জ্বালানি সংকট
দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে: জ্বালানিমন্ত্রী
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে অবশিষ্ট মজুদ গ্যাসের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, তা ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষোড়শ দিনের কার্যক্রমে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
লিখিত প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুদ গ্যাসের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং বর্তমানে কমবেশি দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হলে ওই অবশিষ্ট ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনুমানিক ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলা কর্তৃক ৫০ থেকে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় আজ পর্যন্ত ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কূপগুলো খনন এবং ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান।
তিনি আরও বলেন, বাপেক্স কর্তৃক সিসমিক সার্ভের আওতায় ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৩৬০০ কিলোমিটারের ডেটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলমান। বিজিএফসিএল কর্তৃক হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক ডেটা আহরণের কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি বাপেক্স কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশনের ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায়, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, বিজিএফসিএল কর্তৃক তিতাস, হবিগঞ্জ এবং নরসিংদী-সংলগ্ন ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এবং এসজিএফএল কর্তৃক লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচারে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সিসমিক জরিপ সম্পাদনের নিমিত্তে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
১৮ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম
এক মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
এর আগে, সবশেষ গত ২ এপ্রিল চলতি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওইদিন ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। এ হিসাবে ২ এপ্রিলের পর মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে দাম বাড়ল ৫৯৯ টাকা। অর্থাৎ, গত ১ এপ্রিল ১২ কেজির যে সিলিন্ডারটি ১৩৪১ টাকায় কেনা যেত, আজ থেকে সেটি কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হবে ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
ভোক্তাপর্যায়ে বিইআরসি ঘোষিত নতুন দামে বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮৮৯ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২১ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৪২৫ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৯১০ টাকা, ২০ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ২৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ২২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা, ২৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৪২ টাকা, ৩০ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা ও ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৭৫ টাকা।
নতুন নির্ধারিত দামে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির জাহাজভাড়া ও ট্রেড্রারের প্রিমিয়াম চার্জ এবং ডিজেলের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু ব্যবসায়ীদের তেল মজুদে কৃত্রিম সংকট: জ্বালানিমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাম্পে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদকারীদের ধরতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
পাবনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের এলপিজির বাজার প্রায় ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ থেকে দেশের এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অবহিত করা হচ্ছে।
২২ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি: জ্বালানিমন্ত্রী
সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হলো, এতে কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সারা বিশ্ব তেলের দাম সমন্বয় করেছে। এমনকি আমেরিকাও ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে আমরা বাংলাদেশে এই যে যুদ্ধ লাগার পর থেকে আমদানি করে যে স্টক (মজুদ) তৈরি করেছি, তার যে দাম পড়েছে, সে দামের থেকে নিচেই আমরা এখন দাম সমন্বয় করছি।
জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি করতে বাধ্য হয়েছি আমরা, কারণ এটি বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কিনতে হয়। সেটি কিছু বাড়িয়ে আমরা যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করেছি।
দাম বাড়ানোর পর এখনও কত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে—জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ভর্তুকি এখনও আছে। আপনি যদি সঠিক হিসাব চান, তাহলে আমার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বসে ওখান থেকে হিসাব নিয়ে আসুন।
জীবনযাত্রায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সার্বিক প্রভাবটা কেমন হতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দাম বাড়া মানেই বিরূপ প্রভাব পড়া। এই যুদ্ধে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীর প্রতি দেশের মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে। আমাদের ওপরও সেই প্রভাব আছে।
এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবেন না বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করার পরও দাম কেন বাড়ানো হলো—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বলেছিলাম তো! সেটাই তো বললাম—বাধ্য হয়েছি আমরা এখন।’
২২ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে চলছে না হারভেস্টার, ধান কাটা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষক ও মেশিনমালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিনে ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহের জটিল প্রক্রিয়াও সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় ধান কাটা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজারো কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন সচল না থাকায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ফসল কাটার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় ধান কাটা থেমে গেছে বা ধীরগতিতে চলছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৯০ কেয়ার (৩০ একর) জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত দুই দিনে কষ্ট করে কিছু ধান কাটতে পেরেছি। এখনও অনেক জমি বাকি। ধান পাকলেও কীভাবে কাটব চিন্তায় আছি।
