নওগাঁ
নওগাঁয় ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই
দেশের ধান উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁয় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারের চিত্র ভিন্ন। গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক। কৃষি বিভাগ অবশ্য আশা দিচ্ছে, মৌসুমের শুরু বলে দাম কিছুটা কম থাকলেও পুরোদমে ধান ওঠা শুরু হলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮০ টন, যা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৫ টন চাল পাওয়া যাবে।
খরচ ও আয়ের হিসাব মিলছে না
মাঠে ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও বাজারে গিয়ে হতাশ হতে হচ্ছে কৃষকদের। গত মৌসুমে এই সময়ে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে দাম মিলছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।
রানীনগর উপজেলার বিজয়কান্দি গ্রামের প্রান্তিক চাষি আবুল কালাম আজাদ ও ভাটকই গ্রামের বিপথ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বর্তমান বাজারমূল্যে তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ফলে বিঘা প্রতি অন্তত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় তারা ধান শুকাতে পারছেন না। এছাড়া পাওনাদারের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়ে ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
তাদের দাবি, মন প্রতি দুই-তিনশ টাকা বেশি পাওয়া গেলেও তাদের অন্তত লোকসান গুনতে হতো না।
বাজারের চিত্র ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য
নওগাঁর বৃহত্তম ধানের মোকাম আবাদপুকুর, লোহাচুড়া হাট, আহসানগঞ্জ হাট, চকগৌরি হাট, মাতাজী হাট, সতী হাট, শিষা বাজার, শিবপুর বাজার, মহাদেবপুর হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা অধিকাংশ ধানই কাঁচা বা ভেজা। সেই সঙ্গে ধানের ক্রেতাও কম। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় একদিকে যোগান বেশি, তার ওপর আবার ধানের মান তুলনামূলক নিম্ন। ফলে কৃষকরা গতবারের মতো দাম পাচ্ছেন না।
আবার অনেক ব্যবসায়ীর গুদামে গত বছরের ধান এখনও রয়ে গেছে। ফলে তারা মৌসুমের শুরুতেই ধান কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বড় ব্যবসায়ীদের ধান অবিক্রিত থাকার কারণ হিসেবে বিগত সরকারের অতিরিক্ত আমদানিকে দায়ী করেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধান-চাল অবিক্রিত থাকায় বড় বড় ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বের করতে পারেননি। তারা নিজেরাই আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের হাত টাকা না থাকলে তারা হাটে গিয়ে ধান কিনবেন কী দিয়ে? মূল ধারার ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় শুরু না করলে বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম।
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, তাছাড়া সরকারি খাদ্য গুদামগুলো যদি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করে, তাহলেও বাজারে দাম কিছুটা বাড়বে। সরকার-নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পারলে সব শ্রেণির কৃষকই লাভবান হবেন। অন্যথায়, জেলাজুড়ে এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক তার নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমাইরা মন্ডল বলেন, জেলায় মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কৃষকরা এখন তড়িঘড়ি করে ভেজা ধান বিক্রি করছেন বলেই কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ধান শুকিয়ে বাজারে আনলে এবং সরকারি ক্রয় অভিযান শুরু হলে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এছাড়া, সরকারি গুদামগুলোতে ধান ক্রয় শুরু হলে অবস্থার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি। এই কর্মকর্তার মতে, প্রথম দিকে ধান বিক্রি না করে চাষিদের একটু ধৈর্য ধরা উচিৎ। ভরা মৌসুমে ধান বিক্রি করলে সব কৃষকই চলতি বছরের বাম্পার ফলনের সুফল ঘরে তুলতে পারবেন।
তবে নওগাঁর কৃষি-সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করে, শুধু ফলন ভালো হলেই হবে না, প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় বারবার লোকসানের মুখে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
৫ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ৭
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাতদলের সাত সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, একটি ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে আজ ভোরে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মিলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার বাসিন্দা আজাহার আলী (৪৫), জাহাঙ্গীর আলম (৪৪), সৈকত হোসেন (৩০), আবু হোসেন (৩৫) ও হাসান আলী (৩০) এবং বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা রনি (৩২) ও হামিদুল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সদর উপজেলার সান্তাহার-নাটোর সড়কে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, ট্রাক ও অন্যান্য মালবাহী যানবাহন নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সাহাপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তারা। তবে তাদের সাতজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যান।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি ট্রাক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান এবং আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটকরা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য। রাস্তায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তারা একত্রিত হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তারা জয়পুরহাট ও বগুড়ায়সহ বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। এই আসামিরা আটক হওয়ায় সড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ ব্যানার্জি, উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে খবর দেন।
নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো গতকালও রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন হাবিবুর রহমান। সকালে স্থানীয় এক বৃদ্ধা তাদের ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ঘরের ভেতর উঁকি দিয়ে হাবিব, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ের গলা কাটা মরদেহ দেখে চিৎকার দেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থানায় খবর দেন। পরে সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। একই পরিবারের শিশুসহ চারজনকে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
১৫ দিন আগে
নওগাঁয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন
সারা দেশে মশক নিধনসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের দলীয় সংসদ সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁ শহরের ছোট যমুনা নদীর তীরে এই সচেতনতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জাহিদুল ইসলাম ধলু।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে শহরের লিটন সেতু ঘাট এলাকায় ছোট যমুনা নদীর তীরে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এমপি ধলুর উদ্যোগে নওগাঁ পৌরসভা, স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’ এই ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার রোধ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়।
এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে এমপি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সব নাগরিকের দায়িত্ব। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখা নাগরিক কর্তব্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যেতে চাই। এখন থেকে প্রতি শনিবার নওগাঁ শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডিএম আব্দুল বারী, নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবুজার গাফফারসহ অন্যান্যরা।
উদ্বোধন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম রানা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বেলাল, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদ হয়দার টিপুসহ অন্যান্য নেতারা।
৫০ দিন আগে
খাল খননের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান: ভূমিমন্ত্রী
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে একটি দুর্ভিক্ষপূর্ণ অবস্থা থেকে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিল লতা খালের বেলগাপুর থেকে জুলুপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যায়ে এই খাল খনন করা হবে বলে তিনি জানান।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, নওগাঁ জেলা ধানের জন্য বিখ্যাত। আমাদের খাদ্যের যে চাহিদা সেগুলো আমাদের পূরণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে নওগাঁসহ সারা দেশের সকল নদীনালা ও খাল খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি দুর্ভিক্ষপীড়িত অবস্থা থেকে দেশকে শস্যশ্যামলা বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন; বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন।
নিজের দপ্তর নিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি বিষয়ে এখানকার ১০০ জনের মধ্যে ১০০ জনেরই অভিযোগ রয়েছে। আমি খোলাখুলি কিছু বলব না, কিন্তু আমি এখানকার মানুষের জন্য কিছু করব। আমি জনগণের জন্য অবশ্যই সততার সঙ্গে কিছু করব। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি যাতে না থাকে, সেজন্য আমরা কাজ করছি। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের সেবক হওয়ার জন্য এসেছি। আপনারা নির্দেশ করবেন, আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের দায়িত্ব। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রটোকল নেন না। সরকারি কাজ ছাড়া গাড়িতে ফ্ল্যাগ নেন না। প্রশাসনের ভাইয়েরা দূর থেকে সংবাদ শুনছেন, অপরাধীদের ধরেন ফোর্স দিয়ে; আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমরা মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই।
এ সময় নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক নান্নু, নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনের ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫১ দিন আগে
‘কুপিয়া’ টুপি তৈরিতে নওগাঁয় অর্ধলাখ নারীর কর্মসংস্থান, আসছে বৈদেশিক মুদ্রা
নওগাঁয় টুপি বুনন শিল্পকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। এ শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ নারী শ্রমিক। জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার নারী এ পেশায় নিয়োজিত। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানিযোগ্য টুপি বুনন শিল্পে নওগাঁয় প্রায় অর্ধলাখ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
এ শিল্প থেকে প্রতি বছর অন্তত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে অনেক নারীর। তাদের তৈরি এসব টুপি রপ্তানি হচ্ছে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ, মহাদেবপুর সদর ও উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ জেলার মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার নারী টুপিতে নকশা তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের হাতে তৈরি নকশাদার টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, ফলে দেশে আসছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাবনাময় এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি নারী কারিগরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নওগাঁর নারীদের তৈরি এসব টুপির প্রধান বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান। উদ্যোক্তারা জানান, নির্দিষ্ট নকশার ওপর নওগাঁর নারীরা নানা রঙের সুতায় যে টুপি বুনছেন, তা ওমানের জাতীয় টুপি হিসেবে স্বীকৃত। দেশটিতে এই টুপি ‘কুপিয়া’ নামে পরিচিত। সাধারণত ‘কেন্দুয়া’ নামের এক ধরনের পাঞ্জাবির সঙ্গে বিশেষ ধরনের এই টুপি পরেন সেখানকার পুরুষেরা।
এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার এবং আফ্রিকার তানজানিয়া ও মরক্কোতেও রপ্তানি হয় এসব টুপি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি বছর কেবল নওগাঁ থেকেই প্রায় ৮০০ কোটি টাকার টুপি রপ্তানি হবে।
বছরের দুই ঈদে এই টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সারা বছর টুপি সেলাইয়ের কিছু কাজ থাকলেও রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সুঁই-সুতা দিয়ে তৈরি এসব টুপির কারিগর মূলত গ্রামীণ নারীরা। সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি সেলাইকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে অনেকেই পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন।
৬০ দিন আগে
নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যার’ পর স্বামীর আত্মহত্যা
নওগাঁর আত্রাইয়ে স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সকারের ছেলে রাজ সরকার জয় (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও কন্যাশিশু জিনি সরকার (২)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রাজ সরকার জয় মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামী মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি সরকার এর আগে অনেকবার সংসার ছেলে চলে যান এবং আবার ফিরে আসেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জয় তার স্ত্রী ও সন্তানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী মারা যান। পরে নিজেও ছুরি দিয়ে শরীরে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখানে গিয়ে জয় ও জিনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) সকালে তারা উভয়ই মারা যান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বামী ও সন্তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন জয়; পরে তিনি নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
৬০ দিন আগে
রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালাল কারা
নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ সদর হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মরদেহ রেখে তারা সরে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলিম্যান বাপ্পি জানান, ভোরের দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে দুজন লোক মরদেহটি নিয়ে আসে। এরপর জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি থেকে মরদেহটি ট্রলির ওপর ফেলে তারা চলে যায়। পরে তাকে ট্রলিতে উঠিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই লোক পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাদের অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তারা না শুনে দ্রুতই সটকে পড়ে।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে জেলার মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে এসেছিলেন জুনায়েদ। ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভ্যান ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জুনায়েদের পরিচয় নিশ্চিত করে নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কমিশনার রাশেদ আহম্মেদ জানান, জুনায়েদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার বলিহারী গ্রামে। তার বাবার নাম মনজুরুল হক। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী নওগাঁর একটি কলেজের শিক্ষিকা। আজ (বুধবার) সকালে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সান্তাহারে নামেন। এরপর আর কিছু জানা যায়নি। পরে হাসপাতালে থেকে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
২৫০ শয্যা নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেহেনুমা মুনমুন বলেন, জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় পাই আমরা। প্রাথমিকভাবে তার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের স্ত্রী থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। কারা তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
৯১ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন আদিবাসী কৃষক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলার মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের শিবপুর পাঠকাঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের মৃত কোকো পাহানের ছেলে বীরেন পাহান (৩৫), মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জল পাহান (৩৮), ঝটু পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২৫), মৃত মাংরা উড়াও এর ছেলে সঞ্জু উড়াও (৪৫) এবং ঝটু পাহানের ছেলে বিপ্লব পাহান (২২)।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, ভোরে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করতে নূরপূর থেকে ব্যাটারী চালিত ভ্যানে চড়ে মহাদেবপুর হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ওই কৃষকরা। পথে ভ্যানটি মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের পাঠকাঠি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুত গতিতে আসা একটি ডাম্প ট্রাক তাদের চাপা দেয়। পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত অবস্থায় ৪ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় ফায়ার সার্ভিস ।
মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল কাসেম বলেন, ডাম্প ট্রাকটি মহাদেবপুর থেকে পত্নীতলার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইমরুল কায়েস বলেন, ফায়ার সার্ভিস দুই দফায় পাঁচ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছিল। তাদের মধ্যে চার জন আগেই মারা গেছেন। বাকি একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ডাম্প ট্রাকটি সড়কের পাশের একটি খালে ফেলে রেখে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সকাল ৭টার দিকে সৎকারের জন্য মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতক ডাম্প ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৯৫ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১০০ দিন আগে