মতিউর রহমান
‘দেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত ও নির্ভীক গণমাধ্যম অপরিহার্য’
দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত, স্বাধীন, সক্রিয় ও নির্ভীক গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সমাজের সার্বিক অধিকারকেই হুমকির মুখে ফেলে।
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) শুরু হয়েছে গণমাধ্যম সম্মিলন।
সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ সাংবাদিকতায় আসে, তা কখনোই অপরাধ হতে পারে না। যখন গণমাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করা হয় বা স্তব্ধ করার চেষ্টা চলে, তখন তা পুরো সমাজের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে। গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাহন হিসেবে কাজ করে, সেগুলোকে দমন করতে আইন, বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নুরুল কবির বলেন, গণমাধ্যম কেবল কয়েকশ বা কয়েক হাজার সাংবাদিকের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার নয়। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম যদি কাজ করতে না পারে, সক্রিয় থাকতে না পারে এবং কথা বলতে না পারে, তাহলে সমাজের নানা স্তরের অধিকার অনিবার্যভাবেই দমে যাবে।
বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশ পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না। আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসছে।’ সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’
তিনি বলেন, ‘যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি–সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরুরি।’
আয়োজকেরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে জনতার সহিংসতার ঘটনার মাধ্যমে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা গণতান্ত্রিক পরিসর ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকদের সম্মিলনে অংশ নেন।
২ দিন আগে
প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সম্পাদকদের ফোনালাপ
দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হামলার ঘটনার পর পত্রিকা দুইটির সম্পাদকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আলাদা আলাদা ফোনালাপে তিনি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও তাদের সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত এই আকস্মিক ও নিন্দনীয় হামলার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই কঠিন সময়ে সরকার দৃঢ়ভাবে দুই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পাশে রয়েছে।
ঘটনাগুলোকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য মারাত্মক হুমকি এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বিপন্ন করে।
তিনি দুই সম্পাদককে পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই তাদের সঙ্গে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
৩১ দিন আগে
মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ আদালতের
দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (তদন্ত) ও তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান, মেয়ে ফারজানা রহমান ঈশিতা ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে মোট ২ হাজার ৩৬৭ শতাংশ জমি এবং ঢাকার মিরপুরে প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে চারটি ফ্ল্যাট।
অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেশের ১১৬টি ব্যাংক হিসাবে জমা ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১ টাকা। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের ১১৬টি ব্যাংক হিসাব ও ২৩টি বিও হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আবেদনে দুদকের উপপরিচালক উল্লেখ করেন, মতিউর রহমান তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
আরও পড়ুন: সাবেক এনবিআর সদস্য মতিউরকে সোনালী ব্যাংকের বোর্ড থেকে অপসারণ
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর ও অর্থ পাচারের চেষ্টা করছিলেন। তাই তাদের এ ধরনের চেষ্টা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্দেশের প্রয়োজন ছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
এর আগে গত ২৪ জুন একই আদালত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও ছেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
গত ৪ জুলাই মতিউর রহমানের চারটি ফ্ল্যাট ও ৮৬৬ শতক জমি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: বেনজীর-মতিউরের সম্পদের বিবরণী চেয়ে দুদকের নোটিশ
৫৫৭ দিন আগে
সাদিক এগ্রো খামারের একাংশ উচ্ছেদ করেছে ডিএনসিসি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাদিক এগ্রো খামারের একাংশ উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু হয়।
খামারটি রামচন্দ্রপুর খালের একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল বলে জানতে পেরে এ উচ্ছেদ অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ।
গত ঈদুল আজহায় ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল বিক্রি করে সবার নজর কেড়ে নেয় সাদিক এগ্রো।
ছাগলবিক্রি নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া লেনদেনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে ছাগলটি কিনছেন।
এরপরই সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কথিত বিনিয়োগসহ হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মতিউর রহমান।
৫৭১ দিন আগে
সাবেক ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
সোমবার (২৮ আগস্ট) এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও শিক্ষাখাতে মতিউর রহমানের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, এই একুশে পদক বিজয়ীর মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হল।
রাষ্ট্রপতি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান রবিবার (২৭ আগস্ট) ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
তার ছেলে মুহিত-উর-রহমান শান্ত ইউএনবিকে জানান, সোমবার (২৮ আগস্ট) বাদ আসর ময়মনসিংহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে মতিউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, তার দুই বোন অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তারা দেশে আসছেন। তারা পৌঁছানোর পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় আরও পড়ুন: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও সংগঠকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোকনামাজে জানাজা শেষে তার বাবাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৪২ সালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মতিউর রহমান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া, তিনি জামালপুরের নান্দিনা কলেজ এবং পরে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে অধ্যাপনা করেন।