একই এলাকার গোবিন্দপুরের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল আহমদ বললেন, হারভেস্টার মেশিনের মালিক-চালকরা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনেকেই তেল নিতে এসে না পেয়ে ঘুরে গেছেন। পাম্পের লোকজন বলে দিয়েছে কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যয়ন আনতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের হারভেস্টার মালিক আবদুল হক পাম্পে বিকেলে তেল নিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, বুধবার থেকে করচার হাওরে ধান কাটা শুরু করেছি। মেশিনে তেল ছিল। প্রথম দিন কেয়ারে (তিন কেয়ারে এক একর) ১৯০০ টাকা হিসাবে কাজ করেছি, দুই কেয়ার ধান কাটতে পেরেছি। বৃহস্পতিবার চার–পাঁচ কেয়ার কাটা হয়েছে। শুক্রবার আর মেশিনে তেল থাকবে না।
তিনি বলেন, তেল কিনতে পাম্পে গেলে তারা জানায় কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত স্লিপ লাগবে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা থেকে এক ঘণ্টায় প্রথমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার শনাক্তকরণ স্লিপ, পরে কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়ন নিয়ে ২০০ লিটার তেলের অনুমতি পাই। এরপর শহরের ওয়েজখালির পাম্পে গেলে তারা জানায় ১০০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া যাবে না। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে তেল না পেয়ে ২১ কিলোমিটার দূরের দিরাই সড়কমোড়ের পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে ঘুরে ঘুরে তেল নিলে কীভাবে মেশিন চালাব, আর কীভাবে ধান কাটব।
শুধু আবদুল হক নন, বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেলের স্লিপ নেওয়া আটজন হারভেস্টার মালিককেই একইভাবে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মালিক ও কৃষকরা জানান, এভাবে অফিস থেকে স্লিপ সংগ্রহের ঝামেলার কারণে অনেকেই আর তেল নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না, ফলে ধান কাটায় বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে পাম্প বা ডিলার পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, তিনি দুটি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটার কাজ করেন, যা থেকেই তার জীবিকা নির্বাহ হয় এবং অনেক কৃষকও নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মৌসুমে তীব্র ডিজেল সংকটে তার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কৃষকরাও সময়মতো ধান কাটতে না পারায় উদ্বেগে রয়েছেন।
জামাল বলেন, আমার দুটি হারভেস্টার আছে। ডিজেলের কারণে একটি বন্ধ, আরেকটি সচল থাকলেও পুরো দিন চালাতে পারছি না। যা পাওয়া যায় তা অপ্রতুল। খোলা বাজারে ডিজেল পাওয়া যায় না, লুকিয়ে বিক্রি হলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, ১০০ টাকার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বালিজুরি বাজারের ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয় তেল নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য বাজার থেকে বেশি দামে তেল আনতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকের ধান কাটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
একই এলাকার হারভেস্টার মালিক মো. রফিক উদ্দিন বলেন, এবার মেশিন নিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি।
এদিকে দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক ও যন্ত্র দুটোই সংকটে পড়ায় ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জের হারভেস্টার মালিক আবিদুর রহমান টিপু বলেন, আমাদের চারটি মেশিন আছে। কিন্তু ডিজেল সংকটে সেগুলো ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৫টি রিপার মেশিন রয়েছে। তবে জ্বালানি সমস্যার কারণে এসব যন্ত্রের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলায় প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি বিতরণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে পুরো জেলায় ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
রংপুরে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল
রংপুর জেলা ও মহানগরীতে তীব্র জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে। নগরজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরে প্রায় সাড়ে তিনশ পেট্রোল পাম্প থাকলেও অর্ধেকের বেশি পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। যেসব পাম্পে সীমিত পরিসরে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রতি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালকই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুরের আট উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়ায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী চালকেরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং রোগী বহনকারী যানবাহন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
মোটরসাইকেলচালক সোহেল মিয়া বলেন, সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানানো হলো তেল শেষ। এখন আবার অন্য পাম্পে যেতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রাইভেটকার চালকেরাও।
পাম্প ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, একেকটি পাম্পে এক দিন পরপর মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।
যানবাহন মালিকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক ও ট্যাক্স অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
২ দিন আগে
নাটোরে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ
নাটোরে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পৃথক দুই ঘটনায় পেট্রোল পাম্পে হামলা, ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার আহমেদপুরে কানন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল দিতে দেরি হওয়ায় আব্দুল ওহাব নামে স্থানীয় একট্রাকচালক পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ওই ট্রাকচালক পালিয়ে যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনছুর রহমান জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একই রাতে শহরের তেবাড়িয়া বাইপাস সড়কে অবস্থিত ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে কৃষকরা সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল নিতে গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ঢাকা-রাজশাহী বাইপাস সড়ক অবরোধ করেন। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে পাম্প কর্তৃপক্ষ ডিজেল দিতে রাজি হলে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।
