নওগাঁ
সুগন্ধি আতপ চাল ‘রপ্তানির অনুমতিতে’ নওগাঁয় চালের বাজার লাগামহীন
ধান চাল উৎপাদনে বরাবরই শীর্ষে উত্তরের জেলা নওগাঁ। এখানকার উৎপাদিত সুগন্ধি চালের বিশেষ কদর রয়েছে সারা দেশের খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে গেল এক সপ্তাহ ধরে চাল বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কেজিতে এবার ২-৪ টাকা নয়, বেড়েছে ৯০ টাকা।
নওগাঁর বাজারে এক কেজি সুগন্ধি আতপ চালে ৯০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। শুধু তাই নয়, সুগন্ধি চালের পাশাপাশি বেড়েছে কাটারিসহ সব ধরনের সরু চালের দামও।
ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কিছু মিল আর করপোরেট কোম্পানিগুলোর মজুত সিন্ডিকেটের কারণেই বাড়ছে চালের দাম। তবে মিল মালিক আর ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, সরকারিভাবে বিদেশে আতপ চাল রপ্তানি আর হাটে ধানের বাড়তি দামের কারণে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পরিরিস্থি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও বাস্তবে কারোরই দেখা মেলেনি।
নওগাঁ শহরের সবচেয়ে বড় খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গেল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে সকল প্রকার সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মোট বিক্রির ৮০ শতাংশই হয় কাটারি চাল। শর্টার ও নন শর্টারসহ সব ধরনের কাটারি চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। ৭৬ টাকা কেজির চাল ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, কয়েকদিন আগেও যার দাম ছিল ৫৮ টাকা।
তবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি (আতপ) চাল। দুই সপ্তাহ আগেও এই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১২০ টাকা কেজিতে। কিন্তু প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতেই বেড়েছে ৯০ টাকা। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে। বাজারে চাল কিনতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকা থেকে পৌর চালের বাজারে আতপ চাল কিনতে এসেছিলেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ কেজি আতপ চাল কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে শুনি, সেই চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৯০ টাকা। এভাবে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলার বালুভরা গ্রামের কৃষক আল ফারুকের সঙ্গে কথা হয় নওগাঁর খুচরা বাজারে। ৫ কেজি ভাতের চাল কিনতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন এই কৃষক। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়লে যারা দিন এনে দিন খান, তাদের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
৩ দিন আগে
নওগাঁয় খালে ডুবে প্রাণ গেল নবদম্পতির
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় খালে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নূর ইসলাম (২২) ও তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৮) নামে এক নবদম্পতি নিহত হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার কার্তিকাহার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর ইসলামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামে। তিনি প্রায় সাত মাস আগে বদলগাছী উপজেলার কার্তিকাহার গ্রামের সুমাইয়া আক্তারকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে কার্তিকাহার গ্রামের পাশের একটি খালে গোসল করার জন্য প্রথমে পানিতে ঝাঁপ দেন নূর ইসলাম। পরে তাকে দেখতে না পেয়ে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারও পানিতে ঝাঁপ দেন। একপর্যায়ে তারা দুজনই পানির নিচে তলিয়ে যান।
কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাহরিমা আক্তার মুন্নি দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার অনেক আগেই তারা মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
নওগাঁয় ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁ শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ ইমন (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার জননী ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাহরিয়ার আহম্মেদ ইমন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জননী ছাত্রাবাসের ১০৯ নম্বর ডবল রুমে তিনি একাই থাকতেন। গতকাল (শুক্রবার) রাতে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি। এ কারণে আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টায় তার মামা ছাত্রাবাসে এসে দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইমনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১০ দিন আগে
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান, নওগাঁয় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক
নওগাঁয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গতকাল (বুধবার) রাতেই বিদ্যালয়-সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মারপিটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং একখণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জনের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ১৭ শিক্ষার্থী আহত হয়।
১২ দিন আগে
ট্রল করে, অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করে কিংবা অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথাবার্তার মাধ্যমে সমাজকে উসকানি দিতে চান, তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন করেন।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননেসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখেনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কি একটা হ্যাভক (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যত অপবাদই দেন না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা বিচ্যুত করতে পারবেন না। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উস্কানি দিতে চায়, আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজকে তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কী করে ভাবতে পারেন যে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না।’
সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং তার মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।’
সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই মানবিক বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়।
ড. মিলন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যেন পড়াশোনা করতে বাংলাদেশে আসে, সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই সরকার উচ্চশিক্ষাকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৭ দিন আগে
