বৃক্ষরোপণ
পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-সবুজ এলাকা গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় গত দুই মাসে আমিনবাজার এলাকার দৃশ্যমান পরিবর্তনকে এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে মানুষের ভালো ও উপকারের জন্য একটি জায়গাকে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়। এই জায়গাটিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’
তিনি আরও বলেন, গত দুই মাসে এলাকাটির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বসবাসকারী মানুষের জন্য পরিবেশ আরও উন্নত হয়েছে এবং তাদের নির্মল বাতাসে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়েছে।
এলাকাটির পরিবর্তনে ভূমিকা রাখায় ঢাকা জেলার প্রশাসক ফরিদা খানম এবং এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
উন্নত পরিবেশ ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সরকার এলাকাটি সুন্দর করে গড়ে তুলেছে, তবে এর সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এখন এ এলাকার বাসিন্দাদের।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা থাকলে ধীরে ধীরে দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি আমিনবাজারের কাছাকাছি ঢাকা জেলার অন্য এলাকাগুলোতেও সবুজায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন।
মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কলকারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট অংশের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি যেসব এলাকায় এখনও বর্জ্য জমে থাকে, সেসব স্থানের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা তৈরির জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, মানুষ যাতে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আমিনবাজারে পরিবেশের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের মাধ্যমে ঢাকা জেলার প্রশাসক অন্য জেলার প্রশাসকদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্য জেলার জেলা প্রশাসকরাও একইভাবে এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদানের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
১ দিন আগে
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পরিবেশের উন্নয়ন ও মহাসড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কের পাশের এলাকাগুলোতে বর্জ্য ফেলা হতো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
১ দিন আগে
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি নজরদারিতে আসছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা চারাগাছের নিখুঁত ট্র্যাকিং ও ডেটাভিত্তিক পর্যবেক্ষণের জন্য খুব দ্রুতই ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বর্তমান কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া হালনাগাদ তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ড. মো. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম, যুগ্ম সচিব শাহানারা ইয়াসমিন লিলি, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯৫ দিন আগে
‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক’ তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ এবং দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদেরকে গড়ে তুলতে হয়, যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের যে ছোট কোমলমতী শিশুগুলো আছে, তাদের আমাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি মানবিক মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রটি রচনা করতে পারব।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আসুন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করুন। এই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সৈনিকদের দরকার, সেই সৈনিকরা কিন্তু আপনাদের কাছে আছে, আপনাদের সামনে আছে। সেই সৈনিকদের আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনারাই তাদের গড়ে তোলার কারিগর।
৯৬ দিন আগে
শিশুদের প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়তে সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর এবং সেই গাছ সম্পর্কে জানার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। একই সময়ে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একযোগে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়।
শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতিবছর অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে। সেটা স্কুলে হোক কিংবা বাসার আশপাশে—যেখানেই সুযোগ পাও, একটি গাছ রোপণ করবে।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ সম্পর্কে জানতেও হবে। কোন গাছ কত অক্সিজেন উৎপাদন করে, মানুষের কী উপকারে আসে এবং পরিবেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে ইন্টারনেট ও বিভিন্ন উৎস থেকে জানার পরামর্শ দেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর একটি নতুন গাছ সম্পর্কে জানতে পারলে তোমাদের জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হয়ে একসময় তোমাদের ছায়া দেবে, বিশ্রামের জায়গা হবে। আর বাড়িতে লাগানো গাছ বড় হলে পরিবেশ হবে আরও শীতল ও বাসযোগ্য।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত স্মরণীয়। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অসংখ্য গাছ রোপণ করলাম। এই উদ্যোগ দেশের সবুজায়নকে আরও এগিয়ে নেবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯৬ দিন আগে
যার যার অবস্থান থেকে আশপাশের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নিজেদের বাড়ি, পাড়া, খাল ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার।
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন স্মৃতিসৌধ-সংলগ্ন সাগরদী খালের দুই পাশে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এই খালের দুই পাশে সাড়ে তিনশর মতো চারা রোপন করব। স্থানীয়দের সবার কাছে আমার আহ্বান থাকবে, এই যে চারাগুলো আমরা আজকে রোপন করব, এগুলো রোপনের পরই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না; এই গাছগুলোর যত্ন আমাদের নিতে হবে।
স্থানীয় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই যে খালটা বয়ে যাচ্ছে, এই গাছগুলো যখন বড় হবে, তখন খালটা দেখতে আরও সুন্দর হবে। খালের পাড়ে তখন বসতে আরও ভালো লাগবে। বেঞ্চে যখন আপনারা বসে থাকবেন, তখন নিশ্চয়ই বাতাসটা, বাতাসে আরামবোধ করবেন।
