগের জন্য ১০ জনের চূড়ান্ত নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর তিন আগে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
এছাড়া স্বচ্ছতার জন্য সিইসি ও ইসি পদের জন্য সার্চ কমিটির কাছে কারা কার নাম প্রস্তাব করেছে তা প্রকাশ করারও দাবি জানায় সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব দাবি জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তিনি বলেন, সার্চ কমিটিকে তার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে অবিলম্বে জনগণের সামনে তার কার্যপদ্ধতি প্রকাশ করতে হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই সার্চ কমিটি ও সংলাপকে অবজ্ঞা করছে: তথ্যমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করলে বা তথ্য গোপন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না।’
সুজন সম্পাদক বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব করা ৩২২ জনের নাম প্রকাশসহ সার্চ কমিটি তাদের প্রস্তাবকের নামও প্রকাশ করা প্রয়োজন। প্রাথমিক তালিকা থেকে এক-তৃতীয়াংশ নারীসহ ২০ থেকে ৩০ জনের একটি তালিকা প্রণয়ন ও তা প্রকাশ করাও এর প্রয়োজন।
সুজন সম্পাদক বলেন, এরপর সার্চ কমিটির প্রতিবেদনসহ ১০ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর তিন দিন আগে প্রতিবেদনটিসহ চূড়ান্ত তালিকা জনগণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সদস্য ড. শাহদীন মালিক, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ড. শাহনাজ হুদা, রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: সার্চ কমিটি সরকারের আরেকটি 'আজ্ঞাবহ' ইসি গঠনে কাজ করছে: বিএনপি
সার্চ কমিটিতে নাম না দিয়ে ভুল করেছে বিএনপি: কৃষিমন্ত্রী
১৪৪১ দিন আগে