বিদ্যুৎ সংকট
১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ আশার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে সৃষ্ট মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত এবং এ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এ কথা বলছি। নিছক কথার আড়ালে সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে।
চলমান সংকটের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি, যা জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফডি) প্রয়োজন।
এই চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ালে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক—এই তিন খাতের মধ্যে সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ থাকাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই গ্রুপের কাছ থেকে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২১ জুলাই সমস্যাটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হয়। তবে তিনি দাবি করেন, সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এখন সরকার পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আগস্টে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা যেন অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে আর পোহাতে না হয়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
আগামী গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ জোরদারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সরকারের নেওয়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নীতি আগামী গ্রীষ্মে চলমান সময়ের মতো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংসদ সদস্যদের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি এ খাতকে ঘিরে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।
২ দিন আগে
বিদ্যুৎ সংকটের জন্য এই সরকারের ন্যূনতম দায় নেই: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের জন্য এই সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রী এই কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রতি ছয় মাস পর পর কোন মন্ত্রণালয় কী করছে, কীভাবে করছে তা মূল্যায়ন করা হবে। এভাবে ৫ বছর জনগণের কাছে যেতে হবে। কী করা হয়েছে, আগামীতে কী করা হবে—সেই বিষয়গুলো জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে যাতে সরকার জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। কারণ সরকারকে পাঁচ বছর পর আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে।
জনগণের অঙ্গীকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই সরকার নির্বাচিত একটা সরকার। জনগণ এই সরকারকে বড় একটা বিজয় দিয়েছে। তাই সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে চায়।
উপস্থিত জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যোগ্য মানুষদের নিয়োগ দিয়েছে। তারা তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। সব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে এটা হতেই পারে না।
সভা শেষে তথ্য উপদেষ্টা পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার উদ্দেশে রংপুর জেলা ত্যাগ করেন।
মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা কালচারাল অফিসার ও শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে
নতুন কৌশলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার চেষ্টায় সরকার
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গ্যাস সরবরাহের সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমরা একটা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি, আজকে সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিট টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো অপেক্ষমাণ রয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতির কারণে কার্গোটি এখনো টার্মিনালে এনে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
একই সময়ে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে হলে প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য সেটি বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হবে। তবে কখন সেই কাজ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ইটস দ্য বিগেস্ট চ্যালেঞ্জ (এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ)। এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কিন্তু খুব কঠিন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আজ বিকেলে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে বৈঠক করতে আসবে। কোন সময় এ কাজটা করলে সবচেয়ে কম জনদুর্ভোগ হতে পারে, আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে সেই সিদ্ধান্ত নেব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ করা হয়—একটি সামিট টার্মিনাল এবং অন্যটি এক্সিলারেট টার্মিনাল। বয়লার ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট টার্মিনাল এমনিতেই ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে, সেটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিট টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
৭২ ঘণ্টার জন্য এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ রাখার কাজ কবে শুরু হবে এবং কত দিন লাগবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই সিদ্ধান্তটা আমরা নিইনি তো এখনও।
তিনি বলেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না এবং এর প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর পড়ে। তবে, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে আমরা একটা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি, আজকে সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে, ইনশাআল্লাহ।