দাবি না মানলে ১৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীকে নওগাঁয় ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি
নওগাঁয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সড়কে নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ সফরে শিক্ষামন্ত্রীকে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা শিক্ষা ভবনের সামনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা ও বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষাগ্রহনের সুযোগ নিশ্চিতসহ সকল দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতে আসলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নওগাঁয় প্রবেশে বাধা দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারশিয়া রহমান, নাইম আহম্মেদ, রাহিম হোসেনসহ অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজন ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদমান বক্তব্য রাখেন।
২১ দিন আগে
পানের বরজে বদলে গেছে নওগাঁর তিন গ্রামের ভাগ্য
একসময় যেখানে কৃষকের স্বপ্ন সীমাবদ্ধ ছিল মৌসুমি ফসলের আয়-ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে, সেখানে আজ পানের বরজ এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর এখন শুধু তিনটি গ্রামের নাম নয়; এগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন, কৃষকের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
উত্তরের জেলা নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম—জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর। গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সবুজের এক অনন্য বিস্তার। চারদিকে সারি সারি পানের বরজ, যেন সবুজের ভেতরে আরেক সবুজের রাজ্য। স্থানীয়দের কাছে এখন এই জনপদ পরিচিত ‘পানের গ্রাম’ নামে। একসময় ধান চাষনির্ভর এই এলাকার কৃষকরা এখন পানের আবাদকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন নতুন অর্থনীতির ভিত্তি।
প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বসবাস এই তিন গ্রামে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, যেদিকে চোখ যায়, সেখানেই পানের বরজ। প্রতিটি বরজ যেন কৃষকের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও সাফল্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রাম থেকে স্বচ্ছলতায় পৌঁছে যাওয়ার গল্প।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার উঁচু ও বন্যামুক্ত বেলে-দোআঁশ মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া পানের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নিয়ন্ত্রিত সেচব্যবস্থা, আগাছামুক্ত জমি, সঠিক পানি নিষ্কাশন ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন আধুনিক ও কার্যকর চাষাবাদ পদ্ধতি। নিজেদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শও তাদের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
২১ দিন আগে
নওগাঁয় দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, ছেলে হেফাজতে
নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মণ্ডল (৫৫) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) রাতে খাবার খেয়ে তারা দুজনে ঘুমাতে যান। ভোর ৪টার দিকে নিহতদের ছেলে মুক্তার হোসেন প্রতিবেশীদের খবর দিলে খাটের ওপর তাদের মরদেহ দেখতে পান তারা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, ছেলে মুক্তার হোসেন নেশা ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। নেশার জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করলে মুক্তার বিষাক্ত কিছু খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহদুটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত কিছু খাবারের মাধ্যমে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি জানান, নেশা আর অনলাইনে জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে ইতোপূর্বে তার ছেলে মুক্তার হোসেন বাবা-মাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, ছেলের সঙ্গে মা-বাবার আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
ওসি আরও জানান, এসব তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি রহস্যজনক মৃত্যু না হয়ে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনায় মুক্তার হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে
নওগাঁয় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
নওগাঁয় পৃথক উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) ও মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া এলাকায় তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গতকাল (বুধবার) মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সকালে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, সকালে ইসমাইল সরদার নিজ জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বিকটশব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত প্রতিটি পরিবারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে।
২৬ দিন আগে
নওগাঁয় ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারী দলের আরও ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) দুপুরে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সানা মণ্ডল (২২) এবং একই গ্রামের রাব্বি হাসান (১৯)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শুক্রবার রাতে গোনা এলাকার মাহবুব নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে গোনা মোড় এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ৮ জন ছিনতাইকারী তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় মাহবুবের পেছনে বসা যাত্রীর চিৎকারে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি পুলিশও এগিয়ে আসে। সে সময় ছিনতাইকারীরা পালানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে উপজেলার খট্টেশ্বর এলাকা থেকে জনগণের সহযোগিতায় তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একজনের কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ৩ জন একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। সে সময় অপর দুই মোটরসাইকেলে থাকা আরও ৫ ছিনতাইকারী পালিয়ে যান।
ওসি বলেন, তারা মূলত ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এসেছিল। চালক মাহবুবকে ধরতে পারলে হয়তো মারধর করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে নিয়ে যেত। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর পালিয়ে যাওয়া পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
৪৫ দিন আগে