ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাবি ক্যাম্পাসের ৩ ঘটনা তদন্তে পৃথক কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিগুলো সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।
ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইট চালু, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিগুলোকে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ডাকসুর ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ কেন্দ্রের পরিচালক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্তে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ডাকসুর এই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্ত করবে কমিটি।
এ কমিটির সদস্যরা হলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনাটি তদন্তেও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। এ কমিটিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৫ দিন আগে
জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন, অনুমতি ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ: ডাকসুর কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রয়াত গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ অবস্থান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ডাকসু-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করার কথা উল্লেখ করে ঢাবি প্রশাসন বলেছে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও প্রবিধানের চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদকে যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নিতে হবে।
কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো ধরনের অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এটি এখতিয়ারবহির্ভূত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুকেও নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে তারা।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না বলে জানিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
৫ দিন আগে
ঢাবি শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে বরখাস্ত কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসাইন।
২০২৩ সালের আগস্টে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গবেষণাপত্র জমা দিতে এসে শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতের কক্ষে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ওয়াসেল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সের এক্সটার্নাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ওয়াসেল তার থিসিস সুপারভাইজার। ১৫ আগস্ট থিসিসের বিষয়ে দেখা করতে গেলে তিনি অত্যন্ত অমার্জিত আচরণ শুরু করেন। পরে ওয়াসেল তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
অভিযোগে বলা হয়, সেদিন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পুরো ভবনটি খালি ছিল।
ওই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ওয়াসেল বিন সাদাতকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে গত ৪ আগস্ট তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।
চূড়ান্ত বরখাস্তের ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। এর প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ রবিবার হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
১৩ দিন আগে
ঢাবির আন্তঃহল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ ও রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃহল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার ছাত্র বিভাগে জগন্নাথ হল এবং ছাত্রী বিভাগে রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ছাত্র বিভাগে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং ছাত্রী বিভাগে শামসুন নাহার হল রানার্স-আপ হয়েছে।
ছাত্র বিভাগের প্রতিযোগিতায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মানিক হাসান মীর ২৪টি গোল করে সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের মো. মোনায়েম বিশ্বাস সেরা গোলরক্ষক এবং জগন্নাথ হলের গাথী ডারড সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
ছাত্রী বিভাগের প্রতিযোগিতায় রোকেয়া হলের ইশরাত জাহান ২২টি গোল করে সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। একই হলের তিথি রানী সেরা গোলরক্ষক এবং শামসুন নাহার হলের লামিয়া আক্তার লিমা সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিযোগিতা শেষে সোমবার (১০ আগস্ট) শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা আল মামুনসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা, ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন হলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৯ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সভাপতি শাকিল, সম্পাদক তাসনিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের ২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে মো. শাকিল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নুসরাত জাহান তাসনিমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সংগঠনের মডারেটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরা সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আবৃত্তিচর্চা, বাচিক শিল্প এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিজা বিনতে সামসের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার পদ স্থগিত থাকবে।
সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মো. শাহ সুফি ওয়াছি মিয়া ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমি পূর্ণ নিষ্ঠা, সততা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। আশা রাখছি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বও সংগঠনের সাংগঠনিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তুলবেন। খুব শিগগিরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করব। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন রইল।’
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, নবনির্বাচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে আবৃত্তিচর্চা, বাচিক শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি দেশের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটির ইতিবাচক অবদান আরও বিস্তৃত হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।
মডারেটর অধ্যাপক ড. মুনিরা সুলতানা নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক নুসরাত জাহান তাসনিমকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি কামনা করেন।
৪৮ দিন আগে
ঢাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের নতুন কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের (সিএইচটিএসএফ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কে এইচ নওশাদ।
৩৪ সদস্যের এ কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হিসেবে আবু সাইদ ইবু, সহ-সভাপতি হিসেবে আবু আসিফ ও শেখ মাহমুদুল হাসান নকীব দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ আরমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অর্নি দে ও জাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. ইমরান হাবিব, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মো. আব্দুল্লাহ আল নাঈম, প্রচার সম্পাদক হিসেবে নুসরাত জাহান তানজিলা এবং অর্থ সম্পাদক হিসেবে তাসিম উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন।
নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে সভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক কে এইচ নওশাদ বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তারা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় নতুন কমিটি ক্যাম্পাসে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে, সংগঠনের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
৫৮ দিন আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ লাখ টাকার দুটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা
শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও গবেষণা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ লাখ টাকার দুটি ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।
উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম তালুকদার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম. সৈয়দ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং দাতা সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ও আফরোজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এর মধ্যে ‘ড. মাজিদ স্কলারশিপ ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই ট্রাস্ট ফান্ডের আয় থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিএস (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী দুই শিক্ষার্থীকে এমএস শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় এককালীন ৪০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ‘রোজি আনোয়ারা মাজিদ ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রতিষ্ঠার জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের আয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের বিএসসি (সম্মান) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেধাবী ও অসচ্ছল দুই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা হারে গবেষণা বৃত্তি দেওয়া হবে। এ হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী মোট ৩৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় দাতা সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।
উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অ্যালামনাইদের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গবেষণা অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংরক্ষণ ও গবেষণা তহবিল বৃদ্ধিতে তাদের সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
৬১ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুসারে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এদিকে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
এ উপলক্ষে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে।
এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হল জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করবে। এর মধ্যে শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই, অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট জুলাই অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
৬১ দিন আগে
হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তিনি দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী হাসিনা একটি দেশে, তার অবশ্য নিজ দেশে, যে আশ্রয় গ্রহণ করেছে, ওখান থেকে বড় বড় কথা বলছে। তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নাই। তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে এবং রায় কার্যকর করা হবে।’
তিনি বলেন, অনেকে বলছে, মুর্দাহ কাফন ফুঁড়ে কথা বলছে; সেটা জায়েজ নাই। তিনি বলছেন, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো তার প্রত্যাবর্তন চেয়েছি আইনানুগভাবে। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে, ইন্টারিম গভর্মেন্টের সময় পত্র দেওয়া হয়েছে, আমরা তাগাদাপত্র দিয়েছি। আমরা চাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে, ফিরিয়ে এনে তার রায় কার্যকর করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকালের পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নাই। তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে এবং রায় কার্যকর করা হবে। যদি তার আপিল করার কোনো অধিকার থাকে, সেটা আইন আদালত দেখবে।’
পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আর যারা বিভিন্ন দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে—ফ্যাসিবাদী দোসর মন্ত্রী, এমপি যারা, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করিয়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি খুব শিগগিরই তাকে (শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে আনতে পারব এবং বিচারের মুখোমুখি করতে পারব। আমরা চাই, সবাই ন্যায়বিচার পাক। যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা এদেশের সাধারণ মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাক হানাদার বাহিনীর মতো আক্রমণ করে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে, তাদের আমরা বিচারের মুখোমুখি করব।’
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সব সময় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতিটি লড়াইয়ে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
৬৬ দিন আগে
ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনা জানার বিষয় নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের পথও নির্মাণ করতে পারে না।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ইতিহাস বিভাগের ২০তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯–৯০ শিক্ষাবর্ষে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে আমার মনে হচ্ছে, যেন আমি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি। এখানে আমার অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের সান্নিধ্য আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘একদিন আমিও আপনাদের মতো এই বিভাগের করিডোরে বুকভরা স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং কিছুটা শঙ্কা নিয়ে হেঁটেছি। কিন্তু এই বিভাগ আমাকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়নি; শিখিয়েছে মানুষকে বুঝতে, সমাজকে বিশ্লেষণ করতে এবং দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে। ইতিহাস বিভাগ আমার চিন্তা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এমন একটি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন, যেখানে শুধু অতীতের ঘটনা মুখস্থ করা শেখানো হয় না। ইতিহাস আমাদের শেখায় কেন একটি ঘটনা ঘটেছিল, তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট কী ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের জন্য কী শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়ের আয়না। যে জাতি তার ইতিহাসকে জানে না, সে ভবিষ্যতের পথও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাণ করতে পারে না।’
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘এই বিভাগে অধ্যয়নের মাধ্যমে আপনারা যুক্তিনির্ভর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, গবেষণামনস্কতা এবং সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা অর্জন করবেন। এসব গুণ শুধু একজন ইতিহাসবিদ হওয়ার জন্য নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কূটনীতি, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন এবং করপোরেট নেতৃত্বসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
৭৩ দিন আগে