মালয়েশিয়ায় পাঠানো চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, চিঠি পাঠানোর পর দেশটির সঙ্গে তিনি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একটি দল মালয়েশিয়া সফর করেছে এবং দেশটির দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। সেখান থেকে কমপক্ষে এক কার্গো এলএনজি পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করতে হলে আলাদা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারণ বাজারে প্রয়োজনীয় আইএসও ট্যাংক সহজলভ্য নয়। এটি মধ্যমেয়াদি সমাধানের একটি বিষয় এবং সরকার এ নিয়েও কাজ করছে।
সব বিকল্প নিয়েই কাজ করছে সরকার
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার কী বিকল্প চিন্তা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। তার কথায়, ‘আমাদের হাতে যতগুলো বিকল্প ছিল, আমরা সকল বিকল্প নিয়ে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত একটি সেমিনারে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করছে এবং সংকট মোকাবিলায় তাদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো বুদ্ধি-পরামর্শ থাকলে তা দিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি সম্পর্কে সরকার জনগণকে নির্দিষ্ট কোনো বার্তা দিতে পারছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার মতো অবস্থানে তিনি নেই।
এ ব্যাপারে তার ভাষ্য, ‘সরকারের কাছে অবশ্যই জনগণ মেসেজ জানতে চায়। মেসেজ দেবার মতো জায়গায় যদি আমি থাকতাম, অবশ্যই আমি দিতাম। শুধু আমি আপনাকে এটুকু বলব—জনদুর্ভোগকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করছি। এটা আমার ধারণা জনগণ বোঝে। আমাদের চেষ্টার ন্যূনতম কোনো ত্রুটি নেই।’
প্রকৃতি-সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারের কিছু করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিট টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাজনিত কারণে এক্সিলারেট টার্মিনালও এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। কারণ দেশীয় উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় এবং এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের নীতিগত দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজেনি; বরং তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে হাঁটার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যখন ভুল নীতি আপনি গ্রহণ করবেন, একটি সময় তার মাশুল দিতে হবে। বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্যমেয়াদি, কোনো দীর্ঘমেয়াদি, কোনো সমাধানসূত্র খোঁজেননি। তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছেন বলে আজকে হঠাৎ করে একটি সংকট হয়েছে।’
এ ধরনের সংকট যে কোনো সময় সামনে আসতে পারত এবং কোনো না কোনো পর্যায়ে এর মুখোমুখি হতেই হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে গ্রীষ্মের এই সময়েই দেশের মানুষকে সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
২৩ দিন আগে
মে মাসে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা
আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এ তথ্য জানান।
উম্মে রেহানা বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সেই তুলনায় পিছিয়ে থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের চাপ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেও উৎপাদন ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। ফলে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গরমের তীব্রতা, শিল্পাঞ্চলে বাড়তি ব্যবহার এবং জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট, ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছে। পূর্বাভাস হিসেবে দেখেছি, আজ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বিভিন্ন শিল্প এলাকায় চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে গরমও। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটও অনেক বেশি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
১৩৪ দিন আগে
বিদ্যুৎ খাত গভীর সংকটে: রিজভী
দেশের বিদ্যুৎ খাত গভীর সংকটে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (৩ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপি নেতা বলেন, কাদের দাবি করেছেন দেশে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন অথচ তার প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছিলেন, দেশে স্বল্প পরিসরে হলেও লোডশেডিং থাকবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ী চক্র দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে লুটপাটে মরিয়া হয়ে উঠেছে: রিজভী
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সকাল-সন্ধ্যা লোডশেডিংয়ে ভুগছে অথচ তাপমাত্রা এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
বিএনপি দেশের মানুষকে উপেক্ষা করে বিদেশি প্রভুর কাছে ধর্না দিচ্ছে- কাদেরের এই বক্তব্যের নিন্দা করেন রিজভী।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সম্ভবত স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। কারণ তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন ভুলে গিয়েছিলেন যখন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজাতা সিং আওয়ামী লীগকে তাদের সমর্থন করতে এবং এইচএম এরশাদকে নির্বাচনে যোগদান করানোর জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
এটি একটি সার্বভৌম দেশে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট লক্ষণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সহ অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বিএনপিকে দায়ী করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
৯১৫ দিন আগে
বিদ্যুৎ সংকট: ১৯ জুন মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ
অসহনীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের দাবিতে ১৯ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ।
এছাড়া, বিরোধী দলীয় এই প্ল্যাটফর্মটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে দিনাজপুর অভিমুখে তাদের সাম্প্রতিক রোডমার্চে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিক্ষোভ করবে।
