মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সরকারি ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হবে এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অতীতে দেশের মানুষ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেই ত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা অবহেলা করে নষ্ট করা যাবে না। এখন দেশের পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এছাড়া দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের অভিন্ন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। বারবার সেই সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এবার যে সুযোগ এসেছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হবে।
সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেট তার অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। সুযোগ পেলেই তিনি সিলেটে আসেন। এ অঞ্চলের মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সিলেটের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া বহু গুণী মানুষের জন্ম এ অঞ্চলে। সাহিত্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সিলেটের অবদান রয়েছে। সিলেটের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, চা-বাগান ও প্রবাসী জনগোষ্ঠী এ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর—সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পর্যটন খাতে আরও বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব বলেও জানান তিনি।
৪ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির
সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি ওই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এর আগে সিলেটে প্রবেশের পথে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর সাতটি পয়েন্টে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। তবে সিটি করপোরেশনের এই অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয় মহানগর বিএনপি।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বয়কটের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনার আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।’
দলটির নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে স্বাগত জানিয়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকায় মূল অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সফর এটি।
৪ দিন আগে
সিলেট পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি
সিলেট পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ সময় সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সিলেট সার্কিট হাউজে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে যাবেন তিনি।
বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউজে অবস্থান করবেন তিনি। এরপর রাত ৮টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে এক হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও ২০০ সদস্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলোও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট একটি পর্যটন নগরী। রাষ্ট্রপতি যাতে সিলেটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এবং সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে প্রস্তুত। তার সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে চাই।’
৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির
শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।
রাষ্ট্রপতি যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনবার্তার জন্য রাষ্ট্রপতি রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজার প্রতি তার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ পণ্য আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে।
রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সারাহ কুক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের একটি উদ্যোগের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। মির্জা ফখরুল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ইউএনবিকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এ সময় রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে।
দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও একই ধরনের বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ফুটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে পাকিস্তানের উদ্যোক্তারা আগ্রহী।
এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দুই শহরের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এছাড়া বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে ইমরান হায়দার বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশ থেকে চা রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় জানিয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন।
ইমরান হায়দার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সরকার জরুরি: রাষ্ট্রপতি
শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বঙ্গভবনে ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ইউএনবিকে এ তথ্য জানান।
স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সক্রিয় এবং সজাগ থাকার নির্দেশ দেন, যাতে ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়।
সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
৬ দিন আগে
গণতন্ত্রকে বাঁচাতে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
গণতন্ত্রের মূল শক্তি গণমাধ্যম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য সঠিক পথে থেকে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করব।’
সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ করে ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১০০০ সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনও সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’
সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এখন গণমাধ্যমের দায়িত্বও আরও বেড়েছে। সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
এ সময় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বখতিয়ার রাণা (কোষাধ্যক্ষ), কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রেস ক্লাবের সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান।
উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদনদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।
অভিন্ন নদনদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
জবাবে হাইকমিশনার এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে ভারত প্রবলভাবে আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে তাকে অনুরোধ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং তার দায়িত্ব পালন দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
১১ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি
ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্র।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে উন্নত মান বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইসরাফিলসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
মফস্বল সাংবাদিকদের দাবি পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির
সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি পূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সফরের দ্বিতীয় দিনে নিজ বাসভবনে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
মতবিনিময়কালে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক নেতারা দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন অসুবিধা ও দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে মফস্বল এলাকার সাংবাদিকদের প্রকৃত অবস্থা, সাংবাদিকদের জীবনমান সম্পর্কে তারা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভবন সম্প্রসারণ, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের অসুবিধা ও দাবিগুলো পূরণে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ সময় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনই আজ সাংবাদিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত, এটিই তাদের দুর্দশার কারণ। শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে নয়, ঢাকাতেও একই অবস্থা। এই বিভাজন কাম্য নয়। সুবিধাবাদীরা এর সুযোগ নেন। এই বিভাজন দূর করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। মফস্বল সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এবং ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জেলা স্কাউটস নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। মতবিনিময়কালে স্কাউটস আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার জন্য করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় বক্তব্য দেন লিডার ট্রেনার আঞ্জুমান আরা বেবী, মো. জালাল উদ দীন, ও স্কাউটসের জেলা সেক্রেটারি লুৎফর রহমান।
পরে জেলা স্কাউটসের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁও জেলায় এক লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি একটি গাছের চারা রোপনের জন্য তাদের হাতে তুলে দেন এবং চলতি মাসেই বৃক্ষরোপণ শুরু করার নির্দেশ দেন।
১২ দিন আগে