তারেক রহমান বলেন, সাগরদী খাল সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকে শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার কথায়, ‘এই খালটির যত্ন করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, খালের দুপাশে যত মানুষ আছে, সবাইকে আমাদের এই খালের যত্ন করতে হবে।’
৯৮ দিন আগে
সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, এটা খুবই দুঃখজনক: তারেক রহমান
কক্সবাজারের দোহাজারী রেলপথ প্রকল্পে সাত লাখ গাছ রোপণের সরকারি দাবি যাচাই করে বাস্তবে প্রায় দুই লাখ গাছ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আপনারা খবরে দেখেছেন, আমাদের কক্সবাজারে একটি ট্রেন লাইন গিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী, দোহাজারী হয়ে। ওই দোহাজারীতে প্রায় কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে... এই ট্রেন লাইনটা নিতে গিয়ে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলোকে রিপ্লেস করতে। যদিও সরকারি হিসাব-নিকাশে বলা হয়েছে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে... টু বি অনেস্ট, আমি সংশ্লিষ্ট যারা গাছ লাগিয়েছে তাদের কাছে রিপোর্টটা নিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে... সপ্তাহ দুই-তিনেক আগে... তাদেরকে বললাম যে আপনাদের রিপোর্টটা দেন... দেখি কোথায় কোথায় সাত লাখ গাছ আপনারা রোপণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘পরে আমি আমার মতন করে ভেরিফাই করেছি, চেক করেছি এবং দেখেছি যে একচুয়ালি ওখানে সাত লাখ গাছ নেই। হার্ডলি ওখানে দুই লাখের মতো গাছ হবে... যেটি খুব দুঃখজনক, ভেরি আনফরচুনেট। আমার মনে হয় এই বিষয়গুলোর প্রতি বোধহয় আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন, একটু সিরিয়াস হওয়া প্রয়োজন।’
‘ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায়’
বক্তব্যের শুরুতে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে খবরটা আপনাদের সামনে বলে আমার বক্তব্যটা আমি উপস্থাপন করব। সেই খবরটা আনফরচুনেট কি ফরচুনেট এটি বিচারের দায়িত্ব আমি আপনাদের কাঁধে ছেড়ে দিচ্ছি, আপনাদের উপরে ছেড়ে দিচ্ছি। খবরটি গতকাল ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। খবরটিতে বলছে, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা এখানে পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে এসছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলের সিরিয়াসলি না, ভেরি, ভেরি সিরিয়াসলি বোধহয় চিন্তা করার সময় চলে এসেছে। এখানে আজকে আমরা যারা বৃক্ষরোপণই হোক বা পরিবেশের বিষয় হোক, আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমাদের সকলের উচিত হবে এই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে যখন যে পরিস্থিতিতে, যে পরিবেশে আমাদের সুযোগ হয়, প্রত্যেকটি মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করা।’
‘পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ এবং বৃক্ষরোপণ দুটো অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত বলে আমি মনে করি। আমাদের সকলের বোধহয় দায়িত্ব আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছেন যারা এই সকল বিষয়ে খুবই অজ্ঞ। এটি অস্বীকার করে খামাখা লাভ নেই। এই অজ্ঞ মানুষগুলোকে এই ব্যাপারে সচেতন করাটা বোধহয় আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের একটা পবিত্র কর্তব্য বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘কেন মনে করি? এইজন্য আমরা যদি ঢাকা শহরের যে এলাকাতেই যাই না কেন, আমরা যদি ঢাকা থেকে আপনাদের প্রত্যেকেরই এখানে নিজের গ্রামের বাড়ি অবশ্যই মনে হয় ঢাকা শহরে নয়, ঢাকা শহরে ঢাকা জেলার বাইরে অন্য বিভিন্ন জেলায়। আমরা যখন হাইওয়েগুলো দিয়ে যদি যাই এবং হাইওয়ের দুপাশের অবস্থাগুলো যদি দেখি, তাহলে আমি যে কথাটি বলতে চাইছি, এই কথাটি বোধয় পরতে পরতে ফিল করার বোধয় যথেষ্ট কারণ আছে।’
‘সভ্য দেশে এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়’
সাভার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত পরশুদিন আমি সাভারে গিয়েছিলাম সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র দেখতে। যাওয়ার সময় দুপাশে মিল-ইন্ডাস্ট্রি আছে, অবশ্যই সেটি একটি ভালো বিষয়। কিন্তু মিল-ইন্ডাস্ট্রির কারণে সবকিছু মিলিয়ে দুপাশের রাস্তার যে অবস্থা, এটি আপনাদের প্রত্যেকেরই চোখে পড়েছে। আমার মনে হয় কোন একটি সভ্য দেশে, একটি সিভিলাইজড দেশে এরকম পরিস্থিতি বোধহয় হওয়ার কারণ নয়। এই অবস্থা তৈরির জন্য কমবেশি আমরা যেরকম সকলেই দায়ী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমরা সকলে চেষ্টা করলে এই অবস্থার পরিবর্তনটি আমরা করতে পারব। আমার মনে হয় আজকের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বোধহয় এরকম একটি প্রতিজ্ঞা বা শপথ আমাদের প্রত্যেকের নেওয়া উচিত আজকে।’
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বক্তৃতা শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব পাশে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
১০২ দিন আগে
সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার।
জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের এই জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণ করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমায় এবং পরিবেশকে নির্মল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
১০২ দিন আগে
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) ডুলহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে অনুরোধ করব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে।
‘আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দিই, একটি পরিষ্কার একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।’
নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত, পরিষ্কার, বিশুদ্ধ একটি বাতাসে আমরা রূপান্তর করতে পারব।’
১২৮ দিন আগে
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কক্সবাজারের মালুমঘাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার তাদের আরেকটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানী ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান কর্মসূচিরও সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
১২৮ দিন আগে