তিনি ১৯৮৬ ও ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি ১৯৬৯ সালে আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: বীর উত্তম সুলতান মাহমুদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
পান্না কায়সারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
৮৭৫ দিন আগে
সাবেক ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার (২৮ আগস্ট) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মতিউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতিউর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন।
তিনি বলেন, অগণিত প্রলোভন এবং বারবার কারাভোগকে উপেক্ষা করে মতিউর রহমান তার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অটল থেকেছিলেন।
আরও পড়ুন: পান্না কায়সারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
শেখ হাসিনা বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেওয়া মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন প্রশিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সফল সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০২২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মৃত্যু দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং তার মৃত্যুতে আমি একজন বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচরকে হারালাম।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান রবিবার (২৭ আগস্ট) ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
তার ছেলে মুহিত-উর-রহমান শান্ত ইউএনবিকে জানান, সোমবার (২৮ আগস্ট) বাদ আসর ময়মনসিংহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে মতিউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: পদার্থবিজ্ঞানী বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়ার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
তিনি জানান, তার দুই বোন অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তারা দেশে আসছেন। তারা পৌঁছানোর পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তার বাবাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৪২ সালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মতিউর রহমান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া, তিনি জামালপুরের নান্দিনা কলেজ এবং পরে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে অধ্যাপনা করেন।
তিনি ১৯৮৬ ও ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি ১৯৬৯ সালে আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: বীর উত্তম সুলতান মাহমুদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
৮৭৫ দিন আগে
প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা
দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রথম আলোর সম্পাদকসহ অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ১৯ মিনিটে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।
যেখানে বলা হয় যে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার করে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামস, অজ্ঞাতনামা 'সহকারী ক্যামেরাম্যান' সহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে রমনা থানায় ওই দিন রাত দেড়টায় মামলাটি দায়ের করেন আবদুল মালেক (মশিউর মালেক) নামে এক আইনজীবী।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ৩১ ও ৩৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বাসা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা তুলে নেওয়ার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বুধবার বিকালে পত্রিকাটির সাভার প্রতিনিধি শামসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে শামসের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা দিবসে ভুয়া ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন, যেমনটা ইউএনবির গতদিনের (বুধবার) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম আলোর প্রতিবেদক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা
প্রথম আলো সর্বশেষ মামলার বাদী আবদুল মালেকের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে। যিনি বলেন, ‘মামলাটার আমি এজাহার দায়ের করেছি, হয়েছে (মামলা) কি না, জানি না। হয়েছে কি না, ওরা (পুলিশ) যোগাযোগ করেছে কোথায় কোথায়, পুলিশের ব্যাপার তো, বোঝেন না।’
তবে রমনা থানা পুলিশ পত্রিকাটিকে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে গণমাধ্যমটির দুই সাংবাদিক থানায় যান। কিন্তু দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করেও থানায় ঢুকতে পারেননি।
তাদের এফআইআরের একটি অনুলিপি সংগ্রহ করতে সকালের ফিরে যেতে বলা হয়।
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: সিআইডি প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১০২৬ দিন আগে
কাউন্সিলর মতি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র
প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগ নেতা মতিউর রহমান এবং তার স্ত্রী রোকেয়া রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম আদালতে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে দুপুরে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
আরও পড়ুন: ৩ ইসলামী ব্যাংকের কেলেঙ্কারি তদন্ত করবে দুদক
সচিব জানান, তদন্তকালে আসামি মতিউর রহমানের নামে ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ও তার স্ত্রী রোকেয়া রহমানের নামে আট কোটি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। এর আগে ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মতিউর রহমান ছয় কোটি ৬২ লাখ ৮২ হাজার টাকা ও তার স্ত্রী রোকেয়া রহমান দুই কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব প্রদর্শন না করে মিথ্যা তথ্য দেন।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭(১) ধারায় এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারার গত বছর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। পরে তদন্ত শেষে চলতি মাসে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন করে।
আরও পড়ুন: দুদকের বরখাস্তকৃত পরিচালক এনামুল বাছিরের জামিন বহাল
মহাসড়কের জমি বন্ধক রেখে ঋণ: দুদককে ৩ মাসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষের নির্দেশ
১১২৪ দিন আগে