অস্ত্র কারখানা
হাটহাজারীতে অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে তৈরি হতো অস্ত্র
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় পেনগানসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ওয়ার্কশপটিতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর হাটহাজারী থানা পুলিশ নজরদারি ও তথ্য যাচাই শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় পুলিশের একটি বড় দল হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) ও মো. কবিরকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা এবং তাদের হেফাজত থেকে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, ১৮টি পেনগানের গুলি ও দুটি পিস্তলের বুলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে ওসমানের সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হতো।
এ ঘটনায় পলাতক ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে বন্ধ জলিল টেক্সটাইলের জায়গায় হবে সেনাবাহিনী অস্ত্র কারখানা, চুক্তি স্বাক্ষর
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদার হাটে বন্ধ হয়ে যাওয়া জলিল টেক্সটাইল মিলের জায়গায় আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিকী মূল্য বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) জন্য সেনাবাহিনীর কাছে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জায়গা হস্তান্তর করা হয়েছে।
জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এ সময় তিনি জায়গাটি হস্তান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে এখানে তৈরি করা অস্ত্র রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এটাকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের সমরাস্ত্রের চাহিদা আছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হলে অস্ত্র রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।
চট্টগ্রামের ফৌজদার হাটের এই পাহাড়ি এলাকাকে কেন সমরাস্ত্র কারখানা তৈরির জন্য বেছে নেওয়া হলো, তার কারণ উল্লেখ করে ওয়াকার উজ জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে আধুনিক ও শক্তিশালী সমরাস্ত্র তৈরি করে সক্ষমতা বাড়াবে সেনাবাহিনী। এ কারখানা দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার বৃদ্ধির অংশ যেখানে একটি বন্ধ কারখানা নবরুপে চালু হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এখন অনেক কম মূল্যে ড্রোনসহ নানা অস্ত্রের ভালো চাহিদা আছে। সরকার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ৫৫ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করেছিল সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময়ের প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান জলিল টেক্সটাইল। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শেষদিকে একের পর এক লোকসানে জর্জরিত হয়ে পড়ে। নানা সংকট ও প্রতিকূলতার কারণে ২০০৪ সালে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম। এরপর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর নানা প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে অবশেষে জলিল টেক্সটাইলের সেই ৫৫ একর জায়গা যাচ্ছে সেনাবাহিনীর হাতে। ফলে দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জায়গায় শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়।
জমি হস্তান্তর উপলক্ষে জলিল টেক্সটাইল প্রাঙ্গণে আজ (বৃহস্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি-বিএফওর মধ্যে চুক্তি সই হয়।
আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের লক্ষ্যে এখানে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা জানান বিএফওর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল শাহিনুল হক ও সেনাবাহিনীর সামরিক উপদেষ্টা এ কে এম সামশুল ইসলাম।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে শিল্পমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পরিত্যক্ত কারখানাটি পরিদর্শন করেন এবং পরে তারা সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন।
৮ দিন আগে
বাঁশখালীতে অস্ত্র কারখানার সন্ধান, আটক ১
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বলের দুর্গম পাহাড়ে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাব। সেখানে অভিযান চালিয়ে ১০টি বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে অভিযানটি চালায় র্যাব-৭।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি ও ১০টি অস্ত্রসহ মূল কারিগর জাকির হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,বাঁশখালী উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার জনৈক আব্দুর রহমানের টিনের দোচালা ঘরের ভেতর মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র তৈরী ও ক্রয়-বিক্রয় করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার র্যাব-৭ এর একটি দল অভিযান পরিচালনা করে জাকেরুল্লাহকে (৫০) আটক করে। তার দেয়া তথ্য অনুসারে ঘরটিতে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে দেশেই তৈরি আটটি ওয়ান শুটারগান, দুটি টু-টু পিস্তল ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে বুধবার দুপুরে র্যাব-৭ এর চাঁন্দগাও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এম এ ইউসুফ বলেন, দেশীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব অস্ত্রের সঙ্গে তিনটি চক্র জড়িত। এক চক্র অস্ত্র বানায়, অপর চক্র বিক্রি করে (দালাল চক্র) এবং অন্যটি ক্রেতা।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় গোয়ালঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ
তিনি বলেন, আটক জাকেরের দেয়া তথ্যমতে এসব অস্ত্রের ক্রেতা তিন শ্রেণীর। তারা হল মাদক ব্যবসায়ী, সাগরের জলদস্যূ ও মহাসড়কে পরিবহণ ডাকাত চক্র। স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব অস্ত্র বানাতে প্রকারভেদে খরচ পড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। দালালদের চাহিদা মতো তৈরি এসব অস্ত্র বিক্রি করা হয় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকায়। আর দালালারা একএকটি অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়।
র্যাবের এই প্রধান জানান, দুর্গম পাহাড়ে তৈরি এসব অস্ত্র বিগত নির্বাচনে ব্যবহার হয়েছে কি-না বা আগামী নির্বাচনে ব্যবহার হবে কি-না এসব বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
মিরসরাইয়ে র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১৩
১৪৬৫ দিন আগে
কক্সবাজারে অবৈধ অস্ত্র কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ১
কক্সবাজারে চেপতামুরা বনাঞ্চলে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় পেকুয়া উপজেলার গহীন পাহাড়ে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরি কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন দেলু উপজেলার টইটং ইউনিয়নের দক্ষিণ গুদিকাটা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, টইটং ইউনিয়নের চেপতামুরা বনাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে দেলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবৈধ অস্ত্র কারখানার অবস্থান জানালে সেখানেও অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন: নড়াইলে আনসার আল ইসলামের ২ সদস্য গ্রেপ্তার: র্যাব
তিনি বলেন, অভিযানে একটি লংশোর্টার ওয়ান বেরেলগান, দুটি থ্রিকোয়াটার, দুটি ওয়ানশোর্টার ছোট পিস্তল, অস্ত্রের বাটসহ অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে অভিযানের সময় দেলুর এক সহযোগী পালিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।
দেলু হত্যা, ডাকাতি ও জমি দখলের অন্তত সাতটি মামলার পলাতক আসামি ছিল।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
১৬৪৫ দিন আগে