২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যতা বর্জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমিতব্যয়িতা পরিহার করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নিইনি। এ খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।
তিনি আরও বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যেন সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে কারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি খাতকে চিহ্নিত করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
৩ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জাপানের
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বিলিয়ন (১০০০ কোটি) মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এশীয় নেতাদের সঙ্গে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ অনলাইন বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
সানায়ে তাইকাচির বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাপান পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। টোকিও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
জাপানের এই সহযোগিতা কাঠামোর লক্ষ্য হলো এশীয় দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এবং জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের মুখে এশিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-ভুক্ত দেশগুলোর এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণের সমান।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (এনইএক্সআই), জাইকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানের নিজস্ব মজুদে ২৫৪ দিন ব্যবহারের মতো তেল ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষকে সেই মজুদ ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত মাসে জাপান তার মজুদ থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের তেল ছেড়েছে এবং মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানে বর্তমানে ন্যাপথার (অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিকের প্রধান কাঁচামাল) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগ বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে প্রকট। সিরিঞ্জ, গ্লাভস এবং ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে এই পদার্থটি ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তাকাইচি বলেছেন, ন্যাপথার সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে থাকা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ন্যাপথার ঘাটতিতে আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশগুলোর সরকার জনগণকে গাড়ি শেয়ার করা এবং এসি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত এই সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ান দেশগুলোকে তাদের পারস্পরিক জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এশিয়ার কোনো একক দেশ এই ধরনের সাপ্লাই চেইন বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।
৪ দিন আগে
আগামী ২ মাস দেশে জ্বালানি সংকট হবে না: যুগ্ম সচিব
আগামী ২ মাস দেশে কোনো জ্বালানি সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রায় ৫ লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা তেল উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আজকের দিনে ডিজেল মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ টন, ফার্নেস অয়েল আছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ টন এবং জেট ফুয়েল আছে ১৮ হাজার ২২৩ টন।
মজুদের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হলো, এটা দিয়ে কতদিন চলবে—এ বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, আমি আগেই আপনাদের বলেছি, অকটেন এবং পেট্রোলের যে মজুদ আছে তাতে আমাদের আগামী দুই মাসেও কোনো অসুবিধা হবে না। একই কথা এখনও আপনাদের বলছি যে পর্যাপ্ত মজুদ আছে আমার কাছে; আর ডিজেল আজকের দিনে খুবই পর্যাপ্ত। আমাদের এপ্রিল মাস তো বটেই, ইনশাল্লাহ মে মাসেও কোনো সমস্যা নেই। এটা আগে কিন্তু বলিনি, আগে এপ্রিল মাস পর্যন্তই বলেছি।
তিনি বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছি যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তো আমরা আমাদের যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি তাতে আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে এটুকু মোটামুটি নিশ্চিত করেছি। আপনাদের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, আমাদের ইনশাল্লাহ আগামী দুই মাসে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) অপরিশোধিত তেল সংকটের বিষয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি আমাদের জ্বালানি তেলের একমাত্র শোধনাগার, যেখানে আমরা বছরে প্রায় ১৫ লাখ টনের মতো তেল পরিশোধন করি। এখন এই ১৫ লাখ টন আসলে আমাদের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগের মতো। তো আমি প্রথম দিন থেকে বলছি যে, আমরা পরিশোধিত তেল আমদানি করি। আপনারা জানেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের যে অংশ হরমুজ দিয়ে আসে, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে তা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে মার্চ মাসে আমাদের যে শিডিউলটা ছিল, সেটা আমরা আনতে পারিনি। আর এপ্রিল মাসেও একই অবস্থা চলছে। কিন্তু আমাদের কাছে মোটামুটি আগের যে মজুদ ছিল, সেটা দিয়ে আমরা ইআরএলকে চালু রেখেছি।
তিনি জানান, ইআরএলের চারটি ইউনিট আছে। ওই চারটি ইউনিটের মধ্যে আপনারা জানবেন যে, একেকটা একেক ধরনের উৎপাদন করে। দুইটি ইউনিট পুরোদমে এখনও চালু আছে। আমরা খুব সীমিত পর্যায়ে হলেও পরবর্তী যে চালানটা পাব, আশা করছি ২০ তারিখ নাগাদ আমাদের অপরিশোধিত তেলের একটা জাহাজ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়ে লোহিত সাগর হয়ে ভিন্ন চ্যানেলে এপ্রিলের শেষ দিকে বা মে মাসের এক-দুই তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। তো সে পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের ইআরএল চালু রাখব।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে একটু জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ইআরএলের বিষয়টা আমাদের জ্বালানি তেলের সরবরাহ চ্যানেলে খুব প্রভাব বিস্তার করে না। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমাদের হাতে আছে। ইআরএলের কাজ তো পরিশোধন করা। ফলে পরিশোধিত তেল যখন আমার হাতে আছে, ইআরএলের বিষয়টা আমার সরবরাহ চ্যানেলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
৪ দিন আগে