নওগাঁ
রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালাল কারা
নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ সদর হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মরদেহ রেখে তারা সরে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলিম্যান বাপ্পি জানান, ভোরের দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে দুজন লোক মরদেহটি নিয়ে আসে। এরপর জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি থেকে মরদেহটি ট্রলির ওপর ফেলে তারা চলে যায়। পরে তাকে ট্রলিতে উঠিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই লোক পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাদের অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তারা না শুনে দ্রুতই সটকে পড়ে।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে জেলার মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে এসেছিলেন জুনায়েদ। ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভ্যান ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জুনায়েদের পরিচয় নিশ্চিত করে নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কমিশনার রাশেদ আহম্মেদ জানান, জুনায়েদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার বলিহারী গ্রামে। তার বাবার নাম মনজুরুল হক। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী নওগাঁর একটি কলেজের শিক্ষিকা। আজ (বুধবার) সকালে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সান্তাহারে নামেন। এরপর আর কিছু জানা যায়নি। পরে হাসপাতালে থেকে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
২৫০ শয্যা নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেহেনুমা মুনমুন বলেন, জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় পাই আমরা। প্রাথমিকভাবে তার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের স্ত্রী থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। কারা তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন আদিবাসী কৃষক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলার মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের শিবপুর পাঠকাঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের মৃত কোকো পাহানের ছেলে বীরেন পাহান (৩৫), মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জল পাহান (৩৮), ঝটু পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২৫), মৃত মাংরা উড়াও এর ছেলে সঞ্জু উড়াও (৪৫) এবং ঝটু পাহানের ছেলে বিপ্লব পাহান (২২)।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, ভোরে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করতে নূরপূর থেকে ব্যাটারী চালিত ভ্যানে চড়ে মহাদেবপুর হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ওই কৃষকরা। পথে ভ্যানটি মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের পাঠকাঠি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুত গতিতে আসা একটি ডাম্প ট্রাক তাদের চাপা দেয়। পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত অবস্থায় ৪ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় ফায়ার সার্ভিস ।
মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল কাসেম বলেন, ডাম্প ট্রাকটি মহাদেবপুর থেকে পত্নীতলার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইমরুল কায়েস বলেন, ফায়ার সার্ভিস দুই দফায় পাঁচ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছিল। তাদের মধ্যে চার জন আগেই মারা গেছেন। বাকি একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ডাম্প ট্রাকটি সড়কের পাশের একটি খালে ফেলে রেখে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সকাল ৭টার দিকে সৎকারের জন্য মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতক ডাম্প ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
অবশেষে শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেছেন, ‘সকলের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই দুটি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রমের জন্য আমাদের অনুমোদন দিয়েছে। অত্যাধুনিক শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাবসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত রয়েছে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের বাইপাস সড়কের বরুণকান্দি এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক হাছানাত আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়ে যোগদানের পর থেকে কাজ শুরু করি।’
তিনি বলেন, ‘ইউজিসি থেকে আমাদের হিসাববিজ্ঞান এবং আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন পরিচ্ছন্ন এবং রুচিশীল পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে, সে ধরনের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়া শিক্ষকরা যেন তাদের কক্ষে বসে পাঠ এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারেন, তার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।’
১৪ দিন আগে
৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাঁপছে নওগাঁ
পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সেইসঙ্গে কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৮টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র; যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে পথঘাট ও এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন হয়ে ওঠেছে বিপর্যস্ত।
সদর উপলোর ডাক্তারের মোড় এলাকার আহসান হাবিব বলেন, দিনেরবেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই পরতে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২-৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।
বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারনে ভ্যান চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকাল ৮টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব ও দিনমজুরদের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায়, ছিন্নমুল ও দিনমজুদের মাঝে গরমকাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতে জেলার ১১টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ এখনো চলছে।
২৮ দিন আগে
সালেক চৌধুরীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার
দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নওগাঁর বিএনপি নেতা ডা. সালেক চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা দলীয় প্যাডে তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়।
ডা. সালেক চৌধুরী জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। নওগাঁ-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্যও হয়েছেন।
