প্রাথমিক বিদ্যালয়
মিড ডে মিল অনুগ্রহ বা দয়া নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার: ববি হাজ্জাজ
মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, এটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও শেখার সক্ষমতা বাড়ানো স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনায় একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ ও ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’ —প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে, যা শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষায় বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা, তার পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
প্রাথমিক বিদ্যালয় ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গ্রাম থেকে নগর—কোনো শিশুই যেন স্কুলের বাইরে না থাকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন নির্দেশনা রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহিদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করছে না। কমিটি গঠনের সময় কিংবা বিদ্যালয়ে কোনো বরাদ্দ এলে তাদের সক্রিয়তা দেখা গেলেও অন্য সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এ কারণে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয়ের ‘বন্ধু’ হিসেবে একটি অনানুষ্ঠানিক রেজিস্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ সংকট পূরণে সরকার কাজ করছে। কারণ একজন ভালো শিক্ষক বটতলার শিক্ষার্থীকেও ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড ও নিম্ন অধস্তন কর্মচারী সদস্য (এমএলএসএস) নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রান্না করা পুষ্টিকর খাবার বিতরণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, উন্নত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসুচির প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক শহিদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
গাইবান্ধায় এক মাসে তিন নদীর পেটে ৯ স্কুল, ভাঙনের মুখে আরও ৬
ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই মাত্র এক মাসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে এসব বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের মুখে। সব মিলিয়ে ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গেল মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলেছে। এতে লাখ লাখ টাকার বিল তোলা হলেও বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘স্কুলটি রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই ঘোরে টাকার পেছনে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রক্ষায় লোক দেখানো কাজ করে বিল তুলে চম্পট দেয়। শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর পেটে চলে গেল স্কুল ভবন। এতে শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।’
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পাউবোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে পারেনি। এরই মধ্যে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে চলে যায়।
এদিকে, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনেও চলতি মৌসুমে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার চর চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার মোল্লারচর এলাকার সীতাসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফুলছড়ি উপজেলার চর পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট নয়টি বিদ্যালয় গত এক মাসে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনে এসব বিদ্যালয়ের অনেক স্থাপনা ও আসবাবপত্র নদীতে চলে গেছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি, বেঞ্চ ও অন্যান্য সামগ্রী স্থানীয় শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নদীগর্ভে বিলীন হওয়া নয়টি বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর ত্রৈমাসিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারি হিসাবে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
স্থানীয়রা জানান, কোনো কোনো বিদ্যালয়ের জন্য নির্জন স্থানে অস্থায়ীভাবে চালা তৈরি করা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল বা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকদের উপস্থিতিও নেই। আবার চরাঞ্চলের প্রভাবশালীদের মধ্যে বিদ্যালয়গুলো কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ভাঙনের মুখে থাকা আরও ছয়টি বিদ্যালয় নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো: চর পশ্চিম খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউয়াবাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটিয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর ডাকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এসব বিদ্যালয়ের আঙিনা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ও ভাঙন পৌঁছে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিন, বেড়া ও খুঁটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলো রক্ষায় স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করা হলেও প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলার পর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কারণে ওই এলাকার অনেক মানুষ নিজেদের বসতভিটা, বাড়িঘর ও আবাদি জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন বিদ্যালয়গুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, ‘ভাঙনে বিলীন হওয়া স্কুলগুলো সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলের ভবন সরানো সম্ভব হয়নি, সেগুলো শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগিরই স্থানান্তর করা হবে।’
নদীভাঙনে স্কুল বিলীন হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটা স্বাভাবিক নয়। অনেক বিদ্যালয় নির্জন স্থানে অস্থায়ী চালার নিচে কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাব নেই। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত যান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
১৪ দিন আগে
ইংরেজি মাধ্যমসহ সব প্রাথমিক বিদ্যালয় মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে: ববি হাজ্জাজ
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। নতুন নীতিমালায় এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২৫টি উপজেলার বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতার (এফএলএন) হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্যের গরমিল দূর করে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর শিক্ষা প্রশাসনকে পরিচালনা করতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় শূন্যপদে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি জানান, আগামী বছর দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে যা টেলিভিশন শো হিসেবেও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিখন, উপস্থিতি, পুষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুর ওপর সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাতটি বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়কে কার্যকর ও নিয়মিত পরিচালিত হতে হবে, শিক্ষকের উপস্থিতি হতে হবে বাস্তব ও নিশ্চিত, শিক্ষার্থীর সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে এবং তারা কী শিখছে তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সব ধরনের সুবিধা প্রকৃত শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখা এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নন-নেগোশিয়েবল’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শিশুর প্রায় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাওয়ার কথা, সেটিই মূলত প্রাথমিক শিক্ষা। সেই শিক্ষা সরকারি, বেসরকারি কিংবা ইংরেজি মাধ্যম যেখানেই দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের আয়তন, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ, পাঠ্যবই ও কারিকুলাম অনুসরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো অপর্যাপ্ত বা অনিরাপদ স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আছে কি না, তা মনিটরিং কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে অনুমোদিত কারিকুলাম ও মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি পরিষ্কার অঙ্গীকার অপ্রশিক্ষিত কোনো শিক্ষককে আমরা শ্রেণিকক্ষে দেখতে চাই না। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের মান, প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা ভবিষ্যৎ মনিটরিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