রবিবার নগরীর পুরানপল্টন এলাকার মেহরাবা প্লাজায় এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ-এর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে সারাদেশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হক বলেন, গত ৪-৭ মার্চ দিনাজপুরে যাওয়ার পথে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের রোডমার্চ কাফেলার ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এসব হামলা প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগ সরকার এখন জনরোষের সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে ভুগছে। তারা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
আরও পড়ুন: বগুড়ায় গণতন্ত্র মঞ্চের রোডমার্চের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ
হক বলেন, সরকার এখনও দমন ও পীড়ণমূলক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নিয়ে এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।
তিনি দাবি করেন, সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের এত বাধা, হামলা, উসকানি সত্ত্বেও তাদের রোডমার্চ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পেয়েছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, রোডমার্চের সময় হাজার হাজার মানুষ প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাদের সমাবেশে অংশ নিয়েছিল, বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে শক্তিশালী লড়াই করার চেতনা প্রদর্শন করেছিল।
তিনি বলেন, ‘মানুষ তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া বর্তমান দুর্নীতিবাজ, গণবিরোধী, দখলদার সরকারের হাত থেকে অবিলম্বে মুক্তি চায়। জনগণ এই সরকারকে আর নিতে পারবে না। তারা অধীর আগ্রহে পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।’
আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার: গণতন্ত্র মঞ্চ
সরকারবিরোধী আন্দোলন: গণতন্ত্র মঞ্চের ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
১১৮১ দিন আগে
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে: নসরুল হামিদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শনিবার বিকালে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণা ল্যাবরেটরি ও ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, চলমান কয়লা সংকটের কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় লোডশেডিং আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় লোডশেডিং আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
নসরুল হামিদ বলেন, জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
বিপিডিবির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সারাদেশে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হওয়ায় দিনের বেলায় ১৪ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা মেটাতে দেশে ২ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে, যা ভোক্তাদের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে কম চাহিদা থাকায় সপ্তাহান্তে বিরল।
এ সময় অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১১৮৯ দিন আগে
আগামী মাস থেকে বিদ্যুৎ সংকটে খুব একটা ভুগতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী মাস থেকে বিদ্যুত সরবরাহ সংকটে জনগণের খুব একটা কষ্ট হবে না।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি কেনা এবং গ্যাস আনা কঠিন। শুধুমাত্র আমাদের দেশেই নয়, ইংল্যান্ড, আমেরিকা এবং জার্মানি সর্বত্রই জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। তারা সংগ্রাম করছে (বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে)। তাই আমাদেরও কিছু দিন কষ্ট করতে হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী মাস থেকে হয়তো এমন কোনও দুর্ভোগ থাকবে না।’
আরও পড়ুন: ইসলামের অপব্যাখ্যা প্রতিহত করুন: হজ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি ও পানি ব্যবহারে সবাইকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘আপনাকে মিতব্যয়ী হতে হবে। কারণ, পুরো বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন। আমরা এর প্রভাব থেকে মুক্ত নই।’
‘পরিস্থিতি ভয়ানক’ উল্লেখ করে তিনি খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।’
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে পারি তাহলে বাংলাদেশে কখনও দুর্ভিক্ষের তাপ মোকাবিলা করতে পারব না।
ভর্তুকি মূল্যে দরিদ্রদের খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সব জিনিস বেশি দামে কিনছি, কিন্তু কম দামে মানুষকে সরবরাহ করছি যাতে কেউ খাবারের সমস্যায় না পড়ে।
আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সব কাজ মানুষের কল্যাণের জন্য। আমরা এখানে নিজেদের ভাগ্য গড়তে আসিনি, আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়ছি।
আ. লীগ ক্ষমতায় আসার আগে প্রকৃত গণতন্ত্র ছিল না
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ৫০ শিল্প ও অবকাঠামো উদ্বোধন করবেন
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে জনগণ দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করেনি।
‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এদেশের মানুষের প্রকৃত গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আমাদের (আ.লীগ) আন্দোলন ও সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে এসেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব রাজনৈতিক দল রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বিএনপি’র শাসনামলে নির্বাচনী অনিয়ম ও দুঃশাসনের জন্য সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা এই ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করেছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত যদিও দেশের কিছু মানুষ তাদের চোখে কোনও উন্নয়ন দেখে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা কিছুই পছন্দ করে না। তারাও এই গণতান্ত্রিক সরকার পছন্দ করবে না। যদি কোনও অগণতান্ত্রিক ঘটনা ঘটে (অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে), তাদের মূল্য বেড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরও নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বে আবারও মর্যাদা অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১৩৮৫ দিন আগে