ইতোমধ্যে বহিষ্কারের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে ডা. সালেক চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেটার চিঠি আমরা পেয়েছি।
এ বিষয়ে ডা. সালেক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনও জানি না। আর যদি বহিষ্কার করে থাকে সেটা নিয়মের মধ্যে হয়নি। কারণ আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত বিবেচনা করার সময় ছিল। যদি আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করতাম, তাহলে একটা কথা ছিল। আর যদি সত্যি সত্যি দল থেকে বহিষ্কার করে, তাহলে আমি নির্বাচন করব। কারণ আমার তো আর কোনো পথ নেই। কাজেই শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়াই করব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বহিষ্কারের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির নেতা সালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয়ভাবে মনোনীত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। যার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সালেক চৌধুরী। গত রবিবার ছিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ওই নেতার মনোনয়ন।
ডা. সালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ সালে ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
৩০ দিন আগে
মৃদু শৈতপ্রবাহের কবলে নওগাঁ, পারদ নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে
পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যা চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।
এর আগে গতকাল (শুক্রবার) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পারদ নেমেছে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা বলেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেশ শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশার ঢেকে থাকে পথঘাট এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার অনুভূতি কিছুটা কমে যায়।
আজ সকাল থেকে নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার হাপানিয়া এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন, দিনের বেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে, কিন্তু সন্ধ্যা হলেই গায়ে পরতে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২/৩টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।
বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক সোবহান বলেন, ‘সন্ধ্যা পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারণে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য ওঠার আগপর্যন্ত কুয়াশা ছিল। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।’
৩২ দিন আগে
বিদ্যুৎ লাইনের ‘সুরক্ষা’র বলি ৭৫০ তালগাছ
নওগাঁ বাইপাস সড়কের দুই পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি প্রায় ৭৫০টি তালগাছের ডালপালা কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর উপর দিয়ে থাকা বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের সুরক্ষা দিতে গাছগুলো ন্যাড়া করে দিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) কর্মীরা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সরকার যখন পরিবেশ রক্ষায় ও বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে গাছগুলো এভাবে ডালপালা কেটে ন্যাড়া করা ঠিক হয়নি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে। বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। এতে গাছ বাঁচত, পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পেত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের দুইপাশে বেড়ে ওঠা এসব তালগাছের বয়স ২০-৩০ বছর। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকা থেকে তালের বীজ সংগ্রহ করে সড়কের দুইপাশে রোপণ করেন। এখন গাছগুলোর কারণে সড়কটির সৌন্দর্য বেড়েছে।
তাদের দাবি, ডালপালা ছেঁটে ফেলার কারণে গাছগুলো মরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগেও ডাল কেটে ফেলার কারণে কিছু গাছ মরে গেছে। সড়ক সংস্কারের নামে বারবার নির্বিচারে গাছ হলেও গাছ বাঁচাতে কারো কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ বাইপাস সড়কের রামভদ্রপুর থেকে বটতলী বোয়ালিয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে কয়েক হাজার তালগাছ। এসব গাছের উচ্চতা ১০ থেকে ১২ ফুট। তালগাছের সামান্য দূরত্ব দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপিত হয়েছে একের পর এক। এর মধ্যে দুপাশে থাকা অংসখ্য তালগাছ ন্যাড়া মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি এসব গাছের আর আগের সৌন্দর্য নেই। সেই সঙ্গে সড়কটিও সৌন্দর্য হারিয়েছে।
৪৩ দিন আগে
হিমেল হাওয়া, নওগাঁয় শীতের সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তি
পৌষের শুরুতেই নওগাঁয় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতের দাপট বেড়েছে। আকাশে হালকা কুয়াশা ও মেঘের কারণে গতকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের। দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন থেকে নওগাঁয় হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দিন-রাত বইছে ঠান্ডা বাতাস;এ কারণে শীতও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
নওগাঁর বরুণকান্দি এলাকার ভ্যানচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, গত দুই দিন থেকে শীত অনেক বেশি। ভ্যান চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাত কাঁপাকাঁপি করে, হ্যান্ডেল ভালো করে ধরে রাখা যায় না। লোকজনও সেভাবে বাইরে বের হচ্ছে না। কিন্তু পেটের দায়ে ঠান্ডা লাগলেও বাইরে আসতে হচ্ছে।
বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, জেলায় আজকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল থেকে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় আজকে শীত কিছুটা বেশি। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এ রকম থাকতে পারে।
নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায় ছিন্নমুল দিনমজুর মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ছয় লাখ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এতে জেলার ১১ উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলায় সাড়ে ৭ হাজারটি কম্বল বরাদ্দ এসেছে, যেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।
৪৫ দিন আগে
নওগাঁয় বাড়ছে শীত, পারদ নামল ১২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় দিন দিন শীতের দাপট প্রকট হচ্ছে। তাপমাত্রার কমার সঙ্গে সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণের নিত্যদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা বলেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে হালকা কুয়াশার সঙ্গে বেশ শীত অনুভূত হয়। রাতভর হালকা কুয়াশায় ঢেকে থাকে এলাকা। তবে সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রোদের কারণে বেশ গরম অনুভূত হয়।
৬৩ দিন আগে