উল্লেখ্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিজেই বিভাগে বিভাগে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রস্তুত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাসহ বিভাগের শিক্ষা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে
খোলা আকাশের নিচে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, বৃষ্টি নামলেই বন্ধ পাঠদান
একটু বৃষ্টি নামলেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। হঠাৎ কালো মেঘ জমলেই বইখাতা গুটিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। আবার প্রচণ্ড রোদে খোলা আকাশের নিচেই চলছে ক্লাস। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি নতুন ভবনের অভাবে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভবন সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই শিক্ষকদের পাঠদান করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বাধ্য হয়ে খোলা স্থানে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি শুরু হলেই ভিজে যায় বইখাতা ও শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রেখে বাড়ি ফিরে যেতে হয় তাদের।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে সরকারিকরণ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো ভবন ২০২১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভবনটি নিলামে বিক্রি করে অপসারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
১৭ দিন আগে
চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকট চরমে, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে দিয়েই তিন শ্রেণির পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ২০২২ সাল থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।
অতি সম্প্রতি মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম একাই তিন শ্রেণির পাঠদান করছেন। এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে অন্য শ্রেণিতে ছুটে যেতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি দাপ্তরিক কাগজপত্র তৈরি, মিড-ডে মিলের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে মাসুমা আক্তার নামে আরেকজন শিক্ষক থাকলেও ২০২৩ সালে যোগদানের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি চিলমারী সদরের একটি বিদ্যালয়ে প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) চলে যান। দুই শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয় থেকে একজনকে অন্যত্র প্রাক্কলনে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, তার সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২৫০ জন। শিক্ষকসংকটের কারণে তা কমে বর্তমানে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি মনি বলে, ‘একজন স্যার সবাইকে বেশি সময় দিতে পারেন না, তাই আমরা ভালো শিখতেও পারছি না।’
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক শিশু শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
১৮ দিন আগে
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে কুমিল্লার ৮৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কুমিল্লার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৯৪টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকেরও ৯৭০টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদও ২ হাজার ১০৭টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২১৩ জন। ফলে ৮৯৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ হাজার ৪১৯ জন। ফলে ৯৭০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এতে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা যায় কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এই সময়ে পর্যায়ক্রমে পাঁচজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন শিক্ষক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘নিয়মিত শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক ও দাপ্তরিক সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পাঠদানে সময় ও মনোযোগ কমে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।’ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলার অধিকাংশ উপজেলাতেই একই চিত্র বিরাজ করছে। দেবিদ্বার, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, তিতাস, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ, সদর দক্ষিণ, আদর্শ সদর, লাকসাম ও হোমনাসহ প্রায় সব উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে পাঠদানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি একজন করে হেড ক্লার্ক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।’
লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিক্ষকসংকট একটি বড় সমস্যা। প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়, যার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। শিক্ষার মান ধরে রাখতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ভিত্তি। এই পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারেন না। এর প্রভাব পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও পড়ে। তাই শিক্ষকসংকট দ্রুত নিরসন করা উচিৎ।’
তবে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, ‘২০১৯ সালের পর থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাকার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি না। তারপরও শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।’
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট দূর করা এবং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২৭ দিন আগে
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদানের তারিখ পরিবর্তন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর শূন্য পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান তারিখ ২৯ অক্টোবর পরিবর্তন করে আগামী ১ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে এবং যোগদানের পরদিন তাদের পদায়ন করা হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব জনাব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
যোগদানের পরদিন পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
বরিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি টিফিনের রুটির ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়া গেছে। তবে রুটি খাওয়ার আগেই এক শিক্ষার্থী ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় তার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিন খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহারকে জানানো হয়। রুটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় তার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য টিফিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রতিনিধি আরিফ হোসেনের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম মোবাইল ফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৩ দিন আগে
এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানির নিচে বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
মাত্র এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৬৭ নম্বর গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের আশপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের এ সমস্যায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন একজন প্রধান শিক্ষক ও নয়জন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে আছে বৃষ্টির পানি। পানির সঙ্গে কাদা ও আবর্জনা মিশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ভেজা কাপড় নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিভাবক নিলিমা নাসরিন বলেন, ‘আমার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বৃষ্টি হলে সে স্কুলে যেতে চায় না। এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে পানি ঢুকে যায়। এতে শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচুকরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করে। এতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণেও সমস্যা আরও বেড়েছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে, সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উভয়ই আরও বাড়বে।
৮০ দিন আগে