মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বাংলাদেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
মন্ত্রী বলেন, একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।
সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, নিজেদের সমস্যা ও দাবি সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। সরকার আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগের ইতিহাসও স্মরণ রাখতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
৩ দিন আগে
পরিবর্তনের দাবি উঠলেই এ দেশের মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই তাদের জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহিদ দিবসবিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে জীবন দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর যদি পরিবর্তনের দাবিতে আবারও তরুণদের রক্ত দিতে হয়, তবে তা আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়।
৫ দিন আগে
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনকল্যাণে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, জনগণের জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। তাই জনপ্রিয়তার জন্য নয়, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করবে—এমন প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প পর্যালোচনা-সংক্রান্ত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সার্বিক চিত্র, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়ন কোথায় দেখতে চাই, সেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নে আরও সতর্কতা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে একীভূত (মার্জ) করে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান, ব্যয় দক্ষতা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে টেকসই ও যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি এসব কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প পুনর্বিন্যাস ও সংশোধনের মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। প্রকল্পগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করলে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির ভিত্তিতে মূল্যায়ন, তদারকি ও ফলাফল পরিমাপ সহজ হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন খাতে বহু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। তাই অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামের মানুষকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান আরও উন্নত করতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহা. শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবসহ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবাইকে নিয়ে আমরা মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই। শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। সকলকে নিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চাই এবং এটি ছাড়া আমার মতে বিকল্প কোনো পথ নেই। শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিতে যাচ্ছি, সেই পদক্ষেপের ফলে আমরা অবশ্যই কিছুটা ইতিবাচক ফল লাভ করব। আমরা চাই এ ব্যাপারে সকলে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন। মূল কাজ হচ্ছে প্রচার করা যে মাদক খারাপ জিনিস। এভাবে মানুষের সামনে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গামসহ অন্যরা।
৭ দিন আগে
গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা ইন্সটিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহিদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে কার্যকর, শিল্প উন্নয়ন, কৃষি খাতের অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে মানুষ উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
১১ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলা ‘গুজবে’ কান না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। এ সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে বিএনপি সব সময় গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি আস্থাশীল এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও গণজবাবদিহিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১১ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত এবং আলোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। তার মধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি, সেটি বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার আছে। আমরা এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে, যখন দেখি যে কতগুলো বিষয় নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তার মধ্যে একটি জুলাই সনদ।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে তারা নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেসব বিষয়ে কাজ করবে। ‘এ বিষয়টি আমরা কেন যেন এড়িয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত’, বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ আলোচনার মধ্যেই বিষয়গুলোর সমাধান হতে পারে। সংসদে সুযোগ এসেছে, একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমার আহ্বান থাকবে, সবাই সেই কমিটিতে যোগ দিয়ে সংবিধানের যেসব বিষয় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেগুলোতে সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন আমরা অনেক করেছি, অনেক রক্তও দিয়েছি। এবার দেখা যাক, আলোচনার মাধ্যমে সংসদে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় কি না। এটাই আমার আহ্বান। তিনি বলেন, আমার এই শেষ বয়সে আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্মকে আর মারামারি, কাটাকাটি বা প্রাণ দিতে হবে না। সবকিছু একেবারে নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোনো উচিত।
১৬ দিন আগে
সংগ্রাম শেষ হয়নি, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংগ্রাম শেষ হয়নি; ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
১৬ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য বিরোধীদের দোষলেন ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তার দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে, বিএনপি এটি করতে চায় না বলে বিরোধীরা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টার’ আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনে জনগণের সামনে উপস্থাপিত ইশতেহারের ভিত্তিতে বিএনপি সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, জনগণ সেই ইশতেহারের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের ভোট দিয়েছে। বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এই বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন যে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যৌথভাবে অংশগ্রহণকারী সকল দল একসঙ্গে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং বিএনপি এর প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে আমরা জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করব। এটি আমাদের অঙ্গীকার।
তবে ফখরুল জানান, প্রস্তাবিত সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মতো কিছু প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি।
তিনি বলেন, সংস্কার কমিশন বিএনপির সম্মতি ছাড়াই বেশ কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ জুলাই সনদেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত দলগুলো তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা যেভাবে আমাদের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক একইভাবে জুলাই সনদের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যেভাবে অঙ্গীকার করেছি, সেভাবেই এই সনদ বাস্তবায়ন করব। আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে চাই না—এমন কথা বলা সম্পূর্ণ ভুল।
বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিএনপি নিজেই বাংলাদেশে প্রধান প্রধান গণতান্ত্রিক সংস্কারের সূচনা করেছিল।
ফখরুল বলেন, এই দেশে সংস্কারের প্রবর্তন কে করেছিল? বিএনপি করেছিল। একদলীয় শাসনের পর বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির পর বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করে। বিএনপিই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান পাস করেছিল।
তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, তারা জুলাইকে কেবল ক্ষমতায় আসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই না জুলাই রাজনৈতিক ক্ষমতার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৮-১৯ বছরের লড়াইয়ের চূড়ান্ত রূপ ছিল।
তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রায় ১,৭০০ নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান বছরের পর বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের পর একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে দেশ পুনর্গঠন যে সহজ হবে না, তা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সমস্যাগুলো জটিল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা রাতারাতি দূর হতে পারে না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু ঠিক করতে পারব না, তবে আমাদের ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপি নেতা তাকে একজন খাঁটি গণতন্ত্রকামী, উদার গণতন্ত্রের প্রবক্তা, অসামান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং এক মহান দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি স্মরণ করেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এমাজউদ্দীনের বাসভবনে প্রায়ই বৈঠক হতো, যেখানে বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে গণতন্ত্রের পক্ষে বিবৃতি তৈরি ও কৌশল নির্ধারণ করা হতো।
১৮ দিন আগে
গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমেই টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এর আগে, সকালে রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে একটি র্যালি বের হয়ে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত রচনা করেছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-কে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের যে শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-সমন্বিত জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক। পরে বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা তাদের উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তারা সরকারের সহায়তা এবং নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তাও উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহা. শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সমবায়ী, সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৯ দিন আগে