শতভাগ ফেল
ঠাকুরগাঁওয়ে শতভাগ ফেল ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঠাকুরগাঁও জেলায়।
এমন ফল বিপর্যয়ের পর তদন্ত সাপেক্ষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।
শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো— সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোর যথাক্রমে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল: ৪ জন, ৭ জন, ৫ জন, ৫ জন ও ৩ জন।
এই ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার শূন্য।
তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দারিদ্র্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, বাল্যবিবাহসহ জোর করে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াকে দায়ী করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকি জানান, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্তির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা যেমন অমনোযোগী, ঠিক তেমনি শিক্ষকদেরও গাফিলতি রয়েছে বলে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষক সময়মত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না। এ ছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার মতো নয়, তারাও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়ায় এমন ফল হয়েছে।
মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, আমাদের এখানে এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমাদের এখানকার শিক্ষার্থীরা একটু বড় হতে না হতেই তাদের পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ফলে ভালো শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণেই অভিভাবকরা এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এ ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ভালো ভবন নেই; বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ল্যাব নেই বলেও জানান তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার জানান, গতবার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ রেজাল্ট করেছিল, তাদের আমরা সঠিক পরামর্শ দিয়েছি এবং তা কাজে লেগেছে। এবারও আমরা তাই করব। প্রয়োজনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮ ঘণ্টা আগে
শতভাগ ফেল করায় সিরাজগঞ্জের ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
সিরাজগঞ্জে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থী পাস করেনি। এ কারণে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে।
এ শোকজ নোটিশ পাওয়া এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো-উল্লাপাড়া উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদরাসা, ইসলামপুর ধরইল দাখিল মাদরাসা ও খন্দকার নূরুন নাহার জয়নাল আবেদিন দাখিল মাদরাসা।
আরও পড়ুন: ‘এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্ন তৈরিতে জড়িত যশোর বোর্ডের শিক্ষকদের শোকজ করা হবে’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ওই তিন প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থী পাস করেনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে এবং সেই সঙ্গে বিশিষ্টজনেরা বলছেন, পাসের হার প্রায় ১০০% হলেও ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। এ বিষয়টি নিয়ে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও পড়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শামসুল হকের স্বাক্ষর করা ওই নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি ওই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. উজ্জল হোসেন জানান, ওই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষার্থী পাস না করায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং কেন পাস করে নাই সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশও আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: নড়াইলে অধ্যক্ষ হেনস্তা: ১ শিক্ষক ও কলেজ পরিচালনা পরিষদকে শোকজ
খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারকে শোকজ, ৫ জনের বদলি
১৩৪৮ দিন আগে